প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জার্মানির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, "দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলে আয়ু বাড়বে ৭ বছর"। তবে এই দাবি পুরোপুরি সত্য নয়। এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অতিরঞ্জিত তথ্য। মূল গবেষণা এবং এর পেছনের প্রকৃত তথ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন।
"৮০-এর দশকে জার্মানির মনোবিজ্ঞানী, ড. আর্থার সাবোর" নেতৃত্বে একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিচালিত হয়েছিল। ওই গবেষণায় দেখা গিয়েছিল— যেসব স্বামী প্রতিদিন সকালে কাজে যাওয়ার আগে তাদের স্ত্রীকে বিদায়ী চুম্বন দেন, তারা অন্যদের তুলনায় গড়ে ৫ বছর বেশি বাঁচেন।
চুম্বন যে ভালোবাসা বৃদ্ধি করে এবং অবসাদ দূর করে, এ কথা "কামসূত্রে" উল্লেখ করা হয়েছে। চুম্বন অবশ্যই সম্ভোগকে আনন্দময় করে, কিন্তু এটি মানসিক চাপও কমাতে সাহায্য করে। কামসূত্রের যুগ পেরিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। আজও বিজ্ঞানীরা একই কথা বলছেন। দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলে আয়ু বাড়ে ৭ বছর, পুরনো জার্মান গবেষণা তেমনটাই নির্দেশ করে।
মনোবিদ আর্থার জাবোরের নাম এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। তবে তিনি যা বলেছিলেন, তা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। গত শতকের আটের দশকে জার্মানির এ মনোবিদ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়েছিল— যেসব পুরুষ সকালে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে চুমু খান, তারা চুমু না খাওয়া পুরুষদের তুলনায় গড়ে ৫ বছর বেশি বাঁচেন।
কালক্রমে সামাজিক মাধ্যমে সেই ৫ বছর থেকে বেড়ে ৭ বছরে পরিণত হয়েছে। সকালের বিদায়ী চুমু এখন ২২ মিনিটের চুম্বনে রূপান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি যে অতিরঞ্জিত, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু চুম্বনের সঙ্গে আয়ুর সম্পর্ক অস্বীকার করা যাবে না। জাবো সেদিকেই আলোকপাত করেছেন। নিয়মিত চুম্বনে ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সামগ্রিকভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘনিষ্ঠতা প্রায়শই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং দীর্ঘ ও সুখী জীবনযাপনে সহায়তা করে। বিষয়টি স্টপওয়াচ ধরে সময় মাপার মতো নয়। এখানে মূল বিষয় হল পারস্পরিক বন্ধন। সেই বন্ধনের প্রেম স্পর্শই শরীরে যোগ করে আয়ু। সুতরাং ৫ বা ৭ বছর কিংবা ২২ মিনিটের কথা না ভেবে দিনে নির্দিষ্ট সময়ে ভালোবাসার মানুষের কাছাকাছি থাকা উচিত।
এ প্রসঙ্গে বলা যায়, চুম্বনের বিবিধ উপকারিতার কথা বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেন। যেমন চুমু খেলে রক্তচাপ কমে। ব্যথা কমে। এমনকি চুম্বনে লালারসের বিনিময়ের ফলে মুখের স্বাস্থ্য ও দাঁত ভালো থাকে। ফলে খাবারের টুকরো দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে না। লালা বিনিময়ের ফলে নতুন সব অণুজীবের সংস্পর্শে আসে মানুষ। এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক 'ক্রস-ট্রেনিং' হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে লালারসের বিনিময় ছোঁয়াচে অসুখও ডেকে আনতে পারে। কিন্তু যদি সঙ্গী বা সঙ্গিনী বহুদিনের হয়, তবে এ বিপদ অনেকটাই কমে যায়। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে চুম্বন করলে তার ফল যে ভালো হতে পারে, সেই সম্ভাবনাই বেশি।
এছাড়া ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারলেই যে জীবনীশক্তি মেলে, সে কথা নতুন নয়। বিখ্যাত ব্যান্ড 'ঈগল'-এর সেই লাইনটা মনে করুন— হোয়েন উই আর হাংরি/ লাভ উইল কিপ আস অ্যালাইভ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন