ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাছে পাখি নয়, ঝুলছে শত শত পুতুলের রহস্য


গাছে পাখি নয়, ঝুলছে শত শত পুতুলের রহস্য

গাছের ডালে পাখির পরিবর্তে ঝুলে রয়েছে শত শত পুরোনো পুতুল। কিছু পুতুলের চোখ নেই, আবার কিছু পুতুল হাত-পা হারিয়েছে। রোদ ও বৃষ্টিতে ক্ষয়ে যাওয়া এসব পুতুলের ফাঁকা চোখ ও অস্বাভাবিক চেহারা দেখে অনেক দর্শনার্থী শিউরে ওঠেন।

মেক্সিকোর ‘ইসলা দে লাস মুনেকাস’ বা ‘পুতুলের দ্বীপ’ নামে পরিচিত এই স্থানটি একটি রহস্যময় গল্পকে ঘিরে রয়েছে, যার অনেক অংশের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মেক্সিকো সিটির দক্ষিণে জোচিমিলকোর খালপথে অবস্থিত দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। রঙিন ‘ত্রাহিনেরা’ নৌকায় খাল পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয়। চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং শান্ত জলরাশির মধ্যে গাছের ডালে ঝুলে থাকা শত শত পুতুলের দৃশ্য দ্বীপটিকে একটি ভিন্ন পরিবেশ প্রদান করে।

আরও পড়ুন: শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, নিরাপদ থাকতে মেনে চলুন অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম

একটি পুতুল থেকেই শুরু

দ্বীপটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ডন জুলিয়ান সান্তানা বাররেরার নাম। প্রচলিত কাহিনীর মতে, তিনি ১৯৫০-এর দশকে ওই দ্বীপে বসবাস শুরু করেন। একদিন কাছের খালে এক কিশোরী ডুবে মারা যাওয়ার পর তিনি তার আত্মার উপস্থিতি অনুভব করতে শুরু করেন বলে জানা যায়।

কিছুদিন পর তিনি পানিতে ভাসতে থাকা একটি পুতুল খুঁজে পান। তার বিশ্বাস ছিল, পুতুলটি ওই কিশোরীর আত্মাকে শান্ত করতে সক্ষম। এরপর তিনি পুতুলটি একটি গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেন।

এখান থেকেই শুরু হয় পুতুল সংগ্রহের কাহিনি। সময়ের সঙ্গে তিনি আশপাশের খাল, পরিত্যক্ত স্থান ও মানুষের কাছ থেকে পুরোনো পুতুল সংগ্রহ করতে থাকেন। পরে তিনি সেগুলো দ্বীপের বিভিন্ন গাছে ঝুলিয়ে দেন। এভাবেই একটি পুতুলের জায়গায় শত শত পুতুল স্থান করে নেয়।

আরও পড়ুন: পোষা বেড়াল ভেবে এক বছর লালন-পালন, নতুন প্রজাতি ‘লিওপার্ডাস টিলকাও’ শনাক্ত

কেন গাছে ঝোলানো হতো পুতুল?

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সান্তানা মনে করতেন পুতুলগুলো তাকে এবং দ্বীপটিকে অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করবে। তবে কেন তিনি বছরের পর বছর ধরে এভাবে পুতুল সংগ্রহ করেছেন, তার সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

কিছু মানুষের ধারণা, কিশোরীর আত্মাকে ঘিরে তার বিশ্বাসই এই কাজের মূল কারণ। আবার অন্যদের মতে, দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাস তাকে পুতুল সংগ্রহে আরও আগ্রহী করে তোলে।

তবে দ্বীপটির সবচেয়ে বড় রহস্য হলো সেই কথিত কিশোরী। তার পরিচয়, মৃত্যুর ঘটনা কিংবা আত্মার উপস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে পুতুলের দ্বীপের জন্ম নিয়ে প্রচলিত কাহিনির সত্যতা আজও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন: সন্তান হারানোর শোক অন্য প্রাণীদেরও সমান কষ্ট দেয়, সাক্ষী অতল সমুদ্র

ভূতুড়ে পরিবেশ, নানা দাবি

দ্বীপটির গাছগুলোতে ঝুলে থাকা পুতুলের অনেকগুলোই দীর্ঘদিনের রোদ-বৃষ্টিতে ক্ষয়ে গেছে। কিছু পুতুল গাছের ডালে একা ঝুলছে, আবার কিছু পুতুল একসঙ্গে কয়েকটি করে বাঁধা রয়েছে। পুতুলগুলোর ফাঁকা চোখ, ভাঙা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং বিবর্ণ চেহারা জায়গাটিকে অস্বস্তিকর করে তুলেছে।

দর্শনার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন, পুতুলগুলো নড়াচড়া করে, চোখের পাতা ফেলে কিংবা ফিসফিস করে কথা বলে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বাতাসে পুতুলের নড়াচড়া, আলো-ছায়ার পরিবর্তন এবং পরিবেশের অস্বাভাবিক আবহ থেকেই এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

সান্তানার মৃত্যুর পর আরও পরিচিতি

আরও পড়ুন: নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের পুরনো চিঠি প্রকাশ

২০০১ সালে ডন জুলিয়ান সান্তানা বাররের মৃত্যু ঘটে। প্রচলিত গল্পে বলা হয়, যে স্থানে এক কিশোরী ডুবে মারা গিয়েছিল বলে তিনি বিশ্বাস করতেন, তার কাছাকাছিই তার মৃত্যু হয়। এই কাকতালীয় ঘটনা দ্বীপটির রহস্যময় পরিচিতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

পরে দ্বীপটি পর্যটক ও কৌতূহলী মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়। বর্তমানে সেখানে যাওয়া দর্শনার্থীদের কাছে পুতুলগুলো যেমন আকর্ষণের বিষয়, তেমনি দ্বীপটির জন্মকাহিনিও আগ্রহের বড় কারণ।

রহস্যের উত্তর কি আদৌ আছে?

পুতুলের দ্বীপ বাস্তব, এর পুতুলগুলোও বাস্তব। ডন জুলিয়ান সান্তানা বাররের অস্তিত্ব এবং তার পুতুল সংগ্রহের ইতিহাসও এই স্থানের পরিচিতির অংশ। কিন্তু সেই কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনা, তার আত্মার উপস্থিতি কিংবা পুতুলগুলোর অতিপ্রাকৃত আচরণের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

আরও পড়ুন: আজ বিশ্ব মান দিবস: ভেজালের বিরুদ্ধে মানের অঙ্গীকার

সুতরাং, মেক্সিকোর এই দ্বীপের রহস্যের উত্তর হয়তো ভূতের গল্পে নয়, বরং একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডে লুকিয়ে আছে। একটি পুতুল থেকে শত শত পুতুল সময়ের সঙ্গে সেই ব্যক্তিগত গল্পই পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত রহস্যময় পর্যটনস্থলের পরিচয়ে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোমালিয়ায় ইসরায়েলিদের উপস্থিতি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট হাসানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


সোমালিয়ায় ইসরায়েলিদের উপস্থিতি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট হাসানের

সোমালিয়া ‘কোনো অবস্থাতেই’ ইসরায়েলি উপস্থিতি মেনে নেবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জড়িয়ে পড়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ।

তিনি সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।

হাসান শেখ মোহামুদ বলেন, ইসরায়েল বারবার্বায় একটি নৌঘাঁটি স্থাপন ও বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর ও ইরানের কাছাকাছি যাওয়া। বারবার্বা হলো সোমালিল্যান্ডের এডেন উপসাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী।

সোমালিল্যান্ড, সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র, যা গত বছর ইসরায়েল কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছিল, কিন্তু মোগাদিশু এই অঞ্চলটিকে নিজেদের বলে দাবি করে। বারবার্বা কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত, যা সমুদ্রের ওপারে ইয়েমেনের মুখোমুখি। ইরানপন্থি হুথিরা এর আগে এ এলাকায় ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিল।

এ বিষয়ে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েলি পরিকল্পনাগুলো ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এই শব্দটি বিভিন্ন প্রস্তাবকে বোঝায়, যা প্রায়শই বাইবেলের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে বর্তমান সীমানার বাইরে ইসরায়েলের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। এর কিছু রূপ নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।

ইসরায়েল এটিকে তাদের আনুষ্ঠানিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করেনি, তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৫ সালের আগস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি এই দর্শনের সঙ্গে নিজের সংযোগ অনুভব করেন, যা আরব সরকারগুলোর তীব্র নিন্দা কুড়িয়েছিল।

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে একটি ‘অস্থিতিশীলতাকারী শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে না। গত ডিসেম্বরে সোমালিল্যান্ডকে তেল আবিবের স্বীকৃতি দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।

মোহামুদ বলেন, ইসরায়েল ছাড়া অন্য কোনো দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি, অথচ ওই অঞ্চলের নিজস্ব বাসিন্দারাও ইসরায়েলি উপস্থিতির সম্পূর্ণ বিরোধী।

সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় এবং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের স্বাধীনভাবে পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলি পদক্ষেপের আগ পর্যন্ত তারা জাতিসংঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি।

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাদের দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার। প্রধান শহরগুলোতে আল-শাবাবের কোনো উপস্থিতি নেই, ফলে এই গোষ্ঠীটির সোমালিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আল-শাবাব একটি সোমালি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা দুই হাজার দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামিক কোর্টস ইউনিয়ন থেকে আত্মপ্রকাশ করে এবং ২০১২ সালে আল-কায়েদার প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করে। তারা বছরের পর বছর ধরে সোমালিয়ার ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সোমালিয়ার দক্ষিণ ও মধ্য অংশের কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে এবং মোগাদিশু ও প্রতিবেশী কেনিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক হামলা চালিয়েছে।

পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলের বিষয়ে সাক্ষাৎকারে মোহামুদ বলেন, প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সঙ্গে সোমালিয়ার সম্পর্ক ভালো এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে সোমালি বন্দরগুলো ব্যবহারের জন্য যৌথ চুক্তির মাধ্যমে আদ্দিস আবাবার সমুদ্রের প্রবেশাধিকার অর্জনে মোগাদিশুর কোনো আপত্তি নেই।

১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইথিওপিয়া স্থলবেষ্টিত রয়েছে এবং বাণিজ্যের জন্য মূলত জিবুতির বন্দরগুলোর ওপর নির্ভর করে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আদ্দিস আবাবা সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সমুদ্র প্রবেশাধিকারের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যাকে সোমালিয়া তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায়। পরে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া উত্তেজনা প্রশমনে সম্মত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মায় বাল্কহেডে মিলল ৩০৫ বোতল ভারতীয় মদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


পদ্মায় বাল্কহেডে মিলল ৩০৫ বোতল ভারতীয় মদ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে নৌপুলিশ ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি জব্দ করেছে। অভিযানের সময় একটি বাল্কহেডও জব্দ করা হয়েছে, এবং এর চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে নড়িয়ার সুরেশ্বর লঞ্চঘাটের কাছে পদ্মা নদীতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, সুরেশ্বর নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করেন, যেখানে বাল্কহেডে বিপুল পরিমাণ মদ পরিবহন করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় এমভি তাসলিমা নামের বাল্কহেডে তল্লাশি চালিয়ে ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে আটক করা হয় বাল্কহেডের চালক মো. রফিক (৫০) এবং সহকারী মো. উজ্জল (২৯)-কে। তারা উভয়ই পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা। নৌপুলিশ পরে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাল্কহেডটিও জব্দ করে।

সুরেশ্বর নৌপুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাল্কহেডের চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এস ইসলাম। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের মুসলিম কর্মকর্তাদের সংগঠন তাকে নতুন পদে অভিনন্দন জানিয়েছে।

বর্তমানে মোহাম্মদ এস ইসলাম নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে পুলিশ বিভাগের ৬২তম প্রিসিঙ্কটের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দায়িত্বের আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে বেনসনহার্স্ট, ম্যাপলটন এবং বাথ বিচ।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রিসিঙ্কট পরিচিতিতে তাকে ওই এলাকার কমান্ডিং অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে ইসলামের কর্মজীবন ১৮ বছরের। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি আবাসন পুলিশ, টহল বিভাগ এবং গোয়েন্দা বিভাগসহ পুলিশের বিভিন্ন শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

পদোন্নতিকে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন তাকে ও তার পরিবারকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

তবে শুক্রবার (২ অক্টোবর) পর্যন্ত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ওয়েবসাইটে ইসলামের নামের পাশে আগের পদবি ‘ক্যাপ্টেন’ উল্লেখ ছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের মুসলিম কর্মকর্তাদের সংগঠন তার ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতির খবর জানিয়েছে।

পদোন্নতি কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ সংগঠনগুলোর প্রকাশিত ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে ড্রোন উড়িয়েও ২১ অপহৃত জেলের সন্ধান মেলেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


সুন্দরবনে ড্রোন উড়িয়েও ২১ অপহৃত জেলের সন্ধান মেলেনি

সুন্দরবনে তিনটি বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঁচ দিনেও সক্ষম হয়নি। কোস্টগার্ড আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে অপহৃত জেলে ও বনদস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে, এখনো সন্ধান মেলেনি।

এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনসহ উপকূলে মাছ ধরা সাধারণ জেলেরা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অপহৃতদের পরিবারের সদস্য ও মহাজনরা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিপণের দাবিতে তিনটি বনদস্যু বাহিনীর হাতে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। সুন্দরবনের আকাশে আধুনিক ড্রোন উড়িয়ে অপহৃত জেলেদের ও বনদস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি কোস্টগার্ড নৌপথেও চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌপুলিশ ও সুন্দরবন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদারের কথা জানানো হয়েছে।

গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমরাড়িয়া, ভদ্রা এবং ভাঙ্গা এলাকা থেকে বনদস্যু মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে মাছ ধরা অবস্থায় ২১ জেলেকে অপহরণ করে গভীর অরণ্যে নিয়ে যায়।

এ সময় দস্যুরা জেলেদের একটি ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেয়। সুন্দরবনে দুই দিনে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত এসব জেলেদের পরিবারের সদস্য বা তাদের মহাজনরা দস্যুদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রকাশ পেলে তাদের জীবনের জন্য বড় ধরনের হুমকি আসতে পারে, এমন শঙ্কায় তারা মিডিয়ায় কথা বলতে নারাজ।

শনিবার দিবাগত রাতে সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় ১৫ জেলেকে তুলে নেয় দস্যুরা। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে আরও ছয় জেলেকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দিনে ২১ জেলে অপহৃত হওয়ার ঘটনায় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, শনিবার দিবাগত রাতে সাগরসংলগ্ন সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরছিলেন জেলেরা। এ সময় দস্যুরা হামলা চালিয়ে বিভিন্ন নৌকা থেকে একজন করে ১৫ জেলেকে একটি ট্রলারে নিয়ে যায়।

ফরেস্ট রেঞ্জার আরও জানান, অপহৃত ১৫ জেলের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— খুলনার আরিফ (২৫), সগীর (৩৪), মিঠু (৩০) ও ফেরদাউস (২৮); বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকার ইব্রাহিম (৩৫), ইমরান (২৫), মোস্তাফিজুর (৩৫), আলামিন (২৮), হানিফ (৩৮) ও মারুফ (৪৯)।

তিনি বলেন, এসব জেলে বন বিভাগের অনুমতিপত্র নিয়ে চরপাটা, পোকা জাল ও বড়শি দিয়ে সুন্দরবনের খালে মাছ ধরছিলেন।

এদিকে, মোংলার এক জেলে মহাজন জানান, শনিবার দিবাগত রাতে করিম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে দুই জেলেকে অপহরণ করে। তারা হলেন মোংলার উলুকাটা চিলা এলাকার মাসুদ ইজারদার (২৮) ও ইমদাদুল ইজারদার (৩০)।

শরণখোলা এলাকার কয়েকজন জেলে মহাজন বলেন, দুই দিনে ২১ জেলে অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধার এবং সুন্দরবনে দস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, রবিবার বিকাল পর্যন্ত অপহৃত ২১ জেলের এখন কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কোস্টগার্ডসহ নৌপুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে এবং সংশ্লিষ্ট বন অফিসের সামনে থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের সকল স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের জেলেদের নিরাপত্তায় টহল বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেন জানান, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে কোস্টগার্ড। তারই আলোকে অপহৃত ২১ জেলে উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।

দস্যুদের অবস্থান শনাক্তে আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নৌপথেও চিরুনি অভিযান চলছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%