বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:১৭ পি.এম
সৌদি আরবের পবিত্র مক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া।
বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে, প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন তিনি। তার এ সাফল্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এ বিভাগে প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা পবিত্র কোরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়।
প্রতিযোগিতার সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশের এই তরুণ হাফেজ।
পাঁচটি পৃথক শাখায় অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিভাবান কোরআনের হাফেজ ও কারিরা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকরা প্রতিযোগীদের কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করেন। বিভিন্ন শাখায় মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে।
প্রতিযোগিতা চলাকালে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া বলেন, পবিত্র কোরআনই তাকে একটি ছোট গ্রাম থেকে পবিত্র মক্কা নগরীতে নিয়ে এসেছে। মসজিদুল হারামে এসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগকে তিনি তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ও স্মরণীয় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
মক্কার পবিত্র ভূমিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কোরআনপ্রেমী তরুণদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশের জন্য প্রথম স্থান অর্জন নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। একজন তরুণ হাফেজের এ সাফল্য দেশের কোরআন শিক্ষা ও হিফজের অঙ্গনেও নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোরআন হিফজ ও তিলাওয়াতের প্রতিভাবানদের মিলনমেলায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়ার এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন দেশের জন্য এক অনন্য সম্মান। পবিত্র কোরআনকে বুকে ধারণ করে মক্কার পবিত্র ভূমিতে বাংলাদেশের পতাকাকে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরেছেন তিনি।
তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয় বরং বাংলাদেশের কোরআনপ্রেমী মানুষ ও মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও আনন্দ ও গৌরবের সংবাদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে ৩৫ বছরের বিরতির পর আবারো রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে। ভোটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গ্রহণের পর, সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, সংসদের প্লেনারি হলে, যেখানে সাধারণত সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে বসেন, সেখানেই ভোটগ্রহণ হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটের স্থান নির্ধারণ করেছেন। প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে একটি করে ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। দুই প্রার্থীর মধ্যে যাকে ভোট দেবেন, নির্ধারিত স্থানে তার পক্ষে ভোট দিয়ে স্বাক্ষর করে ব্যালট বাক্সে জমা দেবেন।
তিনি আরো বলেন, ভোটকেন্দ্রে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হবে। সংসদ সদস্যদের সুবিধার জন্য পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার দেওয়া হবে, যাতে একসঙ্গে বেশি ভিড় না হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টরা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলেও জানিয়েছেন।
পরবর্তী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন বলেও জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম ২০ মিনিট সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ সময় রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী (সংসদ সদস্য হলে) তার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি দেখানো হবে। ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়েও সরাসরি সম্প্রচার থাকবে। ভোট শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স খোলা, ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রমও সরাসরি দেখানো হবে।
এবারের ভোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এ বিষয়ে গত ১১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-কেন্দ্রিক এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবারের নির্বাচন ঐতিহাসিক। তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একজন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এই নির্বাচনকে ঘিরে সবার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ১৯৯১ সালের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে আর কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। ভোটশেষে সেখানেই গণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হলো ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়ার পদ্ধতিও জানিয়েছেন ইসি সচিব। ভোটাররা ব্যালট গ্রহণের পর নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে। বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হলে গণনা শুরু হবে।
ইসি জানিয়েছে, ভোটের ব্যালট সাদা কাগজে কালো কালিতে ছাপানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হলো কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই প্রাথীই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তাই আজ দুজনের মধ্যে ভোট হবে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটা নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী দেওয়ার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এর আগে প্রায় ৩৫ বছরের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, গণতন্ত্রের জন্য একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। দেশের মানুষকে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থানটাও জানাতে চাই।
৩৫ বছর আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছিল সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ৩৫ বছরের পর আবারও জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, দুপুর ২টা থেকে সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
বিস্তারিত আসছে...
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। তার নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের, সরকারপ্রধানের নয়। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব যতটা, নির্বাহী ক্ষমতা ততটা নয়। বর্তমানে অনেকের কৌতূহল দেখা দিয়েছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু এবং তিনি কী কী সুবিধা পান?
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবুও রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন, বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। পদ ছাড়ার পরেও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কিছু সুবিধা পান।
দুটি নিয়োগে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনত্বের অধিকারী।
সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। এর প্রথমটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। এ বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।
সংসদ নির্বাচনে কোনো দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তাহলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। কিন্তু যদি কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তখন কে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করতে বাধ্য নন। সংবিধান তাঁকে এ ক্ষেত্রে স্বাধীন ক্ষমতা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন। রাষ্ট্রপতি যদি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পেশ করতে চান তাহলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবেন।
এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না এবং যদি দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে সম্পর্কে কোনো আদালত কোনো প্রশ্নের তদন্ত করতে পারেন না।
ক্ষমা করার বিশেষ ক্ষমতা
রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো দণ্ড মওকুফ বা কমানোর ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন। যদিও সংসদীয় ব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির অন্যান্য দায়িত্বের মতো এ ক্ষমতার প্রয়োগ সরকারপ্রধানের পরামর্শ অনুসারেই নির্ভর করে।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সাংবিধানিক দায়মুক্তি। অর্থাৎ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। তাঁর কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না। একইভাবে রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার কিংবা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে কোনো পরোয়ানা জারি করা হয় না।
কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রপতিকে পদ থেকে সরানোর উপায় নেই। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে অভিশংসন করা যায়। আবার শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে তাঁকে অপসারণের বিধানও রয়েছে।
সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হলে সংসদের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংসদে বিবেচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতির অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকে। অভিযোগ বিবেচনা শেষে সংসদের মোট সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রেও প্রায় একইভাবে সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করে রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। তারপর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য নজির হলো এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনা। ২০০২ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি পদত্যাগ করেন।
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা নেই।
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও উত্তরাধিকারের দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরপর এবং সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময় তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য থাকেন না। যদি কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন, তাহলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাবে। বর্তমানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাবে। পরে সেই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য বয়সের সীমা ৩৫ বছর হতে হয়। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়, কিন্তু রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যদি কেউ আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকে, তাহলে তিনি আর রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্য নন।
আজকের ভোটে ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। এজন্য তিনি ভোটের সময় সংসদের সভাকক্ষে থাকতে এবং ভোট দিতে পারবেন না। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিতে পারবেন।
যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন
বর্তমান সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। বরং জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাঁকে নির্বাচিত করেন। একজন সংসদ সদস্য কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং আরেকজন তা সমর্থন করেন।
একজন প্রার্থী থাকলেই তার মনোনয়ন বৈধ হলে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে, সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হয়।
একাধিক প্রার্থী থাকায়, ৩৫ বছর পর আজ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হলেন নির্বাচনী কর্তা।
রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এটি আয়করমুক্ত। ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে রাষ্ট্রপতির পদটির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধাগুলি বেশ বিস্তৃত। রাষ্ট্রপতি কী সুযোগ-সুবিধা পান, তা বলা আছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্টে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির বেতন বাড়ানো হয়। পূর্বে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বেতন হচ্ছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী পদে থাকলে অর্থ পেতে পারেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকলে তিনি কোনো সরকারি সুবিধা পান না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি অবসর কিংবা পদত্যাগের পরও কিছু সরকারি সুবিধা পান।
রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্য বার্ষিক ভাতা রয়েছে এবং এই ব্যয়ের নিরীক্ষা করা হয় না।
রাষ্ট্রপতির জন্য সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন নির্ধারিত আছে। এর সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রপতির সরকারি যাতায়াতের জন্য গাড়ি এবং প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধাও সরকার দিতে থাকে।
রাষ্ট্রপতি যখন সরকারি কাজে বিদেশ সফরে বের হন, তখন তিনি সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পান।
স্বেচ্ছাধীন তহবিল বছরের পর বছর দুই কোটি টাকা।
রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাধীন তহবিল। বছরে এ তহবিলের পরিমাণ দুই কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এই অর্থ ব্যয় করা যেতে পারে।
এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। রাষ্ট্রপতি এবং তার পরিবার দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই খরচ সরকার বহন করে।
রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্য বিমাসুবিধা রয়েছে। বর্তমানে এ সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এর পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।
অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির বেতন ছাড়াও বাসভবন, গাড়ি, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন, বিমানভ্রমণের বিমাসহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য বিস্তৃত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু সরকারপ্রধান নন
বাংলাদেশের সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি, কিন্তু সরকারের প্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভা।
তাহলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর আনুষ্ঠানিক মর্যাদা ও কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতা দুটি ভিন্নভাবে দেখা জরুরি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বাধ্যবাধকতাও তৈরি করেছে।
যার ফলে জাতীয় নির্বাচন বা বড় রাজনৈতিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতির পদটি নতুন করে আলোচনা আসে। বিশেষ করে যখন সংসদে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তখন সরকার গঠন করতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সংসদে যদি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তখন রাষ্ট্রপতির সেই বিবেচনামূলক পরিসর অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে।
সুতরাং রাষ্ট্রপতির পদটি একদিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার সাংবিধানিক পদ, অপরদিকে সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। দীর্ঘকাল ধরে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও এখনো পর্যন্ত তা হয়নি।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা রাষ্ট্রপতি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের তিন লাখের বেশি মানুষ মাত্র ৩০০ মিটার সড়ক নিয়ে ৮ বছরের বেশি সময় ধরে দুর্ভোগ ভোগ করছেন। সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার পর এক সময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সেখানে ইট সলিং করে দেয়। তবে কয়েক বছর পরে সেটিও উঁচুনীচু ও ইট ভেঙে বিভিন্ন স্থানে গর্তে পরিণত হয়ে গেছে। সত্ত্বেও সড়কটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ এখনো গ্রহণ করা হয়নি।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাইপাস ধামরাই বাজার থেকে কালামপুর বাজার সড়কের আইঙ্গন এলাকায় ওই ৩০০ মিটার ইটের রাস্তা অবস্থিত। সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ধামরাই উপজেলা পরিষদ, থানা, পৌর বাজার, ধামরাই সরকারি কলেজ, আফাজ উদ্দিন কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য। ৮ বছর আগে ইট সলিং করে মেরামত করা এ সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপজেলার সোমভাগ, কুল্লা, সুতিপাড়া, সানোড়া, কুশুরা, গাংগুটিয়া, বালিয়া, আমতা, চৌহাটসহ ১০টি ইউনিয়নের মানুষের।
এ সড়কের আইঙ্গন মোড় থেকে পশ্চিম আইঙ্গন পর্যন্ত ৩০০ মিটারের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার পর ২০১৮ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্পেটিংয়ের ওপর দিয়ে ইট সলিং করে রাস্তাটি মেরামত করেছিল। কিন্তু তারপর থেকে ধীরে ধীরে রাস্তার অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। ইটের রাস্তায় পানি জমে গিয়ে উঁচুনীচু হয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন কালামপুর বাজার থেকে ধামরাই পৌর বাজার সড়কটি আইঙ্গন হয়ে শত শত ইজিবাইক, প্রাইভেটকার, ট্রাকসহ গার্মেন্টসের শ্রমিকবাহী বাস যাতায়াত করে। এই কারণে আইঙ্গন ইটের রাস্তায় প্রবেশ করলেই যাত্রীদের ভোগান্তি শুরু হয়।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার না করায় সলিং করা ইট ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ইজিবাইকচালক মোশারফ হোসেন বলেন, কালামপুর বাজার থেকে ধামরাই বাজার পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কের মধ্যে আইঙ্গন এলাকায় ৩০০ মিটার ইট সলিং রাস্তা রয়েছে, এবং ৮ বছর ধরে রাস্তাটির অবস্থা খারাপ। এই ইটের রাস্তায় আসলেই যাত্রীরা অভিযোগ করতে শুরু করেন।
সানোড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, আইঙ্গনের রাস্তা হয়ে প্রায়ই উপজেলা পরিষদ ও থানায় যাতায়াত করতে হয়। ইটের রাস্তায় আসলেই তারা ঝাঁকুনিতে পেটব্যথা অনুভব করেন। তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৩০০ মিটার এই ইটের সলিং তুলে কার্পেটিং করলেই লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তি কমে যাবে।
আফাজ উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, তাঁর কলেজের শিক্ষার্থীরা রিকশা-অটোরিকশা ও ইজিবাইকযোগে প্রতিদিন আইঙ্গন ইটের রাস্তার ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। রাস্তাটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। তাই দ্রুত রাস্তাটি কার্পেটিং করা উচিত।
ধামরাই পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আইঙ্গন রাস্তাটি পৌরসভার মধ্যে পড়ে, তবে তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। তাই পৌরসভার পক্ষ থেকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও সংস্কার করতে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলমের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে নয়ারহাট সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরে আলম সিদ্দিক জানান, ধামরাইয়ের আইঙ্গন ৩০০ মিটার ইটের রাস্তা শিগগিরই টেন্ডারের মাধ্যমে কার্পেটিং করা হবে। এতে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলেও আশা করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ