ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বুড়িয়ায় ৪ লাখ টাকার মুক্তাখচিত দুর্গাদেবী দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়


বুড়িয়ায় ৪ লাখ টাকার মুক্তাখচিত দুর্গাদেবী দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

মাটির প্রতিমায় ৩৫ হাজার মুক্তার নান্দনিক কারুকাজ রয়েছে, যেখানে লেজার লাইট এবং বিভিন্ন রঙের আলোর ঝলকানিতে শিল্পীর নিপুণ হাতে দেবী দুর্গার এক অপরূপ রূপ ফুটে উঠেছে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তাখচিত প্রতিমা দেখতে ইতোমধ্যেই দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেছেন। পূজার পাঁচদিন বিশেষ আলোকসজ্জায় প্রতিমার সৌন্দর্য তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।

মাটির প্রতিমার শরীরে প্রথমে রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে, এরপর সূক্ষ্ম কারুকাজে মুক্তা বসানো হয়েছে। ১৩টি প্রতিমার বিভিন্ন অংশে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তার ব্যবহার পুরো আয়োজনকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। আলো পড়লে প্রতিমার গায়ে ফুটে ওঠে ঝিকিমিকি আভা। সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী এই পূজামণ্ডপে নতুনত্বের এ আয়োজন ইতোমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

প্রতিমাশিল্পী নিউটন রায় জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে চারজন শিল্পী নিরলস পরিশ্রম করে প্রতিমাগুলো তৈরি করেছেন। মুক্তার সূক্ষ্ম কাজ করতে সময় এবং শ্রম দুটোই বেশি লেগেছে। প্রতিবছর নতুন কিছু করার চেষ্টা থেকেই এবার ভারতীয় সিনেমায় দেখা কয়েকটি মূর্তির নকশা ও নিজেদের পরিকল্পনার সমন্বয়ে প্রতিমার নকশা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলেও এখন চলছে প্যান্ডেল সাজানোর কাজ।

বুড়িয়া পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও স্কুলশিক্ষক উত্তম কুমার জানান, ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে এবার দেশবাসীকে মুক্তাখচিত দুর্গা প্রতিমা উপহার দিতে চান তারা।

তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট থেকে শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা দিয়ে প্রতিমা সাজাতে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে।

উত্তম কুমার বলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আড়পাঙ্গাসিয়া ও বড়কুপোট এলাকায় প্রতিবছর ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরি করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বুড়িয়াতেও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা থেকে মুক্তা দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি বলেন, পূজার পাঁচ দিন লেজার, মার্কারি ও হ্যালোজেন লাইটের মাধ্যমে প্রতিমার সৌন্দর্য তুলে ধরা হবে।

তিনি দেশবাসীকে বুড়িয়া পূজামণ্ডপে এসে এই অভিনব আয়োজন উপভোগ করার আহ্বান জানান।

আয়োজকদের ভাষ্য, প্রায় ৭০ বছর আগে নারায়ণ সরকার ও দীপঙ্কর সরকারসহ কয়েকজন ধান ব্যবসায়ী কপোতাক্ষ নদের তীরে বুড়িয়া ওয়ার্ল্ড ভিশন স্কুলের বারান্দায় মাটির দুর্গা প্রতিমা স্থাপন করে পূজা শুরু করেন।

বর্তমানে মন্দিরের নিজস্ব জমি নেই। স্থানীয়ভাবে চাঁদা সংগ্রহ করে পূজার আয়োজন করা হয়। এবার সরকারিভাবে ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

বুড়িয়া পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি ও স্কুলশিক্ষক ভবেশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, পূজামণ্ডপটি সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল জানান, প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের আগ্রহে তারা আনন্দিত। পূজার পাঁচ দিন সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পূজা উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় যাত্রাপালারও আয়োজন করা হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের পূজামণ্ডপটি সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

স্থানীয় স্কুলছাত্রী বন্যা মণ্ডল জানান, মুক্তা দিয়ে এত সুন্দর প্রতিমা তৈরি করা যায়, তা আগে তার জানা ছিল না। বাড়ির পাশে তৈরি এই প্রতিমা দেখতে খুব ভালো লাগছে। সহপাঠীদের নিয়ে তিনি প্রতিমার সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন।

বিজয়া দশমীর দিন মণ্ডপে বড় আকারে আড়ং বসবে জানিয়ে বন্যা আরও বলেন, এবার সেখানে অন্য বছরের তুলনায় বেশি আনন্দ হবে বলে তার প্রত্যাশা।

দর্শনার্থী অলকা রানী জানান, মুক্তা দিয়ে তৈরি এমন প্রতিমা এবারই প্রথম দেখেছেন তিনি। তিনি বলেন, ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসছেন।

পূজার দিনগুলোতে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানান, জেলায় এবার ৬১০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মুক্তার ঝলমলে কারুকাজ, বিশেষ আলোকসজ্জা ও সাত দশকের ঐতিহ্য-সব মিলিয়ে বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ এবার দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজন ধর্মীয় উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও মিলনের বার্তাও ছড়িয়ে দেবে।

আরও পড়ুন: নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা, আহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ পি.এম


সৌদির তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা, আহত ৪

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে, সৌদি কর্তৃপক্ষ রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ধাহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার পর আগুন ধরে যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি তেল স্থাপনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরামকোর ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে, সৌদি আরবের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনার আশপাশে অবস্থানরত কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছিল ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী।

হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেছিলেন, "ইয়েমেনে হামলা চালানো হলে রিয়াদে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।" সানার আল-সাবাহ এলাকার একটি তেল স্থাপনা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের নির্দেশের পর এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অস্ত্রভান্ডার হিসেবে জ্বালানি স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ তেল ডিপো ব্যবহার করছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এ অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিমান হামলায় সানার আল-সাবাহ এলাকার একটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়। পরে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া, আল-খারজ এলাকায় হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এর আগে, সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছিল হুতিরা। এসব স্থাপনার মধ্যে ছিল ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আরামকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি তেল শোধনাগার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে আরামকোতে হুথিদের হামলা, ইয়েমেনে পাল্টা বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


সৌদি আরবে আরামকোতে হুথিদের হামলা, ইয়েমেনে পাল্টা বিমান হামলা

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি ভবনে হামলার পর আগুনের ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবারের (১৩ অক্টোবর) এই ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার শিকার হয়। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, ধাহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার ফলে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। হামলার আগে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনার আশপাশে কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তারা এসব স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সানার আল-সাবাহ এলাকায় ইয়েমেনের তেল কোম্পানির কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এরপর ওই এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান আলজাজিরার সংবাদকর্মীরা। হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, সৌদি সমর্থিত বাহিনী সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেছেন, হুথিরা ওই স্থাপনাকে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের অস্ত্রভান্ডার হিসেবে ব্যবহার করছিল। তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সানায় হামলা চালানো হলে সৌদি রাজধানী রিয়াদে কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সৌদি জোট হামলা চালালে সতর্কবার্তা দেওয়া স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন তেল কোম্পানি দাবি করেছে, আল-সাবাহর মজুতকেন্দ্রগুলো খালি ছিল। তাই সেখানে হামলা হলে তেলের মজুত বা স্থানীয় বাসিন্দাদের সরবরাহে প্রভাব পড়বে না। তবে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় সানার কয়েকটি পেট্রলপাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এছাড়া, আলজাজিরার সংবাদকর্মী ইউসুফ মাওরি জানিয়েছেন, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের রাস ইসা বন্দরের তেল সংরক্ষণ ট্যাংক এবং হোদেইদা প্রদেশের একটি তেল স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে সৌদি আরব। এই ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। রোববার (১১ অক্টোবর) একই বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক দিনের এসব হামলার পর এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম, এয়ার ইন্ডিয়া, ইতিহাদ, লুফথানসা, ডেলটা, গালফ এয়ার ও কাতার এয়ারওয়েজসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদি আরব ও আশপাশের দেশে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রিয়াদের উত্তরে তিনটি চালকবিহীন আকাশযান প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি মন্ত্রিসভা হুথিদের হামলার জন্য পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হুথিরা সৌদি আরবের অবকাঠামোয় হামলা বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের কাছে সৌদি আরবকে সহায়তার অনুরোধ জানাতে পারেন।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি আরব সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে। গত মাসে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করার পর বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘ইয়েমেনের ভোর’ নামে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে সরকারপন্থী বাহিনী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুথিদের অবস্থান ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে নয়টি বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার। এর মধ্যে ধুবাব এলাকায় পাঁচটি এবং আল-মাসরাখ এলাকায় চারটি হামলা হয়েছে। তাইজের দক্ষিণে আল-শাকাব এলাকায় সরকারপন্থী বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে বলেও জানানো হয়েছে।

ইয়েমেন নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম নামের একটি সংগঠনের অভিযোগ, গত ২৪ ঘণ্টায় তাইজে হুথিদের হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণে অন্তত সাতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের ভাষ্য, একই সময়ে তাইজজুড়ে ১৮০টির বেশি গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুথিরা।

গত সেপ্টেম্বরে হুথিরা কৌশলগত বন্দরনগরী মোখায় স্থল অভিযান চালিয়ে সরকারপন্থী বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে। একই মাসে তারা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের আরও এলাকা দখল করে। এর মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন দ্বীপও রয়েছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথ তৈরির বিষয়ে ইরান ও ওমান কাছাকাছি সমঝোতায় পৌঁছেছে। দুই দেশ একটি অস্থায়ী নিরাপদ নৌপথ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বেসামরিক মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সব পক্ষকে সংঘাত কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তার মতে, ইয়েমেনে প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং এডেন ও সানাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে ইয়েমেনে অন্তত ৪৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বর থেকে সংঘাতের কারণে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা নিউজ ১ , নিউজ ২

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানিতে ডুবে প্রাণ গেল জনপ্রিয় ক্ষুদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীপের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


পানিতে ডুবে প্রাণ গেল জনপ্রিয় ক্ষুদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীপের

হবিগঞ্জের বাহুবলে একটি পুকুরে ডুবে মৃত্যু ঘটেছে তিন বছর বয়সী ক্ষুদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীপ শীলের। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নারিকেলতলা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি তার অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন।

দ্বীপ শীল নারিকেলতলা গ্রামের বাসিন্দা বিজয় শীলের পুত্র। বয়স মাত্র তিন বছর তিন মাস হলেও, কাকার সঙ্গে বিভিন্ন সৃজনশীল ভিডিওতে অংশ নিয়ে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেছিল। তার হাস্যোজ্জ্বল মুখ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কারণে অল্প সময়ের মধ্যে অনেকের প্রিয় হয়ে উঠেছিল।

পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে দ্বীপকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়।

দ্বীপের কাকা বিপ্লব শীল নিউ ভিশন কেজি অ্যান্ড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করেন। কয়েক মাস ধরে কাকার সঙ্গে বিভিন্ন ভিডিওতে অংশ নিচ্ছিল দ্বীপ। এসব ভিডিওতে শিশুটির উপস্থিতি দর্শকদের নজর কাড়ে। ধীরে ধীরে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠে।

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন তালুকদার জানিয়েছেন, পানিতে ডুবে দ্বীপ শীল নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরে পারিবারিকভাবে শিশুটির শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে দ্বীপের অকালমৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কাকা বিপ্লব শীল প্রকাশ করেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অসংখ্য মানুষ শোক ও সমবেদনা জানিয়ে মন্তব্য করেন। অনেকেই শিশুটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন।

মাত্র তিন বছর বয়সে দ্বীপের এমন অকালমৃত্যুতে শোকাহত তার পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। যে শিশুটিকে কিছুদিন আগেও বিভিন্ন ভিডিওতে হাসিখুশি দেখা যেত, তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবান-থানচি সড়কে ৬ দিন পর বাস চলাচল শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


বান্দরবান-থানচি সড়কে ৬ দিন পর বাস চলাচল শুরু

টানা ৬ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে বান্দরবান-থানচি সড়কে বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।

গত ১৪ অক্টোবর থেকে আঞ্চলিক সশস্ত্র গ্রুপগুলোর হুমকির কারণে পরিবহন শ্রমিকরা দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে বান্দরবান-থানচি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে আলোচনা করার পর পরিবহন শ্রমিকরা বাস চালানোর জন্য সম্মত হন।

বান্দরবান-থানচি-রুমা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম জানিয়েছেন, প্রশাসনের নিরাপত্তা বিধানের আশ্বাস এবং বেড়াতে আসা পর্যটকদের স্বার্থ বিবেচনা করে অনেক ঝুঁকি নিয়ে তারা থানচি সড়কে বাস চালাতে রাজি হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিকদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে বান্দরবান-থানচি সড়কের ওয়াই জংশন পয়েন্ট থেকে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে স্কর্ট ব্যবস্থা থাকবে। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন উভয় দিক থেকে ৩টি করে মোট ৬টি বাস চলাচল করলেও, দুই দিক থেকে দুটি করে মোট ৪টি বাস চলাচল করবে।

এদিকে বাস চালকরা জানিয়েছেন, তাদের বাস চালাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নিরাপত্তাবেষ্টনী জোরদার করার মাধ্যমে সড়কে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটক ও স্থানীয়দের যাতায়াত নির্বিঘ্ন হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%