০৫:৩৬ পি.এম
মরক্কো থেকে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের ছিটমহল সেউতা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সময় অন্তত ১৯ জন অভিবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র একদিনের মধ্যে প্রায় ৪৯ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছে।
এমন অবস্থার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার সঙ্গে ছিটমহলটি পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার সরকার সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে।
সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা রাশিদ সবিহি এই পরিস্থিতিকে ‘মারাত্মক মানবিক সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, অভিভাবকহীন শিশুসহ হাজার হাজার অভিবাসী ফুটপাতে ঘুমাচ্ছে এবং অন্যরা সেউতার রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মানুষ এখনও প্রবেশ করছে। যে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তারা কেবল আহতদের সহায়তা ও অন্যান্য মানবিক কার্যক্রমে সাহায্য করছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল।
উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত সিউতায় পৌঁছানোর জন্য অভিবাসীরা প্রায়শই মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে সাঁতার কেটে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে; এই ক্ষেত্রে তাদের প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। আবার অনেকে নিকটবর্তী বেলইউনেশ শহর থেকেও এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে, যেখানে দূরত্ব কিছুটা কম।
সিউটার কর্তৃপক্ষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার এই বৃদ্ধিকে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি রায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করছে। ওই রায়ের মাধ্যমে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তবে স্থলপথে সীমান্তের বেড়া টপকে স্পেনে প্রবেশ করা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই রায় কার্যকর নয়।
কিন্তু মরক্কোর কিছু অধিকারকর্মী এই রায়ের কারণে অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের যুক্তি হলো অধিকাংশ অভিবাসীরই এ ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনো ধারণা থাকার কথা নয়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা স্পেনের সঙ্গে তাদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করবে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস এক্সে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি বৃহস্পতিবার রাতেই স্পেন সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অবিলম্বে জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণকারী সীমান্ত বাহিনী মোতায়েনের কথা ঘোষণা করেছেন।
সীমান্ত সংকটের এই প্রভাব ইতোমধ্যে ইতালিতেও পড়েছে, যা অভিবাসীদের জন্য আরেকটি প্রধান গন্তব্য। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পেনের সঙ্গে ‘শেনজেন’ উন্মুক্ত সীমান্ত চুক্তি স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের সীমান্ত রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। যদিও স্পেনের সঙ্গে ইতালির কোনো সরাসরি স্থলসীমানা নেই।
সিউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সীমান্তে আরও পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিও জানিয়েছেন।
যদিও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ অভিবাসন সংকটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; তবে মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সহায়তা বা সম্পদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
সূত্র: আলজাজিরা, তুর্কি টুডে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন