০৪:৪৯ পি.এম
মুসলিম বিশ্বের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ এবং ফকিহ মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি বাংলাদেশ সফরে আসার কথা জানিয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজধানীর শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও শাইখুল হাদিস মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ।
তিনি উল্লেখ করেছেন, আগামী ২২ নভেম্বর রোববার বাদ জোহর রাজধানীর কাওলা নামাপাড়ায় শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে ১৫ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। বাংলাদেশ সফরের সময় তিনি আরও কয়েকটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন।
আরও পড়ুন: কোরআনের খেদমত অব্যাহত রাখা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
মুফতি তাকি উসমানি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিত, আইনবিদ, বিচারক এবং দেওবন্দি আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় (লাহোর) থেকে আরবি সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন (১৯৭০)। আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তিনি করাচির দারুল উলুম থেকে ইসলামি শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং হাদিস, ফিকহ ও তাসাউফে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।
১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়ত আপিল বেঞ্চের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি ফেডারেল শরিয়ত কোর্টের বিচারক ছিলেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জিয়াউল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামি আদর্শ কাউন্সিলের (Council of Islamic Ideology) সদস্য হিসেবে কাজ করেন এবং হুদুদ অধ্যাদেশ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি (জেদ্দা) এবং বাহরাইনভিত্তিক ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব ও নিরীক্ষা সংস্থার (AAOIFI) শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও, দারুল উলুম করাচির শাইখুল হাদিস ও নায়েবে মুহতামিম হিসেবে কাজ করছেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মুফতি তাকি উসমানি আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিং ও সুদবিহীন অর্থব্যবস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ। তিনি মিযান ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
আরও পড়ুন: মসজিদভিত্তিক শিক্ষাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার নির্দেশ ধর্মমন্ত্রীর
তিনি আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় ১৪৩টির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে:
১. ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও তাফসীর (তাওযীহুল কুরআন)।
২. সহিহ মুসলিমের ওপর ৬ খণ্ডের আরবি শরিহ গ্রন্থ ‘তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম’।
৩. ইসলামি বাণিজ্যিক আইন ও অর্থনীতি নিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ফিকহুল বুয়ূ’।
আরও পড়ুন: কওমি মাদ্রাসার সুরক্ষায় আলেম-উলামাদের ছয় দফা প্রস্তাব
৪. ‘উসূমুল কুরআন’ ও ‘আপ্রোচ টু দ্য কুরআনিক সায়েন্সেস’।
ইসলামে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাকে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ পদকে ভূষিত করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন