প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
একটি স্কুল হাওরের বুকে গড়ে উঠেছে। পিছিয়ে পড়া জনগণের ছেলেমেয়েরা বাহের বালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গরিব কৃষকের সন্তান ও নদীর তীরে জেলে সমাজের ছেলে-মেয়েরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারা খুব কষ্টে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।
শুকনো মৌসুমে তাদের জন্য কিছুটা সুবিধা হলেও বর্ষাকালে খেয়া নৌকা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে গরিব অভিভাবকদের জন্য খরচ বাড়ে। তবুও তারা ফলাফলের দিক থেকে পিছিয়ে নেই।
এই উপজেলার কয়েকটি নামি বিদ্যালয়ের মধ্যে এস.এস.সি ফলাফলের দিক থেকে তারা অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ে যেতে তাদের প্রতিদিন ৩০ মিনিট সময় লাগে।
৩০০ শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য দুটি নৌকা রয়েছে। বাহের বালী ও আশেপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে এসে পড়াশোনা করেন।
বর্ষাকালে চারপাশে পানিতে থই থই করে থাকে তিন তলা ভবনটি। নিচতলা অধিকাংশ সময় হাওরের পানিতে ডুবে থাকে।
শিক্ষকরা শুধুমাত্র দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পাঠদান করেন। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো রাস্তা নেই।
বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নে অবস্থিত বাহের বালী এসইএসডিপি মডেল হাইস্কুলে প্রতিদিন নিয়মিত ক্লাস চলে। স্কুলের চারপাশ জলমগ্ন থাকায় কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে নৌকার ব্যবস্থা করেছেন।
এভাবেই হাওর অঞ্চলে পানি ঘেরা পরিবেশে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি।
বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী জানান, নৌকা ধরতে তাদের অনেক সময় চলে যায়। বাহের বালী, পুরাকান্দা, আইনারগোপ, শিবপুর ও বোয়ালী এই ৫টি গ্রামের ৩ শতাধিক ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করে আসছেন।
তাদের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য অভিভাবকরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
রফিক উদ্দিন বলেন, "স্কুল টা হওয়ায় বাজিতপুরে কোনো বিদ্যালয়ে যেতে হয় না। খরচ তাদের খুব কম পড়ে।" শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন এসডিপি প্রকল্পের অধীনে বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়।
প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১১ সালে এসে শেষ হয়। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়।
এই সুবিধাবঞ্চিত অনগ্রসর এলাকায় বিদ্যালয়টি হওয়ায় তারা শিক্ষার আলো পেয়ে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে সারা দেশে ৮৩টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।
২০১৭ সালে এই ৮৩টি বিদ্যালয়কে এমপিও ভূক্ত করা হয়। তবে বাহের বালী স্কুলটি এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ এমপিও ভূক্ত স্বীকৃতি পায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিপন চন্দ্র দাস জানান, ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ৯ম-১০ম পর্যন্ত বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, "সে সময় একটি চিঠি ইস্যু করা হলেও তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি।" যার কারণে স্কুলটি এমপিও ভূক্ত হয়নি।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তবর্তীকালিন সরকারের অধীনে নতুন করে এমপিও ভূক্ত আবেদনের জন্য আহ্বান করা হয়। সেই সুযোগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনে আবেদনও করেন।
বর্তমানে এটি স্থগিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন