০৭:২২ পি.এম
‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’ বলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনকে সরকার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এই বক্তব্য দেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার ইকবাল হোসাইনকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে এ বরখাস্তের শাস্তি দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে।
বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের পর ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
গণমাধ্যমের হাতে আসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ইকবাল হোসাইন কোনো জবাব দেননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারণ করে অভিযোগের তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত দ্বিতীয় দফার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্ব এবং অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত পুনরায় করায়।
গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শও নেওয়া হয়। কমিশন জানায়, ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে। এরপর বিষয়টি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে যে, ইকবাল হোসাইনসহ আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরু দণ্ডের প্রক্রিয়া চলছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ইকবাল হোসাইনের পাশাপাশি অন্যান্য চার পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত), মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই), সুদীপ কুমার চক্রবর্তী (সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত) এবং রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক রয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে তিনি তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর বিষয়ে কথা বলছিলেন। ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ৪৩ সেকেন্ড। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলছেন, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তারা দুজনের সামনে ইকবাল হোসাইন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখাচ্ছেন। এ সময়ই তিনি ওই মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন