শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩১ এম
মৃত্যু দ্বারা সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ৯৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ক্ল্যারেন্স পারভিস এই সত্যটি প্রমাণ করেছেন। ১৯৪৮ সালে ক্যারোলিনের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে এবং পরবর্তী বছর ১৯৪৯ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ৬৩ বছরের সুখী দাম্পত্য জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার রেইডসভিলের ‘স্মিথস’ রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়া তাদের জন্য একটি প্রিয় রুটিন হয়ে উঠেছিল। তবে স্ত্রীর মৃত্যুর পরও তিনি আজও একই টেবিলে খেতে বসেন, সঙ্গে স্ত্রীর একটি ছবির উপস্থিতি নিয়ে।
দুজনে একসঙ্গে গল্প করতে করতে খাবার উপভোগ করা ছিল তাদের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিক। ২০১৩ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর ক্ল্যারেন্স একাকীত্বের শিকার হন। কিন্তু স্ত্রীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং দীর্ঘদিনের স্মৃতি তিনি কোনোভাবেই ভুলতে পারেননি। তাই তিনি এখনো প্রিয় রেস্তোরাঁয় খেতে বসে টেবিলের ওপাশে স্ত্রীর একটি বাঁধানো ছবি রেখে দেন। ক্ল্যারেন্সের বিশ্বাস, শারীরিকভাবে স্ত্রীর অনুপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, আত্মিকভাবে ক্যারোলিন তার পাশে আছেন।
এটি শুধু রেস্তোরাঁর বিষয় নয়, স্ত্রীর প্রতি তার গভীর অনুরাগ তাকে প্রতিদিন সকালে ক্যারোলিনের সমাধিতে যাওয়ার জন্যও উদ্বুদ্ধ করে। তিনি দিনের মধ্যে একাধিকবার সেখানে গিয়ে স্ত্রীর কাছাকাছি থাকার অনুভূতি অনুভব করেন। ২০১৭ সালে তাদের এই হৃদয়স্পর্শী গল্পটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে লাখো মানুষের হৃদয় জয় করে। ক্ল্যারেন্স পারভিস প্রমাণ করেছেন, প্রিয় মানুষটি চলে গেলেও, ছোট ছোট স্মৃতি এবং অভ্যাসের মাধ্যমে সত্যিকারের ভালোবাসা চিরকাল বেঁচে থাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালির মধ্যে প্রচলিত। কিছু মানুষ আগের রাতের অবশিষ্ট ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি বা সবজি নিয়ে দিন শুরু করেন। তবে প্রশ্ন হলো, সকালে ভাত খাওয়ার এই অভ্যাস কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, নাকি এটি শরীরে শক্তি জোগানোর একটি কার্যকর উপায়?
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথশটসের প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ নেহা পাঠানিয়া উল্লেখ করেছেন, পরিমিত পরিমাণে এবং সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে সকালের নাশতায় ভাত খাওয়া যেতে পারে। তবে ভাতের সঙ্গে সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সকালে ভাত খাওয়ার উপকারিতা
ভাত হল কার্বোহাইড্রেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এটি শরীরে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। সকালের নাশতায় ভাত খেলে দিনের শুরুতে দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া সম্ভব।
এছাড়া, ভাতের সঙ্গে মটরশুঁটি, গাজর, শিম, পালংশাক বা অন্যান্য সবজি যোগ করলে খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়ানো সম্ভব। ডিম, মাছ বা ডালের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও নাশতায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে খাবারটি আরো সুষম হয়ে ওঠে।
শুধু ভাত খাওয়াই কি যথেষ্ট?
সকালের নাশতায় শুধুমাত্র ভাত খাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার রাখা অধিকতর উপকারী। কারণ, শরীরের সুস্থতার জন্য কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও প্রয়োজন।
সাদা ভাতের পাশাপাশি লাল চাল বা কম প্রক্রিয়াজাত চাল বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব চালের পুষ্টিগুণ ও আঁশের পরিমাণ চালের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে যা মনে রাখা জরুরি
ভাত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। বিশেষ করে সাদা ভাত দ্রুত হজম হওয়ার কারণে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভাতের পরিমাণ এবং সঙ্গে কী খাবার খাচ্ছেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে অতিরিক্ত ভাত খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। তবে ভাত একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির শারীরিক চাহিদা, দৈনন্দিন কাজের ধরন এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভাতের উপযুক্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
রাতে ভাত খাওয়া কি ক্ষতিকর?
রাতে ভাত খাওয়া উচিত নয় এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও, শুধুমাত্র রাতের বেলা ভাত খেলেই শরীরের ক্ষতি হয়, এমন নয়। দিনের কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে, তার পাশাপাশি মোট খাদ্যগ্রহণ, খাবারের পরিমাণ এবং শারীরিক সক্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, সকালে, দুপুরে কিংবা রাতে যেকোনো সময় ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তাহলে সকালে ভাত খাওয়ার অভ্যাস কি বাদ দিতে হবে?
পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, সকালের নাশতায় পরিমিত ভাত খাওয়া যেতে পারে। ভাতের সঙ্গে ডিম, মাছ, ডাল বা সবজি রাখলে খাবারটি আরো পুষ্টিকর হতে পারে।
অতএব, সকালে ভাত খেলেই শরীরের ক্ষতি হয় এমন ধারণার ভিত্তি নেই। বরং কতটা ভাত খাওয়া হচ্ছে, খাবারের সঙ্গে কী রয়েছে এবং ব্যক্তির শারীরিক চাহিদা কেমন, সেদিকেই নজর দেওয়া উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে আদা ও রসুনের দাম। দেশি নতুন আদার কেজি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা, আর দেশি রসুনের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। একই সঙ্গে গাজর, কাঁকরোল, শিম, করলা ও কচুরলতির মতো কিছু সবজির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে টমেটো, বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়স ও ধনেপাতার দাম কমেছে। অন্যদিকে, মাছ, গরু-খাসির মাংস, ডিম, চাল এবং অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নগরীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে এ চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের মতে, আদা ও রসুনের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসন বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।
বাজারে দেশি নতুন আদা প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, আমদানি করা আদা ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে দেশি নতুন আদার দাম ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, আমদানি করা আদার দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি।
কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কয়েকটির দাম কমেছে। টমেটো ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, গাজর ১৫০ থেকে ১৬০, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০, ঝিঙে ৫০ থেকে ৬০, ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০ এবং মূলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আসা বাঁধাকপির পিসের দাম কমে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া চালকুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫ থেকে ৩০, দুধকুষি ৩০ থেকে ৪০, সজনে ডাঁটা ১৮০ থেকে ২০০, শসা ৪০ থেকে ৫০ এবং লেবুর হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা। চিকন বেগুন ৪০ থেকে ৭০, গোল বেগুন ৮০ থেকে ১০০, পটল ৪০ থেকে ৫০, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ এবং ঢ্যাঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শিমের দাম বেড়ে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ এবং কচুরলতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। বরবটি ৫০ থেকে ৬০, লাউ প্রতি পিস ২৫ থেকে ৩০ এবং কচুরমুখী ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকায়।
মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০, শুকনা মরিচ ৪৫০ থেকে ৫০০, কার্ডিনাল আলু ২০ থেকে ২৫, দেশি সাদা ও বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ২৫ থেকে ৩০, শিল আলু ৫০ থেকে ৫৫ এবং ঝাউ আলু ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ ৯০ থেকে ১০০ এবং পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ধাপ বাজারের সবজি বিক্রেতা আকমাল হোসেন জানিয়েছেন, দুই-একটি সবজির দাম বাড়া-কমা করলেও অধিকাংশের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আদা ও রসুনের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম বেড়েছে। বাজারে পুরোনো আদা-রসুনের সরবরাহ কমে গেছে। নতুন করে কৃষকেরা চাষ শুরু করেছেন।
মাছ ও মাংসের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি ৩০০ থেকে ৩১০, পাকিস্তানি হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০, পাকিস্তানি লেয়ার ৩৪০ থেকে ৩৫০ এবং দেশি মুরগি ৫৪০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭২০ থেকে ৭৫০ এবং খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। ডিমের হালি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা।
মাছের মধ্যে রুই ২৫০ থেকে ৪৫০, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০, কই ২০০ থেকে ৫০০, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, কার্পু ২০০ থেকে ৩০০, পাঙাশ ১৫০ থেকে ২০০, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২২০, কাতলা ৩০০ থেকে ৫০০, বাটা ১৫০ থেকে ২৫০, শিং ৩০০ থেকে ৫০০ এবং সিলভার কার্প ১২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ও প্রজাতিভেদে গছিমাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
নিত্যপণ্যের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৫ থেকে ২১০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। চিকন মসুর ডাল ১৬০ থেকে ১৮০, মাঝারি মসুর ডাল ১১০, চিকন মুগডাল ১৬০ থেকে ১৭০, বুটের ডাল ১১০ থেকে ১২০, খোলা চিনি ১১০ থেকে ১১৫ এবং ছোলাবুট ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট আটা ৬০ থেকে ৬৫, খোলা আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭৫ থেকে বেড়ে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ব্যবসায়ী জোসেফ উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রায় সব ধরনের চালের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। স্বর্ণা মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫০, স্বর্ণা চিকন ৫২ থেকে ৫৫, বিআর-২৮ চাল ৬০ থেকে ৬৫, বিআর-২৯ চাল ৫৫ থেকে ৬০, জিরাশাইল ৫৫ থেকে ৬০, মিনিকেট ৮০ থেকে ৮৫ এবং নাজিরশাইল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা আতপ চাল ২০০ থেকে ২১০ টাকা এবং প্যাকেট চাল ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রংপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান জানিয়েছেন, বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কালীগঞ্জে একটি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করার পর থানায় ফেরার সময় অজ্ঞাত কাভার্ডভ্যানের চাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) এবং এক স্থানীয় বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান (৩০) এবং তুমুলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে রফিক মোল্লা (৪৫)। রফিক মোল্লা কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে এসআই জাবেদ ওমর (২৮) ও গাড়িচালক রাব্বি (২৮) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জাবেদ ওমর বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তুমুলিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ওয়াহিদ মিয়াকে (৪৫) আটক করার জন্য বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি পুলিশ টিম অভিযান শুরু করে। পরে তাকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। ওয়াহিদ ওই এলাকার মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে।
ওয়াহিদকে নিয়ে থানায় ফেরার সময় কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়ি থামিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে রফিক মোল্লার সঙ্গে কথা বলছিলেন এসআই মিজানুর রহমান, জাবেদ ওমর এবং রাব্বি। এ সময় টঙ্গী-কালীগঞ্জ-ঘোড়াশালমুখী একটি অজ্ঞাত কাভার্ডভ্যান তাদের চাপা দেয়। এতে এসআই মিজানুর রহমানকে টেনে নিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় গাড়িটি।
পরে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে রাত ৩টা ৫০ মিনিটে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক রফিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মিজানুর রহমান এবং জাবেদ ওমরকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে চিকিৎসকেরা মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, "দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। চাপা দেওয়া গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নাম পরিবর্তনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন। এবার তার দৃষ্টি আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব থেকে সরে এসেছেন। তার দাবী, এর পেছনে রয়েছে গুগলের আপত্তি।
বুধবার সাউথ ক্যারোলিনার ক্লেমসনে এক সমাবেশে ট্রাম্প বক্তব্য রাখছিলেন। সেখানে তিনি পূর্বে পরিবর্তিত নামগুলোর একটি তালিকা উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা হ্রদ আছে। একটা উপসাগরও আছে। এবার আমাদের দরকার একটা নদী আর একটা মহাসাগর।’
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উপসাগর আছে। সুন্দর একটা হ্রদও আছে। কেউ একজন আমাকে বলল, নদী দরকার। হ্যাঁ, আমাদের নদী দরকার। আমাদের মহাসাগর দরকার।’
নদীর নাম নিয়ে ট্রাম্পের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের হাডসন নদী বা মিসিসিপি নদীর নাম পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তার নেই। মহাসাগরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার মাত্র দুটি মহাসাগর পছন্দ। আটলান্টিক আর প্রশান্ত। এই দুটি ছাড়া অন্য কোনো মহাসাগরে আমি ট্রাম্প বা আমেরিকা নাম বসাব না।’
এরপর তিনি গুগলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আটলান্টিক নিয়ে সত্যিই ভেবেছিলাম। আমি গুগল ম্যাপসকে ফোন করি। হ্রদের (আমেরিকা) ব্যাপারে তারা খুব ভালো সহযোগিতা করেছিল। আমি কথা বলি এক মেধাবী মানুষের সঙ্গে, সুন্দর (পিচাই)। তিনি পুরো গুগল চালান। তিনি খুবই মেধাবী মানুষ।’
ট্রাম্পের দাবি, তিনি গুগলকে প্রশ্ন করেছিলেন তারা এটি সামলাতে পারবে কি না। তিনি মজা করে বলেন, উপসাগরের নাম পরিবর্তনের ধাক্কা গুগল ম্যাপস এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই তারা তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, ‘না, না, না, এবার আমি এটা করব না, (পিচাই) বলল। সে বলল, মহাসাগর আলাদা জিনিস, স্যার। এগুলো অনেক দেশ জুড়ে আছে। দয়া করে আমাদের এটা করতে বলবেন না। তাই আমি সম্ভবত থেমে যাব।’
শেষে তিনি সমর্থকদের মতামত জানতে চান। এরপর বলেন, ‘আমার মনে হয় আটলান্টিক মহাসাগর আটলান্টিকই থাক।’
তবে এই কথোপকথন সত্যিই হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। পুরো কাহিনি ট্রাম্পের মুখের কথা। গুগল বা সুন্দর পিচাইয়ের কোনো মন্তব্য এই খবরে নেই।
১০ অক্টোবর টেনেসির ক্লার্কসভিলের সমাবেশেও ট্রাম্প একই কথা বলেছিলেন। তখন তিনি আটলান্টিক বা প্রশান্ত, যেকোনো একটির নাম পরিবর্তনের কথা তোলেন। সম্ভাব্য নাম হিসেবে তিনি বলেন ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকাসের মহাসাগর’।
সেদিন তিনি বলেন, ‘না, আমাদের করতেই হবে। আমি যাওয়ার আগে আমাদের একটা মহাসাগর থাকা উচিত। আর একটা দারুণ নদীও দরকার।’ হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার কথাও তিনি বারবার বলেছেন।
আগের নাম বদল
গত বছর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মেক্সিকো উপসাগর এখন থেকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে পরিচিত হবে। এ বছর আগস্টে তিনি অন্টারিও হ্রদের নাম ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দেন। তখন আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছিল।
গুগল ম্যাপস ও অ্যাপল ম্যাপস দুটি পরিবর্তনই মেনে নিয়েছে। কিন্তু ম্যাপকোয়েস্ট এবং কানাডার সব ফেডারেল ও প্রাদেশিক মানচিত্র আসল নামই রেখেছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প নিউ মেক্সিকো রাজ্যের নাম ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার পরামর্শও দিয়েছেন। তার যুক্তি, নতুন নামে রাজ্যটির ‘মর্যাদা ও মূল্য অনেক বাড়বে’।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ