প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কয়েক সেকেন্ড আগে সেতুটি ছিল পুরোপুরি স্থির ও ঠিকঠাক অবস্থায়। পাশের সড়ক দিয়ে বিভিন্ন ট্রাক ও বুলডোজার চলছিল। কিন্ত হঠাৎ, পাহাড় থেকে এমন ভয়াবহ কাদা ও পানির ঢল নেমে এলো, যে এই বিশাল লোহার সেতুর সামনে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। চোখের পলকে গোড়া থেকে উপড়ে গিয়ে প্রবল স্রোতে পুরো সেতুটি ভেসে গেছে। ঠিক শেষ মুহূর্তে সরে গিয়ে রক্ষা পেল না গাড়িগুলো। এখনও একজন চালক নিখোঁজ রয়েছেন।
ভয়াবহ এই ঘটনাটি ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার নীতি উপত্যকায় ঘটেছে। এএনআই-এর প্রতিবেদনে জানা যায় যে, টানা ভারী বৃষ্টির পর পাহাড়ি নদী ও ঝর্নার পানি হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। এরপর বিপুল পরিমাণ কাদা ও পানির প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ে বেইলি ব্রিজের ওপর। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেতুটি উপড়ে গিয়ে ভেসে যায়।
চামোলির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিবেক প্রকাশ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয় তামাক নালায় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় সেতুর কাছেই অবস্থান করছিল সীমান্ত সড়ক সংস্থা (বিআরও)-এর কর্মকর্তা ও কর্মীরা। ঘটনার পর থেকে বিআরও-এর একটি গাড়ি ও সেটির চালকের খোঁজ এখনো মেলেনি। চালকের সন্ধানে অভিযান চলমান। ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এসডিআরএফ-এর একটি দল।
সেতুটি ভেসে যাওয়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। কারণ সেতুর অপর পাশে রয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি গ্রাম। সেখানে মূল এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রশাসন ও বিআরও দ্রুত যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছে।
এক্ষেত্রে সেই অঞ্চলে কতজন পর্যটক আটকা পড়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই জন্য ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বা আইটিবিপি-এর সঙ্গে সমন্বয় করছে স্থানীয় প্রশাসন।
এছাড়া, বৃষ্টির অব্যাহত থাকার কারণে বিপদ এখনও কাটেনি। নদী ও পাহাড়ি জলধারের পানি আরও বাড়তে পারে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর তীর থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন