০৪:১৭ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যা ও ৩২ জনকে আহত করার অভিযোগে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১টায় গুলিবাহিনীর মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ তথ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন।
রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম রিয়েল আমেরিকাস ভয়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথ উল্লেখ করেন, সেনাসদস্যদের গুলিতে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে এবং সাধারণ জনগণ তা দেখতে পারবে। তিনি বলেন, "এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষের জানা প্রয়োজন।" প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন যে, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। তবে, কোন মাধ্যমে এটি দেখানো হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে হামলা চালান তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা ও মনোরোগ চিকিৎসক হাসান। হামলার ফলে ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। হামলার সময় তিনি "আল্লাহু আকবার" বলে চিৎকার করেছিলেন। পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন তিনি।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
২০১৩ সালে সেনা আদালতে পরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন হাসান এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চলতি বছর পেন্টাগনে গুলিবাহিনীর মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন বলে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালে। সে সময় অস্ট্রিয়ায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করার দায়ে দণ্ডিত সেনাসদস্য জন বেনেটকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। আর সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে গুলি করে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৫ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দায়িত্ব থেকে পালানোর দায়ে দণ্ডিত সেনাসদস্য এডি স্লোভিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের পরও দণ্ডিত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। হাসান দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় নিজেই নিজের পক্ষে লড়েছেন, যদিও সেনাবাহিনীর দুজন আইনজীবী তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছেন। গুলিবাহিনীর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে তিনি আপিল করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন