প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সত্যতা পায়নি। তদন্তের পর আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। একই সাথে, মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অভিযোগে বাদী জাহানারা বেগমের (৬৩) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন যে, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়া পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে তাকে মক্তবের পাশে একটি স্টোররুমে নিয়ে মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহ ধর্ষণ করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, পরে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের উপর ন্যস্ত হয়। তদন্তের সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা হয়। তদন্ত শেষে গত ২৯ জুন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মামলায় আনা ধর্ষণের অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগটি মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আলামত বা তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা যায়, জাহানারা বেগমের নাতির মডেল মসজিদে যাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তবে মামলায় করা ধর্ষণের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা জজ পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের ওই নির্দেশের পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। দীর্ঘদিন আসামি পলাতক থাকার পর সোমবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর মডেল মসজিদের মালামাল চুরির অভিযোগে জাহানারা বেগমের দুই নাতিকে আটক করা হয়েছিল। মসজিদের খাদেম সাব্বির ও মুসল্লি আলহাজ শাহ আলম তাদের আটক করে বিষয়টি মসজিদের পেশ ইমামকে জানান। পরে ইমাম বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এবং সহকারী পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) অবহিত করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়। তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর প্রায় ১৫ দিন পর মডেল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন জাহানারা বেগম।
মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেনের দাবি, মসজিদের বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটছিল। স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় জাহানারা বেগমের নাতিকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে বয়স কম হওয়ায় পুলিশ তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এর কিছুদিন পরই তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়।
তবে জাহানারা বেগমের বক্তব্য, চুরির অভিযোগে তার দুই নাতিকে আটকে রাখার ঘটনায় তিনি মামলা করেছেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সোমবার রাতে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন