প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে আদা ও রসুনের দাম। দেশি নতুন আদার কেজি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা, আর দেশি রসুনের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। একই সঙ্গে গাজর, কাঁকরোল, শিম, করলা ও কচুরলতির মতো কিছু সবজির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে টমেটো, বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়স ও ধনেপাতার দাম কমেছে। অন্যদিকে, মাছ, গরু-খাসির মাংস, ডিম, চাল এবং অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নগরীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে এ চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের মতে, আদা ও রসুনের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসন বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।
বাজারে দেশি নতুন আদা প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, আমদানি করা আদা ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে দেশি নতুন আদার দাম ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, আমদানি করা আদার দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি।
কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কয়েকটির দাম কমেছে। টমেটো ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, গাজর ১৫০ থেকে ১৬০, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০, ঝিঙে ৫০ থেকে ৬০, ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০ এবং মূলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আসা বাঁধাকপির পিসের দাম কমে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া চালকুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫ থেকে ৩০, দুধকুষি ৩০ থেকে ৪০, সজনে ডাঁটা ১৮০ থেকে ২০০, শসা ৪০ থেকে ৫০ এবং লেবুর হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা। চিকন বেগুন ৪০ থেকে ৭০, গোল বেগুন ৮০ থেকে ১০০, পটল ৪০ থেকে ৫০, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ এবং ঢ্যাঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শিমের দাম বেড়ে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ এবং কচুরলতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। বরবটি ৫০ থেকে ৬০, লাউ প্রতি পিস ২৫ থেকে ৩০ এবং কচুরমুখী ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকায়।
মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০, শুকনা মরিচ ৪৫০ থেকে ৫০০, কার্ডিনাল আলু ২০ থেকে ২৫, দেশি সাদা ও বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ২৫ থেকে ৩০, শিল আলু ৫০ থেকে ৫৫ এবং ঝাউ আলু ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ ৯০ থেকে ১০০ এবং পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ধাপ বাজারের সবজি বিক্রেতা আকমাল হোসেন জানিয়েছেন, দুই-একটি সবজির দাম বাড়া-কমা করলেও অধিকাংশের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আদা ও রসুনের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম বেড়েছে। বাজারে পুরোনো আদা-রসুনের সরবরাহ কমে গেছে। নতুন করে কৃষকেরা চাষ শুরু করেছেন।
মাছ ও মাংসের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি ৩০০ থেকে ৩১০, পাকিস্তানি হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০, পাকিস্তানি লেয়ার ৩৪০ থেকে ৩৫০ এবং দেশি মুরগি ৫৪০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭২০ থেকে ৭৫০ এবং খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। ডিমের হালি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা।
মাছের মধ্যে রুই ২৫০ থেকে ৪৫০, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০, কই ২০০ থেকে ৫০০, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, কার্পু ২০০ থেকে ৩০০, পাঙাশ ১৫০ থেকে ২০০, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২২০, কাতলা ৩০০ থেকে ৫০০, বাটা ১৫০ থেকে ২৫০, শিং ৩০০ থেকে ৫০০ এবং সিলভার কার্প ১২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ও প্রজাতিভেদে গছিমাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
নিত্যপণ্যের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৫ থেকে ২১০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। চিকন মসুর ডাল ১৬০ থেকে ১৮০, মাঝারি মসুর ডাল ১১০, চিকন মুগডাল ১৬০ থেকে ১৭০, বুটের ডাল ১১০ থেকে ১২০, খোলা চিনি ১১০ থেকে ১১৫ এবং ছোলাবুট ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট আটা ৬০ থেকে ৬৫, খোলা আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭৫ থেকে বেড়ে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ব্যবসায়ী জোসেফ উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রায় সব ধরনের চালের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। স্বর্ণা মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫০, স্বর্ণা চিকন ৫২ থেকে ৫৫, বিআর-২৮ চাল ৬০ থেকে ৬৫, বিআর-২৯ চাল ৫৫ থেকে ৬০, জিরাশাইল ৫৫ থেকে ৬০, মিনিকেট ৮০ থেকে ৮৫ এবং নাজিরশাইল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা আতপ চাল ২০০ থেকে ২১০ টাকা এবং প্যাকেট চাল ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রংপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান জানিয়েছেন, বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন