ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিয়ে চান একজন, ক্যারিয়ার অন্যজন—সম্পর্ক টিকবে কীভাবে?


বিয়ে চান একজন, ক্যারিয়ার অন্যজন—সম্পর্ক টিকবে কীভাবে?

একজন দ্রুত বিয়ে করে সংসার শুরু করার ইচ্ছা পোষণ করেন। অপরজন কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান। যদিও দু’জনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিবার থেকে বিয়ের চাপ আসতে পারে। তখন একজন হয়তো বিয়ে ও সন্তান নিয়ে সংসার করতে চাইছেন, অন্যজন বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নিজেকে এখনও প্রস্তুত মনে করছেন না। কেউ কর্মজীবনে উন্নতি, আর্থিক নিরাপত্তা কিংবা দেশ-বিদেশ ঘোরার স্বপ্নকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন।

এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—দু’জনের জীবনের লক্ষ্য আলাদা হলে সম্পর্ক কি টিকিয়ে রাখা সম্ভব?

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

চাওয়া-পাওয়ার পার্থক্য অস্বাভাবিক নয়

জীবনের এক পর্যায়ে এসে দু’জন মানুষের চাওয়া-পাওয়া আলাদা হয়ে যেতেই পারে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কারণ বয়স, অভিজ্ঞতা, পারিবারিক চাপ, আর্থিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত স্বপ্নের কারণে মানুষের অগ্রাধিকার বদলে যায়।

তবে একসঙ্গে থাকতে হলে এই পার্থক্যগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দু’জনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে জানা দরকার।

বিয়ে শুধু ভালোবাসার বিষয় নয়, এর সঙ্গে দায়িত্ব, আর্থিক পরিকল্পনা, পরিবার ও ভবিষ্যৎ জীবনের নানা সিদ্ধান্ত জড়িয়ে থাকে। তাই বিয়ের আগে এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

বিয়ের আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন

বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সঙ্গীর সঙ্গে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। যেমন—

এসব বিষয়ে আগে থেকেই আলোচনা থাকলে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মতপার্থক্য থাকলেই সম্পর্ক ভাঙে না

আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন

দু’জনের জীবনের লক্ষ্য আলাদা হলেই যে সম্পর্ক ভেঙে যাবে, এমন নয়। একটি সম্পর্কে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই মতপার্থক্য কীভাবে সামলানো হচ্ছে।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে প্রয়োজন যোগাযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসা। আপনি জীবনে কী চান এবং সঙ্গীর কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করেন, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। একইভাবে সঙ্গীর কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।

শুধু নিজের ইচ্ছার কথা বললেই হবে না। সঙ্গী কেন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন বা কেন প্রস্তুত নন, সেটিও বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

নিজের সিদ্ধান্ত সঙ্গীর ওপর চাপিয়ে দেবেন না

আরও পড়ুন: আজ নতুন বন্ধু বানানোর দিন, পুরোনো বন্ধুত্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে

সম্পর্কে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় যখন একজন নিজের সিদ্ধান্ত অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দিতে চান।

কেউ যদি এখনই বিয়ে করতে চান, তাহলে শুধু সেই ইচ্ছার কারণে সঙ্গীকে চাপ দেওয়া ঠিক নয়। আবার কেউ যদি কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সময় চান, তাহলে তাঁর ইচ্ছাকেও অবহেলা করা উচিত নয়।

বরং দু’জনের অবস্থান, ভয়, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শান্তভাবে আলোচনা করা দরকার। সিদ্ধান্ত এমন হওয়া উচিত, যাতে দু’জনের মতামতই গুরুত্ব পায়।

কখনও অপেক্ষা, কখনও আপস

আরও পড়ুন: পূজায় মিষ্টিমুখ, ঘরেই বানান সুস্বাদু নারকেলের নাড়ু

জীবনের লক্ষ্য আলাদা হলেও অনেক সময় একসঙ্গে পথ চলা সম্ভব। তবে এর জন্য দু’জনকেই কিছুটা সময় দিতে হতে পারে। কোনো ক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হতে পারে, আবার কোনো ক্ষেত্রে আপসও করতে হতে পারে।

তবে আপস মানে নিজের সব ইচ্ছা বিসর্জন দেওয়া নয়। বরং দু’জনের প্রয়োজন ও স্বপ্নের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে নেওয়া।

যদি একজনের জন্য বিয়ে জরুরি হয়ে ওঠে এবং অন্যজনের জন্য আরও কয়েক বছর সময় প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই সময়ের মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে চলবে, তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে বিয়ের বিষয়ে দু’জনের অবস্থান বদলাতে পারে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা দরকার।

ভালোবাসার সঙ্গে বোঝাপড়াও জরুরি

আরও পড়ুন: লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে সাধুসঙ্গে নিজেদের ও অজানাকে জানছেন ভক্তরা

শুধু ভালোবাসা থাকলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায় না। ভালোবাসার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও দায়িত্ববোধও প্রয়োজন।

দু’জনের লক্ষ্য আলাদা হলেও যদি একে অন্যের কথা শোনা, সম্মান করা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকার মানসিকতা থাকে, তাহলে কঠিন পরিস্থিতিও সামলানো সম্ভব।

তবে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দু’জনকে একসঙ্গে। কারও ইচ্ছাকে ছোট না করে, চাপ না দিয়ে এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুজরাটের নাকি পদ্মার ইলিশ চিনবেন ৪ উপায়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


গুজরাটের নাকি পদ্মার ইলিশ চিনবেন ৪ উপায়ে

বাজারে বর্তমানে রুপালি ইলিশের প্রচুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সব ইলিশই পদ্মার নয়। ভারত অথবা মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশও অনেক সময় পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। দেখতে অনেকটা একই রকম হওয়ায় ক্রেতারা সহজেই বুঝতে পারছেন না কোনটি আসল পদ্মার ইলিশ এবং কোনটি অন্য এলাকার।

অভিযোগ রয়েছে, কম দামে কেনা এসব ইলিশ অনেক সময় উচ্চমূল্যে পদ্মার ইলিশ বলে বিক্রি করা হয়। এর ফলে ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই প্রতারিত হচ্ছেন।

তবে কিছুটা খেয়াল করলে বাহ্যিক গঠন, চোখ, গায়ের রং এবং স্বাদ-ঘ্রাণের মধ্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, যা পদ্মার ইলিশ চেনার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এখানে চারটি সহজ উপায় উল্লেখ করা হলো।

১. মাছের গঠন ও আকৃতি দেখুন

পদ্মার ইলিশ সাধারণত তুলনামূলকভাবে খাটো হয়ে থাকে। তবে এর মাঝের অংশ বেশ গোলগাল, চওড়া এবং ভরাট থাকে। পিঠের অংশ কিছুটা উঁচু এবং লেজের দিকও তুলনামূলক পুরু হয়।

অন্যদিকে গুজরাটের ভারুচ বা পশ্চিম উপকূল থেকে আসা ইলিশ সাধারণত লম্বাটে এবং সরু প্রকৃতির হয়ে থাকে। এদের পেট বা মাঝের অংশ নদীর ইলিশের মতো অতটা ভরাট দেখায় না।

সুতরাং বাজারে ইলিশ কেনার সময় প্রথমেই মাছটির শরীরের গঠন ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

২. চোখের দিকে তাকান

ইলিশ চেনার আরেকটি উপায় হলো মাছের চোখের দিকে নজর দেওয়া।

টাটকা পদ্মার ইলিশের চোখ সাধারণত পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল দেখায়। অন্যদিকে গুজরাট থেকে আসা ইলিশ দীর্ঘ সময় বরফে থাকার কারণে চোখের চারপাশ কিছুটা কালচে লাল বা রক্তবর্ণ হয়ে যেতে পারে।

তাহলে মাছ কেনার আগে শুধু শরীরের রং নয়, চোখের অবস্থাও দেখে নেওয়া জরুরি।

৩. গায়ের রং ও আঁশের উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করুন।

দুই ধরনের ইলিশের গায়ের রংই রুপালি হলেও উজ্জ্বলতায় পার্থক্য রয়েছে।

পদ্মার ইলিশের আঁশ সাধারণত বেশ চকচকে রুপালি হয়ে থাকে। আলো পড়লে পিঠের দিকে হালকা সোনালি বা বেগুনি আভার ঝিলিক দেখা যায়। শরীরের মাঝ বরাবর একটি হালকা লালচে রেখাও স্পষ্ট থাকে।

অন্যদিকে গুজরাটের ইলিশের গায়ে রুপালি ভাব থাকলেও পিঠের অংশ তুলনামূলক কালচে বা ধূসর দেখায়। নদীর তাজা ইলিশের মতো রুপালি-সোনালি উজ্জ্বলতা এতে সবসময় দেখা যায় না।

৪. স্বাদ ও ঘ্রাণেও রয়েছে পার্থক্য

পদ্মার ইলিশের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর স্বাদ ও ঘ্রাণ। নদীর মিষ্টি পানিতে বেড়ে ওঠার কারণে এই মাছের শরীরে প্রাকৃতিক তেলের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে রান্নার পর মাছ নরম ও তুলতুলে হয়ে যায় এবং খাবারে আলাদা স্বাদ পাওয়া যায়।

রান্নার সময় পদ্মার ইলিশের বিশেষ ঘ্রাণও ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে সামুদ্রিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা গুজরাটের ইলিশ তুলনামূলকভাবে শক্ত হতে পারে। স্বাদও কিছুটা পানসে লাগতে পারে। রান্নার সময় পদ্মার ইলিশের মতো তীব্র ও পরিচিত ঘ্রাণও পাওয়া যায় না।

বাজারে ইলিশ কিনতে সতর্ক থাকুন

বাজারে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় বিভিন্ন এলাকার মাছ একই নামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। দেখতে কাছাকাছি হওয়ায় শুধুমাত্র বিক্রেতার কথায় নির্ভর না করে মাছটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।

মাছ কেনার সময় শরীরের গঠন, চোখ, আঁশের উজ্জ্বলতা এবং গায়ের রং—এই চারটি বিষয় খেয়াল করলে পদ্মার ইলিশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হবে। রান্নার পর স্বাদ ও ঘ্রাণেও পার্থক্য বোঝা সম্ভব।

সুতরাং চড়া দাম দিয়ে ইলিশ কেনার আগে মাছটি আসলে কোন এলাকার, তা যতটা সম্ভব যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের উদ্যোগে ৩ জাহাজে প্রতিষ্ঠিত হবে ভাসমান হাসপাতাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


সরকারের উদ্যোগে ৩ জাহাজে প্রতিষ্ঠিত হবে ভাসমান হাসপাতাল

সরকার উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি নতুন এবং যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এর অধীনে অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ এম ভি মধুমতি, এম ভি রূপসা এবং এম ভি সুগন্ধাকে আধুনিক ‘ভাসমান হাসপাতাল’-এ রূপান্তর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) বাদামতলী বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনালে এই বিশেষ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজগুলো পরিদর্শন করা হয়।

এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী।

এছাড়াও, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালকবৃন্দ এবং দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত উল্লেখ করেন, উপকূলীয় ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনায় সরকারের এই পদক্ষেপ গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এই ভাসমান হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, নৌপথকে ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি অনন্য নজির স্থাপন করবে। বিআইডব্লিউটিসি দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাহাজগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধাদিসহ ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর করতে কাজ করবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এই জাহাজগুলোতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব এবং বহিঃবিভাগসহ একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে। এর ফলে দুর্যোগপূর্ণ সময় কিংবা সাধারণ সময়েও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নদীমাতৃক মানুষজন মূল ভূখণ্ডে না এসেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী এবং ঘাটে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবেদন আদালতের বাধায় তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর ট্রাম্পের পরিকল্পনা ব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


আবেদন আদালতের বাধায় তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর ট্রাম্পের পরিকল্পনা ব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে বাধা প্রদান করেছে, যা অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারের (Deportation) সুযোগ দেয়। আদালত জানায়, অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানোর কার্যকর সুযোগ প্রদান করা আবশ্যক, অপরিচিত দেশে পাঠানোর আগে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বোস্টনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘তৃতীয় দেশে বহিষ্কার’ নীতিকে মূলত অবৈধ ঘোষণা করে নিম্ন আদালতের পূর্বের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখে। তবে রায়ের একটি অংশ প্রক্রিয়াগত কারণে বাতিল করা হয়েছে।

বিচারপতি শেথ আফ্রেমের নেতৃত্বে দেওয়া রায়ে উল্লেখ করা হয়, অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানানোর ‘অর্থবহ’ সুযোগ দিতে হবে, বিশেষ করে যে দেশে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই, সেখানে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই সুযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ।

মামলাটি অভিবাসীদের নিয়ে একটি গণমামলার মাধ্যমে আদালতে গিয়েছে। প্রশ্ন ছিল, নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশে বহিষ্কারের আগে অভিবাসীদের কী ধরনের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

মামলাকারীদের আইনজীবী ত্রিনা রিয়েলমুটো বলেন, "আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার আইনি অধিকার এড়িয়ে কাউকে এমন একটি বিমানে তুলে দেওয়া যাবে না, যে দেশটি তার বহিষ্কার-সংক্রান্ত আগের প্রক্রিয়ার অংশই ছিল না।"

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ২৯টি তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এসব চুক্তির আওতায় ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠানো হয়েছে বলে অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর পরিচালিত হিসাবের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই মেক্সিকোকে তৃতীয় দেশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

২০২৫ সালের মার্চে নেওয়া নীতির আওতায়, কোনো তৃতীয় দেশের কাছ থেকে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার না হওয়ার কূটনৈতিক নিশ্চয়তা থাকলে অভিবাসীদের অল্প সময়ের নোটিশে সেখানে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল।

আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের বৈধ আদেশগুলো বাস্তবায়নে সরকারের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। তবে আপিল আদালত এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি।

এখন ট্রাম্প প্রশাসন আপিল আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে তৃতীয় দেশে বহিষ্কার সংক্রান্ত বিষয়টি দুবার সর্বোচ্চ আদালতে উঠেছে।

২০২৫ সালে সর্বোচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্তের পর কিউবা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকসহ আটজনকে দক্ষিণ সুদানে পাঠানোর পথ খুলে যায়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দক্ষিণ সুদান ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছিল।

তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের কর্মসূচি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, অপরিচিত দেশে পাঠানোর আগে অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয় না।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে তার নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

চলতি মাসেই ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার ওপর নতুন সীমা আরোপের পরিকল্পনা আটকে দিয়েছে একটি ফেডারেল আদালত। পাশাপাশি আইনসম্মতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীরা সরকারি কিছু সুবিধা ব্যবহার করলে তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে—এমন আরেকটি নীতির বিরুদ্ধেও ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি মামলা করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা , রয়টার্স

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে ‘বেশি লাভের আশায়’ রেখে কোল্ড স্টোরেজেই ১৫ হাজার বস্তা আলু পচে নষ্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


মাদারীপুরে ‘বেশি লাভের আশায়’ রেখে কোল্ড স্টোরেজেই ১৫ হাজার বস্তা আলু পচে নষ্ট

মাদারীপুরে দীর্ঘ সময় ধরে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে রাখা ১৫ হাজার বস্তা আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে, যা বেশি লাভের আশায় করা হয়েছিল।

এই ৬০ কেজি ওজনের বস্তাগুলোর মধ্যে থাকা প্রায় ২২ হাজার ৫০০ মণ আলুর বর্তমান খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে পচে যাওয়া আলুগুলো বিনামূল্যে গরুর খাবার হিসেবে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত আলুর গুণগত মান ধরে রাখতে সংরক্ষণ মৌসুম থেকে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখা হয়।

তবে, বাজারে বেশি দাম পাওয়ার আশায় মীর হাবিবুর রহমানের মালিকানাধীন মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে ২০২৫ সালের মার্চে প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়। কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য না পাওয়ায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে আলুগুলো সংরক্ষণ করা হয়।

এতে ধীরে ধীরে আলুর গুণগতমান নষ্ট হয়ে পচন ধরে এবং দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। পচে যাওয়া আলু খোলা জায়গায় ফেলে রাখলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে— এমন আশঙ্কায় গত দুই দিন ধরে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিনামূল্যে এসব আলু বিতরণ করছে কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ।

মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার আব্দুল করিম বলেন, "দীর্ঘদিন স্টোরেজে থাকার কারণে আলুর তাপমাত্রাজনিত সমস্যা হয়েছে এবং আলুর মান নষ্ট হয়ে গেছে। খোলা জায়গায় ফেললে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা থাকায় এগুলো বিনামূল্যে খামারি ও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।"

এদিকে, বিপুল পরিমাণ আলু দীর্ঘদিন ধরে মজুত করে রাখায় স্থানীয় বাজারে আলু সরবরাহে প্রভাব পড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন।

মাদারীপুর কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাসুদ তালুকদার বলেন, "পচা আলু বাজারে বিনামূল্যে দেওয়ার কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং দামেও ধস নামছে।"

অন্যদিকে, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ করা আলু নষ্ট হওয়ার ঘটনায় তাদের আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় বাজার স্বাভাবিক রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%