ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্প জেলেনস্কিকে সরাতে চান, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে তোলপাড়


ট্রাম্প জেলেনস্কিকে সরাতে চান, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন যে, জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের চুক্তির ফলে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিরা সমস্যায় পড়ছেন।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জেলেনস্কির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেন, জেলেনস্কির প্রতি ইউক্রেনের জনগণের সমর্থন রয়েছে এবং দেশের নেতা বেছে নেওয়ার অধিকার তাদেরই।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা দেন। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা কমানোর চেষ্টা হিসেবে এই চুক্তি করা হয়েছে। তবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা ও ইউরোপের মিত্রদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর রাশিয়া ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরের আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, ওই হামলায় তিন শিশুসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) ও বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাশিয়ার হামলায় ক্রামাতোরস্ক ও প্রিলুকি শহরে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। তার বক্তব্য, জেলেনস্কি চাইলে আগেই শান্তিচুক্তি করতে পারতেন। অন্যদিকে, জেলেনস্কির আশঙ্কা, রাশিয়ার ওপর চাপ কমলে মস্কো আরও হামলা চালাতে উৎসাহ পাবে।

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার অতিরিক্ত রপ্তানি আয় দেশটির অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে কাজে লাগবে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং যুদ্ধবিমানের জন্য গোলাবারুদ পাওয়ার বিষয়েও তিনি ইউরোপের মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারাদিন নিখোঁজ থাকার পর রাতে প্রতিবেশীর ঘরে মিললো তিন বছরের শিশুর নিথর দেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


সারাদিন নিখোঁজ থাকার পর রাতে প্রতিবেশীর ঘরে মিললো তিন বছরের শিশুর নিথর দেহ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় তিন বছর বয়সী হালিমা আক্তার নামে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা এলাকায় একটি প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে শিশুর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বাড়ির তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। নিহত হালিমা আক্তার নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তার দম্পতির কন্যা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে হালিমা নিখোঁজ হয়। তার পরিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে খুঁজে পায়নি। পরে মসজিদের মাইকে শিশুটির নিখোঁজের খবর প্রচার করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানায় পরিবার।

খবর পেয়ে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন। এরপর রাত ৯টার দিকে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের বাড়ির একটি আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আবদুল আউয়াল, তার স্ত্রী আসমা বেগম এবং ছেলে রবিউলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

শিশুটির মা রাশেদা আক্তার অভিযোগ করেছেন, তার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছেন।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানিয়েছেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে বদলে যাবে অর্থনীতির দৃশ্যপট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে বদলে যাবে অর্থনীতির দৃশ্যপট

দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটেছে। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদিত হওয়ায় পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী মাসে এ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।

প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন থেকে শুরু করে দুটি ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা—প্রতিটি ধাপই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস বহুমুখী হবে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চারের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপশক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা ছিল সেপ্টেম্বর মাসে। তবে নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় পরবর্তী কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। পরে উচ্চ চাপে দুই দফা পরীক্ষা সম্পন্ন করে পরীক্ষার ফলাফল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেছে বলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলো নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হয়।

এ অগ্রগতির ফলে চুল্লির পরবর্তী পর্যায়ের কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু, চুল্লির সক্ষমতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, টারবাইন চালু এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ—প্রতিটি পৃথক ধাপ। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব নিরাপত্তা পরীক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া এখন প্রধান বিবেচ্য।

রূপপুরের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ পর্যায়ে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ও স্বনির্ভর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে এক মাস সময় লাগতে পারে। পরে ধাপে ধাপে চুল্লির তাপ উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো হবে।

প্রাথমিকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা চলবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাণিজ্যিক উৎপাদনে পৌঁছাতে আরও সময় প্রয়োজন হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এ কেন্দ্রের চুল্লিতে ব্যবহৃত হচ্ছে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তি। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘমেয়াদি হিসাব অনুযায়ী, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। তবে প্রকৃত অবদান নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ের বিদ্যুৎ চাহিদা, কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জাতীয় গ্রিডের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা, তেল বা গ্যাসের মতো জ্বালানি পুড়িয়ে তাপ তৈরি করতে হয় না। চুল্লির ভেতরে ইউরেনিয়ামের পরমাণুর বিভাজন বা নিউক্লিয়ার ফিশনের মাধ্যমে উৎপন্ন তাপ দিয়ে পানি থেকে বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্প টারবাইন ঘোরায় এবং টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পিত আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। প্রয়োজনীয় কারিগরি সংস্কার, নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এ আয়ুষ্কাল আরও ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, কেন্দ্রটির প্রতিটি ইউনিট দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালনার জন্য পরিকল্পিত। তবে নির্দিষ্ট সময় পর জ্বালানি পরিবর্তন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষা প্রয়োজন হবে। সাধারণ পরিচালন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর পরপর নতুন পারমাণবিক জ্বালানি দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ব্যবহৃত জ্বালানি অপসারণ, নতুন জ্বালানি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে একটি ইউনিট নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হবে।

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ধারণা স্বাধীনতার পরপরই আলোচনায় আসে। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে ফরাসি প্রতিষ্ঠান সফরাটম রূপপুরে ১২৫ মেগাওয়াটের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করলেও তখন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কাজের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকে। ১৯৯৬ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক শক্তিকে বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০৫ সালে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি এবং ২০০৭ সালে ৫০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বর্তমান প্রকল্পের কাঠামো নির্ধারিত হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটি কমিশনিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করে। এখন প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তব উৎপাদনের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা বিভিন্ন সরকারের সময়ে এগিয়েছে। বিএনপির ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি ছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্মার্ট গ্রিড সম্প্রসারণ, সর্বনিম্ন ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, স্বচ্ছ ট্যারিফ ব্যবস্থা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যের কথা বিএনপি’র ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রূপপুরের ভূমিকা শুধু উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পারমাণবিক শক্তি (পাশ) উইংয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প নয়; এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি বড় সুযোগ।

তিনি বলেন, প্রথম ইউনিট উৎপাদনের প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামও ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময়সীমার আগেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

একই উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব বাসস’কে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও অর্থনীতির অনেক প্রচলিত সমীকরণ নতুনভাবে বিন্যস্ত হবে।

তিনি বলেন, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বাসস’কে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। রূপপুরের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সক্ষমতার দ্বার উন্মোচন করেছে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সক্ষমতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও জ্বালানি-নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান বিএনপি সরকারের সদিচ্ছা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন পারমাণবিক শক্তি (পাশ) উইং সরকারের পক্ষে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রোসাটম কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সরকারের বড় পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সরকারের বড় পরিকল্পনা

সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আমদানির বিপুল ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে।

বর্তমানে দেশের চাহিদার ৪০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১,২৫৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) ‘মসলা ফসলের উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের পরিচালক রাসেল আহমেদ জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য সরকার আদা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩.৭৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে দেশে আদা উৎপাদন হয়েছিল ২.৫৫ লাখ টন। এ সময় আদার সামগ্রিক ঘাটতি ছিল ১.২০ লাখ টন এবং বিদেশ থেকে আদা আমদানি করা হয়েছিল ১.৪৫ লাখ টন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন, ভারত, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে ১.৪১ লাখ টনেরও বেশি আদা আমদানিতে দেশের ১,২৫৬.৮১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ভারত থেকে ৩৮৩.৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে সর্বোচ্চ ৬১,৪২৮ টন আদা আমদানি করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন থেকে ৪৩,০৩৮ টন আদা আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৫৫৯.৬৫ কোটি টাকা। মিয়ানমার থেকে এসেছে প্রায় ৩০,৩৪৭ টন আদা, যার দাম ছিল ২৪৩.৪৫ কোটি টাকা। ফলে দেশটি তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। প্রথমস্থানে রয়েছে ভারত, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন।

এ সময়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৪,৯৭২ টন এবং থাইল্যান্ড থেকে ১,৬৭৯ টনের বেশি আদা আমদানি করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের বার্ষিক আদার চাহিদার ৩৫-৪০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়, তাই এই প্রয়োজনীয় মসলা আমদানিতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দেশে অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত মানের মাটি থাকা সত্ত্বেও উন্নত জাতের অভাব, দীর্ঘ ফসলচক্র, রোগবালাই, ছত্রাকের সংক্রমণ এবং সনাতন চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে প্রতি হেক্টর জমি থেকে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিএই সূত্র জানায়, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের আদা চাষ বৃদ্ধি, মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ, কৃষক পর্যায়ে আদা চাষের প্রসার, পাহাড়ি এলাকায় সেচ সুবিধা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বস্তায় আদা চাষ এবং সঠিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ।

কৃষক পর্যায়ে উৎপাদন প্রযুক্তি উন্নয়নের বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) অধীনস্থ বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (পিএসও) ড. এম মাসুদ আলম বলেছেন, বস্তায় আদা চাষ পদ্ধতিটি অত্যন্ত উপযোগী ও লাভজনক; কারণ এর মাধ্যমে একজন কৃষক তার বাড়ির আঙিনায় বা ছোট পরিসরের জায়গায় আদা উৎপাদন করতে পারেন।

ড. আলম বলেন, মাত্র ৫০ গ্রাম আদা রোপণ করেই একজন কৃষক প্রতি বস্তায় ১ থেকে ১.৫ কেজি আদা উৎপাদন করতে পারেন।

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এই কর্মসূচিকে সফল করতে আমরা ডিএই’কে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি এবং কৃষকদের মাঝে উচ্চফলনশীল জাতের আদা বারি-২ ও বারি-৩-এর বীজ বিতরণ করছি।’

ড. আলম জানান, বর্তমানে প্রতি হেক্টরে আদা উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৭ টন; তবে উচ্চফলনশীল জাত ব্যবহারের ফলে প্রতি ইউনিটে উৎপাদন আরও ১ থেকে ১.৫ টন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের মোট আবাদি জমির মাত্র ২.৩৫ শতাংশ জমিতে সব ধরনের মসলা উৎপাদিত হলেও ২০০১ সাল থেকে গত দুই দশকে মসলা উৎপাদন ১৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্লাস্টিকের বস্তায় আদা চাষের পদ্ধতির প্রশংসা করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলার কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে বস্তায় আদা চাষের দিকে ঝুঁকছেন; কারণ অনেকেই এই মসলা চাষ করে ভালো মুনাফা অর্জন করছেন।

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ছোটকুয়া গ্রামের কৃষক সোহেল প্রধান জানিয়েছেন, আমি প্রথমবারের মতো আমার বাড়ির পুকুরপাড়ের আশপাশের এলাকায় ১,৮০০টি বস্তায় আদা চাষ করেছি এবং এই চাষ থেকে ভালো মুনাফা পাওয়ার আশা করছি।

এই পদ্ধতিতে আদা চাষের ফলে কেবল কৃষকরাই লাভবান হচ্ছেন না, বরং আদা আমদানির ওপর দেশের নির্ভরশীলতাও দিন দিন কমছে।

তবে স্থানীয় কৃষি বিভাগ বস্তায় আদা চাষের বাণিজ্যিক ও ব্যাপক প্রসারের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছে। বর্তমানে বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্র কৃষকদের বস্তা পদ্ধতিতে বারি-২ ও বারি-৩ জাতের আদা চাষে উৎসাহিত করছে।

বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন আদার চাহিদা রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, গত বছর ২৬ হাজার ১৯৪ হেক্টর জমিতে ৯৪ হাজার ২৬ টন আদা উৎপাদিত হয়েছে।

বর্তমানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আদার প্রায় ৩০ শতাংশই বস্তা পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, কারণ অনেকেই এর মাধ্যমে ভালো আয় করছেন।

তারা আরও বলেছেন, আরও বেশি সংখ্যক মানুষ যদি এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে এগিয়ে আসেন, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আদা দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’, ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কহিনুর আক্তারের আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’, ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কহিনুর আক্তারের আত্মহত্যা

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে কহিনুর আক্তার নামের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে তার ঘরের দরজা ভেঙে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত শিক্ষার্থী ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের বলগাড়ি গ্রামের শহিদুল ইসলামের কন্যা।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "ফোনকলের মাধ্যমে জানতে পারি ১২ বছরের এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।" তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হবে।"

তিনি উল্লেখ করেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%