মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৯ পি.এম
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে মোবাইল ফোনের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দোকানমালিকের বিরুদ্ধে। যুবকের পরিবারের অভিযোগ, তাকে একটি ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে এক ইউনিট রক্ত নেওয়ার পর পাঁচ দিন ধরে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর ও জোর করে কাজ করানো হয়।
ঘটনাটি লখনউয়ের নিগোহা এলাকায় ঘটেছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে নিগোহার একটি দোকান থেকে ২১ হাজার ৫০০ রুপিতে একটি মোবাইল ফোন কেনেন ওই যুবক। ২ হাজার ৭৯৯ রুপি করে ১২টি কিস্তিতে ফোনটির দাম পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে প্রথম মাসের কিস্তি বাকি পড়ার পর দোকানমালিক কয়েকজন লোককে তার বাড়িতে পাঠান। অভিযোগ করা হচ্ছে, তারা যুবকের মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়।
এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর, দুজন ব্যক্তি যুবকের বাড়িতে গিয়ে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যান বলে পরিবারের অভিযোগ। যুবকের দাবি, তাকে লখনউয়ের একটি ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোর করে তার শরীর থেকে এক ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়। পরে তাকে সদর এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
যুবকের অভিযোগ, ওই বাড়িতে তাকে মারধর করা হতো এবং জোর করে বিভিন্ন কাজ করানো হতো। এমনকি তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে লখনউয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ দিন পর ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
"ছেলে যদি অপরাধী হয়, বিচার হোক। আর যদি নির্দোষ হয়, তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।" এই আকুতি এখন মৌলভীবাজারের বড়লেখার দোহালিয়া গ্রামের বৃদ্ধা ফাতেমা বেগমের কণ্ঠে। রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার পর সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া তার ছেলে হুমায়ুন কবীর, যিনি এনামুল নামে পরিচিত, তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে প্রায় ১৪ বছর কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মামলার অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত গতিতে হয়নি; কিন্তু কারাগারে থাকা এনামুলের জীবন থেমে গেছে।
পরিবারের দাবি, এত বছর পরেও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এনামুলের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থার (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিটের তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার আচরণ অসংলগ্ন ছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সন্দেহের ভিত্তিতে একজন মানুষকে আর কতদিন কারাগারে থাকতে হবে?
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি খুন হন। এই হত্যাকাণ্ড দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং তদন্তের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি সন্দেহের আওতায় আসেন। তদন্তের সময় এনামুলের নামও উঠে আসে, যিনি তাদের বাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সেই গ্রেপ্তারের পর এক যুগেরও বেশি সময় কেটে গেছে। পরিবারের আশা ছিল, তদন্ত শেষ হবে এবং সত্য বেরিয়ে আসবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে বিচার হবে; আর যদি নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে এনামুল মুক্তি পাবেন। কিন্তু বছর পেরিয়ে দশক, দশক পেরিয়ে আরও কয়েক বছর—এনামুলের ভাগ্যে মুক্তির আলো ফেরেনি।
কারাগারেই হারিয়ে গেল তারুণ্য
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পশ্চিম দোহালিয়া গ্রামের মাদ্রাসাপড়ুয়া তরুণ এনামুলের জীবন এখন পরিবারের কাছে এক দীর্ঘ অন্ধকার অধ্যায়। যে বয়সে সংসার, কর্মজীবন ও স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সের বড় একটি অংশ কেটেছে কারাগারে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কারাবাসের ফলে এনামুলের মানসিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না এবং আচরণেও অসংলগ্নতা দেখা যাচ্ছে।
এনামুলের মা ফাতেমা বেগম বলেন, "আমার ছেলে দোষী হলে তার বিচার হোক, আমরা কখনো বিচার চাইনি এমন নয়। কিন্তু এত বছরেও যদি তার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে শুধু সন্দেহের কারণে আর কতদিন তাকে জেলে রাখা হবে? আমার ছেলে এখন অসুস্থ। তাকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।"
এনামুলের বাবা মকবুল আলী ওরফে কালা মিয়াকে ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, সাগর-রুনি হত্যার প্রায় সাড়ে সাত মাস পর, র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, এরপর ২১ দিন তার কোনো সন্ধান ছিল না। পরে ভৈরবের একটি সড়কের পাশে তাকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তাকে নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত বা বিচারিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
এনামুলের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর মকবুল আলী আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। একের পর এক শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন তিনি। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবারের জায়গাজমি ও পুরোনো বাড়ি বিক্রি করতে হয়। প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা চিকিৎসায় ব্যয় করার পরও চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।
স্ত্রী ফাতেমা বেগমের ভাষায়, "ওই ঘটনার পর আমার স্বামী আর আগের মতো ছিলেন না। চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা ছিল সব শেষ করেছি। ছেলের জন্যও কিছু করতে পারিনি। ভয় ছিল, আমাদেরও বিপদ হতে পারে।"
এনামুলের বড় ভাই শাহিন আহমদ বলেন, "বাবাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে যায়। এখন আমার ভাইও কারাগারে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে। যদি সে নির্দোষ হয়, তাহলে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। অন্তত তার চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক।"
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সময়ে ভয় ও আতঙ্কের কারণে তারা এনামুলের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারেননি। আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াইও চালানো সম্ভব হয়নি।
১১২ বার পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন
সাগর-রুনি হত্যা মামলা দেশের বহুল আলোচিত মামলাগুলোর একটি। হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তের দায়িত্ব একাধিক সংস্থার হাতে গেলেও দীর্ঘ সময়েও রহস্যের জট খোলেনি। এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১১২ বার পিছিয়েছে।
একদিকে সাগর-রুনি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষা, অন্যদিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া এনামুলের জীবনের প্রায় ১৪ বছর হারিয়ে যাওয়া—দুটি বিষয়ই এখন একই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে।
দোহালিয়ার ছোট্ট বাড়িটিতে তাই এখনো পথ চেয়ে বসে আছেন ফাতেমা বেগম। তার চোখে ছেলের ফেরার অপেক্ষা। কিন্তু সেই অপেক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও বড় প্রশ্ন—সাগর-রুনি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে কবে, আর সন্দেহের কারাগারে হারিয়ে যাওয়া এনামুলের জীবনের ১৪ বছরের দায় নেবে কে?
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এই বৈঠকটি মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
রিজভীর সহকারী একান্ত সচিব জাহেদুল আলম জানান, দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। উভয় পক্ষ বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলোর গতি বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বৈঠকে রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন, রাজনৈতিক অ্যাটাশে লিং শুয়ান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার একান্ত সচিব কাজী নজরুল ইসলাম ও সহকারী একান্ত সচিব জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের একই কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা ‘কালো জাদু’ করার ভয় দেখিয়ে এক পরিবারের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।
এ ঘটনা ঘটে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বড় পাঁকা গ্রামে মো. আকছেদ আলীর বাড়িতে। আকছেদ আলী এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আকছেদ আলীর ছেলে মো. সিহাব আলী (২২) অসুস্থতার কারণে বাড়িতে ছিলেন। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি বাড়ির সামনে এসে নিজেদের মাহফিলের লোক পরিচয় দিয়ে টাকা চান। সিহাব তাদের ২০ টাকা দিলে তারা এক গ্লাস পানি দিতে বলেন। পানি না দেওয়ায় তারা সিহাবকে তার মাকে ডাকতে বলেন।
সিহাবের মা বাইরে আসার পর ওই দুই ব্যক্তি তার ছেলেকে দেখিয়ে ‘কালো জাদু’ করার কথা বলেন। এতে ওই নারী ভয় পেয়ে কান্না শুরু করেন এবং তারা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তারা এক গ্লাস পানি এনে তাতে কিছু করার পর ওই পানি পান করতে দেন।
এরপর তারা বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার এনে ওই পানিতে ডুবিয়ে দিতে বলেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আকছেদ আলীর স্ত্রী একটি আংটি, একটি চেইন ও এক জোড়া কানের দুল পানিতে ডুবিয়ে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে ওই দুই ব্যক্তি সিহাবকে বাইরে থেকে একটি খেজুরের কাঁটা নিয়ে আসতে বলেন। সিহাব বাইরে যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে ‘হিপনোটাইজ’ করে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন আকছেদ আলী।
আকছেদ আলীর দাবি, নেওয়া স্বর্ণালংকারগুলোর আনুমানিক মূল্য তিন লাখ টাকা। পরে সিহাব বাড়িতে ফিরে এলে ওই দুই ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা স্বর্ণালংকার খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন।
ঘটনার পর সোমবার রাতেই আকছেদ আলী বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি জানান, ঘটনার সাক্ষ্য হিসেবে অভিযুক্তদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কৃষকের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জেলাভিত্তিক চাহিদার বিপরীতে শতভাগ সার বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহ ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত সরবরাহের প্রস্তুতি রয়েছে। অক্টোবর মাসের জন্য ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের নির্ধারিত চাহিদার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সমপরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার ১৪ সেপ্টেম্বরের এক চিঠি ও সংযুক্ত জেলাওয়ারি বরাদ্দ তালিকা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নথিতে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন উৎস থেকে সার বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তথ্যানুযায়ী, অক্টোবর মাসে দেশের ৬৪ জেলার জন্য টিএসপি সারের মোট চাহিদা ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন এবং পুরো পরিমাণই বিএডিসির মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়েছে। ডিএপি সারের মোট চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বিসিআইসি ১ হাজার মেট্রিক টন এবং বিএডিসি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন বরাদ্দ করেছে। অর্থাৎ চাহিদার পুরো পরিমাণই বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া অক্টোবর মাসে এমওপি সারের মোট চাহিদা ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন এবং সমপরিমাণ সারই জেলাওয়ারি বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সারের অক্টোবরের মোট জেলাভিত্তিক চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে সমপরিমাণ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা যায়, চাহিদার ভিত্তিতে প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা পরিমাণ নির্ধারণ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একক কেন্দ্রীয় বরাদ্দের পরিবর্তে মাঠ পর্যায়ের কৃষি চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে জেলাভিত্তিক সরবরাহ পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যবস্থাকে কৃষকের প্রয়োজনের সঙ্গে সার সরবরাহের সরাসরি সমন্বয় হিসেবে দেখছেন।
সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বর্তমান সরকার শুধু জেলাভিত্তিক বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে আমদানির ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং কৃষকদের জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর মধ্যে বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
আগস্টেও বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া এবং রাশিয়া থেকে এমওপি আমদানির প্রস্তাব ছিল।
এ ছাড়া সার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি গঠন এবং ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন মজুত ছিল।
পাশাপাশি পরিবহনের পথে ছিল টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন। ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের তথ্যও সংসদে জানানো হয়েছে।
বর্তমান বিএনপি সরকারের সার ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হচ্ছে চাহিদা নিরূপণ, জেলা-ভিত্তিক বরাদ্দ, আগাম আমদানি, পরিবহনাধীন মজুত এবং মাঠ পর্যায়ের মনিটরিং—এই সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর। ২০২৬ সালের সমন্বিত সার ডিলার ও বিতরণ নীতিমালাও এ ব্যবস্থাপনার অংশ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নথিতে আগামী অক্টোবরের জন্য ৬৪ জেলার চাহিদা আলাদাভাবে বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির ক্ষেত্রে চাহিদার বিপরীতে পূর্ণ বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতির ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কৃষি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ সার। ফলে উৎপাদন মৌসুমের আগে জেলা-ভিত্তিক চাহিদা নির্ধারণ করে আগাম বরাদ্দ দেওয়া এবং একই সঙ্গে আমদানি ও মজুত নিশ্চিত করার বর্তমান উদ্যোগকে কৃষি খাতে সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সার ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে উঠে আসছে—‘চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ, আগাম আমদানি এবং মাঠ পর্যায়ে সরাসরি মনিটরিং’। অক্টোবরের জেলাভিত্তিক শতভাগ সার বরাদ্দকে বিএনপি সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতি। শুধু সার আমদানি বা মজুত করাই নয়, কোন এলাকায় কতটুকু সার প্রয়োজন, কখন প্রয়োজন এবং কীভাবে তা কৃষকের কাছে পৌঁছানো হবে— এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার সার সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে দেবে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। কোথাও চাহিদার তুলনায় সরবরাহে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার নিশ্চিত করতে সরকার শুরু থেকেই আগাম ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে জেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অক্টোবর মাসের জন্য টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে সার নিয়ে কৃষকের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সচিব বলেন, কিছু জায়গায় বিতরণে অনিয়ম হওয়ায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সরকারের তৎপরতা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে সমস্যার দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়েছে।
তিনি বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে এবং ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়া। এজন্য আমদানি, মজুত, জেলাভিত্তিক বরাদ্দ, পরিবহন ও বিতরণ—প্রতিটি ধাপ সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো ঘাটতি বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সচিব আরও বলেন, কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সার সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে উৎপাদন মৌসুমের আগেই চাহিদা নির্ধারণ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে কৃষককে শেষ মুহূর্তে সার সংগ্রহের জন্য বাড়তি চাপ বা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে না হয়।
তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগের ফলে একদিকে কৃষকের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে সময়মতো সার প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। কৃষক ভালো থাকলে কৃষি ভালো থাকবে, আর কৃষি ভালো থাকলেই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষি মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ