ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এবার পুলিশ ইন্সপেক্টরকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকা-মোবাইল ছিনতাই


এবার পুলিশ ইন্সপেক্টরকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকা-মোবাইল ছিনতাই

খুলনা শহরে এক পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) শাহ আলম (৪৩) ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। মহানগরীর সদর থানার কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন ছিনতাইকারী তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

এই ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন: ভাড়া বাসায় মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ, প্রেমিক উধাও

পুলিশ জানায়, বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা তিন ছিনতাইকারী শাহ আলমের পথরোধ করে। তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তার দুই হাতের কব্জির ওপর চাপাতি দিয়ে আঘাত করে।

পরে পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, শাহ আলম জেলা পুলিশের সদস্য। তার রাতের ডিউটি ছিল। ডিউটি শেষ করে রিকশায় পুলিশ ক্লাবে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। তিনি পুলিশ ক্লাবে অবস্থান করেন। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা সামনে রূপসা মোড়ের কাছে পুলিশের টহল গাড়ি ছিল। তবে ছিনতাইকারীরা কলেজিয়েট স্কুলের পাশে অন্ধকার গলি থেকে বের হয়ে ছিনতাই করে আবার গলির ভেতরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন: মায়ের রেখে যাওয়া দুই শিশুর পাশে দাঁড়ালেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন রোগী ১৩৪৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২২ পি.এম


হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন রোগী ১৩৪৯

গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৯ জন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৩ জনে পৌঁছেছে। একই সময় ৮১ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন।

এখন দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ২২ হাজার ১৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০৪ জন নিশ্চিত হামে এবং ১ হাজার ৪৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচন, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের মাঝপথে অনুষ্ঠিত হয়, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত এটি নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পরের প্রথম মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যদের মেয়াদ ২ বছর। এ কারণে নিম্নকক্ষে ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিনেটরদের মেয়াদ ৬ বছর। এবার সিনেটে ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের গতিপথ নির্ধারণসহ নানা কারণে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যবর্তী নির্বাচন বর্তমান প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি সমর্থন বা জনপ্রিয়তার পরিমাপক হিসেবে দেখা হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তিত হতে পারে, যা ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রেসিডেন্টের নীতি বাস্তবায়নে বড় প্রভাব ফেলবে। বিশ্ববাসীর নজর এখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে।

দেশটির সাধারণ মানুষ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালের অর্ধেক সময় অতিবাহিত না হতেই হাঁপিয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে। ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কোটি মানুষকে হুমকির মুখে ফেলেছে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের কাছে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভোটারদের উদ্বেগের প্রধান কারণ মূল্যস্ফীতি।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ০.৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৩.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খাবারের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়েছে এবং এনার্জির দাম বেড়েছে ১৬.৩ শতাংশ। আমেরিকানরা দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ অনুভব করছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ট্রাম্পের একরোখা ও গণবিরোধী নীতি রিপাবলিকান পার্টিকে জনপ্রিয়তা হারাতে বাধ্য করছে, যা মানবিক মূল্যবোধ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত ন্যায় নীতির পরিপন্থী বলে দাবি করছেন সাধারণ মানুষ। সবকিছু মিলিয়ে আমেরিকানরা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ডনাল্ড ট্রাম্প একজন অস্থির প্রেসিডেন্ট। জনমত জরিপে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার পূর্বসূরিদের তুলনায় সবচেয়ে নিচে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেন, তাহলে তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়ন ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলবে। কংগ্রেসের নজরদারি বাড়বে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর। আইন প্রণয়ন, সরকারের বাজেট নির্ধারণ এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি চালাতে ডেমোক্র্যাটরা সক্ষম হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে জয়ের সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ, ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর হিসাবে এমন পূর্বাভাস রয়েছে। তাদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ২৩৪টি, বিপরীতে রিপাবলিকানদের ২০১টি। সিনেটের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা ৫১-৪৯ ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলো নিয়ন্ত্রণ এবং সাক্ষ্য তলবের ক্ষমতা পাবে। দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনা, স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকি পুনর্বহাল, ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল এবং ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বন্ধের উদ্যোগ নেবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক’ সংখ্যা ২১৮। রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল ২২০-২১৫ ব্যবধানে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে হলে ডেমোক্র্যাটদের এবার ৩টি আসন বাড়াতে হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে মৃত্যু, পদত্যাগ এবং একজন সদস্যের দলবদলের কারণে ২১৮ জন রিপাবলিকান, ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট এবং একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। শূন্য রয়েছে দুটি আসন। ফলে দুটি আসন হারালেও রিপাবলিকানদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা সম্ভব। তবে তিনটি আসন হারালে তা সম্ভব হবে না। সিনেটে নির্বাচন হচ্ছে ৩৫টি আসনে, এর মধ্যে ৩৩টি আসনের নিয়মিত ছয় বছর মেয়াদি নির্বাচনের অংশ। বিশেষ নির্বাচন হচ্ছে ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে দুটি আসনে। সিনেটে ১০০ আসনের মধ্যে বর্তমানে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে। এ হিসাবে ভোট দেওয়া দুই স্বতন্ত্র সিনেটরকেও ধরা হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের ৫১ আসনে পৌঁছাতে ৪টি আসন বাড়াতে হবে। ৫০-৫০ সমতা হলে সিদ্ধান্ত হবে রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে।

ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয় একটি সাধারণ প্রবণতা। সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসের আসন হারায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে। প্রায় সব প্রেসিডেন্টই প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারান। এই অভিশাপকে রাজনৈতিকভাবে বলা হয় “মিডটার্ম কার্স”। ইতিহাসের এসব প্রেসিডেন্টদের মধ্যে হ্যারি এস ট্রুম্যান ১৯৪৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দল ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারায়। দলটি রেকর্ড ৫৫টি আসন হারায় প্রতিনিধি পরিষদে। ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার ১৯৫৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খান। তার দল রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদে ৪৮টি এবং সিনেটে ১৩টি আসন হারায় অর্থনৈতিক মন্দার মুখে। ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিল ক্লিনটন প্রথম মেয়াদে নিয়ন্ত্রণ হারান কংগ্রেসের উভয় কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে। ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জ ডব্লিউ বুশের রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রণ হারায় কংগ্রেসের উভয় কক্ষের। ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্বাস্থ্যসেবা আইন-ওবামাকেয়ার নিয়ে বিতর্কের জেরে বারাক ওবামা প্রভাব হারান। প্রতিনিধি পরিষদে বড় পরাজয় বরণ করে ডেমোক্র্যাটরা। বিশাল পরাজয় হিসেবে যাকে অভিহিত ওবামা “শেল্যাকেন্টিং” বলে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৮ বার প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারিয়েছে প্রেসিডেন্টের দল। প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৬টি আসন এবং সিনেটে গড়ে ৪টি আসন হারায়। ব্যতিক্রম ছিল ১৯৩৪ ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং ২০০২ জর্জ ডব্লিউ বুশ, এই মাত্র দুবার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসের উভয় হাউসেই আসন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল। সিক্স-ইয়ার ইচ প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রবণতা দেখা যায় প্রথম মেয়াদের চেয়ে সাধারণত বেশি আসন হারানোর।

এছাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে গভর্নর নির্বাচন হবে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মোট অঙ্গরাজ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিয়মিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে ৬১৩৯ আসনে। নির্বাচনে তারা কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন, জনমত জরিপে এমন প্রশ্নে রিপাবলিকানদের চেয়ে ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাটরা। রয়টার্সের জরিপে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার সর্বনিম্ন ৩২ শতাংশ। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় হাউজে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় রুখে দিতে পারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপ্রতিরোধ্যগতি। যুক্তরাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় সাংবিধানিক ভারসাম্য আনতে পারে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী কামালা হ্যারিসকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সে সময় নির্বাচন বিতর্কে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও গাজা ইস্যু প্রাধান্য পায়। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ইমিগ্রেশন ইস্যু, বিশেষ করে আইসের মাধ্যমে ধরপাকড় ও ডিপোর্টেশন। জয়ী ট্রাম্প এজন্য অতিরিক্ত তহবিলি জোগার করে ওয়ান বিগ বিউটিফুল এ্যাক্টের মাধ্যমে। চলতি বছর মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়াকে আমেরিকানরা সহজভাবে নিচ্ছেন না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে এসব ইস্যু বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রধান ইস্যুর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসার এবং ডাটা সেন্টার, দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি, হেলথ কেয়ার, ট্যারিফ। বিদেশ নীতির অন্যতম ইস্যু হচ্ছে আমেরিকান মিত্রদের সাথে সম্পর্ক, ইরান যুদ্ধ ও প্যালেস্টাইন-ইসরাইল বিরোধ।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয়

মধ্যবর্তী নির্বাচনে এবার ব্যয় হতে পারে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে অ্যাড ট্র্যাকিং কোম্পানি অ্যাডইমপ্যাক্টের। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় বিজ্ঞাপনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি হবে এবার। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রাইমারি নির্বাচনে এ বছর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে ২৪৯৭ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদের আসনের জন্য লড়েছেন ২ হাজার ২৩২ জন। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৪টি আসনে ৩ নভেম্বরের ভোটে প্রধান দুই দলের ওই প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যারা ২০২৪ সালের নির্বাচনেও ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী। নির্বাচনে ভোটার টানার প্রচারে ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান পার্টির তহবিলে আছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

এই অর্থ দিয়ে পরাজয় ঠেকানো যাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে দলের ভেতরে। তহবিল বণ্টন হয়েছে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে। ট্রাম্প সমর্থকদের তৈরি ‘মাগা ইঙ্ক’ বা মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন ইনকরপোরেশন পেয়েছে সবচেয়ে বড় অংশ। মাগা ইঙ্ক মূলত রাজনীতিতে নির্বাচনী প্রচার অর্থের ক্ষমতারও পরীক্ষা নিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রায়ই তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করছে। রাজনৈতিক দলগুলো কত টাকা খরচ করতে পারবে, তার ওপর থাকা বাধ্যবাধকতা গত জুন মাসে তুলে নেয় সুপ্রিম কোর্ট। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ব্যবস্থায়। সংসদ নির্বাচন কভারেজ

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই প্রযুক্তিতে সৌরভের বায়োপিকের পোস্টার তৈরি, মন্তব্য রাজকুমার রাওয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


এআই প্রযুক্তিতে সৌরভের বায়োপিকের পোস্টার তৈরি, মন্তব্য রাজকুমার রাওয়ের

ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর বায়োপিক ‘দাদা দ্য সৌরভ গাঙ্গুলি স্টোরি’-র প্রথম পোস্টার প্রকাশের পর থেকে নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। পোস্টারটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে এবং নেটিজেনদের একটি অংশ অভিযোগ তুলেছেন যে এটি যথাযথভাবে তৈরি করা হয়নি।

এখন সেই বিতর্ক ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেছেন ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনার মাধ্যমে ছবির নির্মাতারা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। চলতি বছরের ৮ জুলাই, সৌরভের জন্মদিনে ছবিটির প্রথম পোস্টারটি প্রকাশিত হয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজকুমার রাও বলেন, "যারা পোস্টারটি তৈরি করেছিলেন, তারা বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন এবং শিক্ষা নিয়েছেন। তারা বুঝতে পেরেছেন যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে কাজ করা উচিত। এত তাড়াহুড়োর কিছু নেই। আমার মনে হয়, পুরো দলই এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দাদার অনুরাগীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি, যা নির্মাতাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পোস্টারটিতে সৌরভের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০২ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ভারতীয় দলের তৎকালীন অধিনায়ক সৌরভের উড়ন্ত জার্সি হাতে ঐতিহাসিক উদযাপনটি পোস্টারে স্থান পেয়েছে।

বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে পরিচালিত এই বায়োপিকে সৌরভের শুরুর দিন থেকে শুরু করে ভারতীয় দলের প্রভাবশালী ক্রিকেটার ও সফল অধিনায়ক হয়ে ওঠার কাহিনী তুলে ধরা হবে। ছবিতে সৌরভের স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তান্যা মানিকতলা। ছবিটি আগামী বছরের ১৪ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

‎

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশ সমাবেশে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশ সমাবেশে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী

গ্রাম পুলিশ সমাবেশ আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সমাবেশের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) একটি প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করেছে। এই সভাটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে, বেলা ১১টায়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনা দেবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভার সভাপতিত্ব করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান।

গ্রাম পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দফাদার ও মহল্লাদার পদে দায়িত্ব পালনকারী এই বাহিনীর সদস্যরা গ্রামীণ এলাকায় পাহারা ও টহল দেওয়া, অপরাধ দমনে থানা পুলিশকে সহায়তা করা, অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা এবং ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সরকারি কাজে সহযোগিতা করেন।

তবে, দায়িত্বের তুলনায় বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কম থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সংগঠন জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি, বেতন গ্রেড পুনর্নির্ধারণ, রেশন, চিকিৎসা ও ঝুঁকি ভাতা এবং অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

এছাড়া, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং চাকরির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।

‎

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%