মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৮ পি.এম
গণেশোৎসব উপলক্ষে মুম্বাইয়ের বিখ্যাত লালবাগচা রাজার পূজামণ্ডপে গিয়ে বলিউডের সুপরিচিত অভিনেতা শাহরুখ খান গণপতি বাপ্পার আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী গৌরী খান, মেয়ে সুহানা খান এবং ম্যানেজার পূজা দাদলানি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শাহরুখ খানের উপস্থিতিতে লালবাগচা রাজার পূজামণ্ডপে ভক্ত ও অনুরাগীদের এক বিশাল ভিড় জমে ওঠে। তাকে একবার দেখার জন্য সেখানে অনেকে জড়ো হন। অভিনেতা কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পূজামণ্ডপে প্রবেশ করেন।
এদিন শাহরুখের পরনে ছিল নীল রঙের কুর্তা, সুহানা পরেছিলেন সবুজ রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, এবং গৌরী খানকে দেখা যায় হলুদ রঙের এথনিক পোশাকে।
এ বছরের গণেশোৎসবে লালবাগচা রাজার পূজামণ্ডপে আরও অনেক বলিউড তারকা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে পৃথ্বীরাজ সুকুমারন, রিতেশ দেশমুখ, জেনেলিয়া দেশমুখ, শিল্পা শেঠি, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা সহ আরও অনেকে উল্লেখযোগ্য।
চলতি মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘আস্কএসআরকে’ পর্বে ভক্তদের সঙ্গে কথোপকথন করেন শাহরুখ খান। সেখানে তিনি পরিবারের সঙ্গে গণেশ চতুর্থী উদযাপন সম্পর্কেও আলোচনা করেন।
এক ভক্ত যখন তাকে বাড়িতে গণেশ চতুর্থী উদযাপন সম্পর্কে জানতে চান, শাহরুখ বলেন, "স্ত্রী আরতি করেন, এরপর প্রার্থনা করেন। আজ রাতে বিসর্জন হবে। সন্তান ও বন্ধুরা একত্র হয়, আড্ডা দেয় এবং অনেক হাসি-আনন্দ করে। খুবই সাধারণ এবং পারিবারিক সময়।"
শাহরুখের পরবর্তী সিনেমা
সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ খানকে দেখা যাবে। সিনেমাটি ২৪ ডিসেম্বর মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে হলিউডের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ও ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’ এর মতো বড় সিনেমাও মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ক্যামেরুনের এক পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী গ্যাস বা বিদ্যুৎ ছাড়া রান্না করার জন্য একটি বিশেষ ‘থার্মাল কুকিং ব্যাগ’ তৈরি করেছেন। এই ব্যাগটির নাম ‘ওয়ান্ডারব্যাগ’ এবং এটি খাবারের তাপ ধরে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে রান্না সম্পন্ন করতে সক্ষম।
বিশেষ কাপড় এবং পুরু তাপ-নিরোধক উপাদান, যেমন ফোমের টুকরা ব্যবহার করে তৈরি করা এই ব্যাগটি মূলত স্লো কুকারের মতো কাজ করে। রান্নার প্রক্রিয়া শুরু করতে একটি হাঁড়িতে থাকা খাবারকে গ্যাস বা কাঠের চুলায় পাঁচ থেকে ১০ মিনিট ফুটানো হয়। খাবার ফুটতে শুরু করার পর ঢাকনাসহ হাঁড়িটি চুলা থেকে নামিয়ে ব্যাগের ভেতরে রাখা হয় এবং ব্যাগটি ভালোভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ব্যাগের ভেতরে থাকা তাপ-নিরোধক উপাদান হাঁড়ির তাপ বাইরে বের হতে দেয় না। ফলে সেই তাপের সাহায্যে খাবার আরও আট থেকে ১২ ঘণ্টা ধীরে ধীরে রান্না হতে থাকে। এই সময় অতিরিক্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি ভাত, ডাল এবং মাংস রান্নার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
ক্যামেরুনের এক নারী পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষার্থী হাতে তৈরি করেছেন এই ব্যাগ। তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে জ্বালানির খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
এছাড়া, জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ায় গাছ কাটার প্রবণতাও হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ক্ষতিকর ধোঁয়ার সংস্পর্শ থেকেও মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারে এই ব্যাগ।
এখন পর্যন্ত ক্যামেরুনের বিভিন্ন বাজারে দুই হাজারের বেশি ওয়ান্ডারব্যাগ বিক্রি হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এবং কম খরচে রান্নার এই উদ্ভাবন স্থানীয় মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।
সূত্র: সামা টিভি অনলাইন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও স্বর্ণের দামে কোন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে থাকার আশঙ্কার কারণে স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে গেছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুটির দামে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ৮টার দিকে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৪ দশমিক ২৯ ডলার ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারসের দামও প্রায় স্থির থেকে ৪ হাজার ৩৮১ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বিরুদ্ধে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু যখন সুদের হার বেশি থাকে, তখন স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, সেই সময় বিনিয়োগকারীরা সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন।
এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বড় কোন অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পরিমাণ কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা ফেড কর্মকর্তাদের বক্তব্যের দিকে নজর রাখছেন। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে তাদের দৃষ্টি রয়েছে। এই কারণে স্বর্ণের দাম স্থবির হয়ে পড়েছে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন মন্তব্য করেছেন, সাম্প্রতিক উচ্চ অবস্থান থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা আবার বাড়তে শুরু করলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হবে এবং স্বর্ণের দামও চাপের মুখে থাকতে পারে।
গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিগত সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে আরও সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছে।
সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম বলেছেন, শক্তিশালী চাহিদা এবং তেলের বাইরের বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডকে আরও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। তার মতে, অপেক্ষা করার চেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই উত্তম।
এদিকে, কয়েক দিনের দরপতনের পর মঙ্গলবার তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন কোন অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন। এই কারণে তেলের দাম উত্থান-পতনের মাঝে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়েমেনে হুথি যোদ্ধারা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে লোহিত সাগরীয় উপকূল বিচ্ছিন্ন করতে কৌশলগত উচ্চভূমি দখলের চেষ্টা করছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ১৯ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দামও ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৯২ দশমিক ৭৬ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৫ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, "দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলে আয়ু বাড়বে ৭ বছর"। তবে এই দাবি পুরোপুরি সত্য নয়। এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অতিরঞ্জিত তথ্য। মূল গবেষণা এবং এর পেছনের প্রকৃত তথ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন।
"৮০-এর দশকে জার্মানির মনোবিজ্ঞানী, ড. আর্থার সাবোর" নেতৃত্বে একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিচালিত হয়েছিল। ওই গবেষণায় দেখা গিয়েছিল— যেসব স্বামী প্রতিদিন সকালে কাজে যাওয়ার আগে তাদের স্ত্রীকে বিদায়ী চুম্বন দেন, তারা অন্যদের তুলনায় গড়ে ৫ বছর বেশি বাঁচেন।
চুম্বন যে ভালোবাসা বৃদ্ধি করে এবং অবসাদ দূর করে, এ কথা "কামসূত্রে" উল্লেখ করা হয়েছে। চুম্বন অবশ্যই সম্ভোগকে আনন্দময় করে, কিন্তু এটি মানসিক চাপও কমাতে সাহায্য করে। কামসূত্রের যুগ পেরিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। আজও বিজ্ঞানীরা একই কথা বলছেন। দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলে আয়ু বাড়ে ৭ বছর, পুরনো জার্মান গবেষণা তেমনটাই নির্দেশ করে।
মনোবিদ আর্থার জাবোরের নাম এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। তবে তিনি যা বলেছিলেন, তা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। গত শতকের আটের দশকে জার্মানির এ মনোবিদ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়েছিল— যেসব পুরুষ সকালে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে চুমু খান, তারা চুমু না খাওয়া পুরুষদের তুলনায় গড়ে ৫ বছর বেশি বাঁচেন।
কালক্রমে সামাজিক মাধ্যমে সেই ৫ বছর থেকে বেড়ে ৭ বছরে পরিণত হয়েছে। সকালের বিদায়ী চুমু এখন ২২ মিনিটের চুম্বনে রূপান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি যে অতিরঞ্জিত, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু চুম্বনের সঙ্গে আয়ুর সম্পর্ক অস্বীকার করা যাবে না। জাবো সেদিকেই আলোকপাত করেছেন। নিয়মিত চুম্বনে ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সামগ্রিকভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘনিষ্ঠতা প্রায়শই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং দীর্ঘ ও সুখী জীবনযাপনে সহায়তা করে। বিষয়টি স্টপওয়াচ ধরে সময় মাপার মতো নয়। এখানে মূল বিষয় হল পারস্পরিক বন্ধন। সেই বন্ধনের প্রেম স্পর্শই শরীরে যোগ করে আয়ু। সুতরাং ৫ বা ৭ বছর কিংবা ২২ মিনিটের কথা না ভেবে দিনে নির্দিষ্ট সময়ে ভালোবাসার মানুষের কাছাকাছি থাকা উচিত।
এ প্রসঙ্গে বলা যায়, চুম্বনের বিবিধ উপকারিতার কথা বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেন। যেমন চুমু খেলে রক্তচাপ কমে। ব্যথা কমে। এমনকি চুম্বনে লালারসের বিনিময়ের ফলে মুখের স্বাস্থ্য ও দাঁত ভালো থাকে। ফলে খাবারের টুকরো দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে না। লালা বিনিময়ের ফলে নতুন সব অণুজীবের সংস্পর্শে আসে মানুষ। এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক 'ক্রস-ট্রেনিং' হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে লালারসের বিনিময় ছোঁয়াচে অসুখও ডেকে আনতে পারে। কিন্তু যদি সঙ্গী বা সঙ্গিনী বহুদিনের হয়, তবে এ বিপদ অনেকটাই কমে যায়। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে চুম্বন করলে তার ফল যে ভালো হতে পারে, সেই সম্ভাবনাই বেশি।
এছাড়া ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারলেই যে জীবনীশক্তি মেলে, সে কথা নতুন নয়। বিখ্যাত ব্যান্ড 'ঈগল'-এর সেই লাইনটা মনে করুন— হোয়েন উই আর হাংরি/ লাভ উইল কিপ আস অ্যালাইভ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন এবং ফাহাদের পূর্বপরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে।
অপ্রতিমের বাবা, ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের দায়ের করা হত্যা মামলায় তুহিন ও ফাহাদসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মোবাইল ফোনে আসা একাধিক কলের সূত্র ধরে অপর দুই কিশোরের সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে।
পুলিশের মতে, অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূচনা ঘটে। তবে তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা ধার দেওয়ার বিষয়েও বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। এই বিরোধ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে, অভিযুক্তদের সঙ্গে স্থানীয় ‘কোটবাড়ি বাইকার্স গ্রুপ’ নামের একটি কিশোর গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্যও উঠে এসেছে। ফাহাদ ও কামরুলকে ওই গোষ্ঠীর নেতৃস্থানীয় সদস্য রাতুলের জন্মদিন উদযাপনের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে রাতুলকে কোটবাড়ি এলাকায় শোডাউনে অংশ নিতে দেখা যায়।
তুহিনের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ
প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনের বিরুদ্ধে এর আগে বন্ধুর মোটরসাইকেল ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ভুক্তভোগী সোহাগের মা মরিয়ম আক্তার।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে কুমিল্লার সালমানপুরে অলি মিয়ার দোকানের সামনে থেকে সোহাগের মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান তুহিন। পরে মোটরসাইকেলটি ফেরত না দেওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সোহাগের মা। অভিযোগে মোটরসাইকেলটির ক্রয়মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।
সোহাগের পরিবারের অভিযোগ, তুহিনের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভালো সম্পর্ক থাকায় তিনি আগেও বিভিন্ন ঘটনায় পার পেয়ে গেছেন।
অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা গিয়েছে
প্রতিবেদকের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে প্রধান অভিযুক্ত তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে তারা একটি অটোরিকশায় করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এসে নামেন।
ফাহাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট
অভিযুক্ত ফাহাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটির সঙ্গে তিনি ‘১৯৮০ এর রাজত্ব’ লিখেছিলেন।
এর চার দিন পর, ১৫ সেপ্টেম্বর, ‘কোটবাড়ি বাইকার্স গ্রুপ জুনিয়র’-এর নেতৃস্থানীয় সদস্য রাতুলের জন্মদিন উদযাপনের একটি ছবি ফাহাদের অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। ছবিতে ওই গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাকে দেখা যায়।
হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল সরঞ্জামাদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারিম্যান হিসেবে চাকরি করতেন। দুই সপ্তাহ আগে ১৪ হাজার টাকা মাসিক বেতনে তিনি কাজে যোগ দেন। তবে, এখনো তার সঙ্গে চুক্তিপত্র হয়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনা ঘটে। তবে তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে ফাহাদের সঙ্গে আরেকটি বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।
সূত্র বলছে, ফাহাদকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল অপ্রতিম। সম্প্রতি সে টাকা ফেরত চায়। এ নিয়ে অপ্রতিমের ওপর বিরক্ত ছিল ওই কিশোর। অপ্রতিম বেঁচে না থাকলে টাকা ফেরত দিতে হবে না—এমন চিন্তাও তার মধ্যে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। তাই তুহিনের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ফাহাদও জড়িয়ে পড়ে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এসব ব্যক্তি ও ঘটনার পারস্পরিক যোগসূত্র কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনায় কারা জড়িত ছিল এবং প্রত্যেকের ভূমিকা কী—এসব বিষয় আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এছাড়াও, তৃতীয় আসামি কামরুলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা বিভিন্ন সময়ের পোস্ট থেকে জানা যায় সে স্থানীয় 'কোটবাড়ি বাইকার্স গ্রুপ' নামক কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়া ও তার লাশ পাওয়ার পরে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে চারটি পোস্ট দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ