প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মাদারীপুরে দীর্ঘ সময় ধরে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে রাখা ১৫ হাজার বস্তা আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে, যা বেশি লাভের আশায় করা হয়েছিল।
এই ৬০ কেজি ওজনের বস্তাগুলোর মধ্যে থাকা প্রায় ২২ হাজার ৫০০ মণ আলুর বর্তমান খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে পচে যাওয়া আলুগুলো বিনামূল্যে গরুর খাবার হিসেবে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত আলুর গুণগত মান ধরে রাখতে সংরক্ষণ মৌসুম থেকে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখা হয়।
তবে, বাজারে বেশি দাম পাওয়ার আশায় মীর হাবিবুর রহমানের মালিকানাধীন মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে ২০২৫ সালের মার্চে প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়। কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য না পাওয়ায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে আলুগুলো সংরক্ষণ করা হয়।
এতে ধীরে ধীরে আলুর গুণগতমান নষ্ট হয়ে পচন ধরে এবং দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। পচে যাওয়া আলু খোলা জায়গায় ফেলে রাখলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে— এমন আশঙ্কায় গত দুই দিন ধরে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিনামূল্যে এসব আলু বিতরণ করছে কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ।
মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার আব্দুল করিম বলেন, "দীর্ঘদিন স্টোরেজে থাকার কারণে আলুর তাপমাত্রাজনিত সমস্যা হয়েছে এবং আলুর মান নষ্ট হয়ে গেছে। খোলা জায়গায় ফেললে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা থাকায় এগুলো বিনামূল্যে খামারি ও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।"
এদিকে, বিপুল পরিমাণ আলু দীর্ঘদিন ধরে মজুত করে রাখায় স্থানীয় বাজারে আলু সরবরাহে প্রভাব পড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন।
মাদারীপুর কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাসুদ তালুকদার বলেন, "পচা আলু বাজারে বিনামূল্যে দেওয়ার কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং দামেও ধস নামছে।"
অন্যদিকে, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ করা আলু নষ্ট হওয়ার ঘটনায় তাদের আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় বাজার স্বাভাবিক রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন