০৫:২১ পি.এম
বেশি প্রোটিন খাওয়াকে সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু নতুন গবেষণার পর্যালোচনার মাধ্যমে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, পরিমিতভাবে প্রোটিন কম খাওয়া শরীরের বিপাকক্রিয়া সঠিক রাখা, প্রদাহ কমানো এবং কোষের ক্ষতি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে বিষয়টি সবার জন্য উপযুক্ত নয়।
৩১ জুলাই প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা পর্যালোচনায় ৩৫০টির বেশি গবেষণাগার ও প্রাণীর ওপর বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রোটিনের গ্রহণ সীমিত করলে সুস্থ বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে।
কিন্তু গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, বয়স, শারীরিক পরিশ্রম এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রোটিনের প্রয়োজন নির্ভর করে। সুতরাং, সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন
গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রোটিনের মাত্রা পরিমিতভাবে কমানো বা কিছু নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড—যেমন মেথিওনিন, আইসোলিউসিন ও ভ্যালিন—সীমিত করে প্রাণীদের সুস্থ বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
একটি সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, ভ্যালিন সীমিত খাদ্য দেওয়া পুরুষ ইঁদুরের গড় আয়ু প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। তবে এটি মানুষ নয়, বরং ইঁদুরের ওপর করা গবেষণা থেকে পাওয়া ফলাফল।
শরীরে কী পরিবর্তন ঘটতে পারে? গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রোটিন সীমিত করলে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি, শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষীয় অংশের অপসারণ এবং নতুন অংশ তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও সক্রিয় হতে পারে।
এছাড়া প্রাণীদের ওপর গবেষণায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি কমানো এবং বয়সজনিত দুর্বলতা হ্রাসের মতো ফলাফলও পাওয়া গেছে। কিন্তু মানুষের আয়ু বাড়ানোর জন্য প্রোটিন কম খাওয়ার সরাসরি প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ
তবে সবার জন্য প্রোটিন কমানো উপযুক্ত নয়। গবেষকরা বলেন, প্রোটিনের চাহিদা সবার জন্য এক নয়। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম ও শারীরিক অবস্থার ওপর এর প্রয়োজন নির্ভর করে।
বয়সের কারণে বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, শিশু-কিশোর, খেলোয়াড় এবং অসুস্থতা বা আঘাত থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের তুলনামূলক বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই, শুধুমাত্র দীর্ঘায়ুর উদ্দেশ্যে নিজের ইচ্ছায় হঠাৎ প্রোটিন কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
মূল কথা হলো, বেশি প্রোটিন সবসময় ভালো নয় এবং আবার কম প্রোটিনও সবার জন্য উপকারী নয়। নিজের বয়স ও শারীরিক অবস্থার সাথে মিলিয়ে খাদ্যতালিকা ঠিক করতে হবে।
আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন