বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০২ পি.এম
দেশের সর্বউত্তরের সীমান্তবর্তী এলাকা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে শুরু করে দক্ষিণের কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে ৯৫৬ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন মানিকগঞ্জের দুই যুবক। এই দীর্ঘ যাত্রায় একের পর এক জেলা, সড়ক এবং নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হয়েছে। তাদের যাত্রা কোনো যানবাহনে নয়, বরং পায়ে হেঁটেই সম্পন্ন হয়েছে।
মাত্র ২৮ দিনে তারা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছেছেন। এই পথে তারা ১৬টি জেলা অতিক্রম করেছেন। তাদের এই ব্যতিক্রমী ভ্রমণে কখনো ক্লান্তি, কখনো শারীরিক অসুস্থতা, আবার কখনো রাতের থাকার জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারেনি।
এই দুই তরুণ হলেন মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স শেষ করা শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ হৃদয় এবং অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রুবাই হাসান।
গত ৯ আগস্ট দুপুরে তাদের যাত্রা শুরু হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে। তাদের লক্ষ্য ছিল দেশের সর্বদক্ষিণের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জিরো পয়েন্টে পৌঁছানো। ২৮ দিনের পথচলা শেষে তারা গত ৭ সেপ্টেম্বর গন্তব্যে পৌঁছান।
তাদের এই যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল শুধু দূরত্ব অতিক্রম করা নয়, বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন কাছ থেকে দেখা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নতুন জায়গা সম্পর্কে জানার আগ্রহ।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের পথ ছিল সহজ নয়। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় হাঁটতে গিয়ে পায়ে ব্যথা ও ক্লান্তির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। রাতে থাকার জায়গা খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জও ছিল। কখনো তারা মসজিদে থেকেছেন, আবার কখনো পুলিশের সহায়তায় থানায় আশ্রয় নিতে হয়েছে।
এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসেননি। সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ হৃদয় বলেন, "আমরা ৯ আগস্ট দুপুরে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করি। প্রথমদিকে বেশ ভালোই যাচ্ছিল। পরবর্তীতে রাতে থাকা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। একদিন ছিলাম মসজিদে, অন্যদিন একটি থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তায় আশ্রয় পেয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, "পথিমধ্যে বিভিন্ন রকমের শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও পড়তে হয়েছে। এর আগেও আমি ৪৯টি জেলা ভ্রমণ করেছি।" তাদের ব্যক্তিগত আগ্রহও ছিল দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পেছনে। ভ্রমণের মাধ্যমে নতুন স্থান দেখা এবং দেশের মানুষ ও জনপদকে কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি করতেই তারা এই ব্যতিক্রমী পথ বেছে নেন।
সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রুবাই হাসান বলেন, "আমার মূলত বিভিন্ন হবিস বা শখ এক্সপ্লোর করার নেশা। যার জন্য হচ্ছে বর্তমানে এই ঘোরাফেরার প্রতি প্যাশন কাজ করছে।" তিনি জানান, "ভাই বলল চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি। সবাই তো ঘুরাফেরা করে, আমরা একটা এক্সট্রিম কিছু করার প্ল্যান করলাম।"
আব্দুল আহাদ হৃদয় ও মো. রুবাই হাসানের এই যাত্রার পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের ভ্রমণপ্রীতি। আহাদ হৃদয় এর আগেও দেশের ৪৯টি জেলা ভ্রমণ করেছেন। এবার ছোট ভাই ও সহপাঠী রুবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পায়ে হেঁটে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।
এই দীর্ঘ যাত্রায় তাদের প্রতিদিনের খরচও নিজেদের বহন করতে হয়েছে। পুরো যাত্রায় জনপ্রতি প্রায় ২০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। শুরুতে পরিবারের পক্ষ থেকে খুব একটা উৎসাহ না থাকলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে যাত্রা শেষ করে বাড়ি ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত হন।
আব্দুল আহাদ হৃদয়ের পরিবার থেকেও এই যাত্রায় সহযোগিতা ছিল বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, "মানুষের জীবনযাপনকে কাছ থেকে দেখা এবং নতুন মানুষ ও নতুন স্থান সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই এমন যাত্রার চিন্তা আসে।"
তাদের এই ব্যতিক্রমী যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বন্ধু, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মাত্র ২৮ দিনে পায়ে হেঁটে ৯৫৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়াকে তারা দেখছেন ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতা হিসেবে।
দেবেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী দীপক বলেন, "তাদের এই অর্জন তরুণ যুবকদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।" মো. রুবাই হাসানের সহপাঠী সাদিয়া বলেন, "আমরা খুবই প্রাউড ফিল করছি, আমাদের দুজন বন্ধু তারা কিন্তু অনেক বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল।"
বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ-দীর্ঘ এই পথচলায় তারা শুধু একটি দূরত্বই অতিক্রম করেননি; পথে দেখেছেন দেশের নানা প্রান্তের মানুষের জীবনযাপন, পরিচিত হয়েছেন নতুন মানুষের সঙ্গে, পেয়েছেন নানা ধরনের অভিজ্ঞতা।
কখনো শারীরিক কষ্ট, কখনো থাকার অনিশ্চয়তা, আবার কখনো মানুষের কটু কথার মধ্যেও হাঁটা থামাননি মানিকগঞ্জের এই দুই যুবক। শেষ পর্যন্ত ২৮ দিনের সেই পথচলা শেষ হয়েছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জিরো পয়েন্টে গিয়ে।
তাদের কাছে ৯৫৬ কিলোমিটারের এই যাত্রা হয়ে থাকল দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তকে পায়ে হেঁটে দেখার এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারের অঙ্গীকার হলো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি সরকারের লক্ষ্য নয়, বরং লক্ষ্য হলো সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, এবং অন্যান্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। এই প্রমাণগুলো এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালকে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ গিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।
তিনি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হিসেবে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও সেই নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধুমাত্র আইনজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী, প্রয়োগযোগ্যতা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানও একটি ক্লাসিক বিতর্কের বিষয়- শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের চায়ের দোকানেও। গ্রামের চায়ের দোকানে মানুষ সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, সাংবিধানিক সংশোধনী, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ ধরনের আলোচনা মানুষের সাংবিধানিক সচেতনতা বাড়ায়। এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে মানুষ তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। এ কারণেই আমরা গর্বিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু সাদৃশ্য তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্ট যে এখতিয়ার প্রয়োগ করে, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর মিল রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আর্টিকেল ১০২-এর অধীনে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনও কখনও এই এখতিয়ার অপব্যবহার ও ভুলভাবেও ব্যবহার করা হয়।
সংবিধান প্রণয়নে দার্শনিকদের চিন্তার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা জন লক, থমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এসব রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা ১৭৮৭ সালে যে ভিত্তিগত কাজগুলো করেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় আমাদেরও সেই তাত্ত্বিক ভিত্তির অনেকটাই অনুসরণ করতে হয়েছে।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারের কিছু নীতিগত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও কিছু মৌলিক মূল্যবোধ ও নীতির ধারাবাহিকতা দেখা যায়।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াইকে উৎসাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মানুষ স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত হয়েছে।
দেশের বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং এসব মানুষের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলে জানান আইনমন্ত্রী।
বর্তমান সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে- এমন কোনো অভিযোগ বর্তমান সময়ে পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘের ঐচ্ছিক প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক দেশ এ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও বাংলাদেশ তা করেছে।
মানবাধিকার কমিশনের নির্বাচন কমিটির কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রেসক্লাব এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী কিছু দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উচ্চমানের স্বীকৃতি থাকলেও তাদের নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব স্পিকারের হাতে রাখা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবিধানিক শাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই পরিস্থিতিতে সুশাসন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার এমন একটি সময় পার করছে, যখন অর্থনীতি ও আইনের শাসন উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো নিষ্পত্তির কাজও চলছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের ১০ উপজেলায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করেছে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে সড়ক, হাটবাজার, সামাজিক অবকাঠামো, সেতু-কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেচ খাল খনন। এই উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে মোট ব্যয় হয়েছে ১৪৯ কোটি ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১০০ টাকা।
এলজিইডির বরিশাল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৭ দশমিক ৩৬৬ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৪ দশমিক ৬৯৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৮ দশমিক ২৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ করা হয়েছে। সড়ক উন্নয়নের আওতায় মোট ২০ দশমিক ৩৪৯ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ২৮৪৭ দশমিক ৭৯১ লাখ টাকা।
একই সময়ে ৫১৮ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ৬৭২৯ দশমিক ৯৭ লাখ টাকা। এছাড়া, একটি হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারের উন্নয়ন করা হয়েছে, যার ব্যয় ৩৪৩ দশমিক ১৩ লাখ টাকা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪২টি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মসজিদ, কবরস্থান ও মন্দির। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে ১৭৭ দশমিক ৭৬ লাখ টাকা। এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান সড়ক সচল ও চলাচলের উপযোগী রাখতে ৫৭ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়েছে ২৩২০ দশমিক ০৭ লাখ টাকা।
এছাড়া, জেলার ১০টি উপজেলায় প্রকল্পের মাধ্যমে ১২২৮ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার ব্রিজ ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ২৪৪২ দশমিক ৬২ লাখ টাকা। কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ৫ দশমিক ১৭ কিলোমিটার খননকৃত সেচ খাল পুনঃখনন করা হয়েছে, এতে ব্যয় হয়েছে ৫৭ দশমিক ২৮ লাখ টাকা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর ও মুলাদী উপজেলায় উন্নয়নযোগ্য কাজের মধ্যে দুটি সড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়েছে। এসব সড়ক সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।
গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায় দুটি নান্দনিক আরসিসি আর্চ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রকৌশল কৌশলে নির্মিত এসব ব্রিজের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হয়েছে।
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, "জেলার গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এলজিইডির উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "নতুন সড়ক ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।" এছাড়া, হাটবাজার, গ্রোথ সেন্টার, সামাজিক অবকাঠামো ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাস্তবায়িত এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত এবং স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবন এবার রুপালি পর্দায় উপস্থাপন করা হবে। প্রথম ভারতরত্নপ্রাপ্ত এই সুরসম্রাজ্ঞীর চরিত্রে অভিনয় করবেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। বড় বাজেটের এই জীবনীভিত্তিক সিনেমাটি একাধিক ভারতীয় ভাষায় নির্মিত হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চেন্নাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মিউজিক একাডেমিতে এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিনেমাটির মহরৎ ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রথম দৃশ্যের সূচনা করেন তামিল সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসন।
এ সময় এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর পরিবারের সদস্য, খ্যাতিমান শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের প্রযোজক ও পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণী সিনেমার নির্মাতা গৌতম তিন্নানুরি প্রায় এক বছর গবেষণা করে সিনেমাটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন। প্রযোজক আল্লু অরবিন্দ, রকলাইন ভেঙ্কটেশ ও বানি ভাসে যৌথভাবে সিনেমাটি প্রযোজনা করবেন। সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন জনপ্রিয় সুরকার অনিরুদ্ধ রবিচন্দর।
অনুষ্ঠানে পরিচালক গৌতম তিন্নানুরি বলেন, "এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী ও পছন্দের সংখ্যা বাড়িয়ে খুব দ্রুত তারকা হওয়া সম্ভব। কিন্তু এম এস সুব্বুলক্ষ্মী সারা জীবন সাধনা, ধৈর্য ও ত্যাগের মাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। তার গানের পাশাপাশি সেই মানুষটির জীবনও পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চান তারা।"
এদিকে কিংবদন্তি এই শিল্পীর চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত রাশমিকা মান্দানা। অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমার মনে হচ্ছে আমি এক ঐশ্বরিক সান্নিধ্যে দাঁড়িয়ে আছি। আম্মার ঐতিহাসিক জীবনের একটি ছোট অংশ হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আম্মা নিজেই হয়তো আমাকে এই কাজের জন্য বেছে নিয়েছেন। আমি কথা দিচ্ছি, এই চরিত্রের প্রতি শতভাগ নিষ্ঠা ও সততা রেখে নিজের সেরাটা দেব।"
সিনেমাটির মহরৎ অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করেন কমল হাসনও। এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর সংগীত কীভাবে পুরো ভারতকে এক সুতোয় বেঁধেছিল, তা উল্লেখ করে তিনি রাশমিকার এই চরিত্রে অভিনয় নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান।
রসিকতা করে কমল হাসন বলেন, "আজকের দিনে রাশমিকা এই চরিত্রটি পাওয়ায় আমার এতটুকু হিংসা হচ্ছে না। কারণ আমি যদি নিজের দাড়িও কামিয়ে ফেলতাম, তাহলেও এম এস আম্মার চরিত্রের সঙ্গে সুবিচার করতে পারতাম না।"
তামিল, তেলেগু, কন্নড় ও মালয়ালম—এই চারটি প্রধান ভাষায় সিনেমাটি নির্মাণ ও মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সিনেমাটির নাম ও প্রথম ঝলক খুব শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরে ট্রেনে উঠতে দৌড়ানোর সময় পা পিছলে ট্রেনের নিচে পড়ে মৃত্যু ঘটেছে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক ব্যক্তির।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আসা ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে তার মৃত্যু ঘটে।
জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মালেক সরিষাবাড়ি উপজেলার বয়রা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলার নঈম মিয়ার বাজারে সার ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জামালপুর রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আসা আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এ সময় আব্দুল মালেক ট্রেনে দৌড়ে উঠতে গিয়ে পা পিছলে ট্রেনের নিচে পড়ে যান। ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে আব্দুল মালেকের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান।
ওসি রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ