মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৫ পি.এম
বিশ্বের অধিকাংশ বিলিয়নিয়ারের কাছে সুপারইয়টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো বিশাল মাস্টার স্যুট। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের ৪৩৯ ফুট দীর্ঘ বিলাসবহুল ইয়ট ‘সেরিন’-এ সবচেয়ে চমকপ্রদ শয়নকক্ষটি মূল স্যুটের তিন ডেক নিচে অবস্থিত। এই কক্ষটির নাম ‘সি কেবিন’। এটি আকার কিংবা চাকচিক্য দিয়ে নজর কাড়ার জন্য তৈরি হয়নি। বরং ইয়ট সমুদ্রে চলার সময় যাত্রী যাতে আরামে ঘুমাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সমুদ্রযাত্রায় অসুস্থতাবোধ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণেই ‘সেরিন’-এর এই বিশেষ কেবিনটি আলোচনায় এসেছে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া হোক কিংবা দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, ইয়টের অনেক ওপরে থাকা বিশাল মালিকের স্যুটের তুলনায় এই বালিনিজ ধাঁচের কক্ষটি অপেক্ষাকৃত শান্ত ও স্থির জায়গা হিসেবে কাজ করে। এখানে নকশার মূল লক্ষ্য ছিল চারপাশের দৃশ্য দেখানো নয়, বরং উত্তাল সমুদ্রে ইয়টের দুলুনি যতটা সম্ভব কম অনুভব করা।
বিজ্ঞান মাথায় রেখে তৈরি
‘সেরিন’-এর দ্বিতীয় ডেকের মাঝামাঝি, ডান পাশের অংশে এই ‘সি কেবিন’ অবস্থিত। ইয়টের এই অবস্থানটিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নৌযানের নকশাবিদ্যার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঢেউয়ের বিপরীতে চলার সময় ইয়টের সামনের অংশ সবচেয়ে বেশি ওঠানামা করে। অন্যদিকে পেছনের অংশে ইয়টের দুলুনি, কম্পন এবং প্রপেলারের কারণে তৈরি নড়াচড়া বেশি অনুভূত হয়। একই সঙ্গে ওপরের ডেকগুলো ইয়ট দুললে তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরে ওঠানামা করে।
এর বিপরীতে ইয়টের নিচের দিকে এবং মাঝামাঝি অংশে থাকা কেবিনটি নৌযানের দোলা ও ওঠানামার স্বাভাবিক কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকে। ফলে সেখানে নড়াচড়া তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হয়। ‘সেরিন’-এ অত্যাধুনিক স্ট্যাবিলাইজার বা দুলুনি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে, যা ইয়টের পাশ থেকে পাশের দোলা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তবে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় কোনো স্ট্যাবিলাইজারই সব ধরনের নড়াচড়া পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না। সমুদ্রযাত্রায় অসুস্থতাবোধ করেন এমন কারও জন্য নিচের দিকে ও মাঝামাঝি অবস্থানে ঘুমানো তাই বেশ কার্যকর হতে পারে।
বালিনিজ আবহে শান্ত শয়নকক্ষ
কেবিনটির নকশায় রয়েছে পরিমিত বিলাসিতা। পেছনের দিকে মুখ করা একটি ডাবল বেড ঘরের মূল আকর্ষণ। এর ওপরের ছাদটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ঐতিহ্যবাহী বালিনিজ খড়ের ছাদের নিচের অংশের মতো দেখায়। মাটির কাছাকাছি রঙের উপকরণ ও আধুনিক বালিনিজ ধাঁচের সাজসজ্জা পুরো কক্ষটিকে শান্ত একটি সৈকত অবকাশকেন্দ্রের আবহ দিয়েছে। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি হেডবোর্ড ঘুমানোর জায়গাকে খোলা ধরনের বাথরুম থেকে আলাদা করেছে।
কেবিনটির অন্যতম আকর্ষণ হলো বড় একটি শেল দরজা। এটি ভাঁজ করে নামিয়ে দিলে একটি ব্যক্তিগত জলপারের বারান্দায় পরিণত হয়। ইয়ট যখন শান্ত সমুদ্রে নোঙর করা থাকে, তখন ঘুম থেকে উঠে প্রায় সমুদ্রপৃষ্ঠের সমান উচ্চতায় দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়। তবে ইয়ট চলার সময় বারান্দাটি বন্ধ রাখা হয়। অর্থাৎ এটি মূলত সমুদ্রে চলার সময় আরামে ঘুমানোর জন্য তৈরি একটি ব্যবহারিক শয়নকক্ষ, নিছক বিলাসী অবকাশযাপনের জায়গা নয়।
ইয়টটির ডিজাইনার পাসকেল রেমন্ড একসময় কক্ষটিকে ইয়টের অন্যতম আকর্ষণীয় ধারণা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার মতে, এর নকশায় মাটির সঙ্গে এক ধরনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। কক্ষটির অবস্থানও বেশ সুবিধাজনক। এর ঠিক পাশেই রয়েছে অতিথিদের রান্নাঘর। ফলে রাতে হালকা কিছু খেতে চাইলে আলাদা করে কর্মীদের ডাকতে হয় না কিংবা কয়েক ডেক ওপরে-নিচে যেতে হয় না।
কেবিনের পেছনেই অল্প দূরত্বে রয়েছে স্পা ও বিচ ক্লাব। আর একটি ব্যক্তিগত লিফটের মাধ্যমে কক্ষটি সরাসরি পঞ্চম ডেকে থাকা মূল মালিকের স্যুটের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। অর্থাৎ মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য এখানে কার্যত দুটি মাস্টার বেডরুমের ব্যবস্থা রয়েছে। নোঙর করা অবস্থায় আরাম ও চারপাশের দৃশ্য উপভোগের জন্য রয়েছে বিশাল ও খোলামেলা মূল স্যুট। আর ইয়ট সমুদ্রে চলার সময় শান্তিতে ঘুমানোর জন্য রয়েছে নিচের এই নিরিবিলি ‘সি কেবিন’।
ধারণাটি নতুন নয়, তবে ‘সেরিন’ ব্যতিক্রম। ইয়টের নিচের দিকে মাঝামাঝি অংশে এ ধরনের ‘সি কেবিন’ রাখার ধারণা একেবারে নতুন নয়। বড় আকারের কয়েকটি ইয়টেই নড়াচড়া কম অনুভব করার জন্য হালের মাঝামাঝি নিচের ডেকগুলোতে এ ধরনের কেবিন রাখা হয়েছে।
তবে ‘সেরিন’-কে আলাদা করেছে এর বিস্তৃত বালিনিজ সাজসজ্জা, সরাসরি সমুদ্রের সঙ্গে কক্ষটির সংযোগ এবং মালিকের ব্যক্তিগত স্যুটের সঙ্গে এর সরাসরি যোগাযোগ।
ভাসমান প্রাসাদ যেন ‘সেরিন’
ইতালির ফিনকান্তিয়েরি নির্মিত ‘সেরিন’ ২০১১ সালে পানিতে নামানো হয়। এটি ইতালিতে নির্মিত সবচেয়ে বড় ইয়টগুলোর একটি। ইয়টটির দৈর্ঘ্য ৪৩৯ ফুট বা ১৩৪ মিটার এবং প্রস্থ ৬০ দশমিক ৭ ফুট বা ১৮ দশমিক ৫ মিটার। এস্পেন ওইনোর নকশা করা বাইরের অংশে রয়েছে সাতটি বিশাল ডেক। আর রেমন্ড ল্যাংটন ডিজাইন এর ভেতরের অংশ তৈরি করেছে। বিশাল পরিসরের পাশাপাশি ইয়টের ভেতরে তুলনামূলক ছোট ও ব্যক্তিগত আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আটটি এমটিইউ ৪০০০ সিরিজের ইঞ্জিনে চলে ‘সেরিন’। ইয়টটির স্বাভাবিক চলার গতি প্রায় ১৫ নট এবং সর্বোচ্চ গতি ২০ নট। এতে সর্বোচ্চ ২৪ জন অতিথির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে ১২টি কেবিন। আর তাদের সেবা দিতে কাজ করেন ৫২ জন কর্মী। এসব তথ্য চার্টার ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হেলিপ্যাড থেকে সাবমেরিন হ্যাঙ্গার
‘সেরিন’-এর সুযোগ-সুবিধার তালিকাও বেশ দীর্ঘ। ইয়টে রয়েছে দুটি হেলিকপ্টার অবতরণ ও ওঠানামার জায়গা। এর একটি প্রয়োজন অনুযায়ী সুইমিংপুল কিংবা নাচের মঞ্চে রূপান্তর করা যায়। এতে রয়েছে সাবমেরিন রাখার হ্যাঙ্গার। রয়েছে ‘টোয়েন্টি থাউজ্যান্ড লিগস আন্ডার দ্য সি’ উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত পানির নিচের ‘নিমো রুম’ও।
এ ছাড়া ইয়টে রয়েছে গম্বুজ আকৃতির ফায়ারপ্লেসসহ একটি পর্যবেক্ষণ লাউঞ্জ, সম্মেলনকক্ষ, পিয়ানো লাউঞ্জ, খোলা আকাশের নিচে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা, বিচ ক্লাব, বিউটি সেন্টার, হাম্মাম, সনা, স্টিম রুম এবং একাধিক স্পা পুল।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যবস্থাগুলোর একটি হলো ইয়টের বিখ্যাত ‘স্নো রুম’।
ইয়টের ভেতরেই তুষারপাত!
‘সেরিন’-এর স্নো রুমের তাপমাত্রা প্রায় ১২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে বা প্রায় মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনা যায়। সেখানে ছাদ থেকে সত্যিকারের তুষার পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অতিথিরা চাইলে এই বরফশীতল কক্ষ থেকে সরাসরি সনা, হাম্মাম কিংবা উষ্ণ স্পা পুলে যেতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যের মতো উষ্ণ অঞ্চলে চলাচলকারী একটি ইয়টের জন্য গরম থেকে বাঁচার এটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে ‘সেরিন’-এর বিলাসিতা চোখ ধাঁধানো। তবে ইয়টটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এর গোপন ‘সি কেবিন’। মালিকের বিশাল ও জাঁকজমকপূর্ণ মূল স্যুটের নিচে থাকা তুলনামূলক ছোট এই বালিনিজ ধাঁচের কক্ষটি দেখিয়ে দেয়, বিলাসিতার অর্থ সবসময় আড়ম্বর নয়।
তথ্যসূত্র: লাক্সারিলঞ্চেস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের নিকটবর্তী অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত সতর্কবার্তায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর আন্দামান সাগর এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে, যা পশ্চিম উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘণীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ পরিস্থিতির কারণে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এছাড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সাবধানে চলাচল করার জন্য উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না নতুন নির্দেশনা আসে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে গুজব ছড়াচ্ছে যে, মোহাম্মদ শামি ক্রিকেটের মাঠ থেকে রাজনীতির মঞ্চে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর থেকে তিনি জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন।
সম্প্রতি মোহাম্মদ শামি রাষ্ট্রীয় লোকদলের (আরএলডি) প্রধান ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, ভারতীয় এই তারকা পেসার খেলার মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠে প্রবেশের পরিকল্পনা করছেন।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, আসন্ন উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে আমরোহা সদর কেন্দ্র থেকে শামিকে প্রার্থী করার বিষয়ে ভাবনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও শামি বা আরএলডির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
শামির আমরোহার সঙ্গে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তার বাড়ি আমরোহা সদর তহসিলের সাহসপুর আলিনগরে অবস্থিত। তাই ‘ভূমিপুত্র’ আবেগকে সামনে রেখে তাকে প্রার্থী করার চিন্তা করা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
শুধু শামি নয়, তার ভাই হাসিবের নামও শোনা যাচ্ছে। এমনকি শোনা যাচ্ছে যে, শামি নিজে না দাঁড়িয়ে ভাইকে আমরোহা থেকে প্রার্থী করার বিষয়ে ভাবতে পারেন। এ নিয়ে জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। হাসিব এর আগে জেলা পঞ্চায়েত সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমরোহা সদর কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
সমাজবাদী পার্টির মাহবুব আলি এই কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে শামির মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
প্রায় দেড় দশক পর ইস্ট জোনের দিলীপ ট্রফি জয়ের পেছনে শামির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাকে জাতীয় দলে না দেখে সাবেক ক্রিকেটাররা সমালোচনা করেছেন। তার সর্বশেষ সংস্করণ দিলীপ বেঙ্গসরকার। তবে এবার প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় দলের জার্সির পরিবর্তে কি শামি রাজনীতির পোশাক পরিধান করবেন? জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে শামির সাক্ষাৎ সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে আদালতে মুখোমুখি করা হয়েছিল।
শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলার মূল তদন্ত ও অভিযোগের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে আনেন। অপ্রাসঙ্গিক ও রাজনৈতিক বক্তব্য শুরু হলে বিচারক তৎক্ষণাৎ বাধা দেন। তিনি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিকে থামিয়ে দিয়ে নির্দেশ দেন— রাজনীতির কথা বাদ দিয়ে মামলার মূল বিষয়বস্তু ও অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তি উপস্থাপন করতে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের নিথর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেই রাতেই জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয়।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম আত্মহত্যার প্ররোচনার গুরুতর অভিযোগ এনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, এমপির প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
পাঁচটি কারণ দেখিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার দুইজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।
তাদের ৩টা ১২ মিনিটের দিকে সিঁড়ি মাড়িয়ে পঞ্চম তলার এজলাসে তোলা হয়। এ সময় তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ছিল। আসামিদের কাঠগড়ায় নেওয়ার পর এসব খুলে দেওয়া হয়।
বিচারক এহসানুল ইসলাম এজলাসে ওঠেন ৩টা ১৫ মিনিটে। ৩টা ১৬ মিনিটের দিকে মামলার শুনানি শুরু হয়।
রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শামসুজ্জোহা।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। তিনি বলেন, "দুই আসামির মধ্যে একজন রানিং এমপি, আরেকজন জামায়াতের কর্মী। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা।"
এ সময় নজরুল ইসলাম আরেক আইনজীবীকে ডেকে বলেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধার কথা বলেনি।"
আইনজীবী মাহবুবুর বলেন, "নজরুল ইসলাম চারবারের এমপি। এ মামলায় তাদের রিমান্ডে নেওয়ার মত বিন্দু বিসর্গ কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। রাষ্ট্রের একজন আইন কর্মকর্তা। আমরাও মৃত্যুর বিচার চাই। তবে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো প্রয়োজন নেই। ন্যায়বিচারের স্বার্থে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তাদের জামিন দেওয়া হোক। আমরা সবকিছুতে সহযোগিতা করব। পালিয়ে যাওয়ার মত লোক আমরা নই।"
তিনি একজন আইনজীবীকে ডেকে বলেন, "রোববার আমি আদালতে ছিলাম।"
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, "মামা ওবায়দুর রহমানকে প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়মকে বিয়ে করেন এমপি নজরুল ইসলাম। প্রথম স্ত্রীকেও রাজি করান মরিয়মকে বিয়ে করাতে। ওই মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন হোটেল, মোটেলে যাওয়ার ভিডিও দেখা যায়। তারা ন্যাম ভবনে বাস করতেন। ২০ তারিখে মরিয়ম আত্মহত্যা করে। সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়। আত্মহত্যায় প্ররোচনা অভিযোগে মামলা হয়েছে। হত্যার বিষয় উড়িয়ে দিতে পারি না। সবকিছুতে পূর্ব পরিকল্পনা ছিল। আমরা শুনে এসেছি, জামায়াতে ইসলামীর লোক সৎ।"
এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, "এ মামলার ঘটনায় থাকি। পলিটিকাল বিষয়ে না যাই।"
পরে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ফারুকী বলেন, "সৎ লোকের শাসন দেখছি। তাদের রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।"
মাহবুবুর রহমান বলেন, "তারা দুইজনই বয়স্ক মানুষ। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। নজরুল ইসলাম একজন আইন প্রণয়ন কর্মকর্তা। ঘটনা একটা ঘটে গেছে।"
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে নিহতের বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটির সূত্রপাত গত জুন মাসে। নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের সরাসরি মধ্যস্থতা ও আগ্রহে সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে পিঁড়িতে বসেন বাদীর ১৯ বছর বয়সী বড় মেয়ে মরিয়ম। বিয়ের পর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে স্বামী নজরুল এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে একই ছাদের নিচে সংসার শুরু করেন তিনি।
তবে সেই সংসার মরিয়মের জন্য সুখের হয়নি। পরিবারের কাছে মরিয়ম কান্নাকাটি করে জানিয়ে গেছেন— বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে স্বামী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা মিলে প্রতিনিয়ত তার ওপর অমানুষিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
রোববার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে হঠাৎ করেই মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর ফোনে কল দেন সংসদ সদস্য নজরুল। ফোনে তিনি তাড়া দিয়ে বলেন দ্রুত তাদের বাসায় পৌঁছাতে। খবর পেয়ে বাবা হন্তদন্ত হয়ে ন্যাম ভবনে ছুটে যান। ঘরের ভেতর কেবল নিজের আদরের মেয়ে মরিয়মের নিথর দেহটি ঝুলতে দেখেন হতভাগা বাবা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের ‘গেরান-৫’ ড্রোন ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। এই জেটচালিত ড্রোনগুলো প্রায় ছয় হাজার মিটার উচ্চতায় উড়তে পারে এবং ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। উচ্চ গতির, দীর্ঘ পাল্লার এবং বিপুল সংখ্যায় ব্যবহারের কারণে এগুলো ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলের মধ্যে পার্থক্য অনেকটাই অস্পষ্ট করে তুলেছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ক্যাটরিনা বন্ডারের মতে, রাশিয়ার ‘গেরান-৫’ মূলত ইরানি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের রুশ সংস্করণ। রাশিয়ার আলাবুগা অঞ্চলে এগুলোর ব্যাপক উৎপাদন চলছে। নতুন জেটচালিত সংস্করণগুলোতে আগের পিস্টন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
বন্ডার জানান, সংস্করণভেদে এসব ড্রোনের পাল্লা ৪৫০ কিলোমিটার থেকে ৯৫০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। সাধারণভাবে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার থেকে ৪০০ কিলোমিটার গতিতে চললেও গেরান-৪ প্রায় ৫০০ কিলোমিটার এবং গেরান-৫ প্রায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত ধীরগতির, প্রোপেলারচালিত ড্রোন মোকাবিলার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল। মেশিনগান, গান-ট্রাক এবং তুলনামূলক কম খরচের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ব্যবহার করে আগে শাহেদ ড্রোনের একটি বড় অংশ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু জেটচালিত গেরানের গতি ও উচ্চতার কারণে সেই ব্যবস্থা এখন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
বন্ডারের ভাষ্য, ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার। ফলে ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলা লক্ষ্যবস্তুকে ধাওয়া করে ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নতুন গেরান ড্রোনে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তিও যুক্ত করা হচ্ছে, যা আক্রমণের শেষ পর্যায়ে ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের ভিডিও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ইউরি চেরেভাশেস্কো জানান, এসব ড্রোনের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো, এগুলো নিয়ন্ত্রিত। অপারেটরের নির্দেশ অনুযায়ী উড্ডয়নপথ ও উচ্চতা পরিবর্তন করা সম্ভব।
বিপুল সংখ্যায় হামলাই রাশিয়ার কৌশল
শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নয়, বিপুল সংখ্যায় ড্রোন ব্যবহারের কৌশলও রাশিয়ার হামলাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে রাশিয়া প্রায় ৪৫০টি জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করলেও আগস্টে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৮৫০টিতে। এসব হামলার অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত ড্রোনের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল জেটচালিত।
তিনি আরও বলেন, বিপুল সংখ্যায় ড্রোন ব্যবহারের ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ে। ৮০০টি ড্রোনের ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা গেলেও ৮০টি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে ডিকয়, বিভিন্ন দিক থেকে হামলা এবং উচ্চতা পরিবর্তনের মতো কৌশল ব্যবহার করে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত ও দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের ড্রোন বিশেষজ্ঞ জেমস প্যাটন রজার্স বলেন, গেরান-৫ ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনের বির্বতন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তুলনামূলক কম খরচে বেশি গতি ও দীর্ঘ পাল্লার সক্ষমতা থাকায় রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক হামলা চালাতে পারছে।
প্রতিরোধে নতুন ব্যবস্থা খুঁজছে ইউক্রেন।
জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন নতুন প্রজন্মের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে এসব ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেন কম খরচে গাইডেড মিসাইল, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং জেটচালিত ইনটারসেপ্টর ব্যবহারের পাশাপাশি ড্রোনগুলো উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত করার কৌশলও বিবেচনা করছে।
বন্ডারের মতে, কোনো একটি ব্যবস্থা নিয়ে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জেটচালিত ইনটারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা কাঠামো প্রয়োজন।
বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের অর্থনীতি
বিশ্লেষকদের মতে, গেরান ৫-এর মতো ড্রোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু এর গতি বা প্রযুক্তি নয় বরং তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা।
বন্ডার গেরান ৫-কে কার্যত একটি ‘স্বল্পমূল্যের ক্রুজ মিসাইল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ড্রোনের মাধ্যমে ব্যাপক হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষাকে ব্যস্ত ও দুর্বল করা যায়, আর ব্যয়বহুল ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুর জন্য ব্যবহার করা যায়।
ড্রোন বিশেষজ্ঞ জেমস প্যাটন রর্জাসের মতে, ভবিষ্যতের বিমান প্রতিরক্ষার বড় শিক্ষা হলো-শুধু উন্নত ইন্টারসেপ্টর তৈরি করলেই হবে না। বিপুল সংখ্যক ড্রোনকে কম খরচে প্রতিহত করার ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের এই অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও ভবিষ্যতের বিমান প্রতিরক্ষা ও ড্রোন যুদ্ধের কৌশল নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ