ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের হুঁশিয়ারি কেন


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের হুঁশিয়ারি কেন

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। চুক্তিটির মূলনীতি হলো—সদস্য কোনো একটি রাষ্ট্র সশস্ত্র আক্রমণের শিকার হলে সেটিকে সব সদস্যের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদের সঙ্গে এর ধারণাগত মিল থাকলেও চুক্তির সামরিক কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, সদস্যদের বাধ্যবাধকতা এবং সম্ভাব্য নতুন সদস্য গ্রহণের শর্ত এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশ এখনো এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির শুধু বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং পরিবর্তিত বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বাস্তবতা বিবেচনা করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ঢাকা ইতিবাচকভাবে দেখছে। অর্থাৎ এটি এখনো একটি সম্ভাবনা ও নীতিগত আগ্রহের পর্যায়ে রয়েছে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

এই প্রেক্ষাপটে ভারত যদি বাংলাদেশকে প্রকাশ্যে সতর্ক করে থাকে যে মক্কা চুক্তিতে যোগদান ‘বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক’ হবে, তবে তা অবশ্যই আপত্তিকর ও উদ্বেগজনক। কারণ স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক কিংবা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে তুলবেÑসেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের ওপর ভেটো দিতে পারে না বা হুমকির ভাষায় তা প্রভাবিত করার অধিকার রাখে না। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত সতর্কতা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও প্রকাশ্য সরকারি বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের মুখে ‘মক্কা চুক্তিতে যোগদান বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক হবে’—এমন সুনির্দিষ্ট বক্তব্যের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় মূলত বলা হয়েছে যে তারা বাংলাদেশের আগ্রহ-সংক্রান্ত পরিস্থিতি ‘ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে। জয়শংকর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন, কিন্তু সেটিকে সরাসরি মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের প্রতি হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হলে বক্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো উদ্ধৃতি আর ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এক বিষয় নয়।

তারপরও ‘ভারত পরিস্থিতি নজরে রাখছে’—এই ভাষাটিও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ কোনো অধীন রাষ্ট্র নয় যে তার প্রতিটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত ভারত পর্যবেক্ষণ করবে এবং অনুমোদন বা আপত্তি জানাবে। ভারত তার নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করতেই পারেÑযেমন বাংলাদেশও ভারত-ইসরাইল, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারে। কিন্তু পর্যালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ এক বিষয়; আর বাংলাদেশকে সতর্ক করা, চাপ দেওয়া বা পরিণতির ভয় দেখানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ভারতের উদ্বেগের একটি প্রধান কারণ হতে পারে মক্কা চুক্তিতে পাকিস্তানের উপস্থিতি। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা, কাশ্মীর বিরোধ, একাধিক যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত যেকোনো প্রতিরক্ষা কাঠামোকে নয়াদিল্লি সন্দেহের চোখে দেখবে। বাংলাদেশ সেখানে যুক্ত হলে ভারত সেটিকে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে পরিবর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে। কিন্তু ভারতের পাকিস্তাননীতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করতে পারে না। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বিরোধ আছে বলে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক বা প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রাখবে না—এমন দাবি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

একইভাবে, ভারত যখন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও ইসরাইলের সঙ্গে ব্যাপক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করে, উন্নত অস্ত্র সংগ্রহ করে এবং বিভিন্ন সামরিক জোট ও কৌশলগত কাঠামোয় অংশগ্রহণ করে, তখন বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী হিসেবে সেই সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করার দাবি জানায় না। ভারত কোয়াডে অংশ নিতে পারে, ইসরাইলের সঙ্গে গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে কিংবা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে পারে—কিন্তু বাংলাদেশ কেন নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী অংশীদার নির্বাচন করতে পারবে না? সার্বভৌম সমতার নীতি দুদেশের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের পক্ষে বেশ কিছু যুক্তি রয়েছে। সৌদি আরব বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের প্রধান উৎসগুলোর একটি। তুরস্ক দ্রুত বিকাশমান প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তার সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে। পাকিস্তানের রয়েছে বৃহৎ ও অভিজ্ঞ সশস্ত্র বাহিনী, প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা এবং পারমাণবিক শক্তি। এই তিন দেশের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ, সামরিক প্রযুক্তি, যৌথ উৎপাদন, সাইবার নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এ ধরনের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিকল্পও সম্প্রসারিত করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ওপর একটি বিশেষ প্রতিবেশীর অতিরিক্ত প্রভাব রয়েছে—এমন অভিযোগ জনমনে প্রবল। বহুমুখী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বাংলাদেশের দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে এবং কোনো একটি রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতির অর্থ কোনো একটি শক্তির প্রভাববলয়ে বন্দি থাকা নয়; বরং একাধিক অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। ভারতের আপত্তি আরো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে, যখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অতীত অভিজ্ঞতার দিকে তাকানো হয়। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির দীর্ঘসূত্রতা, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক শক্তিকে দীর্ঘকাল সমর্থন দেওয়ার ধারণা—এসব কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারতের প্রতি গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে। ভারত যদি সেই আস্থা পুনরুদ্ধার না করে উল্টো বাংলাদেশের নতুন অংশীদার নির্বাচনের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করতে চায়, তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে ভারতের আপত্তি অগ্রহণযোগ্য বলেই বাংলাদেশকে আবেগের বশে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাবে না। এটি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি; কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংস্থা নয়। এর সদস্যপদ বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের সামরিক বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করবে, তা গভীরভাবে পরীক্ষা করতে হবে। পাকিস্তান-ভারত সংঘাত, সৌদি আরব-ইরান উত্তেজনা কিংবা তুরস্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে বাংলাদেশকে অংশ নিতে হবে কি নাÑসেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন। তিন প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-অগ্রাধিকারও এক নয়। পাকিস্তানের প্রধান কৌশলগত উদ্বেগ ভারত; সৌদি আরবের নিরাপত্তা-চিন্তা উপসাগরীয় অঞ্চল, ইরান, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক; আর তুরস্কের স্বার্থ সিরিয়া, ইরাক, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, ককেশাস, রাশিয়া ও ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলোর অধিকাংশই বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ নিরাপত্তা-হুমকি নয়। অন্য কোনো দেশের যুদ্ধের দায় বহনের বিনিময়ে বাংলাদেশ বাস্তবে কতটুকু নিরাপত্তা পাবেÑসেটি মূল্যায়ন না করে চুক্তিতে যাওয়া উচিত হবে না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সার্বভৌম সমতা, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করার কথা বলে। প্রতিরক্ষামূলক জোটে অংশগ্রহণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নীতির পরিপন্থী নয়। কিন্তু এমন কোনো ধারা গ্রহণ করা যাবে না, যা বাংলাদেশের জনগণ, সরকার ও জাতীয় সংসদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত ছাড়াই দেশকে অন্য রাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ, সংসদে আলোচনা, সামরিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করা আবশ্যক। সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া কী স্বয়ংক্রিয় হবে, নাকি জাতীয় সংসদের অনুমোদন লাগবে? বাংলাদেশের সৈন্য বিদেশে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকবে কি? পারমাণবিক প্রতিরোধের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক সৃষ্টি হবে কি? চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার বিধান কী? অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কেমন? এসব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

বাংলাদেশকে একই সঙ্গে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার পশ্চিমা বিশ্বে; চীন বৃহৎ বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন অংশীদার; মধ্যপ্রাচ্য রেমিট্যান্স এবং জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস; আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত, নদী, যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। কোনো প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের ফলে এসব সম্পর্ক, রপ্তানি, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা কিংবা প্রবাসী শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, তা হিসাব করতে হবে। বাংলাদেশের যথাযথ জবাব হওয়া উচিত শান্ত, দৃঢ় ও কূটনৈতিক। ঢাকা বলতে পারে—ভারতের নিরাপত্তা-উদ্বেগ শুনতে বাংলাদেশ প্রস্তুত, কিন্তু নিজের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি নির্ধারণের সার্বভৌম অধিকার নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুধু বাংলাদেশের জনগণ, সংবিধান, জাতীয় নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে। কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের চাপ, হুমকি বা অনুমোদন সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে না।

ভারতকে বুঝতে হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে টেকসই বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠার পথ হলো সম্মান ও সমতা—চাপ ও অভিভাবকসুলভ আচরণ নয়। বাংলাদেশও যেন ভারতবিরোধিতাকে একমাত্র পররাষ্ট্রনীতিতে পরিণত না করে; বরং নিজের জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে বাস্তববাদী, বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করে। ভারতের উদ্বেগের কারণে মক্কা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করা যেমন আত্মমর্যাদাহীনতা হবে, তেমনি শুধু ভারতকে ক্ষুব্ধ করার উদ্দেশ্যে তাড়াহুড়ো করে এতে যোগ দেওয়াও বিচক্ষণতা হবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি অবশ্যই বাংলাদেশের। ভারত তার মতামত জানাতে পারে, কিন্তু হুঁশিয়ারি দিতে পারে না। বাংলাদেশ কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কোন প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হবে এবং কীভাবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে—তার নির্ধারক হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নয়; আবার আবেগের পরিবর্তে তথ্য, স্বচ্ছতা, সংসদীয় তদারকি ও সুদূরপ্রসারী কৌশলগত বিচারই হতে হবে বাংলাদেশের পথনির্দেশক।

hrmrokan@hotmail.com

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফতুল্লায় গ্যাস সংকটে কারখানার উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ এম


ফতুল্লায় গ্যাস সংকটে কারখানার উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে

দেশজুড়ে চলমান ভয়াবহ গ্যাস সংকটের ফলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত সংকট সমাধান না করা হয়, তাহলে বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেবেন এবং দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে গভীর অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ২৫৬টি গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে গত দুই বছরে ১২২টি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে চালু থাকা ১৩৪টি কারখানার বেশিরভাগই গ্যাস সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় ডাইং করা কাপড় সময়মতো সংগ্রহ করতে পারছে না। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক কারখানাকে মাঝেমধ্যেই কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

শিল্প মালিকরা জানান, প্রতি বছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বিদেশি ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ক্রয়াদেশ দিয়ে থাকেন। এই সময় পাওয়া অর্ডারের ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী কয়েক মাস উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু চলমান গ্যাস সংকটের কারণে অনেক বিদেশি ক্রেতা নতুন করে ক্রয়াদেশ দিচ্ছেন না।

গ্যাস সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিকেএমই’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গার্মেন্টস, নিটিং, ডাইং ও টেক্সটাইল শিল্প একটি অভিন্ন উৎপাদন শৃঙ্খলের অংশ। নিটিং কারখানায় সুতা দিয়ে কাপড় তৈরি হয়, সেই কাপড় ডাইং কারখানায় রঙ ও ফিনিশিং শেষে গার্মেন্টসে গিয়ে পোশাকে রূপ নেয়। ফলে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলেই পুরো উৎপাদন চক্রে স্থবিরতা নেমে আসে।

তিনি আরও বলেন, গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিএনজি স্টেশন থেকে ক্যাসকেড (খোলা সিলিন্ডার) গ্যাস এনে বয়লার চালিয়ে উৎপাদন সচল রেখেছিল। কিন্তু গত ২৬ জুলাই তিতাস গ্যাসের নতুন নির্দেশনায় যানবাহন ছাড়া ক্যাসকেড সিএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই বিকল্প ব্যবস্থাও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সংকট আরো গভীর হয়েছে।

উপাদনে এই স্থবিরতার কারণে শ্রমিকদের বেতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক কারখানায় বিল আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা নিয়ে মালিকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সংকট চলমান থাকলে দেড় বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হারাবে বাংলাদেশ শিল্প মালিকরা। এর প্রভাব পড়বে সব সেক্টরে।

ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার আজাদ রিফাত ফাইবার্স-এর পরিচালক তাইজুল ইসলাম রাজীব বলেন, আমাদের ডাইং চালাতে ন্যূনতম পাঁচ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। সেখানে আমরা এক থেকে দুই পিএসআই পাচ্ছি। যা দিয়ে কাপর রঙ বা শুকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলে গার্মেন্টসে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার সময় মতো দিতে পারব কি না সেটা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

শিল্প মালিকদের মতে, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি হ্রাস, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে। একই সঙ্গে কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে লাখো শ্রমিক।

 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষক সংকটে সরকারি কলেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ এম


শিক্ষক সংকটে সরকারি কলেজ

সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো শিক্ষক সংকট। দেশের বিভিন্ন কলেজে অনুমোদিত পদের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম রয়েছে। কিছু কিছু বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। একজন শিক্ষককে একাধিক কোর্স বা বিষয় পড়াতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব, বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজের চাপের কারণে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না, যা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শুধুমাত্র শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই সংকটের সমাধান হবে না; শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এখনও প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার ধারা বিদ্যমান। শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ এবং আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতির সাথে পরিচিত হওয়ার ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।

অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। অনেক সরকারি কলেজে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার উপকরণের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত গবেষণাগার ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত। বর্তমান যুগে শুধুমাত্র পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়; বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু অনেক কলেজে সেই পরিবেশ এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।

গবেষণা সংস্কৃতির অভাবও উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা। বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে গবেষণাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা হয়। গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হয়, সমাজের সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আমাদের অধিকাংশ সরকারি কলেজে গবেষণার সুযোগ ও গবেষণা তহবিল অত্যন্ত সীমিত। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামুখী মনোভাব গড়ে ওঠার সুযোগ কম থাকে।

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণও শিক্ষার মানের সাথে গভীরভাবে জড়িত। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল বিনোদনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তোলার জন্য বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

সরকারি কলেজগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার অভাব। বর্তমান চাকরির বাজারে শুধুমাত্র একাডেমিক সনদ যথেষ্ট নয়; যোগাযোগ দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে একটি ব্যবধান লক্ষ্য করা যায়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পরও চাকরির বাজারে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারে না।

সরকারি কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের গবেষণা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। তৃতীয়ত, আধুনিক গ্রন্থাগার, গবেষণাগার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। পঞ্চমত, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে।

লেখক: অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ দাগনভূঞা, ফেনী

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারেক রহমানের পাশে আছে ঢাকাবাসী : আব্দুস সালাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ পি.এম


তারেক রহমানের পাশে আছে ঢাকাবাসী : আব্দুস সালাম

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম মন্তব্য করেছেন যে, অতীতে ঢাকা শহর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পাশে যেভাবে ছিল, তেমনি আজ ঢাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে রয়েছে।

তিনি আজ শুক্রবার বিকেলে নগরভবনে ‘৪১৬ হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজিত ঢাকা শোভাযাত্রা শেষে এসব কথা বলেন।

আব্দুস সালাম আরও বলেন, ঢাকার ঐতিহাসিক স্থানগুলোর রেপ্লিকা শোভাযাত্রায় প্রদর্শনের মাধ্যমে এসব স্থাপনা এবং রাজধানীর সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ঢাকার গর্ব, একইসঙ্গে দেশেরও গর্ব। নতুন প্রজন্মের কাছে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই ঢাকা আমার’-এই অনুভূতি নিয়ে সবাইকে ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারলে শহরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও মশামুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

রাজধানীর বায়ুদূষণের প্রসঙ্গ তুলে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বায়ুদূষণের কারণে ঢাকা প্রায়ই বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় থাকে। ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এ দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব। জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই ‘৪১৬ হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি জানান, আগামীতে প্রধানমন্ত্রী সময় দিলে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে লালবাগ কেল্লায় চূড়ান্ত অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এতে ঢাকা মহানগরের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে আদি ঢাকার বাসিন্দাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

‘হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, ইতোমধ্যে সাইকেল র‌্যালি, ম্যারাথন, নৌকাবাইচ ও চিত্রাঙ্কন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী বছর আরও সুন্দর ও বড় পরিসরে এ উৎসব আয়োজন করা হবে।

তিনি জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের আজীবন শিক্ষার দায়িত্ব ঢাকা সিটি করপোরেশন নেবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘এই সিটি করপোরেশন ঢাকার জনগণের করপোরেশন। জনগণের সহযোগিতা নিয়েই এই সিটি করপোরেশন কাজ করবে।’ এ কাজে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

ঢাকার ঐতিহাসিক স্থানগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে আগামী মাস থেকে প্রতি শনিবার স্কুলশিক্ষার্থীদের এসব স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন দুটি করে বাসের ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি।

আব্দুস সালাম বলেন, ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজেদের শহর ও ইতিহাস নিয়ে গর্ববোধ তৈরি হবে। শহীদ মিনারসহ ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো মানুষের আত্মত্যাগ ও ইতিহাসের স্মৃতি বহন করছে। ঢাকা সব ধর্মের মানুষের শহর। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের ঐতিহ্য ও স্মৃতি এ শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

নগর পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা যাবে না। ডাস্টবিন ছাড়া ময়লা না ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মানুষ যেমন নিজের শয়নকক্ষ ও বসার ঘর সুন্দর রাখে, তেমনি ঢাকা শহরের রাজপথকেও সুন্দর রাখার চেষ্টা করতে হবে।

পুরান ঢাকা ও আদি ঢাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তারা পুরান ঢাকাকে আরও সুন্দরভাবে সাজাতে চান। রাস্তাঘাট উন্নয়নের পাশাপাশি আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে পুরান ঢাকার যেসব বাসিন্দা বর্তমানে গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন, তারা আবার পুরান ঢাকায় ফিরে আসতে আগ্রহী হন।

হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নগরভবনে এসে শেষ হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা

লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশকে তথ্য প্রদান করলে ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে, এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত তিন মাসের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি এই ঘোষণা দেন।

সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর চাহিদা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি জানান, এসব বিষয়ে সরকার কাজ করছে। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ধীরে ধীরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।" নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে পুলিশকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%