মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৪২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ৬৫ বছর আগে একটি আট বছর বয়সী শিশুকে হত্যা করার ঘটনার রহস্য অবশেষে উন্মোচিত হয়েছে। তদন্তকারীরা ডিএনএ পরীক্ষা ও সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছেন। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি শিকাগো পুলিশের একজন খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
নিহত শিশুর নাম গ্লোরিয়া কোয়ালেউইচ। ১৯৬০ সালের ১২ নভেম্বর শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে গির্জায় যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে পুলিশ শহরজুড়ে তল্লাশি চালায়। হাজারো মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং শত শত সূত্র খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু তখন হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
শিকাগো পুলিশ বিভাগের বিবৃতির ভিত্তিতে, চলতি বছরের জুলাইয়ে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও সাবধানে সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। তার নাম থমাস এফ ম্যাকইনার্নি জুনিয়র।
ম্যাকইনার্নি ১৯৫৯ সালে শিকাগো পুলিশে যোগ দেন। ১৯৬০ সালে গ্লোরিয়া হত্যার সময় তার বয়স ছিল ২৪ বছর। তখন তিনি পশ্চিম শিকাগোতে একজন টহল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকইনার্নি ২৮ বছর চাকরি করার পর ১৯৮৭ সালে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেন। পরে তিনি নেভাদা অঙ্গরাজ্যে চলে যান এবং সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের দপ্তরে তদন্তকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০০৪ সালে ওই চাকরি থেকেও অবসর নেন।
২০০৬ সালে ৭০ বছর বয়সে লাস ভেগাসে তার মৃত্যু ঘটে। ফলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শনাক্ত হলেও জীবদ্দশায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি।
শিকাগো পুলিশ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাকইনার্নির কখনোই পুলিশ বিভাগের পরিচয়চিহ্ন ধারণ করার যোগ্যতা ছিল না। জীবিত থাকাকালে তাকে শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়নি—এটি মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দিন শনিবার সকাল ৮টার কিছু আগে গ্লোরিয়া বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তার পরিকল্পনা ছিল সেন্ট মেরি অব মাউন্ট কারমেল গির্জায় সকালের প্রার্থনায় যোগ দেওয়া। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী গ্লোরিয়া কিছুদিন আগে প্রথম ধর্মীয় দীক্ষা গ্রহণ করেছিল। সেদিন তার পরনে ছিল গোলাপি ও বাদামি রঙের ছককাটা পোশাক এবং নীল রঙের একটি পোশাক।
কিন্তু গির্জায় পৌঁছানো হয়নি তার। বাড়ি ও গির্জার মাঝপথ থেকেই তাকে অপহরণ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্লোরিয়াকে মাথায় দুবার গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর শিকাগোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বনাঞ্চল সংরক্ষিত এলাকার পাশের নালায় তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়। এক গাড়িচালক শিশুটির রঙিন পোশাক দেখে কাছে গিয়ে মরদেহটি খুঁজে পান।
ঘটনাস্থল থেকে গুলি, গ্লোরিয়ার কোট, জুতা এবং প্রার্থনার বই রাখা সাদা ব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেন তদন্তকারীরা। ওই ব্যাগের ফিতায় পাওয়া যায় একটি আঙুলের ছাপ। তবে দীর্ঘদিন এসব আলামত থেকেও হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর সেন্ট মেরি অব মাউন্ট কারমেল গির্জায় গ্লোরিয়ার শেষকৃত্যে এক হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন।
দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত আলামত নতুন করে পরীক্ষা করার পর ২০১০ সালে তদন্তকারীরা গ্লোরিয়ার পোশাকে পাওয়া বীর্যের নমুনা থেকে সম্ভাব্য হত্যাকারীর ডিএনএ পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হন। তবে তখনও কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
২০২৪ সালে শিকাগো পুলিশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ওই ডিএনএ নমুনার সঙ্গে পারিবারিক বংশপরিচয় অনুসন্ধানের ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া বিভিন্ন জিনগত নমুনার তুলনা করে। এ প্রক্রিয়ায় ম্যাকইনার্নির পরিচয় শনাক্ত হয়।
এরপর তদন্তকারীরা ১৯৫৯ সালে শিকাগো পুলিশে চাকরির আবেদনের সময় ম্যাকইনার্নির দেওয়া আঙুলের ছাপের সঙ্গে গ্লোরিয়ার ব্যাগের ফিতায় পাওয়া ছাপের মিল খুঁজে পান। ডিএনএ ও আঙুলের ছাপ—দুই ধরনের আলামত মিলিয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ম্যাকইনার্নির ডিএনএ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সম্মিলিত ডিএনএ তথ্যভান্ডারেও রয়েছে। তার সঙ্গে অন্য কোনো অমীমাংসিত অপরাধের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।
এফবিআই জানিয়েছে, গ্লোরিয়া হত্যার আলামত এবং শিশুদের লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটনকারীদের আচরণ ও ভুক্তভোগীদের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট সময়ের অন্যান্য অমীমাংসিত অপরাধের সূত্রও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
গ্লোরিয়ার ভাই অ্যাডাম কোয়ালেউইচ তখন শিশু ছিলেন। বোনের হত্যার ঘটনায় ম্যাকইনার্নি জীবদ্দশায় শাস্তি না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, হত্যাকারী স্বাভাবিক জীবন কাটিয়ে মারা গেছেন, কখনো নিজের অপরাধের শাস্তি পাননি।
তবে গ্লোরিয়াকে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকইনার্নির বাবা-মায়ের বাড়ি কোয়ালেউইচ পরিবারের বাড়ি থেকে এক মাইলেরও কম দূরে ছিল। কিন্তু গ্লোরিয়ার সঙ্গে ম্যাকইনার্নির আগে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া গ্লোরিয়া হত্যার তদন্তে ম্যাকইনার্নি কখনো যুক্ত ছিলেন কি না, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। অবসরের পর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের দপ্তরে তদন্তকারী হিসেবে কাজ করার সময় ২০০৩ সালে অসামান্য কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য, পাঁচ সন্তানের বাবা এবং কয়েকজন নাতি-নাতনির দাদা।
৬৫ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও সংরক্ষিত আলামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে শিকাগো পুলিশ।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিজ্ঞানীরা নতুন একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যা মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ এটি। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র একটি অবিরাম প্রক্রিয়া। একটি নক্ষত্রের ধ্বংস মানে সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এবার বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ভূত একটি অদ্ভুত গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। এই গ্রহটি মহাবিশ্বে গ্রহ তৈরির প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করার পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, এমন দাবি করেছেন তারা। নেচার অ্যাস্ট্রোনমি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করে যে, একটি নক্ষত্রের মৃত্যু মানে তার সবকিছুর শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয় নয়।
ফিনিক্স প্ল্যানেট নামক গ্রহটি মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে। এইচএস ০২০৯ প্লাস ০৮৩২ হোয়াইট ডোয়ার্ফ বা শ্বেতবামনের আলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা গ্রহটি শনাক্ত করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক বরিস গ্যানসিক এ বিষয়ে বলেন, "এই গ্রহ অন্য কোথাও থেকে আসেনি বা পুরোনো সিস্টেমের কোনো বেঁচে থাকা অংশও নয়। এটি তার মৃত নক্ষত্রের উপাদান দিয়েই তৈরি হয়েছে।"
ইউরোপিয়ান রিসার্চ কাউন্সিলের অর্থায়নে ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের বিজ্ঞানীরা গ্রহটির গঠন ও নক্ষত্র ধ্বংসের পর কিভাবে গ্রহটি তৈরি হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন। ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের বিজ্ঞানী জেমি উইলিয়ামস জানিয়েছেন, "দ্বিতীয় প্রজন্মের এই সব গ্রহ–নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় নিক্ষিপ্ত পদার্থ থেকেই তৈরি হয়।" শ্বেতবামনের চারপাশে এমন গ্রহ খুঁজে পাওয়া সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। একে এমন একটি গ্রহ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যা তার নিজের পূর্বে প্রদক্ষিণ করা মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে পুনর্জন্ম লাভ করেছে। যখন সূর্যের মতো নক্ষত্রগুলোর জ্বালানি শেষ হয়ে যায়, তখন তারা বিশাল লাল দানব বা রেড জায়ান্টে পরিণত হয় এবং আশপাশের গ্রহগুলোকে গ্রাস করে গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল মেঘ মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়। কেন্দ্রের দিকে তখন শুধুমাত্র একটি ঠান্ডা ও ঘন নক্ষত্রের অবশেষ বা শ্বেতবামন রয়ে যায়।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, সাধারণত নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় নিক্ষিপ্ত পদার্থ মহাশূন্যে হারিয়ে যায়। তবে এই বিশেষ ক্ষেত্রে মহাকর্ষ বল সেই নিক্ষিপ্ত গ্যাস মেঘের একটি অংশ ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। ফলে অবশিষ্ট উপাদানগুলো হোয়াইট ডোয়ার্ফ নক্ষত্রের চারপাশে একটি ঘূর্ণমান চাকতিতে পরিণত হয়, যা নতুন শিলা ও গ্যাস জমা হওয়ার জন্য এক ধূলিময় আঁতুড়ঘর তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধ্বংসাবশেষ থেকেই একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিতীয় প্রজন্মের গ্রহ তৈরি হয়েছে। উইসকনসিন-ম্যাডিসন ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোনমি বিভাগের বিজ্ঞানী নিকোলাস স্টোন বলেন, "এই উপাদান বিন্যাস এস-প্রসেস বা ভারী মৌল তৈরি প্রক্রিয়ার একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ, যা সাধারণ প্রথম প্রজন্মের কোনো গ্রহের মধ্যে থাকার কথা নয়।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা ভাজা মুরগির সঙ্গে কেচাপ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। লাল রঙের ঘন এই সসের কথা মনে পড়লেই সাধারণত টমেটোর নাম আসে। তবে, কি জানেন, টমেটোর পরিবর্তে কলা দিয়েও কেচাপ তৈরি করা সম্ভব? ফিলিপাইনে এই সসটির নাম কলার কেচাপ। মিষ্টি, টক ও মসলার মিশ্র স্বাদের কারণে এই সস দেশটির খাদ্য সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ স্থান অর্জন করেছে।
টমেটোর বদলে কলা, যেভাবে শুরু
কলার কেচাপের উৎপত্তির ইতিহাস সংকটকালীন সময়ে স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করার একটি কাহিনী বর্ণনা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিলিপাইনসে টমেটোর সরবরাহ কমে যায়। তবে, কলা ছিল প্রচুর পরিমাণে। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যপ্রযুক্তিবিদ মারিয়া ইয়ালাগান ওরোসা কলা দিয়ে টমেটোর বিকল্প কেচাপ তৈরির ধারণাটি জনপ্রিয় করে তোলেন।
পাকা কলা, ভিনেগার, চিনি, রসুন, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন মসলা একত্রিত করে এই সস তৈরি করা হয়। ১৯৪০-এর দশকে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে ধীরে ধীরে এটি ফিলিপাইনের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে এটি দেশটির ঘরোয়া খাবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবারের দোকানে স্থান করে নেয়।
কলার কেচাপের একটি আকর্ষণীয় দিক হলো এর রং। যদিও এটি কলা দিয়ে তৈরি, বাজারে প্রচলিত অনেক কলার কেচাপ টমেটোর কেচাপের মতো উজ্জ্বল লাল রঙের হয়ে থাকে। এর কারণ হলো, বাণিজ্যিকভাবে তৈরি কিছু সসে লাল খাদ্যরং ব্যবহার করা হয়। তবে, সব কলার কেচাপের রং এক রকম নয়; উপকরণ ও তৈরির পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে রং পরিবর্তিত হতে পারে।
স্বাদেও এটি আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে। সাধারণত, টমেটোর কেচাপের তুলনায় কলার কেচাপ বেশি মিষ্টি এবং এতে ফলের স্বাদ স্পষ্ট। ভিনেগারের টক ভাব ও মসলার ঝাঁজ মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করে। ফলে, এটি শুধুমাত্র কলার মিষ্টি সস নয়, বরং মিষ্টি, টক ও ঝাল স্বাদের একটি ভিন্ন মিশ্রণ।
কোন কোন খাবারের সঙ্গে খাওয়া হয়
ফিলিপাইনে কলার কেচাপ বিভিন্ন ধরনের খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। বার্গার, হট ডগ, আলুভাজা, ভাজা মুরগি ও মাছের সঙ্গে এটি খাওয়া যায়। দেশটির জনপ্রিয় মিষ্টি-ঝাল স্বাদের স্প্যাগেটি তৈরিতেও এই সস ব্যবহৃত হয়। এছাড়া, মাংস মেরিনেট করা এবং রান্নার সসের স্বাদ বাড়াতেও এটি কাজে লাগে।
ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী খাবার লুম্পিয়ার সঙ্গেও কলার কেচাপ পরিবেশন করা হয়। লুম্পিয়া হলো পুর দিয়ে তৈরি এক ধরনের রোল, যা সাধারণত ভেজে খাওয়া হয়। এর সঙ্গে কলার কেচাপের মিষ্টি-টক স্বাদ খাবারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
ঘরেই তৈরি করুন কলার কেচাপ
বাংলাদেশেও কলা সহজলভ্য। তাই চাইলে ঘরেই তৈরি করে দেখতে পারেন ফিলিপাইনের এই জনপ্রিয় সস। পাকা কলা, ভিনেগার, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন ও কয়েকটি মসলা দিয়েই তৈরি করা সম্ভব।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
তৈরির পদ্ধতি
প্রথমে একটি কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মরিচ হালকা ভেজে নিন। উপকরণগুলো নরম হয়ে এলে চটকে রাখা কলা, চিনি, ভিনেগার, টমেটো পেস্ট এবং বাকি মসলা দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
এবার মাঝারি আঁচে মিশ্রণটি রান্না করুন। ধীরে ধীরে ঘন হয়ে এলে চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর মিশ্রণটি ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মসৃণ সস তৈরি করুন।
টমেটো পেস্ট ব্যবহার করলে সসের রং ও স্বাদে পরিবর্তন আসবে। তবে এটি না দিলেও কলার কেচাপ তৈরি করা সম্ভব। নিজের পছন্দ অনুযায়ী মিষ্টি, টক ও ঝালের পরিমাণ কমবেশি করা যায়।
সংরক্ষণে সতর্কতা
তৈরি সস পরিষ্কার কাচের পাত্রে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। ঘরে তৈরি সসে বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত সসের মতো দীর্ঘদিন ভালো থাকার নিশ্চয়তা থাকে না। তাই অল্প পরিমাণে তৈরি করা এবং গন্ধ, রং বা গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা না খাওয়াই নিরাপদ।
টমেটোর কেচাপের পরিচিত স্বাদের বাইরে নতুন কিছু চেখে দেখতে চাইলে কলার কেচাপ হতে পারে ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা। সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন ফিলিপিন্সের এই জনপ্রিয় সস।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার মিরপুরের ঘটনা অনুযায়ী, টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার ফলস্বরূপ তিন কিশোরী বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের অন্য একটি কিশোরীর সাথে তারা মিলিত হয়ে ঢাকার হেমায়েতপুরে একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান নেয়। সেখানে দুই কিশোরী পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে ‘বিয়ের’ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ চার কিশোরীকে উদ্ধার করে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তাদের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। এরপর মিরপুর থানা পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সাথে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এক কিশোরীর পরিচয় ঘটে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একইভাবে মিরপুরের আরও দুই কিশোরীর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে চারজন একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিরপুরের তিন কিশোরী বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। সেখানে চারজন হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমকে জানান, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
ওসি আরও জানান, টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে কিশোরীদের পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে চারজনকে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বরুড়ায় একটি বাস খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় আতিকুল্লাহ সবুজ (২২) নামের এক হেলপার নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় বাসের পাঁচ যাত্রীও আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার দেওড়া ফকিরা মোকাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সবুজ বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের হাজারপাড় গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
বাসটির চালক মনিরের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। উল্লেখ্য, চালক মনিরই বাসটির মালিক। দুর্ঘটনার সময় তিনি বাসটি চালাচ্ছিলেন।
এদিকে, নিহত হেলপারের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা আবদুল জলিল। তিনি আরও জানান, বলাকা বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। আহত যাত্রীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ও বাসটি থানায় নিয়ে আসা হবে। দুর্ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ