মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৯ পি.এম
নিজের সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ার কারণে নিজের জন্মদাতা মা-বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পরিকল্পনা করেছেন ২৭ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ।
মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী রাফায়েল স্যামুয়েল এই বিষয়ে জানান যে, শিশুদের পৃথিবীতে নিয়ে আসা অনুচিত, কারণ এর ফলে তাদের সারা জীবন ধরে বহু কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
রাফায়েল স্যামুয়েল বিষয়টি উপলব্ধি করেন যে জন্মের আগে কারও সম্মতি নেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। তবে তিনি যুক্তি দেন, জন্ম নেওয়া আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না।
সুতরাং, যেহেতু তিনি বা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় জন্ম নিতে চাননি, তাই আজীবন বেঁচে থাকার সব ধরনের খরচ মা-বাবারই বহন করা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সাধারণ কোনো পরিবারে এমন অযৌক্তিক দাবি সম্পর্কের ইতি ঘটাতে পারত, তবে পেশায় আইনজীবী রাফায়েলের মা-বাবার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তারা বিষয়টিকে হাস্যরসাত্মক ও ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
রাফায়েলের মা কবিতা কার্নাড স্যামুয়েল এক বিবৃতিতে বলেন, "আমি আমার ছেলের সাহসের প্রশংসা করি যে মা-বাবা দুজনই আইনজীবী জেনেও সে আমাদের আদালতে নেওয়ার কথা ভাবছে। যদি সে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারে যে আমরা কীভাবে জন্মের আগে তার সম্মতি নিতে পারতাম, তবে আমি আমার ভুল স্বীকার করে নেব।"
স্যামুয়েলের এই ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা মূলত ‘অ্যান্টি-ন্যাটালিজম’ বা ‘জন্মবিরোধিতা’ দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই দর্শনের অনুসারীদের মতে, মানবজীবন নানা দুঃখ-কষ্টে পূর্ণ; তাই মানুষের সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এতে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা সার্বিকভাবে এই গ্রহ এবং অন্যান্য পশুপাখির বেঁচে থাকার জন্য অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এক বছর আগে ‘নিহিলানন্দ’ (Nihilanand) নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে নিজের বেশ কিছু ডিজিটাল পোস্টার ছড়িয়ে দেন রাফায়েল। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "একটি শিশুকে এই পৃথিবীতে আসতে বাধ্য করা এবং ক্যারিয়ার গড়তে চাপ দেওয়া কি অপহরণ বা দাসত্বের শামিল নয়?"
তবে স্যামুয়েল জানান, মা-বাবার সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। তিনি বলেন, তার জীবন বেশ ভালোই কাটছে এবং তিনি বিষণ্ণ নন। তবে তিনি মনে করেন, মানুষের অস্তিত্ব ছাড়া পৃথিবী আরও সুন্দর হতে পারত।
যদিও তিনি জানেন যে কোনো বিচারক এই মামলা গ্রহণ করবেন না, তবুও এই বিষয়ে বৈশ্বিক জনসচেতনতা ও আলোচনা তৈরির লক্ষ্যেই তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে চান বলে জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম দুই ব্যক্তি, যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সংশোধনের সুযোগ দিতে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একাধিক মাদক মামলায় জড়িত থাকার পরও জামিনে মুক্ত হয়ে তারা একই কর্মকাণ্ডে ফিরে আসার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের বাসিন্দা জালাল ও হেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তারা আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে।
এ অবস্থায়, কচুয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলাম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের নৈতিক পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের থানায় ডেকে এনে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।
তিন দিনের তাবলিগ শেষে মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায় করে তারা থানায় ফিরে এসে ওসি আজিজুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
তারা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, প্রতি মাসে তিন দিন তাবলিগে যাওয়ার চেষ্টা এবং ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা ও সেবন থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "শুধু মামলা দিয়ে সব সময় মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। তাদের নৈতিকভাবে পরিবর্তন করতে হবে। সত্যিকারের ভালো মানুষ হয়ে তারা সমাজে ফিরে আসুক—এটাই লক্ষ্য।"
ওসির এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে নারীদের গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করেছেন সাধারণ ছাত্ররা। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তার মুঠোফোনে একাধিক নারীর ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীকে তার বিভাগের শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে গোপনে ভিডিও ধারণ করার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সন্দেহ হলে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তার মুঠোফোন পরীক্ষা করে বিভিন্ন নারীর ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায় বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে তার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়। এরপর তাকে বিভাগের শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ছেলেটির মানসিকভাবে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা আছে। সে অনুযায়ী তাকে বিভাগের শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং কাউন্সেলিংয়ের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি প্রাথমিকভাবে একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে কিংবা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে কারও অনুমতি ছাড়া গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। সমাবর্তনটি আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসের ১৫ ও ১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেন।
সাক্ষাৎ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান উপস্থিত ছিলেন। এই সমাবর্তনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি অনুষদ ও ২১টি বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হবে।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরও ৪৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ এবং চাকরির বাজারে চাহিদা রয়েছে এমন সাবজেক্ট খোলার বিষয়েও আলোচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা এবং উন্নয়ন নিয়ে তাঁরা দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম বলেন, "মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতির সাথে দেখা করে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের ব্যাপারে কথা বলেছি। তিনি এ ব্যাপারে আমাদেরকে সম্মতি দিয়েছেন। ২০২৭ সালের মার্চের ১৫ ও ১৬ তারিখে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সম্পর্কের টানাপোড়েন বা প্রেমে বিচ্ছেদ নিয়ে পুরুষেরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন একটি প্রচলিত ধারণাকে সাম্প্রতিক একটি বৈশ্বিক গবেষণা ভুল প্রমাণ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়ে অধিক মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন।
যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন।
তবে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে। গবেষকরা দেখেছেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষেরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়্ড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানিয়েছেন, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।
সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ