ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পশ্চিম তীরে গিয়ে বেদম মারধরের শিকার মার্কিন সাংবাদিক হেইডি লেভিন


পশ্চিম তীরে গিয়ে বেদম মারধরের শিকার মার্কিন সাংবাদিক হেইডি লেভিন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে গিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে বেদম মারধরের শিকার হয়েছেন মার্কিন ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিন। হামলার ফলে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ফিলিস্তিনিও আক্রান্ত হয়েছেন।

লেভিনের শরীরের একাধিক অংশের হাঁড় ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলকে এই সহিংসতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও জানান, হামলার ঘটনার বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত হননি। তবে তিনি যেসব ছবি দেখেছেন, সেগুলো ‘ভালো কিছু মনে হয়নি’ বলে মন্তব্য করেন।

ইসরায়েলকে এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা নিতে’ আহ্বান জানিয়ে রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো সংঘাত বা সংকট দেখতে চান না।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ইসরায়েলের কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রুবিও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের এমন কিছু প্রয়োজন নেই; ইসরায়েলেরও এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন নেই।’

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবু ফালাহ এলাকার কাছে ফিলিস্তিনিদের বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহের সময় ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোসাংবাদিক লেভিনকে নির্মমভাবে মারধর করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ওই এলাকায় ঢুকে লেভিনকে মারধর করে এবং তার পাসপোর্ট, মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও সরঞ্জাম চুরি করে।

লেভিন বলেন, বোতল ও গুলতি নিয়ে আসা হামলাকারীরা আমাকে মাটিতে ফেলে প্রায় ১০ মিনিট ধরে লাথি মারছিলেন। এ সময় আমি নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম।

তার ভাষ্যমতে, শরীরে সুরক্ষাবর্ম ও মাথায় হেলমেট না থাকলে হয়তো তিনি আজ বেঁচে থাকতেন না, কারণ হামলাকারীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে তাকে একের পর এক লাথি মেরে যাচ্ছিল।

৬৪ বছর বয়সী লেভিনকে হামলার পর রামাল্লার উত্তর-পূর্বে আবু ফালাহ এলাকা থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) তার মেয়ে জানান, লেভিনের একটি আঙুল প্রায় হাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ওই আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এ ছাড়া তার একটি পাঁজরের হাড় ভেঙেছে, মেরুদণ্ডের একাধিক কশেরুকা ভেঙেছে এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

এদিকে, রুবিওর পাশাপাশি এই হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করে কারাগারে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হাকাবি লিখেন, ‘একজন নারী আলোকচিত্রী ওপর আক্রমণ হলো মুখোশধারী কাপুরুষদের দ্বারা সংঘটিত এক জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিরস্ত্র সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের বছরের পর বছর কারাগারে থাকা উচিত। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং এ ঘটনায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগে বিচারের দাবি জানিয়েছি।’

তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার দাবি করেন, লেভিন ও অন্য ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার জন্য ফিলিস্তিনি অথবা ‘চরম বামপন্থি’ কর্মীরা দায়ী হয়ে থাকতে পারেন। হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে তার এমন অবস্থান প্রকাশের পর ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হাকাবিও তার বক্তব্যে সরাসরি তাদের বসতি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করেননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ পালিত হচ্ছে নজরকাড়া শার্ট পরার দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


আজ পালিত হচ্ছে নজরকাড়া শার্ট পরার দিন

বাহারি রঙ, অদ্ভুত নকশা এবং নজরকাড়া পোশাক—এগুলো সব মিলিয়ে একটি আনন্দের ব্যতিক্রমী আয়োজন। তবে এটি শুধুমাত্র সাজপোশাকের আনন্দের জন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে একটি গভীর উদ্দেশ্য। ‘লাউড শার্ট ডে’ (রঙিন শার্ট পরার দিন) পালিত হয় শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।

এই বিশেষ দিনে মানুষ বিভিন্ন রঙের ও নকশার শার্ট পরে উদযাপনে অংশ নেন। স্কুল, অফিস এবং বিভিন্ন সামাজিক পরিসর রঙিন হয়ে ওঠে। পোশাকের বৈচিত্র্যের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়—প্রত্যেক মানুষের স্বতন্ত্রতাকে সম্মান জানানো এবং ভিন্নতাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করা।

রঙিন পোশাকের পেছনে যে উদ্দেশ্য

লাউড শার্ট ডে দেখতে আনন্দময় হলেও এর মূল লক্ষ্য হল শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করা। এসব শিশুর কথা শুনতে শেখা, কথা বলা এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত শ্রবণযন্ত্র, কথা বলার প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদি প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায়, তবে অনেক শিশুর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এতে তাদের পরিবারও নতুন করে আশার আলো দেখতে পায়। তাই রঙিন পোশাকের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিশুদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এই দিনের অন্যতম লক্ষ্য।

যেভাবে শুরু হয়েছিল লাউড শার্ট ডে

লাউড শার্ট ডে-র সূচনা হয়েছে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায়। বর্তমানে ‘ক্যান:ডু ৪কিডস’ নামে পরিচিত কোরা বার্কলে কেন্দ্রে একদিন কফির আড্ডায় এই আয়োজনের ভাবনা উঠে আসে। সেখানকার কর্মীরা শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সহায়তায় কাজ করছিলেন এবং তারা এমন একটি উদ্যোগের কথা ভাবছিলেন, যা আনন্দের পাশাপাশি সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দিতে পারে।

সেখান থেকেই রঙিন ও নজরকাড়া শার্ট পরার ধারণা এসেছে। বাহারি পোশাকের মাধ্যমে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে শিশুদের সমস্যা ও প্রয়োজন তুলে ধরাই ছিল এর উদ্দেশ্য। উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস ছিল, আনন্দময় একটি উদ্যোগ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্যোগটি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য অঞ্চল এবং নিউজিল্যান্ডেও ছড়িয়ে পড়ে এই আয়োজন। বর্তমানে কুইন্সল্যান্ডের ‘হিয়ার অ্যান্ড সে’, নিউ সাউথ ওয়েলসের ‘দ্য শেফার্ড সেন্টার’ এবং নিউজিল্যান্ডের ‘সাদার্ন ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কর্মসূচি’র মতো সংস্থাগুলোও এতে অংশগ্রহণ করে।

যেভাবে উদযাপন করবেন দিনটি

লাউড শার্ট ডে পালনে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। নিজের পছন্দের রঙিন শার্ট পরে বাড়ি, স্কুল অথবা অফিস থেকেই এতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব। বড় নকশা, বিচিত্র রং অথবা মজার ছাপযুক্ত পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে। এ দিনের সাজপোশাকে বাঁধাধরা নিয়মের চেয়ে সৃজনশীলতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের রঙিন পোশাকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে অন্যদেরও অংশ নিতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। স্কুল বা অফিসে বাহারি পোশাকের বিশেষ দিন উদযাপন করা যেতে পারে। সবচেয়ে নজরকাড়া পোশাকের জন্য ছোট পুরস্কার কিংবা ছবি তোলার বিশেষ জায়গার ব্যবস্থা করেও উদযাপনকে আনন্দময় করে তোলা সম্ভব।

আনন্দের সঙ্গে ছড়িয়ে দিন সচেতনতা

শুধুমাত্র রঙিন পোশাক পরলেই এই দিনের উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, এ বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা অথবা অন্যদের সচেতন করাও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ।

সামর্থ্য অনুযায়ী এমন কোনো বিশ্বস্ত সংস্থায় আর্থিক সহায়তাও দেওয়া যেতে পারে। সহায়তার পরিমাণ ছোট হোক বা বড়, তা শিশুদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া বাড়ি, স্কুল কিংবা কোনো সামাজিক কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে ছবি আঁকার আয়োজন করা যেতে পারে। তাদের নিজের পছন্দমতো রং ও নকশা দিয়ে স্বপ্নের শার্ট আঁকতে বলা যেতে পারে। কেউ আঁকতে পারে উজ্জ্বল ফুল, কেউ বেছে নিতে পারে মজার নকশা অথবা নানা রঙের জ্যামিতিক আকৃতি।

একটি শার্টেই ছড়িয়ে পড়ুক মানবিকতার বার্তা।

প্রতি বছর লাউড শার্ট ডে-র আয়োজন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। স্কুল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এতে অংশ নিচ্ছে। রঙিন পোশাকের মধ্য দিয়ে মানুষ যেমন আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন, তেমনি শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

একটি বাহারি শার্ট হয়তো একাই সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তবে সেই শার্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া সচেতনতা, সহমর্মিতা এবং সহায়তার উদ্যোগ শিশুদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ মর্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


কক্সবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ মর্গে

কক্সবাজারের ইনানী পাটুয়ারটেক টুপটুপ রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পোড়া মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শোভক্তদীন আহমেদ সোহেল জানিয়েছেন, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ টেস্টের উদ্দেশ্যে আলামত সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হবে।

এর আগে, শনিবার সকাল ৭টায় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ অবস্থায় ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— রাজধানী ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহমেদ (৫)।

এই ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন— মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহাব উদ্দিন (৩১), তার স্ত্রী ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, টুপটুপ রিসোর্টে মোট ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে ২ জন মর্নিং ওয়ার্কের জন্য হোটেল থেকে বের হয়ে যান, ফলে তারা বেঁচে যান।

অন্যদিকে, এই ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এর কাছে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসেও তাদের ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কের পাতালরেলে গুলিতে নিহত একজন ব্যক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


নিউইয়র্কের পাতালরেলে গুলিতে নিহত একজন ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি পাতালরেল স্টেশনে দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধের ফলস্বরূপ গুলিতে একজন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে থিয়েটার জেলা এলাকার ৫৩তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ স্টেশনে। ঘটনার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে গেছে এবং তাকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে স্টেশনে গুলির শব্দ শুনে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দুপুর ১টা ৬ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহতের নাম কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। পরিবারের সদস্যদের আগে খবর দেওয়ার জন্য তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, নিহত ব্যক্তির বয়স ৩০ বছরের কাছাকাছি হতে পারে।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি উত্তরমুখী ই ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে নিহত ব্যক্তির কাছে গিয়ে তার বুকে একবার গুলি করে। এরপর সে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়।

পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়। পরে তাদের মধ্যে বিরোধ ট্রেনের ভেতরে চলতে থাকে এবং আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে। তবে ঠিক কোথায় গুলি চালানো হয়েছে, তা তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতে পারেননি।

কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাটি আকস্মিক বা নির্বিচার হামলা ছিল না। দুই ব্যক্তির বিরোধের সঙ্গে গুলির ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে।

ম্যানহাটনের এই এলাকায় পর্যটক ও নাটক দেখতে আসা মানুষের ভিড় থাকে। এমন ব্যস্ত স্থানে গুলির ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মেট্রোপলিটন পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান মাইকেল কেম্পার বলেন, হামলাকারীর বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি এও জানান যে, সংঘর্ষের বাইরে থাকা অন্য কেউ আহত হননি।

ঘটনার পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সেভেনথ অ্যাভিনিউ পাতালরেল স্টেশনের প্রবেশপথে হলুদ পুলিশি ফিতা টানিয়ে দেওয়া হয়।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন: বন্ধুদের সঙ্গে আর দেখা হবেনা ফাইজানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন: বন্ধুদের সঙ্গে আর দেখা হবেনা ফাইজানের

চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার গলিতে আর কখনো ফিরবেনা ফাইজান। বাড়ির সামনের ছোট্ট ফাঁকা মাঠে আর বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার সুযোগ থাকবেনা তার। ফাইজানের মা ফারিয়া কবির কেক অর্ডার করেছিলেন, কিন্তু সেই কেকও আর কখনো খাওয়া হবে না।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা ফারিয়া কবীর (৩৩) এবং তার পাঁচ বছরের ছেলে ফাইজান।

তথ্য অনুযায়ী, ফারিয়া কবীর ঔষধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী। চাকরির কারণে গত আট বছর ধরে নুর আলম তার পরিবার নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করছিলেন। ফারিয়া কবীরের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তারা গত ১৪ অক্টোবর বেড়ানোর উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগলে প্রাণ হারান ফারিয়া কবীর এবং তার শিশু সন্তান ফাইজান।

একই পরিবারের মা ও শিশুসন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার হারুন অর রশিদের বাড়িতে সপরিবারে দীর্ঘ আট বছর ধরে ভাড়া থাকতেন নুর আলম। তারা চারতলা বিল্ডিংয়ের তিনতলায় বসবাস করতেন।

ওই ভবনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নুর আলমের পরিবার ছিল অত্যন্ত ভালো। ফারিয়া কবীর মাঝে মাঝে অসুস্থ থাকতেন। শিশু ফাইজান মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতো। স্মৃতিগুলো ভুলতে পারছি না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%