ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভারতসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের প্রস্তাব পাস


মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভারতসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের প্রস্তাব পাস

যুক্তরাষ্ট্র ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি বিল গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ অতিক্রম করেছে এই বিষয়ে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ শীর্ষক প্রস্তাবিত বিলটির ওপর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাসের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত প্রস্তাব ২১৪-২১১ ভোটে অনুমোদিত হয়। সিনেটে পূর্বে ৮৬-১১ ব্যবধানে পাস হওয়া আইনটি প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা স্বাক্ষর করে আইনি রূপ দেবেন।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জমা দেওয়া একটি সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়ার তেল বা জ্বালানি পণ্য ক্রয় অব্যাহত রাখায় সম্ভাব্য এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ১০টি দেশ হলো—ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় সংকুচিত করে ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের অর্থের যোগান পুরোপুরি বন্ধ করা।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এই বিলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ও তাদের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে তেল বহনে ব্যবহৃত গোপন ‘ছায়া বহর’ (শ্যাডো ফ্লিট)-এর ওপর কঠোর নজরদারি ও শাস্তির সিদ্ধান্ত রাখা হয়েছে। মার্কিন নীতিপ্রণেতারা মনে করছেন, ভারতসহ এশিয়ার শীর্ষ ক্রেতারা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প উপায়ে তেল আমদানি চালু রাখায় এবার মিত্রদের ওপরও শুল্কের অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

তবে হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই শুল্ক বিলের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে শুল্ক চাপানোর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা দেবে, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক জোট ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ধস নামাতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবি শহীদ ফেলানী হলের আধুনিক রিডিং ও সেমিনার রুমের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


বেরোবি শহীদ ফেলানী হলের আধুনিক রিডিং ও সেমিনার রুমের উদ্বোধন

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফেলানী হলের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক রিডিং রুম ও সেমিনার রুমের আধুনিকীকরণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শহীদ ফেলানী হলের নিচ তলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সহ আধুনিকায়ন করা রিডিং রুম ও সেমিনার রুমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী।

উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী উল্লেখ করেন, "শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আমরা বদ্ধপরিকর। শহীদ ফেলানী হলের বিভিন্ন সমস্যা আমরা ধাপে ধাপে সমাধান করছি। গরমের দিনে বা পরীক্ষার সামনে শিক্ষার্থীরা যেন কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য এসি রুম ও পর্যাপ্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।"

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান এবং শহীদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোছা. সিফাত রুমানা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও হলের সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খোদ সিসি ক্যামেরা এখন নজরদারির বাইরে, অপরাধ বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


খোদ সিসি ক্যামেরা এখন নজরদারির বাইরে, অপরাধ বাড়ছে

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে চুরি এবং ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরজুড়ে সিসি ক্যামেরা বসানো হলেও, নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো কার্যকরী অবস্থায় নেই। থানা পুলিশ জানাচ্ছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সিসি ক্যামেরা পুনঃস্থাপনের জন্য পরিকল্পনা রয়েছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা, বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহত্তম উপজেলা। এর প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং প্রধান শহরাঞ্চল হলো মঠবাড়িয়া পৌর শহর। প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ শহরে আসেন নানা প্রয়োজনে।

বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী শনাক্তে ২০২৪ সালে পুলিশ এবং পৌরসভা পুরো শহরকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে শহরের সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশ মনিটরিং সেল থেকে পর্যবেক্ষণ করা হতো।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পৌর শহরের অধিকাংশ সিসি ক্যামেরা বিকল হয়ে যায় অথবা খোয়া যায়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে কার্যত নজরদারি বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পাড়া-মহল্লা থেকে বসতবাড়ি— প্রায়ই ঘটছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের ঘটনা। ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কিছু অপরাধী শনাক্ত হলেও, অধিকাংশই ধরা পড়ছে না। ফলে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পৌরবাসী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করেছেন যে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পৌরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঠবাড়িয়া পৌর শহরকে দ্রুত আবার সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। এতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য সহজ হবে।

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা জানিয়েছেন, পৌর শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার জন্য তারা পরিকল্পনা করছেন, যাতে অপরাধ কমে আসে।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তার জানা মতে, মঠবাড়িয়া পৌর শহরে আগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে শহরে ক্যামেরা নেই। তিনি আরও জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পুরো জেলাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে ২৫.৬৫% প্রবৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে ২৫.৬৫% প্রবৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি গত আগস্টে একক মাস হিসেবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই মাসের তুলনায় আগস্টে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ৬৫০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট রপ্তানিকে ১২ মাসের সমান গড় হিসেবে ধরলে মাসিক গড় ছিল ৬৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় গত অর্থবছরের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে।

তবে চলতি অর্থবছরের এই বাড়তি গতি মূলত আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে। ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকেই এসেছে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, পোশাকের বাইরে অন্যান্য পণ্য থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি রয়েছে।

পোশাকের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, টেক্সটাইল ও সুতা, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য, জুতা ও অন্যান্য শিল্পপণ্য। এসব পণ্যের পাশাপাশি তৈরি পোশাকের উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি শুধু তৈরি পোশাক নির্ভর না রেখে অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতেও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

রপ্তানিকারকরাও আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তাঁদের মতে, সামনের মাসগুলোতে বাজারটিতে বাংলাদেশি পোশাকের অর্ডার বাড়তে পারে।

দেশের পোশাক শিল্পের অন্যতম বড় উদ্যোক্তা ও বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বাসসকে বলেন, শীতকালীন পোশাকের অর্ডারের কার্যাদেশ দেওয়ার শেষ সময় হওয়ায় গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের একটি অন্তর্নিহিত সক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

আগের কয়েক মাসের তুলনায় আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে তারা ভালো অর্ডার পাচ্ছেন উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো সম্ভব হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব। আগামীতে রপ্তানি আরও বাড়াতে তিনি পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দেন।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা কাজে লাগাচ্ছেন।

প্রয়োজনমতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারের নীতি-ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে এই সুযোগ আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বাসসকে বলেন, বর্তমানে যে গতিতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি হচ্ছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এই গতি আগামী ১২ মাস অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। তাই সেখানে রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্য সংযোজন ও মানোন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে জ্বালানিসহ অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশলসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে রপ্তানি বাড়াতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বাজার হিসেবে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতেই দেশটির বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির গতি এবং আগস্টে একক মাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফটিকছড়িতে আকস্মিক বন্যায় ৫ গ্রাম প্লাবিত, কৃষিতে ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


ফটিকছড়িতে আকস্মিক বন্যায় ৫ গ্রাম প্লাবিত, কৃষিতে ক্ষতি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক ঘণ্টার তীব্র বৃষ্টির ফলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এই বন্যার কারণে উপজেলার অন্তত ৫ থেকে ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিস্তীর্ণ আমন ধানক্ষেত, বীজতলা ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার বাগানবাজার ও দাঁতমারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাগানবাজার এবং দাঁতমারা ইউনিয়নের নতুনপাড়া, হলুদিয়া, লালমাই, চিকনছড়া ও বড়বিলসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভোরের দিকে শুরু হওয়া হঠাৎ ভারী বৃষ্টির পর খাগড়াছড়ির পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তীব্র বেগে ঢল নামতে শুরু করে। সীমান্ত এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও খালগুলোর পানি ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। অনেক কাঁচা ও পাকা ঘরবাড়ির উঠান পর্যন্ত পানি ওঠায় স্থানীয় বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গবাদিপশু ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন।

বন্যার কারণে কৃষিখাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সবেমাত্র রোপণ করা বিঘার পর বিঘা আমন ধানক্ষেত ও বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে থাকায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, "এই পানি মূলত খাগড়াছড়ি থেকে এসেছে। আকস্মিক এই বন্যায় এলাকার রাস্তাঘাট ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছি এবং আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%