০২:৪৮ পি.এম
মিলানের একটি রাস্তার পাশে একটি গাছের নিচে নীল প্লাস্টিকের ব্যাগে ফেলে রাখা এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। পোষা কুকুরের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ৫৮ বছর বয়সী সান্দ্রা নামের এক নারী ব্যাগটি খুলে শিশুটিকে দেখতে পান। উদ্ধার করার পর শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং আশঙ্কামুক্ত।
ইতালির সংবাদমাধ্যম Corriere della Sera ও La Repubblica-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে সান্দ্রা তার পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় কুকুরটি রাস্তার পাশে একটি গাছের নিচে রাখা নীল প্লাস্টিকের ব্যাগের কাছে গিয়ে ঘ্রাণ নিতে শুরু করে।
প্রথমে সান্দ্রা ধারণা করেছিলেন যে ব্যাগের ভেতরে কুকুরের ছানা থাকতে পারে। কিন্তু ব্যাগটি নড়াচড়া করতে দেখে তার সন্দেহ হয়। এরপর তিনি ব্যাগটি খুলে ভেতরে একটি নবজাতককে দেখতে পান।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
সান্দ্রার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাগটি দুটি শক্ত গিঁট দিয়ে বাঁধা ছিল এবং শিশুটিকে একটি চাদরে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছিল। ব্যাগের ফাঁকা জায়গাগুলো মোজা ও সোয়েটার দিয়ে পূর্ণ করা ছিল। ব্যাগ খোলার পর শিশুটি জোরে কেঁদে ওঠে।
ঘটনার পর সান্দ্রা জরুরি সেবা নম্বর ১১২-তে ফোন করেন। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত জরুরি সেবার অপারেটরের নির্দেশনা অনুসরণ করে তিনি নিজের সোয়েটার দিয়ে শিশুটিকে জড়িয়ে উষ্ণ রাখার চেষ্টা করেন।
পরে শিশুটিকে মিলানের নিগুয়ার্দা হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়েছিল। তাকে উষ্ণ করার চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি হালকা অক্সিজেন সহায়তা দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কামুক্ত রয়েছে এবং বিশেষ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে আছে।
এদিকে, নবজাতককে কে বা কারা সেখানে ফেলে গেছে, তা শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইতালিতে পরিচয় গোপন রেখে হাসপাতালে সন্তান প্রসব এবং নবজাতককে নিরাপদে রেখে যাওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে। এমন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শিশুটিকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন