বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৯ পি.এম
পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সত্যতা পায়নি। তদন্তের পর আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। একই সাথে, মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অভিযোগে বাদী জাহানারা বেগমের (৬৩) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন যে, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়া পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে তাকে মক্তবের পাশে একটি স্টোররুমে নিয়ে মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহ ধর্ষণ করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, পরে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের উপর ন্যস্ত হয়। তদন্তের সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা হয়। তদন্ত শেষে গত ২৯ জুন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মামলায় আনা ধর্ষণের অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগটি মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আলামত বা তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা যায়, জাহানারা বেগমের নাতির মডেল মসজিদে যাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তবে মামলায় করা ধর্ষণের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা জজ পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের ওই নির্দেশের পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। দীর্ঘদিন আসামি পলাতক থাকার পর সোমবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর মডেল মসজিদের মালামাল চুরির অভিযোগে জাহানারা বেগমের দুই নাতিকে আটক করা হয়েছিল। মসজিদের খাদেম সাব্বির ও মুসল্লি আলহাজ শাহ আলম তাদের আটক করে বিষয়টি মসজিদের পেশ ইমামকে জানান। পরে ইমাম বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এবং সহকারী পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) অবহিত করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়। তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর প্রায় ১৫ দিন পর মডেল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন জাহানারা বেগম।
মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেনের দাবি, মসজিদের বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটছিল। স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় জাহানারা বেগমের নাতিকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে বয়স কম হওয়ায় পুলিশ তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এর কিছুদিন পরই তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়।
তবে জাহানারা বেগমের বক্তব্য, চুরির অভিযোগে তার দুই নাতিকে আটকে রাখার ঘটনায় তিনি মামলা করেছেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সোমবার রাতে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারির পর ‘বুড়া গৌরাঙ্গ বালুমহাল’ সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের কাছে চেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সারায়াত-২ শাখা পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে হাইকোর্টের রিটের আদেশের কপি সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে ‘বুড়া গৌরাঙ্গ বালুমহাল’ ঘোষণার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ওই এলাকায় বালুমহাল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে গত ১৬ আগস্ট বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন ও অপসারণ বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে রুল জারি করেন আদালত।
রিটে অভিযোগ করা হয় যে, নদীভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদীর এলাকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ নামে বালুমহাল ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুমহাল ঘোষণার আগে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
হাইকোর্টের আদেশে সরকারি দপ্তরের নথিতে ভুল বা অপ্রচলিত নামে রেকর্ডভুক্ত এলাকাগুলো যাচাই করে প্রকৃত ‘তেঁতুলিয়া নদী’ নামে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও প্রদান করেছে।
তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ চিঠিতে সরাসরি ‘বুড়া গৌরাঙ্গ বালুমহাল’ বাতিলের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং বালুমহালটি ঘোষণার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
সরকারি নথিতেও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর তালিকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ ও ‘তেঁতুলিয়া’, দুটি পৃথক নদীর নাম রয়েছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত নদ-নদীর তালিকায় বাউফলের একটি নদীকে ‘তেঁতুলিয়া (বরিশাল)’ থেকে ‘বুড়িশ্বর পায়রা’ পর্যন্ত প্রবাহিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে দশমিনা, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী এলাকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ নদীর উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার অপ্রতিমের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে তিনি সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। বিকেলে কুমিল্লা জেলা গণঅধিকার পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল অপ্রতিমের বাবা ও মায়ের গন্ধমতির বাসায় সাক্ষাৎ করেন।
অপ্রতিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে নুরুল হক নুর বলেন, "অপ্রতিমের বিষয়টি সারা দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছে। আপনারা খুব কষ্টে আছেন। আপনাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা নেই। তবে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। আপনারা দেখেছেন সরকার পুলিশের মাধ্যমে কীভাবে অ্যাকশন নিয়েছেন। আমরা আপনার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।"
এসময় অপ্রতিমের বাবা শাহরিয়ার কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ভিপি নূরকে জানান, "আমরা জানি না কবের আইনে দুজন আসামিকে শিশু সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের ডিএনএ টেস্ট করা হোক। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।"
এসময় গণঅধিকার পরিষদ কুমিল্লা জেলার সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাড. জয়নাল মাজহারি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি রাসেল হোসেন, মহানগর ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাইফ আহমেদ তানজিদ এবং সেক্রেটারি নাইম জামান উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মহাসড়কের অনির্ধারিত স্থানে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানোর কারণে জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় ব্যস্ত সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন স্থানে নিয়মিতভাবে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে। কিছু বাস সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করছে। এ ছাড়া টেম্পো, ইজি বাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাও সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করাচ্ছে। এর ফলে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ বাসস্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করবে, যাতে মহাসড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাসস্ট্যান্ড না থাকা সত্ত্বেও যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে। বাসের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সড়কের একটি অংশ দখলে রয়েছে। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সুবিদখালী এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী মহাসড়ক ব্যবহার করে। নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ডের অভাবে মহাসড়কের ওপরেই বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে একাধিক যানবাহন একই স্থানে দাঁড়ানোর ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পথচারীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন ফরাজি মন্তব্য করেন, "সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানোর কারণেই এখানে যানজট সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন অনেক মানুষ এই মহাসড়ক ব্যবহার করে। তাই এ এলাকায় একটি নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড থাকা প্রয়োজন।"
যাত্রীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রীছাউনি না থাকায় তাদের খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি ও রোদে তাদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। নিরাপদ ও নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড হলে যাত্রীদের এই দুর্ভোগ কমবে বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. নাসির হাওলাদার বলেন, "প্রধান সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। বাসের হর্নের শব্দেও আশপাশের মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়।"
স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্ট্যান্ড স্থাপন করা প্রয়োজন। সেখানে যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য নিরাপদ স্থান ও প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকলে যানজট ও জনদুর্ভোগ দুই-ই কমানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানান, "নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় মহাসড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের লালপুরের পদ্মার চর, যেখানে বালুময় জমিতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে; সেখানে নতুন সম্ভাবনাময় কৃষিব্যবস্থা গড়ে উঠছে। উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর চরে একটি পলিনেট শেড হাউস স্থাপন করা হয়েছে।
সম্প্রতি এই পলিনেট শেড হাউসে ট্রে পদ্ধতিতে উন্নত মানের সবজির চারার উৎপাদন শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা এই উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘চর এলাকায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত)’ আওতায় প্রায় ২০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি পলিনেট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পলিনেট শেড হাউসে আধুনিক ট্রে পদ্ধতি ব্যবহার করে ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে, যা বছরের বিভিন্ন সময়ে চলমান থাকবে।
সূত্র আরও জানায়, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এই প্রযুক্তির একটি বড় সুবিধা হলো—এতে উৎপাদিত চারা রোগমুক্ত, সবল এবং পরিবেশগত প্রতিকূলতা থেকে সুরক্ষিত থাকে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অনিশ্চিত আবহাওয়া ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় এই পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উপকারভোগী কৃষক মো. মাইনুল ইসলাম ও মো. শাহাবুদ্দিন জানান, পলিনেট শেড হাউসে উৎপাদিত চারা তারা কৃষক গ্রুপের সদস্যদের কাছে কম দামে সরবরাহ করছেন। একই সঙ্গে বাজারে এসব চারা উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে পারছেন, যা তাদের আয় বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে চারাগুলো রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠছে, পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া থেকেও সুরক্ষিত। ফলে কৃষকরা সারা বছর চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।
প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. জিয়াউর রহমান জানান, উপকারভোগী কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় তাদের জন্য ৫০০টি ট্রে, ৩০০ কেজি কোকোডাস্ট এবং একটি পলিশেড হাউস নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা টেকসইভাবে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন।
এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল পলিনেট শেড হাউস পরিদর্শন করে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, চরাঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তির এ ধরনের ব্যবহার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ