০৫:০০ পি.এম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এই বিক্ষোভের ফলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, এদিন ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে মঁপেলিয়ে, নঁত এবং মার্সেইসহ অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৭০০-এর বেশি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিক্ষোভের ফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩৫টি বিক্ষোভের কারণে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরার্ড দারমানিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে পেট্রলবোমা, কুঠার ও আতশবাজি জব্দ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ঘটনায় তাদের অন্তত ৬৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
ফরাসি টিএফ-১ টেলিভিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, পরিস্থিতি দাঙ্গা ও নগর সহিংসতার দিকে এগোচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাইরের লোকজনও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এ কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।
উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের বেলফোর শহরে বিক্ষোভ চলাকালে এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার সন্দেহে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন তরুণ ওই পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া করে মাটিতে ফেলে মারধর করছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এছাড়া প্যারিসের উপকণ্ঠ পান্তিনে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়ার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্ট্রাসবুর্গে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। রেন ও প্যারিসে আবর্জনার ঝুড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ১৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী লোলা এএফপিকে বলেন, পুলিশের কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের কারণে ক্ষোভ বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে জব্দ করা পেট্রলবোমা, কুঠার ও আতশবাজির ছবি প্রকাশ করেছে। বিক্ষোভের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কথাও জানানো হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং অর্থ বরাদ্দের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও নজরদারি জোরদার করেছে।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন