মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৬ পি.এম
ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ থেকে ডিজেলের রপ্তানি কমে গেছে। এর ফলস্বরূপ, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরবরাহ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে দাম নতুন করে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতোমধ্যে ডিজেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপে ডিজেল ফিউচারের মূল্য গত সপ্তাহে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের শুরুর দামের তুলনায় বর্তমানে এই জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে।
লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। সৌদি আরবের অধিকাংশ ডিজেল এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন বাজারে পৌঁছায়।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলের কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শোধনাগারগুলোর ওপর জ্বালানি উৎপাদনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানাচ্ছে, আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিচালিত হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক নিউজলেটারে সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের অনেক শোধনাগার এখন প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে। ফলে আগামী কয়েক মাসে ডিজেলের সরবরাহ আরও কমে গেলে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ খুবই সীমিত।
পণ্যবাজারের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেল রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। ওই সময়ে অঞ্চলটি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি হয়েছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপের মোট ডিজেল আমদানির প্রায় ৪১ শতাংশ এসেছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
কেপলারের বিশ্লেষক জর্জ শ সতর্ক করে বলেছেন, লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে কোনো বিঘ্ন দেখা দিলে এমনিতেই চাপের মধ্যে থাকা বৈশ্বিক ডিজেল বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। তার মতে, বর্তমানে শোধনাগারগুলোর সীমিত সক্ষমতাই বিশ্ব ডিজেল বাজারের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার শোধনাগারে হামলা, বন্ধ ডিজেল রপ্তানি
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগারে উৎপাদন কমে যাওয়ার পর গত জুলাইয়ে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করে মস্কো। এর মধ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে এরপরও দুই দেশ পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এক আইনজীবী ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশের অর্থনীতিকে মূল্যস্ফীতি থেকে রক্ষা করার জন্য স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া ইচ্ছামতো টাকা ছাপানো বন্ধ করা উচিত এবং কালো টাকা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে এই নোটিশ প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই নোটিশটি পাঠান। নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব (অর্থ বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়াই অর্থনীতিতে ক্রমাগত কৃত্রিম টাকা ছাপিয়ে সরবরাহ করছে। অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির সর্বজনীন নিয়ম অনুসারে, নতুন টাকা ছাপানোর জন্য অবশ্যই সমপরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার (যেমন: ডলার, ইউরো, আরএমবি) রিজার্ভ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো টাকা ছাপানোর ফলে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’ অনুযায়ী টাকার নিজস্ব মান বা ক্রয়ক্ষমতা চরমভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে এবং দেশে এক ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি তৈরি হচ্ছে।
নোটিশে আরো বলা হয়েছে যে, এই লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার এবং জীবনযাত্রার খরচ পূরণের সামর্থ্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘Right to Life’ বা জীবনধারণের অধিকার বলতে কেবল পশুর মতো বেঁচে থাকাকে বোঝায় না, বরং মানুষের মতো মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকেও বোঝায়।
স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো মূল্যবান সম্পদের ব্যাকআপ ছাড়া টাকা ছাপিয়ে সৃষ্ট চরম অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষকে খাদ্যাভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে বাধ্য করা সংবিধানের এই মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
এছাড়া নোটিশে ১০০০ টাকার নোটের ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ, দিনমজুর বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য ১০০০ টাকার মতো এত বড় নোটের কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই।
এই উচ্চমূল্যের নোটটি মূলত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট, কর ফাঁকিবাজ এবং অপরাধীরা তাদের অবৈধ কালো টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লুকিয়ে রাখার জন্যই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। এটি দেশে একটি ধ্বংসাত্মক ‘শ্যাডো ইকোনমি’ বা ছায়া অর্থনীতি তৈরি করেছে।
প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের ২ হাজার টাকার নোট বাতিল করে কালো টাকার মজুদ ধ্বংস করার সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাই দেশের অর্থনীতি থেকে কালো টাকার বিস্তার পুরোপুরি সমূলে উৎপাটন করতে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ১০০০ টাকার নোট অবিলম্বে বাতিল করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং কালো টাকার মজুদ ধ্বংস করতে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বৃদ্ধি, বাজারে ডলারের সহজলভ্যতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভের বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের টাকা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান একটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শুধু ডলার নয়, গত এক বছরে প্রতিবেশী ভারতের রুপির তুলনায়ও টাকার শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মুদ্রা সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ০ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টাকার মূল্য আরও ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে, কয়েক বছর ধরে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ার প্রবণতায় একটি পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে তা ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছায়। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে এই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, গত এক বছর ধরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার শক্তি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় ১০০ ভারতীয় রুপি কিনতে প্রায় ১৪০ টাকা খরচ করতে হতো, বর্তমানে তা কমে ১২৭ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সা।
তবে, বাংলাদেশের টাকার শক্তিশালী হওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় রুপির দুর্বলতাও একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ দিকে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে আগের অর্থবছরের জুনের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্বল হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের টাকা ডলারের বিপরীতে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। এর ফলে, দুই দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় হারে বাংলাদেশের টাকা সুবিধাজনক অবস্থানে এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাস্তব ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘সিমল্যাব’ (SimLab) নামে একটি ডিজিটাল বিজনেস সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা।
মো. মাসুদ রানা উদ্যোক্তা হিসেবে বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা শিক্ষাকে শুধুমাত্র পাঠ্যবই, শ্রেণিকক্ষে লেকচার ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন বিজনেস স্কুলে ব্যবহৃত ব্যবসায়িক পরিস্থিতি অনুকরণের (বিজনেস সিমুলেশন) ধারণাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত করে ‘সিমল্যাব’ তৈরি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন ক্লাসে শেখা তত্ত্বগুলো বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে পারে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে—এই লক্ষ্যেই সিমল্যাবের যাত্রা শুরু।’
যেভাবে কাজ করবে ‘সিমল্যাব’
সিমল্যাবে একজন শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না। তাকে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পণ্যের দাম কত হবে, কতটুকু উৎপাদন করা হবে, কোথায় বিনিয়োগ করা হবে, কীভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা করা হবে, কর্মী ও সম্পদ কীভাবে পরিচালনা করা হবে কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এ ধরনের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিক্ষার্থীকে।
এটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সিদ্ধান্তের ফলাফলও শিক্ষার্থীকে দেখতে হবে। একটি সিদ্ধান্ত ব্যবসার আয় বাড়াতে পারে, আবার একই সিদ্ধান্ত ব্যয় বা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীদের সামনে বাস্তব ব্যবসায়ের মতোই বিভিন্ন সুযোগ, সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিস্থিতি তৈরি হবে।
শুধু একটি সিমুলেশন নয়
সিমল্যাবকে একটি মাত্র সিমুলেশন হিসেবে নয়, বরং বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ের জন্য একটি সমন্বিত সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এতে ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একাধিক সিমুলেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এসব সিমুলেশনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা, বিপণন, অর্থায়ন, মানবসম্পদ, পরিচালন ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়কে বাস্তব সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
একক ও দলগতভাবে অংশগ্রহণ
সিমল্যাবে শিক্ষার্থীরা এককভাবে অথবা দলগতভাবে সিমুলেশনে অংশ নিতে পারবে। দলগতভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে একটি কোম্পানি বা টিম পরিচালনা করতে পারবে এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাবে।
এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের আলোচনার পাশাপাশি দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব ও সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতাও তৈরি হবে।
ব্যবস্থাপনা শিক্ষায় নতুন অভিজ্ঞতা
সিমল্যাবের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শেখার সঙ্গে বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণকে যুক্ত করা। এখানে শিক্ষার্থীর সামনে সব সময় একটি ‘সঠিক উত্তর’ থাকবে না। বরং তাকে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং পরে সেই সিদ্ধান্তের ফলাফল থেকে শিখতে হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সিমুলেশন তৈরির পরিকল্পনা
সিমল্যাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাংলাদেশের ব্যবসায়িক বাস্তবতাকে সিমুলেশনের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত করা। স্থানীয় বাজার, ব্যবসা পরিচালনার চ্যালেঞ্জ, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঝুঁকি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক বাস্তবতাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে আরও সিমুলেশন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক ধারণার পাশাপাশি নিজ দেশের ব্যবসায়িক বাস্তবতা নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে।
উদ্যোক্তা জানান, প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে সিমুলেশনের সংখ্যা, বিষয়বস্তু ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা শুধু ‘ব্যবস্থাপনা কী’—তা শেখার পাশাপাশি ‘একজন ব্যবস্থাপক হলে কী সিদ্ধান্ত নিতাম’—সেটিও অনুশীলনের সুযোগ পাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আইপিএলের সর্বশেষ আসরের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে, ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির কারণে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে আইপিএলের তালিকা থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভারতে একমাত্র মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায়, পুরো দল, টিম ম্যানেজমেন্ট, সাংবাদিক এবং দর্শকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে গত মার্চে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি অন্তবর্তীকালীন সরকার।
বাংলাদেশ চেয়েছিল পাকিস্তানের মতো শ্রীলংকায় গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। ফলে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া হয় আইসিসির পক্ষ থেকে।
সেই সময়ের অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ নজরুল। বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তের জন্য বর্তমানে তাকেই দায়ী করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "বাংলাদেশ টিম যে ইন্ডিয়ায় গেল না, সেটার তদন্তে এসেছে তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এটার জন্য রেসপন্সিবল।" পরে তিনি বলেন, "উনি আসলে কখনো এটা নিয়ে কোনো লুকোছাপা করেননি। উনি আগেও জানিয়েছিলেন—এটা আসলে উনি উনার সিদ্ধান্তে করেছেন।"
মঙ্গলবার তিনি আরও বলেন, "এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই সিদ্ধান্তটা কি এমন কোনো সিদ্ধান্ত, যেটা আসলে আমরা কোনো না কোনোভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে পারি?" তিনি উল্লেখ করেন, "একটা জিনিস খেয়াল করব, আমি একটু আগেই এ কথাটা বলেছি যে—ওই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়াতে যাওয়া উচিত হবে কি হবে না, এটা কিন্তু খুবই সাবজেক্টিভ ডিসিশন।"
তিনি বলেন, "এখন উনি যেহেতু দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, উনার কাছে মনে হয়েছে। এটা কারও কাছে ডিফরেন্ট মনে হতে পারে। উনার কাছে যেহেতু মনে হয়েছে, উনি ওই প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন। এটার পক্ষেও মানুষ আছে, বিপক্ষেও মানুষ আছে।"
তিনি আরও বলেন, "উনি ওই কাজটা করার মাধ্যমে উনার ওপরে যে অর্পিত দায়িত্ব ছিল, উনার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সেখানে কোনো আইনি ব্যত্যয় উনি ঘটিয়েছেন—এমনভাবে যেহেতু বলা যাবে না। তাই উনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, সেরকম কিছু না। বরং এটা আমাদের সোশ্যাল স্ফিয়ারে থাকুক, মানুষ কথা বলুক পক্ষে-বিপক্ষে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ