০৯:০৩ পি.এম
ফুসফুসের ক্যান্সার হলো একটি মারাত্মক রোগ। সবচেয়ে বড় সমস্যা এটি যে, রোগটি শুরু হলেও অনেক সময় দীর্ঘদিন তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। সাধারণ কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কিংবা হঠাৎ ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দিলে, ততদিনে রোগ অনেকটাই ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য রোগটি আগেভাগে শনাক্ত করতে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে, এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তবে, এই পরীক্ষা সবার জন্য নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, কারা ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্তের পরীক্ষা করাবেন? চিকিৎসকদের মতে, যাদের বয়স ৫০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে রয়েছে এবং বর্তমানে ধূমপান করেন অথবা আগে দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেছেন, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে।
আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন
বিশেষভাবে যাদের অন্তত ২০ প্যাক-ইয়ার ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে এবং যারা এখনো ধূমপান করছেন অথবা গত ১৫ বছরের মধ্যে ধূমপান ছেড়েছেন, তাদের বছরে একবার কম মাত্রার সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্যাক-ইয়ার কিভাবে হিসাব করবেন? ধূমপানের পরিমাণ ও সময় হিসাব করার জন্য প্যাক-ইয়ার একটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন, যদি কেউ ২০ বছর ধরে প্রতিদিন একটি প্যাকেট সিগারেট পান করেন, তাহলে তার হিসাব হবে ২০ প্যাক-ইয়ার। আবার, যদি কেউ ১০ বছর ধরে প্রতিদিন দুই প্যাকেট সিগারেট পান করেন, তবে সেটি ২০ প্যাক-ইয়ার হিসাবেই ধরা হবে।
সাধারণ এক্স-রে নয় কেন? কারণ সাধারণ বুকের এক্স-রেকে ফুসফুসের ছোট বা প্রাথমিক পর্যায়ের টিউমার সনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু, কম মাত্রার সিটি স্ক্যান তুলনামূলক কম তেজস্ক্রিয়তা প্রয়োগ করে ফুসফুসের আরও স্পষ্ট ছবি প্রদান করতে সক্ষম।
ফলে, কোনো লক্ষণ প্রকাশের আগেই ছোট টিউমার শনাক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুরুতেই রোগ ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ
কিন্তু, ধূমপান না করলেও কি ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে? হ্যাঁ, ফুসফুসের ক্যান্সার শুধু ধূমপায়ীদের মধ্যে হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। বায়ুদূষণ, কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শ এবং বংশগত কারণেও এই রোগ হতে পারে।
তবে, যারা কখনো ধূমপান করেননি, তাদের সবার নিয়মিত কম মাত্রার সিটি স্ক্যান করানোর প্রয়োজন নেই। যদি পারিবারিক ইতিহাস, বিশেষ ঝুঁকি, অথবা কোনো উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ফুসফুসের ক্যান্সার অনেক সময় নীরবে শরীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য সময়মতো পরীক্ষা রোগটি আগেভাগে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে।
আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন