প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সুন্দরবনে তিনটি বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঁচ দিনেও সক্ষম হয়নি। কোস্টগার্ড আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে অপহৃত জেলে ও বনদস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে, এখনো সন্ধান মেলেনি।
এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনসহ উপকূলে মাছ ধরা সাধারণ জেলেরা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অপহৃতদের পরিবারের সদস্য ও মহাজনরা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিপণের দাবিতে তিনটি বনদস্যু বাহিনীর হাতে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। সুন্দরবনের আকাশে আধুনিক ড্রোন উড়িয়ে অপহৃত জেলেদের ও বনদস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি কোস্টগার্ড নৌপথেও চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌপুলিশ ও সুন্দরবন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদারের কথা জানানো হয়েছে।
গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমরাড়িয়া, ভদ্রা এবং ভাঙ্গা এলাকা থেকে বনদস্যু মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে মাছ ধরা অবস্থায় ২১ জেলেকে অপহরণ করে গভীর অরণ্যে নিয়ে যায়।
এ সময় দস্যুরা জেলেদের একটি ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেয়। সুন্দরবনে দুই দিনে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত এসব জেলেদের পরিবারের সদস্য বা তাদের মহাজনরা দস্যুদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রকাশ পেলে তাদের জীবনের জন্য বড় ধরনের হুমকি আসতে পারে, এমন শঙ্কায় তারা মিডিয়ায় কথা বলতে নারাজ।
শনিবার দিবাগত রাতে সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় ১৫ জেলেকে তুলে নেয় দস্যুরা। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে আরও ছয় জেলেকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দিনে ২১ জেলে অপহৃত হওয়ার ঘটনায় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, শনিবার দিবাগত রাতে সাগরসংলগ্ন সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরছিলেন জেলেরা। এ সময় দস্যুরা হামলা চালিয়ে বিভিন্ন নৌকা থেকে একজন করে ১৫ জেলেকে একটি ট্রলারে নিয়ে যায়।
ফরেস্ট রেঞ্জার আরও জানান, অপহৃত ১৫ জেলের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— খুলনার আরিফ (২৫), সগীর (৩৪), মিঠু (৩০) ও ফেরদাউস (২৮); বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকার ইব্রাহিম (৩৫), ইমরান (২৫), মোস্তাফিজুর (৩৫), আলামিন (২৮), হানিফ (৩৮) ও মারুফ (৪৯)।
তিনি বলেন, এসব জেলে বন বিভাগের অনুমতিপত্র নিয়ে চরপাটা, পোকা জাল ও বড়শি দিয়ে সুন্দরবনের খালে মাছ ধরছিলেন।
এদিকে, মোংলার এক জেলে মহাজন জানান, শনিবার দিবাগত রাতে করিম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে দুই জেলেকে অপহরণ করে। তারা হলেন মোংলার উলুকাটা চিলা এলাকার মাসুদ ইজারদার (২৮) ও ইমদাদুল ইজারদার (৩০)।
শরণখোলা এলাকার কয়েকজন জেলে মহাজন বলেন, দুই দিনে ২১ জেলে অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধার এবং সুন্দরবনে দস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, রবিবার বিকাল পর্যন্ত অপহৃত ২১ জেলের এখন কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কোস্টগার্ডসহ নৌপুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে এবং সংশ্লিষ্ট বন অফিসের সামনে থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের সকল স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের জেলেদের নিরাপত্তায় টহল বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেন জানান, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে কোস্টগার্ড। তারই আলোকে অপহৃত ২১ জেলে উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।
দস্যুদের অবস্থান শনাক্তে আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নৌপথেও চিরুনি অভিযান চলছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন