প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও স্বর্ণের দামে কোন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে থাকার আশঙ্কার কারণে স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে গেছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুটির দামে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ৮টার দিকে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৪ দশমিক ২৯ ডলার ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারসের দামও প্রায় স্থির থেকে ৪ হাজার ৩৮১ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বিরুদ্ধে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু যখন সুদের হার বেশি থাকে, তখন স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, সেই সময় বিনিয়োগকারীরা সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন।
এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বড় কোন অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পরিমাণ কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা ফেড কর্মকর্তাদের বক্তব্যের দিকে নজর রাখছেন। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে তাদের দৃষ্টি রয়েছে। এই কারণে স্বর্ণের দাম স্থবির হয়ে পড়েছে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন মন্তব্য করেছেন, সাম্প্রতিক উচ্চ অবস্থান থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা আবার বাড়তে শুরু করলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হবে এবং স্বর্ণের দামও চাপের মুখে থাকতে পারে।
গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিগত সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে আরও সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছে।
সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম বলেছেন, শক্তিশালী চাহিদা এবং তেলের বাইরের বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডকে আরও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। তার মতে, অপেক্ষা করার চেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই উত্তম।
এদিকে, কয়েক দিনের দরপতনের পর মঙ্গলবার তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন কোন অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন। এই কারণে তেলের দাম উত্থান-পতনের মাঝে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়েমেনে হুথি যোদ্ধারা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে লোহিত সাগরীয় উপকূল বিচ্ছিন্ন করতে কৌশলগত উচ্চভূমি দখলের চেষ্টা করছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ১৯ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দামও ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৯২ দশমিক ৭৬ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৫ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন