ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকার তাপমাত্রা কমাতে ছাদবাগান-ভার্টিকেল গার্ডেনিংয়ে বিশেষজ্ঞদের জোর


ঢাকার তাপমাত্রা কমাতে ছাদবাগান-ভার্টিকেল গার্ডেনিংয়ে বিশেষজ্ঞদের জোর

ঢাকার আরবান হিট আইল্যান্ড বা তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্যে ভবনে ছাদবাগান এবং দেয়ালে ভার্টিকেল গার্ডেনিংয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। তারা উল্লেখ করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহ, জলাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় শহরাঞ্চলে ছাদবাগান করার জন্য সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য প্লাবন ভূমি, বন্যা প্রবাহ অঞ্চল এবং সংরক্ষিত জলাশয়গুলো ভরাট বা দখল ঠেকাতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রাজউক কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, রাজধানীর হাজারীবাগ এবং লালবাগে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট গ্রিন অ্যাকশন প্ল্যান (সিআরজিএপি) সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পুরোনো এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়ও গ্রিন অ্যাকশন প্ল্যান সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, নগরীর তাপমাত্রা কমাতে ক্ষুদ্র নগর বনায়ন এবং ঢাকা শহরের শিরা-উপশিরার মতো খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা আবশ্যক। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছাদবাগান কিংবা ভার্টিকেল গার্ডেনিংকেও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। অন্যথায়, এই নগর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহ এবং আকস্মিক জলাবদ্ধতার ঝুঁকিগুলো আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করছি। রাজউকের মূল দায়িত্ব হলো পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এমন একটি নগর অবকাঠামো তৈরি করা, যা জলবায়ু ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম।

অন্যদিকে, রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মাহফুজা আক্তার জানান, মেগা প্রজেক্ট পূর্বাচল নতুন শহরকে দেশের প্রথম পরিকল্পিত গ্রিন ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বিশাল লেক সংরক্ষণ, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট (এসটিপি) এবং ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজউকের লক্ষ্য শুধুমাত্র সংখ্যার বিচারে বেশি ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং ঢাকার ভবিষ্যৎ নগরায়নকে পরিকল্পিত, নিরাপদ এবং টেকসই পথে পরিচালিত করা। ঢাকা শুধুমাত্র একটি শহর নয়, এটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান এবং স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম ঢাকা মহানগর প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, জলবায়ুবান্ধব নগরী গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত জলবায়ু এবং দুর্যোগ সহনশীল উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজউকের নতুন আইন এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সংশোধনে এই দু’টি বিষয় মাথায় রেখেই আইনি কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর উন্নয়নের প্রধান বাধা হলো সমন্বয়হীনতা। গুলশান-বনানী লেক দূষণমুক্ত করা কিংবা নিয়ম না মেনে নির্মিত ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ওয়াসা, ডেসকোসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০২২-২০৩৫) একটি জলবায়ু ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করে নগর পরিকল্পনাবিদ মাহফুজা আক্তার বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকাকে ‘ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক’ (জলাশয় ও সবুজের সমন্বয়) হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে আধুনিকতা এবং প্রকৃতির একটি টেকসই ভারসাম্য থাকবে।

তিনি জানান, ড্যাপে বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল নির্ধারণ করে নিখুঁত হাইড্রোলজিক্যাল অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সব ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে শহরের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

মাহফুজা আক্তার বলেন, জলাধার সংরক্ষণ নীতিমালার আওতায় ঢাকার ভেতরে এবং চারপাশের বিদ্যমান সমস্ত পুকুর, খাল, ডোবা এবং প্লাবন ভূমিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেন কোনোভাবেই এগুলো ভরাট করা না যায়। এটি শহরের পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়াবে এবং আকস্মিক জলাবদ্ধতা দূর করবে। শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে জলাশয় এবং লিনিয়ার পার্কের সমন্বয়ে ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকার সব অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য এক নয়, বিশেষ করে পুরান ঢাকার মতো ঐতিহাসিক এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ কারণেই সিআরজিপির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে হাজারীবাগ এবং লালবাগ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এই অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে।

এই নগর পরিকল্পনাবিদ আরও বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি স্থানান্তরের পর যে বিশাল পরিবেশগত শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধার করে সেখানে পরিবেশবান্ধব সবুজ বলয় এবং উন্মুক্ত স্থান তৈরি করা এবং লালবাগের ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রেখে জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানোই সিআরজিপির মূল লক্ষ্য। এই প্ল্যানের আওতায় জলবায়ু ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, রাজউকের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইউপিআর) সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। নতুন নকশা অনুমোদনের সময় প্রতিটি বহুতল ভবনে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা এবং বিধিমালা অনুযায়ী পানি সরাসরি মাটিতে শোষিত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

তিনি জানান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আবাসন খাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত না করে আবাসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জলাধার, বন্যাপ্রবাহ এলাকা এবং উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকার সার্বিক উন্নয়নে রাজউক ছাড়াও দুটি সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পরিবেশ অধিদপ্তর নিজ নিজ আইনি পরিধিতে কাজ করছে।

রাজধানীতে অসংখ্য বহুতল ভবন নির্মাণের কথা উল্লেখ করে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত এই বহুতল ভবনের অধিকাংশই গ্লাস দিয়ে আচ্ছাদিত। ভবনটিকে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত করার কারণে ভবনের বাইরে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে। শহরের প্রাকৃতিক জলাধার ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারিয়ে গেছে। এর ফলে উষ্ণতা শোষণের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজধানী হিসেবে ঢাকা শহরের ইতিহাস চারশ’ বছরেরও বেশি। এই দীর্ঘ সময়ে শহরের বিস্তৃতি নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর পর্যন্ত হলেও নতুন করে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং জিয়া উদ্যানের মতো নতুন কোনো পার্ক বা উদ্যান তৈরি হয়নি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হলো এলাকাভিত্তিক পার্ক এবং রিটেনশন পন্ড তৈরি করা। নতুন নতুন ভবন তৈরিতে জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং গ্রিন বিল্ডিং মেটেরিয়ালসকে উৎসাহিত করতে হবে। সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে আইনি ঝামেলায় পড়লে যেসব আইনজীবীর নম্বর কাজে আসতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৫ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে আইনি ঝামেলায় পড়লে যেসব আইনজীবীর নম্বর কাজে আসতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের জীবনে যেকোনো সময় আইনি সমস্যা দেখা দিতে পারে। অভিবাসন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি, নাগরিকত্ব, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আটক, গাড়ি চালানো বা ট্রাফিক মামলা, সড়ক দুর্ঘটনা, ব্যক্তিগত আঘাত, ফৌজদারি মামলা, পারিবারিক বিরোধ কিংবা ব্যবসায়িক জটিলতায় একজন যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অতএব, জরুরি পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা না করে, নিজের ফোনে কয়েকজন আইনজীবী বা আইন প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ নম্বর আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখা উপকারী হতে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা মাথায় রেখে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি বা বাংলাভাষী মানুষের সঙ্গে কাজ করা কিছু আইনজীবী ও আইন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য যোগাযোগ তথ্য তুলে ধরা হলো। এটি কোনো আইনজীবীর দক্ষতা, সেবা বা মামলার ফলাফলের র‌্যাংকিং নয়। যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বর্তমান অনুমতিপত্র, কোন ধরনের মামলা তিনি নেন এবং আপনার অঙ্গরাজ্যে আইনচর্চার অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে অভিবাসনসংক্রান্ত আইনি সহায়তার জন্য আইনজীবী মওমিতা রহমানের আইন প্রতিষ্ঠানের অফিস নম্বর ২১২-২৪৮-৭৯০৭। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলায় সেবা প্রদান করেন এবং অভিবাসন আইনের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন।

আইনজীবী নাসরিন মোজ্নুরের ব্রঙ্কস কার্যালয়ের ফোন ৭১৮-৫১৮-০৪৭০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯।

আইনজীবী মীর এম. মিজানুর রহমানের ম্যানহাটন কার্যালয়ের ফোন ২১২-৭৩২-২২২০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৬২২-৭৯৬৯। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব কার্যালয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি সেবা প্রদান করে।

নিউইয়র্কের আরেকটি বাংলাদেশিকেন্দ্রিক আইন প্রতিষ্ঠান খায়রুল বাশার আইন-এর অফিস নম্বর ২১২-৪৬৪-৮৬২০ এবং ৭১৮-৭৭৫-৮৫০৯। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারা অভিবাসন, পারিবারিক অভিবাসন, নাগরিকত্ব, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আটক, জামিনসহ বিভিন্ন অভিবাসন মামলা নিয়ে কাজ করে।

জ্যাকসন হাইটসের রুমা জুননাতুল আইন কার্যালয়ের প্রকাশিত ফোন নম্বর ৫১৬-৫৪৯-৬৭০৭ এবং ৭১৮-৪২৭-১২৩৩। প্রতিষ্ঠানটি অভিবাসন ও দেওয়ানি মামলা পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এবং বাংলায় সহায়তার কথা জানিয়েছে।

জর্জিয়া

আটলান্টা মহানগর এলাকায় মনির মেহরান আইন প্রতিষ্ঠানের ডোরাভিল কার্যালয়ের ফোন ৪৭০-৮০০-৯২১৩।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গ্রাহকদের অভিবাসনসংক্রান্ত সেবা প্রদান করে। তবে ব্যক্তিগত আঘাতসংক্রান্ত মামলা জর্জিয়াকেন্দ্রিক এবং অন্য অঙ্গরাজ্যের আইনচর্চার ক্ষেত্রে অনুমতির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই ফোন করার সময় নিজের মামলার ধরন ও অঙ্গরাজ্যের নাম স্পষ্টভাবে জানানো উচিত।

মিশিগান

হ্যামট্রামকে আইনজীবী রুহুল এম. মুমেনের কার্যালয়ের ফোন ৩১৩-৮৯৩-২৫০০। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে সেবা প্রদান করেন। গাড়ি দুর্ঘটনা, ব্যক্তিগত আঘাত, ফৌজদারি মামলার প্রতিরক্ষা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন।

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে আইনজীবী জুবাইদা ইকবালের প্রকাশ্য যোগাযোগ নম্বর ৪০৭-৯৩০-১৫৫২। ফ্লোরিডা বার-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি সেখানে অনুমতিপ্রাপ্ত আইনজীবী। তবে কোনো নির্দিষ্ট মামলা তিনি গ্রহণ করছেন কি না, তা আগে ফোন করে নিশ্চিত করা উচিত।

টেক্সাস

হিউস্টনে আইনজীবী মনিকা উদ্দিন আহমাদ জাভিতসানোস ও মেনসিং আইন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেন। টেক্সাসের ফেডারেল আদালতের আইনজীবী সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর অফিসের ফোন ৭১৩-৬০০-৪৯১৩ এবং হিউস্টন কার্যালয়ের ঠিকানা ১২২১ ম্যাককিনি স্ট্রিট, স্যুট ২৫০০।

প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং বাংলায় কথা বলেন। তার মূল আইনচর্চা বাণিজ্যিক মামলা ও ব্যবসায়িক বিরোধকেন্দ্রিক। তাই অভিবাসন বা ব্যক্তিগত মামলার জন্য যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তিনি গ্রহণ করেন কি না জেনে নেওয়া উচিত।

ক্যালিফোর্নিয়া

লস অ্যাঞ্জেলেসে আইনজীবী ওমর এইচ. বেঙ্গালির কার্যালয় গিরার্ড বেঙ্গালি আইন প্রতিষ্ঠান। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী নিবন্ধনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার অনুমতিপত্র সক্রিয়। কার্যালয়ের ফোন ৩২৩-৩০২-৮৩০০।

কার্যালয়ের ঠিকানা ৩৫৫ সাউথ গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ, স্যুট ২৪৫০, লস অ্যাঞ্জেলেস। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যায় যোগাযোগের আগে তার প্রতিষ্ঠান সেই ধরনের মামলা নেয় কি না নিশ্চিত করা উচিত।

ওয়াশিংটন

সিয়াটলে আইনজীবী তাহমিনা ওয়াটসনের ওয়াটসন অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠানের ফোন ২০৬-২৯২-৫২৩৭।

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী নিবন্ধনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার অনুমতিপত্র সক্রিয় এবং আইনচর্চার প্রধান ক্ষেত্র অভিবাসন। একই তথ্য অনুযায়ী, বাংলা তার জানা ভাষার একটি।

অভিবাসন, বহিষ্কার ঠেকানোর মামলা, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি, নাগরিকত্ব, পারিবারিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসাসহ বিভিন্ন অভিবাসন বিষয়ে তার প্রতিষ্ঠান কাজ করে।

মিশিগানে আরও একজন

মিশিগানে আইনজীবী মঈন চৌধুরীর কার্যালয়ের প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বর ১-৮৬৬-৬৬৪-৬৫২৯ এবং সরাসরি নম্বর ৯১৭-২৮২-৯২৫৬।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি মিশিগান অঙ্গরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে আইনচর্চার অনুমতি পেয়েছেন। নিউইয়র্কে তার কাজ অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে সীমিত। অন্য অঙ্গরাজ্যের মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যে অনুমতিপ্রাপ্ত আইনজীবীদের মাধ্যমে কাজ করার তথ্যও তার কার্যালয় জানিয়েছে।

ইমিগ্রেশন মামলায় কাকে আইনজীবী ভাববেন?

অভিবাসন মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নোটারি, কাগজপত্র প্রস্তুতকারী, ভিসা পরামর্শদাতা বা সাধারণ অভিবাসন পরামর্শদাতাকে আইনজীবী ধরে নেওয়া উচিত নয়।

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিবাসনবিষয়ক কার্যালয় জানিয়েছে, অভিবাসন আদালত ও অভিবাসন আপিল বোর্ডের সামনে সাধারণত বৈধ অনুমতিপ্রাপ্ত আইনজীবী অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধিই আইনগতভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। নোটারি, ভিসা পরামর্শদাতা ও অভিবাসন পরামর্শদাতারা সেখানে আইনগত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না।

কম খরচে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের তালিকাও মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু বিনা খরচে বা কম খরচে আইনি সহায়তা দিতে পারে। তবে তালিকায় থাকা কোনো আইনজীবী বা প্রতিষ্ঠানকে বিচার বিভাগ ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ করে না।

নম্বর রাখলেই হবে না, আগে যাচাই করুন

প্রবাসীদের জন্য জরুরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েকজন আইনজীবীর নম্বর ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা যেতে পারে। তবে প্রয়োজনে নম্বরটি চালু আছে কি না, কার্যালয় কী ধরনের মামলা নেয়, জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয় এবং প্রথম পরামর্শের জন্য কোনো ফি আছে কি না—এসব আগে জেনে নেওয়া ভালো।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রকাশ্যে থাকা ফোন নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে এবং কোনো আইনজীবী সব ধরনের মামলা নাও নিতে পারেন। তাই আইনি সমস্যায় পড়লে নিজের অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি নিবন্ধন থেকে আইনজীবীর বর্তমান অবস্থান ও অনুমতিপত্র যাচাই করা নিরাপদ।

এই তালিকার উদ্দেশ্য কাউকে নির্দিষ্টভাবে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া নয়। জরুরি সময়ে প্রবাসীরা যেন দ্রুত আইনি সহায়তার যোগাযোগ খুঁজে পেতে পারেন, সেই প্রস্তুতির কথাই তুলে ধরা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে মোবাইল নম্বর পেয়ে পাসের প্রস্তাব, অভিযোগ সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৫ পি.এম


শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে মোবাইল নম্বর পেয়ে পাসের প্রস্তাব, অভিযোগ সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে

রাজশাহীর হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর পেয়ে এক শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে টাকার বিনিময়ে পাস করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ওই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের খাতায় তার মোবাইল নম্বর লিখে রেখেছিল। নম্বরটি পরীক্ষক সেকেন্দার আলীর চোখে পড়ে যখন তিনি খাতা দেখতে যান। এরপর, ১৪ আগস্ট সকালে, তিনি ফোন করে পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডাকেন। পরীক্ষার্থী গিয়ে দেখে, তার প্রাপ্ত নম্বর ২৫। পরে, ২ হাজার টাকায় রফাদফার মাধ্যমে পরীক্ষক তাকে খাতায় লিখতে দেন। লেখার পর তার নম্বর হয়ে যায় ৫০।

পরীক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান। তিনি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকায় অবস্থিত আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। মানবিক বিভাগ থেকে তিনি এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। মেহেদী পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

মেহেদী হাসান সেদিন রুহুল আমিন নামের এক বন্ধুকে নিয়ে পরীক্ষকের বাসায় গেলেও তার পরিচয় জানাতে পারেননি। তবে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে সেকেন্দার আলীকে খুঁজে পাওয়া যায়।

মেহেদীর মোবাইলে পরীক্ষকের সঙ্গে কথোপকথনের সময় শোনা যায়, সেকেন্দার আলী টাকা নিয়ে মেহেদীকে ডাকেন এবং বিষয়টি অভিভাবকদের জানাতে নিষেধ করেন। মেহেদী বলেন, "টাকা নিতে হলে তো অভিভাবককে জানাতে হবে।" পরীক্ষক তখন বলেন, "একজন ভিক্ষুকের কাছেও ২-১০-২০ হাজার টাকা থাকে।"

মেহেদী জবাব দেন, "স্যার তো বুঝতে পারছেন, আমরা তো বেকার ছেলে, ভিক্ষুক না। ভিক্ষুকের কাছে তো টাকা থাকবেই, আমরা তো বেকার।" পরীক্ষক তখন বলেন, "না না ঠিক আছে। আরও ক্যান্ডিডেটদের নিয়ে আসো।"

পরে, ১৪ আগস্ট সকালে, মেহেদী, ইমন আলী, সৌরভ, রুহুল, সোহাগ ও সামিসহ ছয়জন রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে যায়। কিছুক্ষণ পর, পরীক্ষক একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে তাদের সঙ্গে আসে। এরপর তারা পরীক্ষকের বাড়িতে যায় এবং খাতা বের করে দেন। মেহেদীর মোবাইল নম্বর লেখা খাতাটি সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। বাজারে অপেক্ষমাণ অন্য সহপাঠীদেরও খাতা পাওয়া যায়নি।

দুপুরে, মেহেদী গণমাধ্যমকে জানান, মোটরসাইকেলে প্রায় ১০ মিনিটে পরীক্ষকের বাড়িতে পৌঁছান। কিন্তু জায়গাটি তিনি চেনেন না। খাতায় লেখা শেষে পরীক্ষক নিজেই তাদের বিনোদপুরে রেখে যান।

মেহেদী জানান, পরীক্ষক তাদের নাম জানাননি এবং তার মোবাইল থেকে নিজের নম্বরটি ডিলিট করে দেন। মেহেদী বলেন, "আমার খাতায় ২৫ মার্ক ছিল। স্যার ২ হাজার টাকা নিয়েছে। খাতায় লিখতে দিল। যেগুলো ভুল লিখেছিলাম সেগুলো ঠিক করে দিয়েছি। আর যেটা লিখিনি, সেটা ফাঁকা জায়গায় লিখে দিয়েছি।" এখন তার নম্বর কত হবে জানতে চাইলে মেহেদী বলেন, "৫০ প্লাস হবে।"

পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ১৪ আগস্ট পরীক্ষক যে মোটরসাইকেলে এসেছিলেন সেটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫। বিআরটিএ থেকে জানা যায়, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন সুজন কুমার বিশ্বাসের নামে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গাড়িটি তিনি অনেক আগে বিক্রি করে দিয়েছেন। এভাবে গাড়িটি তিন হাত বদল হয়েছে। একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম সেন্টুকে পাওয়া যায়। তিনিই বর্তমানে মোটরসাইকেলটির মালিক। সেন্টু ওই প্রভাষকের আত্মীয়। তার বাড়ি চারঘাট উপজেলার কাকালকাটি গ্রামে। ৫ সেপ্টেম্বর সেন্টুর বাড়ির সামনেই ওই মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। ওই এলাকার এক ব্যক্তিকে ছবি দেখাতেই তিনি প্রভাষক সেকেন্দার আলীর পরিচয় নিশ্চিত করেন। তার বাড়ি বেলঘরিয়া গ্রামে।

সেদিন বিকেলে বাড়িতে সেকেন্দার আলীকে পাওয়া যায়। ফোনকল রেকর্ড এবং ছবি দেখানো হলেও তিনি পরীক্ষার্থীকে বাসায় নিয়ে টাকার বিনিময়ে লেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।

হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল জানান, অনেক আগে থেকেই তিনি জানেন যে সেকেন্দার আলী এইচএসসির খাতা দেখেন। কিন্তু তিনি এমন কাজ করেন, তা তিনি জানতেন না। শিক্ষা বোর্ড যদি কোনো পদক্ষেপ নিতে বলে, তাহলে তিনি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

এ ছাড়া মেহেদীর সঙ্গে এই প্রভাষকের কথোপকথনের রেকর্ড শুনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেকেন্দার আলীর পরিচয় নিশ্চিত করেন।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, "এমন হলে এটা তো খুবই ভয়াবহ ঘটনা। আমরা এটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কণ্ঠশিল্পী সালমা হারালেন বাবা ফজলুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৬ পি.এম


কণ্ঠশিল্পী সালমা হারালেন বাবা ফজলুল হক

সংগীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার বাবা ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর খবরটি নিজেই জানিয়েছেন সালমা।

স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, "আমার আব্বা আর নেই।"

বাবার আকস্মিক মৃত্যুর ফলে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে ফজলুল হকের মৃত্যুর কারণ, জানাজা ও দাফনের সময় ও স্থান সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন সালমা। সম্প্রতি তিনি ফ্যাশন ডিজাইনার ও সংগীতশিল্পী বিপ্লব সাহার সঙ্গে ‘প্রেম লীলা’ শিরোনামের একটি দ্বৈত গান প্রকাশ করেছেন। এই গানটি আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত এবং এর ভিডিও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

এ ছাড়া, সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘ বিরতির পর গুরু শফি মণ্ডলের লেখা ও সুরে ‘কুঞ্জে আর ভালো লাগে না বন্ধু বিহনে’ শিরোনামের একটি লালনগীতির রেকর্ডিং শেষ করেছেন সালমা। গানটি আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি, রোহান রাজের আলোচিত গান ‘মানুষ বড়ই স্বার্থপর’-এর নতুন আয়োজনেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। সুমী শবনম, তসিবা, জারিন ও রোহান রাজের সঙ্গে গাওয়া গানটির শুটিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর গানটি প্রকাশের কথা ছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬০ লাখ ডলারের গয়না লুটের ঘটনায় কার্দাশিয়ানকে আদালত দিলেন মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৭ পি.এম


৬০ লাখ ডলারের গয়না লুটের ঘটনায় কার্দাশিয়ানকে আদালত দিলেন মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ

২০১৬ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ান। ওই ঘটনায় ৬০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের গয়না লুট করা হয়েছিল। প্রায় ১০ বছর পর প্যারিসের একটি আদালত কার্দাশিয়ানকে মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি এই ১ ইউরো ক্ষতিপূরণই চেয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এই রায়কে অর্থের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন না কার্দাশিয়ান। সংবাদ সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানানো হয়েছে, তার এবং তার রূপসজ্জাশিল্পী সিমন হারুশের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই রায় মূলত জবাবদিহি এবং ঘটনার স্বীকৃতির প্রতীক।

কার্দাশিয়ান বলেন, ২০১৬ সালের ওই ডাকাতির ঘটনা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তার এবং পরিবারের ওপর রয়ে গেছে। তবে বর্তমানে তিনি সেই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান।

২০১৬ সালের ২ অক্টোবর প্যারিসে ফ্যাশন সপ্তাহ চলাকালে একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন কার্দাশিয়ান। ওই সময় পুলিশের পোশাক পরা দুই ডাকাত জোর করে তার কক্ষে ঢুকে পড়ে।

ডাকাতরা জিপ টাই ও টেপ দিয়ে কার্দাশিয়ানকে বেঁধে ফেলে। এরপর তার কাছ থেকে ৬০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া গয়নার মধ্যে একটি হীরার আংটিও ছিল, যেটি ওই রাতে একটি ফ্যাশন প্রদর্শনীতে পরেছিলেন তিনি।

বয়স বেশি হওয়ায় ফ্রান্সে ডাকাত দলের সদস্যদের ‘দাদু ডাকাত’ নামে পরিচিতি দেওয়া হয়েছিল। বিচার চলাকালীন তাদের মধ্যে ছয়জনের বয়স ছিল ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।

গত বছর এই ডাকাতির ঘটনায় আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। বিচার-পূর্ব আটক অবস্থায় তাদের মধ্যে কেউ নতুন করে কারাগারে যেতে হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে তাদের কেউ আপিলও করেননি।

এরপর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আদালত কার্দাশিয়ানকে ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি তার রূপসজ্জাশিল্পী সিমন হারুশকেও ১ ইউরো দিয়েছে। ডাকাতির সময় হারুশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ওই হোটেলের সাবেক এক কর্মীকে ১ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ ইউরো এবং হোটেল কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। সাবেক ওই কর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার কথা জানিয়ে ক্ষতিপূরণ ও সুদ বাবদ সাড়ে ৫ লাখ ইউরো দাবি করেছিলেন। তার আইনজীবী আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

রায়ের পর কার্দাশিয়ান এবং হারুশ যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তারা বলেন, ওই অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং এর প্রভাব এখনো তাদের মনে রয়েছে। তাদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্ষতিপূরণের বিষয় নয়; বরং এটি জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি স্বীকৃতির প্রমাণ।

কার্দাশিয়ান আরও বলেন, ঘটনাটি তিনি কখনো ভুলতে পারবেন না। তবে মানুষের মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং জবাবদিহির শক্তিতে তিনি বিশ্বাস করেন। বর্তমানে তিনি এবং তার পরিবার এই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%