শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৯ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত স্থাপনায় হামলা করার হুমকি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি।
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মদি, যিনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বন্ধে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নীতিগতভাবে নতুন হামলার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এ হামলায় সফলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরবর্তী সংঘাতকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছি। দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় যুদ্ধ আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের কৌশল হলো, কোনো সীমারেখা না মানা।’
মোহাম্মদি বলেন, ‘আমরা সংঘাতের সময় ও ভৌগোলিক পরিসর—দুই ক্ষেত্রেই প্রচলিত সীমা ভেঙে দেব। শত্রুপক্ষ যতটা ধারণা করছে, যুদ্ধ তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং আরও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে ইরান এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করার সক্ষমতা রাখে কি না এবং চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক কোনো সহায়তা পায় কি না, তা যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রেজায়ি বলেছেন, ‘যুদ্ধ শুরু হলে যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সংঘাত আবার শুরু হলে আমাদের আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখায় হামলা চালানো হবে, অথচ এসব হামলা চালাতে সহায়তাকারী অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে নিরাপদ ও হামলার আওতামুক্ত রাখা হবে—এমন কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে যৌথ হামলা চালানোর জন্য দেশটির সামরিক উপদেষ্টারা লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করেছেন।
এদিকে, ইরান, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের সংকট নিয়ে সমন্বিত নীতি নির্ধারণে শুক্রবার ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসবেন তিনটি ইউরোপীয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিরা। তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।
বুধবার, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে একই সময়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। জাহাজগুলো থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে আরও তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব জাহাজে হামলার সংখ্যা ও ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি।
গত চার মাসে সাতবার ইরানে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। তবে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের বিষয়ে আলোচনা করছেন। এ অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, তেল অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাকের আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড্ডয়নসহ বিভিন্ন অভিযানের অনুশীলনও চলছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি উড়েছে।
এ ছাড়া, মধ্য ইরানের আরাক শহরের একটি বড় অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মাধ্যমে দেশটির ভেতরে অন্তর্ঘাতমূলক অভিযান চলার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সোমবার, ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। সেখানে সম্ভাব্য যৌথ হামলার সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়। এ হামলা নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু চান ইরান আগে হামলা চালাক। সোমবারের বৈঠকে তিনি হেগসেথকে এ মনোভাবের কথা জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, কয়েক হাজার মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রেজা নাসরি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের তৃতীয় ধাপ শুরু হলে তা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিড, লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলোতে আগুন জ্বলবে। কোটি কোটি মানুষ পানি ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়বে। আরব দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী ইউরোপের দিকে ছুটবে।’
নাসরি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়বে। সেনা মোতায়েন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এমনিতেই চাপে থাকা ইসরাইলের অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের ধকল সামলাতে পারবে না। আর ট্রাম্প এমন এক সংকটে আটকে পড়বেন, যা তার প্রেসিডেন্সির বাকি সময়কে গ্রাস করবে এবং পরবর্তী প্রশাসনের জন্য ধ্বংসস্তূপ রেখে যাবে।’
আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ইরান তার বিভিন্ন সামরিক ও অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে, বিশেষ করে ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে, ইরানের পাল্টা জবাব শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুও হামলার আওতায় আসবে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা চলতি সপ্তাহে আবারও আলোচনা করেছেন। আলোচনায় আগের কিছু প্রস্তাব নতুনভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নেওয়া, জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের বোমা হামলার শিকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া এবং দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর বিনিময়ে ইরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া সবুজ পাহাড় এলাকায় শ্যামলী পরিবহণের একটি বাস এবং সবজিবাহী পিকআপের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।
শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহাসড়কের সবুজ পাহাড় এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। এতে পিকআপে অবস্থানরত আবদুল্লাহ ও মো. ইয়াছিন নামের দুই ব্যক্তি নিহত হন।
আবদুল্লাহ টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ফুলের ডেইল এলাকার আবুল কালামের পুত্র এবং মো. ইয়াছিন মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল রামপুর এলাকার মো. দুলালের সন্তান।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী শ্যামলী এনআর পরিবহণের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চকরিয়া থেকে কক্সবাজারগামী সবজিবাহী পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (উপপরিদর্শক-এসআই) মো. সেলিম মিয়া জানান, নিহত দুজনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে, নগরটির বাতাস এখনও সংবেদনশীল জনগণের জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবার সকালে ঢাকার অবস্থান ছিল বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১২তম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১৪৪। আগের দিন বৃহস্পতিবার এই সূচক ছিল ১৭৩। ফলে, এক দিনের ব্যবধানে ঢাকার বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমান সূচকে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সময়ে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে পাকিস্তানের লাহোর, যার বায়ুমান সূচক ছিল ২৮৮, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি, যার স্কোর ২৪৩। এই শহরের বাতাসও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে, বায়ুমান সূচকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় থাকা শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি, মিশরের কায়রো, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, কাতারের দোহা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ভারতের মুম্বাই ও কলকাতা এবং সেনেগালের ডাকার।
ঢাকার মতো ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুমানের তালিকায় আরও কয়েকটি শহরের নাম রয়েছে। এই শহরগুলো হলো কঙ্গোর কিনশাসা, ভিয়েতনামের হ্যানয়, বাহরাইনের মানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, উজবেকিস্তানের তাসখন্দ, চীনের বেইজিং, সৌদি আরবের রিয়াদ, সিঙ্গাপুর, কুয়েত সিটি, পাকিস্তানের করাচি, যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ও নেপালের কাঠমান্ডু।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ভালো বাতাস হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা মাঝারি বা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। ১০১ থেকে ১৫০ হলে বাতাস সংবেদনশীল জনগণের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়।
এছাড়া, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত বায়ুমান সূচককে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বায়ুদূষণের কারণে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই দূষণ বেশি থাকলে তাদের দীর্ঘক্ষণ বাইরে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে বাইরে বের হওয়ার সময় উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শক্তিশালী বাতাস এবং মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে টাইফুন চাম্পির আগমনের ফলে শুক্রবার কার্যত অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। যদিও ঝড়টি দুর্বল হয়ে এসেছে, তবুও দ্বীপটিতে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা এখনও বিদ্যমান। এর ফলে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, টাইফুন চাম্পির কারণে শুক্রবারের জন্য নির্ধারিত ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং ৬৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।
শক্তিশালী ঝড়ের আগাম সতর্কতা হিসেবে রেল ও ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, এক সময় সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া এবং চলতি বছরে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট অন্যতম শক্তিশালী ঝড় চাম্পির কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার (১১৯ মাইল) রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া প্রশাসন জানায়, ঝড়টি তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে এগিয়ে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরমুখী হবে। পরে এটি দক্ষিণ জাপানের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা রয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে তাইওয়ানে একজন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছেন। দেশটির সরকার জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার ৩০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিডব্লিউএর পূর্বাভাসক লিউ পেই-তেং রয়টার্সকে জানান, "তাইওয়ানের কাছে এসে ঝড়টি যদি স্থির হয়ে পড়ে, বৃত্তাকারে ঘোরে কিংবা এদিক-সেদিক দুলতে থাকে, তাহলে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ সমস্যা হলো অতিরিক্ত কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা এবং ব্যস্ত রুটিনের কারণে সঠিকভাবে ঘুমাতে না পারা। ঘুমের এই সমস্যার সমাধানে ক্যাফেইন কমানো কিংবা ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম সীমিত করার মতো বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে অনেকেই অবগত। তবে, এর পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, যা আপনার ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, নিয়মিত বাদাম খাওয়া দ্রুত ঘুম আনতে এবং ঘুমের গুণগত মান বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী।
ভারতীয় উপমহাদেশের মায়েরা শৈশবে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য তাদের সন্তানদের দুধের সঙ্গে বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। কিন্তু বাদাম কিভাবে আমাদের ঘুমের উন্নতিতে সহায়তা করে? চলুন, বিষয়টি জানার চেষ্টা করি।
‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউট্রিশন’ জার্নালে প্রকাশিত জুলাই ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ২১ থেকে ৫৫ বছর বয়সি ১৭৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর বাদামের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়। এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগছিলেন, তাদের প্রতিদিন ৬০ গ্রাম বাদাম দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, তুলনা করার জন্য আরেকটি দলের সদস্যদের ক্যালোরি ঠিক রেখে চিড়া, খাকরা বা ক্র্যাকারের মতো সাধারণ নাস্তা প্রদান করা হয়।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, যে দলটি নিয়মিত বাদাম খেয়েছিল, তারা অন্যদের তুলনায় দ্রুত ঘুমাতে সক্ষম হয়েছিল এবং তাদের ঘুমের স্থায়িত্বও বেশি ছিল। এর ফলে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমে যায় এবং নিরবচ্ছিন্ন গভীর ঘুম নিশ্চিত হয়।
বাদাম কিভাবে ঘুমের উন্নতিতে সাহায্য করে?
পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শীলা কৃষ্ণস্বামীর মতে, বাদামে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান, যা স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে রয়েছে-
ম্যাগনেসিয়াম: এটি স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ট্রিপটোফ্যান: এই উপাদানটি শরীরকে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে।
প্রাকৃতিক মেলাটোনিন: বাদামে প্রাকৃতিকভাবে সামান্য পরিমাণে মেলাটোনিন হরমোন থাকে, যা শরীরের ঘুম ও জাগার চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
এছাড়া, বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতায় অবদান রাখে।
ভালো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়
শুধু নিয়মিত বাদাম খেলে যে রাতে চমৎকার ঘুম হবে, বিষয়টি তেমন নয়। এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার রুটিনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞরা নিচের বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
সন্ধ্যার পর চা, কফি বা যেকোনো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিহার করুন।
শোবার ঘরটি আরামদায়ক, শান্ত ও ঘুমের উপযোগী রাখুন।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার এবং সকালে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ