প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা ভাজা মুরগির সঙ্গে কেচাপ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। লাল রঙের ঘন এই সসের কথা মনে পড়লেই সাধারণত টমেটোর নাম আসে। তবে, কি জানেন, টমেটোর পরিবর্তে কলা দিয়েও কেচাপ তৈরি করা সম্ভব? ফিলিপাইনে এই সসটির নাম কলার কেচাপ। মিষ্টি, টক ও মসলার মিশ্র স্বাদের কারণে এই সস দেশটির খাদ্য সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ স্থান অর্জন করেছে।
টমেটোর বদলে কলা, যেভাবে শুরু
কলার কেচাপের উৎপত্তির ইতিহাস সংকটকালীন সময়ে স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করার একটি কাহিনী বর্ণনা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিলিপাইনসে টমেটোর সরবরাহ কমে যায়। তবে, কলা ছিল প্রচুর পরিমাণে। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যপ্রযুক্তিবিদ মারিয়া ইয়ালাগান ওরোসা কলা দিয়ে টমেটোর বিকল্প কেচাপ তৈরির ধারণাটি জনপ্রিয় করে তোলেন।
পাকা কলা, ভিনেগার, চিনি, রসুন, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন মসলা একত্রিত করে এই সস তৈরি করা হয়। ১৯৪০-এর দশকে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে ধীরে ধীরে এটি ফিলিপাইনের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে এটি দেশটির ঘরোয়া খাবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবারের দোকানে স্থান করে নেয়।
কলার কেচাপের একটি আকর্ষণীয় দিক হলো এর রং। যদিও এটি কলা দিয়ে তৈরি, বাজারে প্রচলিত অনেক কলার কেচাপ টমেটোর কেচাপের মতো উজ্জ্বল লাল রঙের হয়ে থাকে। এর কারণ হলো, বাণিজ্যিকভাবে তৈরি কিছু সসে লাল খাদ্যরং ব্যবহার করা হয়। তবে, সব কলার কেচাপের রং এক রকম নয়; উপকরণ ও তৈরির পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে রং পরিবর্তিত হতে পারে।
স্বাদেও এটি আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে। সাধারণত, টমেটোর কেচাপের তুলনায় কলার কেচাপ বেশি মিষ্টি এবং এতে ফলের স্বাদ স্পষ্ট। ভিনেগারের টক ভাব ও মসলার ঝাঁজ মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করে। ফলে, এটি শুধুমাত্র কলার মিষ্টি সস নয়, বরং মিষ্টি, টক ও ঝাল স্বাদের একটি ভিন্ন মিশ্রণ।
কোন কোন খাবারের সঙ্গে খাওয়া হয়
ফিলিপাইনে কলার কেচাপ বিভিন্ন ধরনের খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। বার্গার, হট ডগ, আলুভাজা, ভাজা মুরগি ও মাছের সঙ্গে এটি খাওয়া যায়। দেশটির জনপ্রিয় মিষ্টি-ঝাল স্বাদের স্প্যাগেটি তৈরিতেও এই সস ব্যবহৃত হয়। এছাড়া, মাংস মেরিনেট করা এবং রান্নার সসের স্বাদ বাড়াতেও এটি কাজে লাগে।
ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী খাবার লুম্পিয়ার সঙ্গেও কলার কেচাপ পরিবেশন করা হয়। লুম্পিয়া হলো পুর দিয়ে তৈরি এক ধরনের রোল, যা সাধারণত ভেজে খাওয়া হয়। এর সঙ্গে কলার কেচাপের মিষ্টি-টক স্বাদ খাবারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
ঘরেই তৈরি করুন কলার কেচাপ
বাংলাদেশেও কলা সহজলভ্য। তাই চাইলে ঘরেই তৈরি করে দেখতে পারেন ফিলিপাইনের এই জনপ্রিয় সস। পাকা কলা, ভিনেগার, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন ও কয়েকটি মসলা দিয়েই তৈরি করা সম্ভব।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
তৈরির পদ্ধতি
প্রথমে একটি কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মরিচ হালকা ভেজে নিন। উপকরণগুলো নরম হয়ে এলে চটকে রাখা কলা, চিনি, ভিনেগার, টমেটো পেস্ট এবং বাকি মসলা দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
এবার মাঝারি আঁচে মিশ্রণটি রান্না করুন। ধীরে ধীরে ঘন হয়ে এলে চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর মিশ্রণটি ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মসৃণ সস তৈরি করুন।
টমেটো পেস্ট ব্যবহার করলে সসের রং ও স্বাদে পরিবর্তন আসবে। তবে এটি না দিলেও কলার কেচাপ তৈরি করা সম্ভব। নিজের পছন্দ অনুযায়ী মিষ্টি, টক ও ঝালের পরিমাণ কমবেশি করা যায়।
সংরক্ষণে সতর্কতা
তৈরি সস পরিষ্কার কাচের পাত্রে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। ঘরে তৈরি সসে বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত সসের মতো দীর্ঘদিন ভালো থাকার নিশ্চয়তা থাকে না। তাই অল্প পরিমাণে তৈরি করা এবং গন্ধ, রং বা গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা না খাওয়াই নিরাপদ।
টমেটোর কেচাপের পরিচিত স্বাদের বাইরে নতুন কিছু চেখে দেখতে চাইলে কলার কেচাপ হতে পারে ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা। সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন ফিলিপিন্সের এই জনপ্রিয় সস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন