সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:২৪ পি.এম
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক শহর আলেপ্পোর একটি সেনাঘাঁটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে পুরো এলাকা একের পর এক বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।
সিরিয়ার প্রভাবশালী বার্তা সংস্থা সানা জানায়, আলেপ্পোর আল-এইস শহরের নিকটে অবস্থিত সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে হঠাৎ করে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
জরুরি পরিষেবা সংস্থা আল-ইখবারিয়াকে আলেপ্পোর সিভিল ডিফেন্স অপারেশনের প্রধান ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক বিস্ফোরণের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ জনগণকে ওই এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভাঙে এবং বাসাবাড়ির ছাদ থেকে দূরে আগুনের বিশাল লেলিহান শিখা দেখতে পান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-ঘারিব স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি সব হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলেপ্পোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড ইতিমধ্যে বিস্ফোরণস্থলে যাওয়ার সব রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়েছে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়া ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এর আগে গত শুক্রবার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর ইজোর প্রদেশের একটি সেনাঘাঁটিতে বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত হন। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে ইদলিব প্রদেশের একটি অস্ত্রগুদামে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী বিস্ফোরণে ১৪ জন প্রাণ হারান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনাত মারা গেছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শেখ মুহাম্মদ আল্লাইয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী চানগাঁও এলাকার একটি ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন ইবনাত। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রেখে তার চিকিৎসা চলছিল।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।
ইবনাত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ বিভাগের ২৩২ ব্যাচের (৬৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এটি জানা গেছে যে, ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া, প্রায় এক বছর আগে বিরুলিয়া ব্রিজ এলাকায় একই ধরনের একটি ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই সময়ও তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
তার মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কার্ডিওলজিস্ট ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যাসল কনলি টপ ডক্টর’ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। এটি তার জন্য টানা চারবারের সম্মাননা লাভের ঘটনা ঘটল।
ক্যাসল কনলির বার্ষিক তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১১ লাখেরও বেশি চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ চিকিৎসক স্থান পান। এই স্বীকৃতি রোগীদের সাধারণ জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়, বরং চিকিৎসকদের পেশাগত মনোনয়ন, যোগ্যতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারা কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে থাকে। ২০২৬ সালের প্রকাশিত তালিকায় প্রায় ৭২ হাজার চিকিৎসককে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ নিউইয়র্কের হৃদরোগ চিকিৎসায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রয়েছেন। প্রকাশ্য চিকিৎসক তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কের অ্যাভিসেনা কার্ডিওলজির সঙ্গে যুক্ত এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (এনওয়াইইউ) ও লেনক্স হিল হাসপাতালের মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা প্রদান করছেন। ব্রঙ্কসের ১৯৯০ ম্যাকগ্রাও অ্যাভিনিউসহ একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন।
চিকিৎসাশাস্ত্রের জটিল শাখা কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার কাজের পরিধি বিস্তৃত। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা অ্যারিদমিয়াসহ নানা হৃদরোগের চিকিৎসায় যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া ইকোকার্ডিওগ্রাফি, নিউক্লিয়ার কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সিটি অ্যাঞ্জিওগ্রাফির মতো আধুনিক রোগনির্ণয় এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
ডা. মোর্শেদ ২০০৫ সালে সেন্ট জর্জেস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বিভিন্ন অনলাইন মেডিকেল ডিরেক্টরিতে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ২০১২ সালে তার দ্বিতীয় ডিগ্রি এবং কার্ডিওলজি ও ইন্টারনাল মেডিসিনে বোর্ড সার্টিফিকেশনের তথ্যও পাওয়া যায়।
নিউইয়র্কে বসবাসরত বিশাল বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ডা. মোর্শেদের একটি বিশেষত্ব হলো বাংলা ভাষায় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা। স্থানীয় হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও হেলথ কেয়ার গাইডগুলোতে তাকে বাংলাভাষী কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রবাসী রোগীদের জটিল রোগব্যাধিতে নিজ ভাষায় সহজে যোগাযোগের সুবিধা দেয়।
সরকারি কোনো একক র্যাংকিং না থাকলেও, দীর্ঘ ২১ বছরের অভিজ্ঞতা এবং টানা চারবার ক্যাসল কনলির মতো নিরপেক্ষ মেডিকেল রিসার্চ টিমের টপ ডক্টর স্বীকৃতি ডা. মঞ্জুর মোর্শেদকে প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের মধ্যে অনন্য এক উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকার দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘকাল ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে, দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে ২৪টি কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।
গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৈঠকে, বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ হিসেবে নামকরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক ও মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া, প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স এবং যন্ত্রপাতির সংস্থান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়েছিল।
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানো। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকার কারণে, বছরের পর বছর ধরে এসব সেন্টার অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র দুটি সেন্টারে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই সেন্টারগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড এবং হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীর দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
তিন তলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ এবং ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এমন একটি কেন্দ্র হলো সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়।
ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবা দিতে ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।
পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট এবং দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল।
এ ছাড়া, প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন নার্সের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার এবং অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা ছিল। তবে কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, "মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স এবং মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটিকে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার (হেলথ সিস্টেম) একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।" সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মাগরিবের নামাজের পর শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। পরে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ঘটনাতেও মোস্তফা অংশ নেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই বেনু রায় জানিয়েছেন, রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দাবি, দুজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছেন। তবে অপর আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। ইয়াসিনের দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি শুধু মরদেহ সরানোর কাজে সহযোগিতা করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলি মোস্তফার মুদিদোকানের সামনে একটি বেঞ্চে বসেছিল। মাগরিবের নামাজ শেষে মোস্তফা তাকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে কয়েক দফা ধর্ষণের পর বালিশ চাপা দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলি তার ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। এ সময় মোস্তফা তার মোবাইল ফোনে শিশুটির একাধিক আপত্তিকর ভঙ্গির ছবি তোলেন বলে পুলিশের দাবি। পরে মোস্তফার ফোন পরীক্ষা করে এসব ছবি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মোস্তফার মোবাইল ফোনে দোকানে আসা বিভিন্ন বয়সী ছোট মেয়েদেরও আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা আরও অনেক ছবি পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তার আগের কর্মকাণ্ড নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার পর মোস্তফার আচরণে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে তিনি নিহত শিশুর বাবার সঙ্গে মিশেছেন এবং গভীর রাতে মোবাইল ফোনে কলির নিখোঁজের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। এমনকি কলির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও তিনি অংশ নেন। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও সাংবাদিক ও পুলিশের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে মোস্তফা আবার তার মুদিদোকান খোলেন এবং রক্তমাখা শরীর নিয়ে গোসল করেন বলে রিমান্ডে জানিয়েছেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, কলিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং কুকুর তাড়া করায় সেটি বাইরে নিতে পারেননি তারা।
মরদেহ উদ্ধারের পর পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। পুলিশের দাবি, পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। পরে দুজনকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও দ্রুত স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য পাওয়ায় রিমান্ড আগেই শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা বেনু রায় বলেন, মামলার তদন্ত প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কয়েকটি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া বাকি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশুর আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হবে। ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের ঘটনায় একজন নাকি দুজন জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর দুই আসামিরও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত তিনদিন ধরে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে ভাঙচুর চালাচ্ছেন উৎসুক জনতা। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটির প্রায় ৮০ শতাংশ ভাঙচুর হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকেও অনেকে সেখানে আসছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সাত দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দাবিতে রোববার দুপুরে পাবনা আদালত ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করেন নিহতের স্বজন ও সাধারণ মানুষ। মামলার তদন্তে কালক্ষেপণ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ