ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ডাকাত দলের ১৯ সদস্য আটক, উদ্ধার ২ ট্রাক


মুন্সীগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ডাকাত দলের ১৯ সদস্য আটক, উদ্ধার ২ ট্রাক

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের লুণ্ঠিত নির্মাণসামগ্রীর বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতার ও অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৯৯৯-এর মাধ্যমে গজারিয়া থানা পুলিশ খবর পায় যে, উপজেলার বালুবাকান্দি এলাকায় অবস্থিত একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে ৩-৪ জন সশস্ত্র ব্যক্তি প্রবেশ করে সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে একটি কনটেইনার কক্ষে আটকে রাখে। এরপর সাইটে থাকা বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী ট্রাকে করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইমরান আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে গজারিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য না মিললেও তারা মালামাল বহনকারী একটি হলুদ রঙের ট্রাক দেখার কথা জানান। সেই সূত্র ধরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দুটি ট্রাককে সন্দেহের তালিকায় এনে মালিকানা ও ভাড়ার তথ্য যাচাই করে একটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। পরে ট্রাকের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় ওই কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর ১৪ জুলাই গজারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়। একই দিন গ্রেফতার চারজনকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে ব্যবহৃত দ্বিতীয় ট্রাকটিও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয় এবং এর চালককে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে শ্রমিক ও স্থানীয় সহযোগীসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুটি গ্রুপের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির ঘটনাটি সংঘটিত হয়। শাওন, সজল ও রিয়াজুলসহ কয়েকজন মূল পরিকল্পনাকারী বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে সজল হোসেন ও রিয়াজুল ইসলাম ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। তারা ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে স্থানীয় সহযোগী ও শ্রমিকদের নিয়ে পরিকল্পনা করে নির্মাণসামগ্রী লুণ্ঠনের জন্য একাধিক ট্রাকের ব্যবস্থা করেন।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে ঢাকার তেজগাঁও থেকে একটি দল গজারিয়ায় এসে অবস্থান নেয়। পরে শাওন ও সজলের নেতৃত্বে একটি দল স্থানীয় সহযোগীদের নিয়ে কনস্ট্রাকশন সাইটে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে। এরপর বাইরে অপেক্ষমাণ ট্রাকগুলো সাইটে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

তদন্তে এখন পর্যন্ত ২৩ থেকে ২৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. মাইন উদ্দিন (৪৫), মো. ছোটন (৩০), মো. রিয়াজুল ইসলাম (২৬), মো. আবুল খায়ের (৪০), মো. শাহ আলম (২৩), মো. রনি শিকদার (৩৪), মো. মেহেদী হাসান (৩৮), মনোরঞ্জন দাস (২৭), মো. আল আমিন সানা (১৯), অলোকেশ মণ্ডল (৩৫), সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), মো. অলিউর রহমান (২৪), মো. জামাল (৪০), মো. মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), মো. সজল হোসেন (৩০), মো. আরিফ (৪০), মো. মিরাজ (৪০), মো. আলী (৪০) এবং মো. রফিক (৩৩)।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার ও জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক, চারটি ব্যাটারি, ১০টি ফ্যান, একটি পাওয়ার সাপ্লাই, দুটি মোটর, দুটি ডায়নামো, একটি ৩০ হর্স পাওয়ার মোটর, একটি চায়না ডিজেল ইঞ্জিন, একটি মিগ ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক রড কাটার মেশিন, একটি ডিবি বোর্ড, পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক পাম্প, একটি এসি মেশিন, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ১০ ফুট লম্বা একটি পাইপ এবং আনুমানিক সাড়ে পাঁচ টন লোহার বিভিন্ন সামগ্রী।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

পুলিশ বলছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার, অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে সংঘবদ্ধ ডাকাতির পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাগড়াছড়িতে বন্যাকবলিতদের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


খাগড়াছড়িতে বন্যাকবলিতদের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি প্রতিমন্ত্রীর

খাগড়াছড়ি, ১৯ জুলাই, ২০২৬ : ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা চালু রাখা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনসহ খাদ্য সহায়তা, কৃষি প্রণোদনা এবং এনজিও ঋণের কিস্তি স্থগিতের মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আজ রোববার, খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার চৌংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে চাল বিতরণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানটি হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করতে গিয়ে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।

তিন পার্বত্য জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী আজ খাগড়াছড়ি সফর করেছেন। সফরের সময় তিনি মহালছড়ির মাইসছড়ি বাজারে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বল্পমূল্যে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল ও আটা বিক্রয় কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ যেন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে সরকার জরুরি খাদ্য সহায়তা ও স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ শুরু করেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আগামী আগস্ট মাস থেকে এ ওএমএস কর্মসূচি জাতীয় পর্যায়ে চালু হবে।

তিনি জানিয়েছেন, সরকারের আগাম প্রস্তুতির কারণে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ইতোমধ্যে পার্বত্য তিন জেলায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৬০ লাখ টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ শুরু হয়েছে এবং গবাদিপশুর জন্য বিনামূল্যে খুরা রোগের টিকাও প্রদান করা হচ্ছে।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উল্লেখ করেছেন, যে সমস্ত পরিবার এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাসিক কিস্তি পরিশোধ করছে, তাদের অন্তত এক মাসের কিস্তি ও সুদ মওকুফের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি এছাড়াও বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যাকবলিত ও প্রান্তিক জনগণের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার দল-মত নির্বিশেষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার জনগণকে দেশের প্রকৃত মালিক হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। পার্বত্য এলাকার উন্নয়নেও সরকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত 'রেইনবো জাতি' গঠনের লক্ষ্যে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি-সংসদীয় আসনের সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঞা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফলিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, রিজিয়ন কম্যান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পরে, প্রতিমন্ত্রী খাগড়াছড়ি জেলা সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্বাভাবিকভাবে পেট কেটে অস্ত্রোপচার, ফরিদপুরে কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


অস্বাভাবিকভাবে পেট কেটে অস্ত্রোপচার, ফরিদপুরে কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু

ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করার পরে তার মৃত্যু ঘটেছে। পরিবার দাবি করেছে, চিকিৎসকের অবহেলা এবং তাড়াহুড়ো নিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পেট কেটে ফেলার কারণে সে মারা গেছে।

নিহত আয়েশা আফরিন ফরিদপুর জেলা শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তিনি সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের কালিখোলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী লিটু মাতুব্বরের প্রথম সন্তান।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে অবস্থিত ‘আলজারা স্পেশালাইজড হসপিটাল’ নামক বেসরকারি হাসপাতালে ওই ছাত্রীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরদিন শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নিহতের মা আলেয়া বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আয়েশার পেটে ব্যথা হলে তাকে শহরের ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। সেখানে চিকিৎসক জানান, আয়েশার ছোট আকারের অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে, চাইলে অস্ত্রোপচার করাতে পারেন। এরপর এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তারা আলজারা হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর ডা. আতিকুল আহসান আসেন।

আলেয়া বেগম আরও অভিযোগ করেন, 'ডাক্তার এসেই বলেন মেয়ের পেটের ভেতরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস ছড়িয়ে পড়েছে। তখন হাসপাতাল থেকে নতুন করে আল্ট্রা করার কথা বলা হলে টেকনিশিয়ান না থাকায় এটি করা সম্ভব হয়নি। ডাক্তারকে বিষয়টি জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, 'আমি চলে যাব; আপনারা করলে করেন, না করলে না করেন। আমার অনেক রোগী আছে।' অ্যাপেন্ডিসাইটিস ফেটে যাওয়ার কথায় আমরা ভয় পেয়ে যাই এবং অপারেশন করতে বলি।'

তিনি আরও জানান, অপারেশনের এক পর্যায়ে ডাক্তার এসে জানান নাড়িভুঁড়ি জড়িয়ে গেছে। পরে তারা গিয়ে দেখেন, মেয়ের নাভি থেকে বুক পর্যন্ত কেটে সেলাই করা হয়েছে এবং তখন তার জ্ঞান ছিল না। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শহরের রেজোয়ান মোল্যা হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং শনিবার সকালে তিনি মারা যান।

মেয়ের মৃত্যুর খবর আসার পর গত রাতে ১১টায় সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন বাবা লিটু মাতুব্বর। নিহতের ফুফাতো ভাই মামুন হোসেন জানান, মেয়েটির দাফনের পরে তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে অবশ্যই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন।

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল একই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অস্ত্রোপচারের পর মিম (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত মিমের গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে ফেলায় তার মৃত্যু ঘটে। তখন তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসানের দাবি, সে সময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসানের সঙ্গে সরাসরি এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে আলজারা স্পেশালাইজড হসপিটালের চেয়ারম্যান শামীম আশরাফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'ওই রোগীর নাড়ির ভেতরে ছিদ্র ছিল এবং তা দিয়ে ময়লা ছড়িয়ে পচন ধরেছিল। যার কারণে পেট ওপেন করে পরিষ্কার করা হয়। বিষয়টি পূর্বেই পরিবারকে জানানো হয়েছিল এবং মা ও ফুফাসহ তিনজন স্বজন অস্ত্রোপচারের সম্মতিপত্রে সই করেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগী শকে চলে যাওয়ায় আইসিইউর প্রয়োজনে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।'

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন, 'কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনে ডেপুটি সিভিল সার্জন বদরুদ্দোজা টিটুকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূর্বে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় এবারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৬০ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ আটক করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


৩৬০ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ আটক করা হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অভিযান চালিয়ে ৩৬০ কেজি গাঁজা, একটি পিকআপ এবং দুটি মোবাইল ফোনসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পিকআপ থেকে নেমে আরও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের হাজীপুর এলাকায় কদমতলী-সয়দাবাদ সড়কে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, সহকারী পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) মো. নাজমুস সাকিবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দলের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ৩৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তির নাম মো. শাকিল (৩০), যিনি কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের কালতা দিঘীরপাড় গ্রামের মো. শফিক ও রুবি আক্তারের ছেলে।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা গাঁজা অবৈধভাবে পরিবহনের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় পিকআপে থাকা আরও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, উদ্ধার হওয়া গাঁজা, পিকআপ এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদে নামাজ পড়াকালীন মুসল্লির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ পি.এম


মসজিদে নামাজ পড়াকালীন মুসল্লির মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নামাজ পড়ার সময় এক মুসল্লির মৃত্যু ঘটে।

রোববার (১৯ জুলাই) আসরের নামাজের সময় পৌর এলাকার দরগাহ কলামহলা জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির নাম তারা মিয়া (৬৫)। তিনি পৌর এলাকার বাগরাইট গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, তারা মিয়া প্রতিদিনের মতো জামাতের সঙ্গে আসরের নামাজ আদায় করছিলেন।

নামাজ চলাকালীন হঠাৎ তিনি লুটিয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দরগাহ কলামহলা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. জুনায়েদ আহমেদ বলেন, তারা মিয়া মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন এবং আসরের নামাজ পড়ার সময় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%