০২:০৭ পি.এম
সোমালিয়া ‘কোনো অবস্থাতেই’ ইসরায়েলি উপস্থিতি মেনে নেবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জড়িয়ে পড়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ।
তিনি সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
হাসান শেখ মোহামুদ বলেন, ইসরায়েল বারবার্বায় একটি নৌঘাঁটি স্থাপন ও বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর ও ইরানের কাছাকাছি যাওয়া। বারবার্বা হলো সোমালিল্যান্ডের এডেন উপসাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
সোমালিল্যান্ড, সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র, যা গত বছর ইসরায়েল কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছিল, কিন্তু মোগাদিশু এই অঞ্চলটিকে নিজেদের বলে দাবি করে। বারবার্বা কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত, যা সমুদ্রের ওপারে ইয়েমেনের মুখোমুখি। ইরানপন্থি হুথিরা এর আগে এ এলাকায় ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিল।
এ বিষয়ে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েলি পরিকল্পনাগুলো ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এই শব্দটি বিভিন্ন প্রস্তাবকে বোঝায়, যা প্রায়শই বাইবেলের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে বর্তমান সীমানার বাইরে ইসরায়েলের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। এর কিছু রূপ নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
ইসরায়েল এটিকে তাদের আনুষ্ঠানিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করেনি, তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৫ সালের আগস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি এই দর্শনের সঙ্গে নিজের সংযোগ অনুভব করেন, যা আরব সরকারগুলোর তীব্র নিন্দা কুড়িয়েছিল।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে একটি ‘অস্থিতিশীলতাকারী শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে না। গত ডিসেম্বরে সোমালিল্যান্ডকে তেল আবিবের স্বীকৃতি দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
মোহামুদ বলেন, ইসরায়েল ছাড়া অন্য কোনো দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি, অথচ ওই অঞ্চলের নিজস্ব বাসিন্দারাও ইসরায়েলি উপস্থিতির সম্পূর্ণ বিরোধী।
সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় এবং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের স্বাধীনভাবে পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলি পদক্ষেপের আগ পর্যন্ত তারা জাতিসংঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাদের দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার। প্রধান শহরগুলোতে আল-শাবাবের কোনো উপস্থিতি নেই, ফলে এই গোষ্ঠীটির সোমালিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আল-শাবাব একটি সোমালি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা দুই হাজার দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামিক কোর্টস ইউনিয়ন থেকে আত্মপ্রকাশ করে এবং ২০১২ সালে আল-কায়েদার প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করে। তারা বছরের পর বছর ধরে সোমালিয়ার ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সোমালিয়ার দক্ষিণ ও মধ্য অংশের কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে এবং মোগাদিশু ও প্রতিবেশী কেনিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলের বিষয়ে সাক্ষাৎকারে মোহামুদ বলেন, প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সঙ্গে সোমালিয়ার সম্পর্ক ভালো এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে সোমালি বন্দরগুলো ব্যবহারের জন্য যৌথ চুক্তির মাধ্যমে আদ্দিস আবাবার সমুদ্রের প্রবেশাধিকার অর্জনে মোগাদিশুর কোনো আপত্তি নেই।
১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইথিওপিয়া স্থলবেষ্টিত রয়েছে এবং বাণিজ্যের জন্য মূলত জিবুতির বন্দরগুলোর ওপর নির্ভর করে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আদ্দিস আবাবা সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সমুদ্র প্রবেশাধিকারের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যাকে সোমালিয়া তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায়। পরে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া উত্তেজনা প্রশমনে সম্মত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন