রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় রয়েছে। তবে পোষা প্রাণী বিড়ালের বাজারে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন একটি চিত্র। বিড়ালের খাবার এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্যে ভোক্তাদের খরচ ক্রমাগত বাড়ছে এবং বিড়াল বিক্রিতে এসেছে গতি। কিন্তু কুকুরের পণ্য বিক্রির হার কমে গেছে। এসব তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান পেট প্রডাক্টস অ্যাসোসিয়েশন। খবরটি সিএনবিসি থেকে জানা গেছে।
জেনারেল মিলস, চিউই এবং পেটকো হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস—এই তিনটি প্রতিষ্ঠান তাদের সাম্প্রতিক আয়ের প্রতিবেদনে বিড়ালের পণ্যের বাজারকে ব্যবসার একটি শক্তিশালী দিক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পেট প্রডাক্টস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিড়াল পালনের হার ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ পরিবারে বিড়াল পোষ্য হিসেবে রয়েছে। ২০২৪ সালে বিড়াল পালনের হার ২৩ শতাংশ বেড়েছিল।
পোষা প্রাণী খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কুকুরের তুলনায় বিড়াল পালনের খরচ এবং যত্ন নেওয়া সহজ। তাছাড়া, অ্যাপার্টমেন্টের মতো ছোট জায়গায়ও বিড়াল রাখা সম্ভব। এসব কারণে বিড়াল পালনে আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে।
জেনারেল মিলস সম্প্রতি জানিয়েছে, কোম্পানির বিড়ালের খাবার বিক্রি বেড়েছে। এর মধ্যে টিকি ক্যাট ব্র্যান্ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সময়ে কুকুরের খাবার বিক্রির হার কমেছে।
অন্যান্য পোষা প্রাণী সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রেতারাও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করছে। চিউইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমিত সিং বলেছেন, কুকুরের পণ্যের বিক্রি কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও বিড়ালের পণ্যের বাজারে বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পেটকোও দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিড়ালের পণ্যে শক্তিশালী বিক্রির তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এই সময়ে বিড়ালের খাবার, সাপ্লিমেন্ট, বিছানা এবং আসবাবসহ বিভিন্ন পণ্যে বিক্রি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির আবারও বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং অন্যান্য কারণে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই দেশের বড় খুচরা বিক্রেতারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের উদ্বেগ কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড় প্রদান শুরু করেছে। হ্যালোউইন এবং উৎসবের মৌসুমের প্রেক্ষাপটে বাজারে মূল্যছাড় দেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
ডিসকাউন্ট চেইন আলডি গত বুধবার জানিয়েছে, কোম্পানিটি আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তাজা খাবারের বিভিন্ন পণ্যে প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সমপরিমাণের মূল্যছাড় দেবে। এছাড়া, আলডির দোকানে থাকা মোট পণ্যের এক-তৃতীয়াংশের দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ সুপারশপ চেইন ক্রোগার পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরবরাহকারী কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ মূল্যের কারণে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় ক্রোগার সম্প্রতি কিছু দোকান থেকে আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড রেড বুল ও বোয়ার্স হেডের পণ্য বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ক্রোগার জানিয়েছে, বাড়তি দামে পণ্য কিনে গ্রাহকদের ওপর বোঝার ভার না চাপানোর জন্য তারা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন মুদিপণ্য কেনাকাটায় দাম কমানোর প্রতিযোগিতাও দেখা যাচ্ছে। নিত্যপণ্য সরবরাহের প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাকার্ট গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় গ্রোসারি চেইন ‘নো মার্কআপ’ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। এর মানে হলো, একজন গ্রাহক দোকানে গিয়ে সরাসরি যে দামে পণ্য কিনতে পারেন, অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডার করলেও তাকে ঠিক একই দামে বা অফারে পণ্য দেয়া হবে। অনলাইন ডেলিভারির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো দাম রাখা হবে না।
ইনস্টাকার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস রজার্স জানিয়েছেন, ক্রেতারা এখন সেসব অনলাইনের দিকে বেশি ঝুঁকছেন যেখানে বাড়তি দাম নেই। "এছাড়া, অনলাইনে একই দামে পণ্য বিক্রি করা রিটেইলারদের প্রবৃদ্ধির হার বাড়তি দাম নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।"
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় জায়ান্ট কস্টকো প্রতিটি প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে ধারাবাহিকভাবে দাম কমানোর হিসাব তুলে ধরেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বশেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আখরোট, কফি ও কালো গোলমরিচের মতো দৈনন্দিন পণ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দাম কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কস্টকোর সিইও রন ভ্যাচরিস বলেছেন, ‘পণ্যের উৎস পর্যায়ে কাঁচামালের দাম বাড়লেও আমরা সরবরাহকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে, কীভাবে পণ্যের দাম যতদূর সম্ভব নিচে নামিয়ে রাখা যায়। নতুন নতুন উপায়ে দাম কমানোটাই আমাদের মূল কাজ।’
দাম কমানোর এ প্রবণতা নতুন নয়। খুচরা বাজারের সবচেয়ে বড় নাম ওয়ালমার্ট চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৫০টি পণ্যে বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এটি ছিল বড় পরিসরে দাম কমানোর পরিকল্পনার একটি ছোট অংশ মাত্র। ওয়ালমার্ট চলতি বছরজুড়ে প্রায় ১১ হাজারের বেশি পণ্যে মূল্যছাড় দিয়েছে।
সম্প্রতি গোল্ডম্যান স্যাকসের খুচরা বাণিজ্য সম্মেলনে ওয়ালমার্ট ইউএসের সিইও গুগিনা বলেন, ‘আমাদের মূল দায়িত্ব হলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দরকষাকষি করে পণ্যের সাময়িক মূল্যছাড়কে স্থায়ীভাবে কম দামে রূপান্তর করা, যাতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন কেনাকাটা করতে পারেন।’
অতীতের অর্থনৈতিক মন্দাগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাজারে আর্থিক চাপ তৈরি হলে ওয়ালমার্ট, কস্টকো ও অলডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার হিস্যা সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়। কম খরচে কেনাকাটার সুযোগ খোঁজার জন্য নতুন ক্রেতারা শুরুতে বাধ্য হয়ে এসব সুপারশপে আসেন। পরে পণ্যের সঠিক দাম ও মানের কারণে তারা স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত হন।
বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্লেসার ডটএআইয়ের তথ্যেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের মুদি বিক্রেতাদের মধ্যে আলডির দোকানে ক্রেতাদের যাতায়াত সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। কম দামে পণ্য দেয়ার কৌশলই এর অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ক্রেতাদের আকর্ষণ করাই শেষ লক্ষ্য নয়। কম দামের কারণে নতুন ক্রেতারা দোকানে এলেও তাদের নিয়মিত ক্রেতায় পরিণত করার চেষ্টা করছে এসব প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক বছরগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের বক্তব্যেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধির এ সমস্যা হুট করে একদিনে সমাধান করার মতো কোনো জাদুকরী উপায় বা ম্যাজিক বুলেট কারো কাছে নেই। তবে সংকটময় সময়ে সুপারশপগুলোর এভাবে আগাম দাম কমানো ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা সাধারণ মানুষের ওপর থেকে মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ কিছুটা হলেও লাঘব করতে সাহায্য করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায়, ৯টি বগি ফেলে ২ কিলোমিটার দূরে চলে গেছে বুড়িমারীগামী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ)।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার তুষভান্ডার রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে রেলগেটে এই ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পার্বতীপুর থেকে যাত্রা শুরু করা বুড়িমারীগামী কমিউটার ট্রেন সকাল ১০টার দিকে লালমনিরহাটের তুষভান্ডার রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে রেলগেটে পৌঁছালে ট্রেনের ইঞ্জিনের ড্রোভার (হুক) ভেঙে যায়। এর ফলস্বরূপ, ৯টি বগি রেখে ট্রেনের ইঞ্জিন প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে চলে যায়।
এদিকে, ফেলে যাওয়া ট্রেনের বগিগুলো রেলগেটের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে। এই অবস্থায় ট্রেন ও মহাসড়কের যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হন। পরে লালমনিরহাট থেকে একটি উদ্ধারকারী ইঞ্জিন এসে বগিগুলোকে নিয়ে বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান এবং দুই শতাধিক মার্কিন সেনা ভারতে এসে পৌঁছেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, তারা মূলত ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ায় প্রথমবারের মতো অংশ নিতে দেশটিতে এসেছেন। এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, গোর এক্সে একটি পোস্টে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোর বহুপাক্ষিক বিমান মহড়ায় অভিষেক হতে চলেছে, যা তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। গোর যুক্তরাষ্ট্রের বহুমুখী সক্ষমতাসম্পন্ন স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলোর ছবি শেয়ার করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যোধপুরে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানশক্তি! তরঙ্গ শক্তি মহড়ায় প্রথমবারের মতো অংশ নিতে ছয়টি এফ-৩৫ লাইটনিং-২ এবং ২০০ বিমান বাহিনীর সদস্য এখন ভারতে। ভারতীয় বিমানবাহিনী ও অন্যান্য অংশীদারদের সাথে ভারতের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এই অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোর অভিষেক হতে দেখে আমি উচ্ছ্বসিত।’
এর আগে, গত মঙ্গলবার ভারতীয় বিমানবাহিনী জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত যোধপুর বিমানঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তরঙ্গ শক্তি মহড়ার দ্বিতীয় সংস্করণে সাতটি বিদেশি দেশ অংশ নেবে। এই বহুপাক্ষিক মহড়ায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলোও অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
মহড়া চলাকালে ভারত রাফায়েল, মিরাজ-২০০০, জাগুয়ার, তেজস, মিগ-২৯ এবং সুখোই-৩০ এমকেআইয়ের মতো যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করবে। এই মহড়ার লক্ষ্য হলো দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তুলে ধরা এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি মঞ্চ তৈরি করা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় পরিবহন শ্রমিকরা অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন। এই ধর্মঘটটি বাসচালক ও সুপারভাইজারকে মারধরের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বাস চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এই হঠাৎ ধর্মঘটের ফলে সাধারণ যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা (সিএনজি) চালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর ফলস্বরূপ পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসচালক রুবেল হোসেন এবং এক সুপারভাইজারকে সিএনজিচালকেরা অতর্কিত মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার বিচার এবং মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা সকাল থেকে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অটোরিকশা ও সিএনজি শহরের বাইরে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। কিন্তু এই নিয়ম লঙ্ঘন করে আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে এসব অবৈধ যান চলাচল করছে, যার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ না হলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে বাস বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। বিকল্প বাহন হিসেবে অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
সাপাহার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা আফসার আলী জানান, বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখেন কোনো বাস চলছে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে তিন দফায় নওগাঁ শহরে আসতে হয়েছে। যেখানে ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা লেগেছে, আর সময়ও নষ্ট হয়েছে প্রায় দেড় ঘণ্টা।
মান্দাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, বাসশ্রমিক ও অটোরিকশাচালকদের বিরোধের খেসারত সবসময় সাধারণ মানুষকেই দিতে হয়। জরুরি কাজে বের হয়ে তিনি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে অটোরিকশা (সিএনজি) মালিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত দোষী আসামিরা গ্রেপ্তার না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বাস ধর্মঘট ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ ব্যানার্জী জানান, বাস চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ