০১:৪৬ পি.এম
আল্লাহ তাআলা মানুষকে সামাজিক জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এজন্য, ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসলাম ধর্মে সহযোগিতার কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখা বিদ্যমান। সৎকর্ম ও কল্যাণের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করা উচিত, অন্যদিকে পাপ, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ অর্থ: তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত: ২)
আরও পড়ুন: কোরআনের খেদমত অব্যাহত রাখা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
নেক কাজে সহযোগিতা শুধুমাত্র অর্থের মাধ্যমে সাহায্য করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অন্তর্ভুক্ত করে কাউকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, দ্বীনি শিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত করা, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ঋণগ্রস্তকে সাহায্য করা এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির কষ্ট দূর করা। এমনকি সুন্দর কথা বলা, ভালো পরামর্শ দেওয়া এবং কাউকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়াও সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ অর্থ: বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সহযোগিতায় থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতায় থাকেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)
এই হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অন্যের উপকারে এগিয়ে আসা আল্লাহর সাহায্য লাভের একটি মাধ্যম। তাই মানুষের উচিত তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের পাশে দাঁড়ানো। পরিবারে একে অপরকে নেক কাজে উৎসাহিত করা, সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তোলা এবং সমাজের অসহায় মানুষের প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসা আমাদের কর্তব্য।
আরও পড়ুন: মুফতি তাকি উসমানি ২২ নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন
তবে সহযোগিতার নামে অন্যায়কে সমর্থন করা উচিত নয়। প্রতারণা, জুলুম, মিথ্যা সাক্ষ্য কিংবা হারাম কাজে কাউকে সাহায্য করা ইসলাম ধর্মের শিক্ষা পরিপন্থী। বরং, কেউ অন্যায় করলে তাকে সেই কাজ থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করা প্রকৃত সহযোগিতার অংশ।
নেক কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আমাদের উচিত, নিজেদের ভালো কাজ করার পাশাপাশি অন্যকেও ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করা। এইভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার চর্চা পরিবারে শান্তি, সমাজে সম্প্রীতি এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন