মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৬ পি.এম
ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে গুজব ছড়াচ্ছে যে, মোহাম্মদ শামি ক্রিকেটের মাঠ থেকে রাজনীতির মঞ্চে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর থেকে তিনি জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন।
সম্প্রতি মোহাম্মদ শামি রাষ্ট্রীয় লোকদলের (আরএলডি) প্রধান ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, ভারতীয় এই তারকা পেসার খেলার মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠে প্রবেশের পরিকল্পনা করছেন।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, আসন্ন উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে আমরোহা সদর কেন্দ্র থেকে শামিকে প্রার্থী করার বিষয়ে ভাবনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও শামি বা আরএলডির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
শামির আমরোহার সঙ্গে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তার বাড়ি আমরোহা সদর তহসিলের সাহসপুর আলিনগরে অবস্থিত। তাই ‘ভূমিপুত্র’ আবেগকে সামনে রেখে তাকে প্রার্থী করার চিন্তা করা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
শুধু শামি নয়, তার ভাই হাসিবের নামও শোনা যাচ্ছে। এমনকি শোনা যাচ্ছে যে, শামি নিজে না দাঁড়িয়ে ভাইকে আমরোহা থেকে প্রার্থী করার বিষয়ে ভাবতে পারেন। এ নিয়ে জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। হাসিব এর আগে জেলা পঞ্চায়েত সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমরোহা সদর কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
সমাজবাদী পার্টির মাহবুব আলি এই কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে শামির মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
প্রায় দেড় দশক পর ইস্ট জোনের দিলীপ ট্রফি জয়ের পেছনে শামির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাকে জাতীয় দলে না দেখে সাবেক ক্রিকেটাররা সমালোচনা করেছেন। তার সর্বশেষ সংস্করণ দিলীপ বেঙ্গসরকার। তবে এবার প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় দলের জার্সির পরিবর্তে কি শামি রাজনীতির পোশাক পরিধান করবেন? জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে শামির সাক্ষাৎ সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে আদালতে মুখোমুখি করা হয়েছিল।
শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলার মূল তদন্ত ও অভিযোগের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে আনেন। অপ্রাসঙ্গিক ও রাজনৈতিক বক্তব্য শুরু হলে বিচারক তৎক্ষণাৎ বাধা দেন। তিনি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিকে থামিয়ে দিয়ে নির্দেশ দেন— রাজনীতির কথা বাদ দিয়ে মামলার মূল বিষয়বস্তু ও অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তি উপস্থাপন করতে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের নিথর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেই রাতেই জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয়।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম আত্মহত্যার প্ররোচনার গুরুতর অভিযোগ এনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, এমপির প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
পাঁচটি কারণ দেখিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার দুইজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।
তাদের ৩টা ১২ মিনিটের দিকে সিঁড়ি মাড়িয়ে পঞ্চম তলার এজলাসে তোলা হয়। এ সময় তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ছিল। আসামিদের কাঠগড়ায় নেওয়ার পর এসব খুলে দেওয়া হয়।
বিচারক এহসানুল ইসলাম এজলাসে ওঠেন ৩টা ১৫ মিনিটে। ৩টা ১৬ মিনিটের দিকে মামলার শুনানি শুরু হয়।
রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শামসুজ্জোহা।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। তিনি বলেন, "দুই আসামির মধ্যে একজন রানিং এমপি, আরেকজন জামায়াতের কর্মী। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা।"
এ সময় নজরুল ইসলাম আরেক আইনজীবীকে ডেকে বলেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধার কথা বলেনি।"
আইনজীবী মাহবুবুর বলেন, "নজরুল ইসলাম চারবারের এমপি। এ মামলায় তাদের রিমান্ডে নেওয়ার মত বিন্দু বিসর্গ কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। রাষ্ট্রের একজন আইন কর্মকর্তা। আমরাও মৃত্যুর বিচার চাই। তবে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো প্রয়োজন নেই। ন্যায়বিচারের স্বার্থে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তাদের জামিন দেওয়া হোক। আমরা সবকিছুতে সহযোগিতা করব। পালিয়ে যাওয়ার মত লোক আমরা নই।"
তিনি একজন আইনজীবীকে ডেকে বলেন, "রোববার আমি আদালতে ছিলাম।"
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, "মামা ওবায়দুর রহমানকে প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়মকে বিয়ে করেন এমপি নজরুল ইসলাম। প্রথম স্ত্রীকেও রাজি করান মরিয়মকে বিয়ে করাতে। ওই মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন হোটেল, মোটেলে যাওয়ার ভিডিও দেখা যায়। তারা ন্যাম ভবনে বাস করতেন। ২০ তারিখে মরিয়ম আত্মহত্যা করে। সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়। আত্মহত্যায় প্ররোচনা অভিযোগে মামলা হয়েছে। হত্যার বিষয় উড়িয়ে দিতে পারি না। সবকিছুতে পূর্ব পরিকল্পনা ছিল। আমরা শুনে এসেছি, জামায়াতে ইসলামীর লোক সৎ।"
এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, "এ মামলার ঘটনায় থাকি। পলিটিকাল বিষয়ে না যাই।"
পরে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ফারুকী বলেন, "সৎ লোকের শাসন দেখছি। তাদের রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।"
মাহবুবুর রহমান বলেন, "তারা দুইজনই বয়স্ক মানুষ। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। নজরুল ইসলাম একজন আইন প্রণয়ন কর্মকর্তা। ঘটনা একটা ঘটে গেছে।"
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে নিহতের বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটির সূত্রপাত গত জুন মাসে। নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের সরাসরি মধ্যস্থতা ও আগ্রহে সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে পিঁড়িতে বসেন বাদীর ১৯ বছর বয়সী বড় মেয়ে মরিয়ম। বিয়ের পর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে স্বামী নজরুল এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে একই ছাদের নিচে সংসার শুরু করেন তিনি।
তবে সেই সংসার মরিয়মের জন্য সুখের হয়নি। পরিবারের কাছে মরিয়ম কান্নাকাটি করে জানিয়ে গেছেন— বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে স্বামী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা মিলে প্রতিনিয়ত তার ওপর অমানুষিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
রোববার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে হঠাৎ করেই মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর ফোনে কল দেন সংসদ সদস্য নজরুল। ফোনে তিনি তাড়া দিয়ে বলেন দ্রুত তাদের বাসায় পৌঁছাতে। খবর পেয়ে বাবা হন্তদন্ত হয়ে ন্যাম ভবনে ছুটে যান। ঘরের ভেতর কেবল নিজের আদরের মেয়ে মরিয়মের নিথর দেহটি ঝুলতে দেখেন হতভাগা বাবা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের ‘গেরান-৫’ ড্রোন ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। এই জেটচালিত ড্রোনগুলো প্রায় ছয় হাজার মিটার উচ্চতায় উড়তে পারে এবং ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। উচ্চ গতির, দীর্ঘ পাল্লার এবং বিপুল সংখ্যায় ব্যবহারের কারণে এগুলো ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলের মধ্যে পার্থক্য অনেকটাই অস্পষ্ট করে তুলেছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ক্যাটরিনা বন্ডারের মতে, রাশিয়ার ‘গেরান-৫’ মূলত ইরানি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের রুশ সংস্করণ। রাশিয়ার আলাবুগা অঞ্চলে এগুলোর ব্যাপক উৎপাদন চলছে। নতুন জেটচালিত সংস্করণগুলোতে আগের পিস্টন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
বন্ডার জানান, সংস্করণভেদে এসব ড্রোনের পাল্লা ৪৫০ কিলোমিটার থেকে ৯৫০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। সাধারণভাবে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার থেকে ৪০০ কিলোমিটার গতিতে চললেও গেরান-৪ প্রায় ৫০০ কিলোমিটার এবং গেরান-৫ প্রায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত ধীরগতির, প্রোপেলারচালিত ড্রোন মোকাবিলার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল। মেশিনগান, গান-ট্রাক এবং তুলনামূলক কম খরচের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ব্যবহার করে আগে শাহেদ ড্রোনের একটি বড় অংশ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু জেটচালিত গেরানের গতি ও উচ্চতার কারণে সেই ব্যবস্থা এখন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
বন্ডারের ভাষ্য, ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার। ফলে ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলা লক্ষ্যবস্তুকে ধাওয়া করে ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নতুন গেরান ড্রোনে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তিও যুক্ত করা হচ্ছে, যা আক্রমণের শেষ পর্যায়ে ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের ভিডিও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ইউরি চেরেভাশেস্কো জানান, এসব ড্রোনের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো, এগুলো নিয়ন্ত্রিত। অপারেটরের নির্দেশ অনুযায়ী উড্ডয়নপথ ও উচ্চতা পরিবর্তন করা সম্ভব।
বিপুল সংখ্যায় হামলাই রাশিয়ার কৌশল
শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নয়, বিপুল সংখ্যায় ড্রোন ব্যবহারের কৌশলও রাশিয়ার হামলাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে রাশিয়া প্রায় ৪৫০টি জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করলেও আগস্টে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৮৫০টিতে। এসব হামলার অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত ড্রোনের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল জেটচালিত।
তিনি আরও বলেন, বিপুল সংখ্যায় ড্রোন ব্যবহারের ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ে। ৮০০টি ড্রোনের ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা গেলেও ৮০টি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে ডিকয়, বিভিন্ন দিক থেকে হামলা এবং উচ্চতা পরিবর্তনের মতো কৌশল ব্যবহার করে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত ও দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের ড্রোন বিশেষজ্ঞ জেমস প্যাটন রজার্স বলেন, গেরান-৫ ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনের বির্বতন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তুলনামূলক কম খরচে বেশি গতি ও দীর্ঘ পাল্লার সক্ষমতা থাকায় রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক হামলা চালাতে পারছে।
প্রতিরোধে নতুন ব্যবস্থা খুঁজছে ইউক্রেন।
জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন নতুন প্রজন্মের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে এসব ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেন কম খরচে গাইডেড মিসাইল, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং জেটচালিত ইনটারসেপ্টর ব্যবহারের পাশাপাশি ড্রোনগুলো উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত করার কৌশলও বিবেচনা করছে।
বন্ডারের মতে, কোনো একটি ব্যবস্থা নিয়ে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জেটচালিত ইনটারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা কাঠামো প্রয়োজন।
বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের অর্থনীতি
বিশ্লেষকদের মতে, গেরান ৫-এর মতো ড্রোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু এর গতি বা প্রযুক্তি নয় বরং তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা।
বন্ডার গেরান ৫-কে কার্যত একটি ‘স্বল্পমূল্যের ক্রুজ মিসাইল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ড্রোনের মাধ্যমে ব্যাপক হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষাকে ব্যস্ত ও দুর্বল করা যায়, আর ব্যয়বহুল ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুর জন্য ব্যবহার করা যায়।
ড্রোন বিশেষজ্ঞ জেমস প্যাটন রর্জাসের মতে, ভবিষ্যতের বিমান প্রতিরক্ষার বড় শিক্ষা হলো-শুধু উন্নত ইন্টারসেপ্টর তৈরি করলেই হবে না। বিপুল সংখ্যক ড্রোনকে কম খরচে প্রতিহত করার ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের এই অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও ভবিষ্যতের বিমান প্রতিরক্ষা ও ড্রোন যুদ্ধের কৌশল নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) বেলায়েত হোসেন তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
তিনি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন শাপলাও পদত্যাগ করেন।
সেই সঙ্গে, ৭ সেপ্টেম্বর, একযোগে পদত্যাগ করেন ৫ জন আইন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন- অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) সুলতানা আক্তার রুবি, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল প্রোজ্জ্বল চাকমা।
এছাড়া, সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম।
গত জুনে, সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াত সমর্থিত ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছিপছিপে চেহারা। শরীর জুড়ে লাবণ্যের ছাপ স্পষ্ট। বয়স যেন সংখ্যামাত্র। মালাইকা অরোরার ক্ষেত্রে তা যেন মিলে যায়। ৫২ বছর বয়সেও কীভাবে যৌবন ধরে রাখা যায় তা ভালো করেই জানেন ‘ছাঁইয়া ছাঁইয়া’ গার্ল। কখনও পশ্চিমী পোশাকে, আবার কখনও বা দেশি লুকে আজও যেন ছ্যাঁকা দেন মালাইকা।
অভিনেত্রীর সোশাল মিডিয়ায় রোজই দেখা যায় শরীরচর্চার ভিডিও। যা দেখে যেন বিস্মিত হন অনুরাগীরা। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে তার রূপরহস্য খোলসা করেছেন অভিনেত্রী। ক্লিনজিং থেকে ময়েশ্চারাইজিং, ঠোঁটের যত্ন নেওয়ার ধরন সবই পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখা করেছেন। মোট সাতটি ধাপের কথা জানিয়েছেন তিনি। মালাইকা জানান, দিনের চেয়ে রাতের বেলার রুটিন বেশি দীর্ঘ তার।
দিনভর নানা অনুষ্ঠান থাকে তার। স্বাভাবিকভাবেই মেকআপ করতে হয় অভিনেত্রীকে। সারাদিন পর রাতে বাড়ি ফিরে তার প্রথম কাজ মেকআপ তোলা। প্রথমে তিনি ক্লিনজিং বাম ব্য়বহার করেন। হালকা গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে মুখ মুছে নেন। কিছুক্ষণ পর ক্লিনজার দিয়ে ফের মুখ পরিষ্কার করেন। এভাবে ডবল ক্লিনজিং প্রক্রিয়ায় ত্বক পরিষ্কার করেন মালাইকা।
মুখ পরিষ্কারের পর মালাইকা ফেস মিস্ট ব্যবহার করেন। এরপর হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করেন অভিনেত্রী। রূপচর্চার এখানেই শেষ নয়। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের শুষ্কতা দূর করে। বলিরেখা দূর করে ত্বক করে আরও টানটান এবং উজ্জ্বল। চোখের ড্রপ এবং জয়েন্টের ইঞ্জেকশনেও ব্যবহার হয় হায়ালুরোনিক অ্যাসিড।
পেপটাইড সিরামও ব্যবহার করেন মালাইকা। এই পেপটাইড সিরাম প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে ত্বকের নিজস্ব সুরক্ষা বলয় মজবুত হয়। কোলাজেন তৈরি হয়। তার ফলে ত্বকের বলিরেখা কমায়। ত্বক নরম ও উজ্জ্বল রাখতেও সাহায্য করে পেপটাইড সিরাম।
সিরামের শেষ পর্বে চোখের তলায় ক্রিম মাখেন মালাইকা। খানিকটা সিরাম হাতেও মেখে নেন অভিনেত্রী। তার ফলে চোখের তলার চামড়া আরও টানটান হয়। ফোলাভাব দূর হয়। চোখের তলায় কালি পড়ার সমস্যা থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।
সবশেষে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন মালাইকা। যা তার ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। তাই শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা কখনই ময়েশ্চারাইজার মাখতে ভোলেন না অভিনেত্রী।
ত্বকের যত্নের পাশাপাশি ঠোঁটের ক্ষেত্রে কখনও কোনও অবহেলা করেন না মালাইকা। কারণ, লিপস্টিক ব্যবহারের ফলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তা থেকে রেহাই পেতে লিপবাম মাখেন। তাতে ঠোঁট থাকে নরম ও সুন্দর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ