ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

নাটোর-খুলনা-রাজশাহী মহাসড়কের ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে


নাটোর-খুলনা-রাজশাহী মহাসড়কের ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে

ঢাকা থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত পৃথক লেনে চালকরা গতি ও স্বস্তিতে ছুটতে পারেন। কিন্তু উত্তরাঞ্চলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে যায়। নাটোর হয়ে খুলনা অথবা সোনামসজিদ বন্দর মহাসড়কে লেন পৃথক নয়। সরু সড়কে অসংখ্য বাঁক পেরিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, নাটোর-খুলনা-রাজশাহী মহাসড়কের ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও বাঁকে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে মৃত্যুর হারে ঢাকার পর রাজশাহী বিভাগ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর নাটোরের বড়াইগ্রামে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন প্রাণ হারান। ঠিক এক যুগ পর একই দিনে বড়াইগ্রামেই বালুর ট্রাকের ধাক্কায় ১৪ জন নিহত হন।

২০২১ সালে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের কাটাখালীতে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৭ জন মারা যান। একই সড়কের পুঠিয়ার ঝলমলিয়া বাজারে বালুবাহী ট্রাক উল্টে চারজন প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সাক্ষাৎ

চলতি বছরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক খুলনা-রাজশাহীর ২৬৯ কিলোমিটার মহাসড়কের দুর্ঘটনা প্রবণতা, কারণ বিশ্লেষণ এবং ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো বড়াইগ্রাম, দাসুড়িয়া, বনপাড়া, ঝলমলিয়া, পুঠিয়া, কাটাখালি। রাজশাহী জেলায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটে এমন ৪৩টি হটস্পট রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ থেকে নাটোরের বনপাড়া পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত। উত্তরাঞ্চলের হাজারো যানবাহন চলাচল করলেও সড়কটি প্রশস্ত হয়নি। ৩১ কিলোমিটারে ২৫টি বাঁক রয়েছে। নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের বনপাড়া থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক, কাশিয়াডাঙ্গা-আমনুরা, খড়খড়ি-বাগমারা, পুঠিয়া-বাঘা সড়কে অন্তত ৪৬টি বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষসহ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো বেপরোয়া গতি। এছাড়া সরু সড়কে বিপজ্জনক বাঁক, ড্রাইভিং জ্ঞানের অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ক্লান্ত ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ধীরগতির তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচল এবং সচেতনতার অভাবের কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী (সড়ক বিভাগ, রাজশাহী) আহসান হাবীব জানিয়েছেন, প্রাণহানি কমানোর জন্য সড়ক বিভাগ রোড সেফটি প্রকল্পের আওতায় সাইন-সিগন্যাল, রোড মার্কিং, চালকদের প্রশিক্ষণ, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: পোশাক শ্রমিকদের বেতন সমন্বয়ের জন্য মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে রাজশাহী বিভাগে প্রতি ১০০টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এই বিভাগে শুধুমাত্র জাতীয় মহাসড়কে ৯৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪২০টি দুর্ঘটনায় ৩৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাহসী দৃশ্যে আপত্তি জানালেন অভিনেত্রী ম্যাকেনা গ্রেস, ডিজনির রাজকন্যা হওয়ার স্বপ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


সাহসী দৃশ্যে আপত্তি জানালেন অভিনেত্রী ম্যাকেনা গ্রেস, ডিজনির রাজকন্যা হওয়ার স্বপ্ন

হলিউড অভিনেত্রী ম্যাকেনা গ্রেস তাঁর অভিনয়ের পছন্দ-অপছন্দ ও সীমারেখা সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি বর্তমানে নগ্নতা বা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে আগ্রহী নন। বরং, তাঁর অন্যতম স্বপ্ন হলো বড় পর্দায় ডিজনির রাজকন্যা হিসেবে দর্শকদের সামনে আসা।

সম্প্রতি ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: সানরাইজ অন দ্য রিপিং’ সিনেমার প্রচারের অংশ হিসেবে কসমোপলিটন ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর অভিনয়জীবনের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করা হলে, কোন ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব পেলে তিনি ফিরিয়ে দেবেন, তিনি জানান যে, নগ্নতা বা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তিনি বলেন, "এ ধরনের চরিত্রে যাঁরা অভিনয় করেন, তাঁদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা রয়েছে।" তবে, বিষয়টি তাঁর জন্য কিছুটা ভীতিকর বলে মনে করেন তিনি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে কি না, সেটিও তিনি নিশ্চিত নন।

এমন সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে, ম্যাকেনা নিজেকে কেবল নিষ্পাপ বা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখতে চান। তাঁর অভিনীত কাজেই এর প্রমাণ রয়েছে। ‘স্ক্রিম’ সিনেমায় ঘোস্টফেসের হাতে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। অর্থাৎ, ঝুঁকিপূর্ণ বা ভয়ংকর চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু নগ্নতা ও যৌন আবেদনময় দৃশ্যে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যকেই তিনি গুরুত্ব দিতে চান।

অভিনেত্রীর ডিজনি রাজকন্যা হওয়ার স্বপ্নের প্রসঙ্গে অ্যামি অ্যাডামসের কথা মনে পড়ে। ২০০৭ সালে ‘এনচ্যান্টেড’ সিনেমায় রাজকন্যা জিসেলের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। সেই চরিত্রের সুবাদে তৈরি হওয়া ভাবমূর্তি বজায় রাখতে তিনি পরবর্তী সময়ে সচেতন ছিলেন।

একবার স্যাটারডে নাইট লাইভ অনুষ্ঠানের একটি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কৌতুকধর্মী স্কেচে অভিনয়ের প্রস্তাবও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অভিনেতা অ্যান্ডি সামবার্গ এক পডকাস্টে জানান, অ্যামির সঙ্গে একটি দ্বৈত গানের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু গানটির বিষয়বস্তু ছিল অতিরিক্ত যৌন আবেদনময়। অ্যামি তখন জানিয়েছিলেন, বিষয়টি মজার হলেও তিনি এতে অংশ নিতে পারবেন না। কারণ, "এনচ্যান্টেড" নিয়ে তখন অনেক ছোট মেয়ে মেতে আছে।

ম্যাকেনা ছাড়া, হলিউড অভিনেত্রী আমান্ডা সাইফ্রিডও সম্প্রতি একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে হ্যাম্পটনস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি জানান, একটি সিরিজে নিয়মিত যৌন দৃশ্যে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, অপরিচিত কারও সঙ্গে নগ্ন হয়ে অভিনয় করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

এদিকে, ম্যাকেনা গ্রেসের কাজের ব্যস্ততা কম নয়। সর্বশেষ ‘স্ক্রিম ৭’ সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে। আগামী ২০ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: সানরাইজ অন দ্য রিপিং’ সিনেমার, যেখানে তিনি মেইসিলি ডোনার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি, নেটফ্লিক্সের ‘স্কুবি-ডু’ সিরিজের লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণে ড্যাফনি চরিত্রেও তাঁকে দেখা যাবে।

সূত্র: ভ্যারাইটি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কমনওয়েলথ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে হুমায়ুন কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


কমনওয়েলথ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে হুমায়ুন কবির

অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার সেন্ট জন’সে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ হেডস অব গভর্নমেন্ট মিটিং (সিএইচওজিএৃম)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আজ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

এ তথ্য বুধবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ন্যাশনাল পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথের প্রধান রাজা তৃতীয় চার্লস। আয়োজক দেশের প্রধানমন্ত্রী গ্যাস্টন ব্রাউনও সেখানে ছিলেন। এছাড়া, কমনওয়েলথের ৫৬ সদস্য দেশের সরকারপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিনিধিদলের প্রধানরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘সমৃদ্ধ কমনওয়েলথের জন্য অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’। এর লক্ষ্য হচ্ছে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরা।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের নির্বাহী অধিবেশনে তিনি বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা এবং সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব জোরদারের সুযোগ খুঁজে দেখার একটি প্ল্যাটফর্ম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ৮৫টি নতুন নলকূপ স্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ৮৫টি নতুন নলকূপ স্থাপন

চট্টগ্রাম ওয়াসা একটি ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার উদ্দেশ্য বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন এবং নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগের অধীনে নতুন ৮৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় ওয়াসার নিজস্ব এবং বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়নে এসব নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। ৮৫টি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে নগরীতে ওয়াসার অর্থায়নে ৭টি নলকূপ স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো বর্তমানে চালু রয়েছে।

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো পুরোনো পানির পাইপলাইন আধুনিকায়ন, পানির অপচয় এবং সিস্টেম লস কমানো, পানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং ৯০ হাজার স্মার্ট মিটার স্থাপনের মাধ্যমে অবৈধ পানির সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা। বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় নগরীর উঁচু এবং প্রান্তিক এলাকায় পানির ঘাটতি নিরসনে এসব নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০টি ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় এবং বাকি ২৫টি ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, নগরবাসীর মাঝে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গভীর নলকূপ থেকে দৈনিক ১০ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, কালুরঘাট এলাকায় ৩০টি নলকূপ স্থাপন করা হবে। এসব নলকূপের পানি পাম্পের মাধ্যমে বহদ্দারহাট স্টেশনে নিয়ে সেখান থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হবে। এছাড়া যেসব উঁচু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানির চাপ কম এবং সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে, সেসব এলাকায়ও নলকূপ স্থাপন করা হবে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, বৃহত্তর উন্নয়ন কর্মসূচিটি গত ২০ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। এতে বিশ্বব্যাংক ৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৫৭৮ কোটি টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৪ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, পুরোনো অবকাঠামো এবং অবৈধ সংযোগের কারণে নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির অপচয় হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রকল্পের আওতায় খুলশী, এ কে খান, বায়েজিদ, অক্সিজেন, কালুরঘাট এবং চাক্তাইসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পুরোনো ও জরাজীর্ণ পানির পাইপলাইন প্রতিস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ অটোমেটেড স্মার্ট মিটারিংসহ ডিস্ট্রিক্ট মিটারড এরিয়া (ডিএমএ) নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সিস্টেম লস কমানো, ৪০ হাজার গ্রাহক সংযোগে পানির চাপের সমতা নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ওয়াসার আধুনিকায়ন কার্যক্রম শুধুমাত্র পানি সরবরাহ প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন ও পরিকল্পনাধীন রয়েছে।

আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নগরীর বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় পানি সরবরাহের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া মোহরা পানি শোধনাগার ও মদুনাঘাট এলাকায় নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো পানির অপচয় কমানো, সমান চাপে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা।

এছাড়া ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-৩’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম ব্যাংক) অর্থায়নে ভাণ্ডালজুড়ি পানি শোধনাগারের সক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যায়ে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন, আন্তর্জাতিক অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর বিতরণব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই, পর্যাপ্ত পানির চাপসম্পন্ন এবং জবাবদিহিমূলক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেমোক্র্যাটরা জিতলেও চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে ট্রাম্পের হাতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ এম


ডেমোক্র্যাটরা জিতলেও চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে ট্রাম্পের হাতে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা প্রয়োগে পিছপা হবেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ যদি ডেমোক্র্যাটদের হাতে আসে, তাহলে তিনি তাদের আনা বিলে ভেটো দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।

ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, "ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে আমি আমার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করব।" তিনি এ ক্ষেত্রে ‘মিস্টার ভেটো’ উপাধি পেতে আপত্তি নেই বলেও উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকারটি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, "আমার হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে, সেটি হলো ভেটো।" ট্রাম্পের মতে, যদি তিনি কয়েক মাস ধরে কোনো বিলে ভেটো দেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা সমঝোতার জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে আলোচনা করতে বাধ্য হবে।

যদিও জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, তবুও ট্রাম্প তাঁর কর্মসূচি বাস্তবায়নে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কয়েকটি রায় প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়িয়েছে।" তিনি বিশেষ করে ‘ট্রাম্প বনাম স্লটার’ মামলার ৬-৩ ভোটের রায়ের কথা উল্লেখ করেন।

এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সদস্য রেবেকা স্লটারকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পক্ষে রায় দেয়। ট্রাম্পের দাবি, এই রায়ের ফলে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, বোর্ড ও কমিশনের ওপর প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রায়টি সব ফেডারেল সংস্থার ওপর সীমাহীন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়নি।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। এ প্রক্রিয়ায় উপপ্রধান স্টিফেন মিলার ও ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তরের পরিচালক রাসেল ভাউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অভিবাসন ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাহী পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা চলছে।

রাজনীতির বাইরেও সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউস ও ওয়াশিংটন ডিসির উন্নয়নকাজ নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনা করে তিনি হোয়াইট হাউসের ভাঙা জানালা ও দেয়াল মেরামতের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এসব সংস্কারের মাধ্যমে ভবনটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

২০২৭ সালের পরিকল্পনা সম্পর্কে ট্রাম্প জানান, তিনি হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম ও সামরিক কমপ্লেক্সের কাজ শেষ করতে চান। পাশাপাশি তাঁর প্রস্তাবিত ২৫০ ফুট উঁচু তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে তোরণ নির্মাণের প্রস্তাবটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসির ৯৭টি স্থানে ক্ষতিকর গ্রাফিতি পরিষ্কারের উদ্যোগকে নিজের প্রশাসনের অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ নিয়ে এখনো উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন না। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টিতে সাংবিধানিক ও আইনি জটিলতা রয়েছে। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টিতে বেশ কয়েকজন যোগ্য তরুণ নেতা রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%