ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস পালিত হচ্ছে


আজ ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস পালিত হচ্ছে

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে পূর্ব পাকিস্তানে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলন একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। শিক্ষার অধিকার, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা এবং সেই আন্দোলনে ছাত্রদের আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে প্রতিবছর বাংলাদেশে দিনটি মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।

পাকিস্তান সরকার ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষাসচিব এস এম শরীফকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। পরবর্তী বছর ২৬ আগস্ট কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন সুপারিশ পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করে।

শরীফ কমিশনের প্রতিবেদনে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে অবাস্তব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা দেওয়ার বিরোধিতা করা হয় এবং দুই বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছরে সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা এসব প্রস্তাবকে শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত করা এবং বৈষম্য বৃদ্ধি করার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করেন।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

১৯৬২ সালের আগস্ট মাস থেকে এসব সুপারিশের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হতে শুরু করে। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে পিকেটিং ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আন্দোলনে যোগ দেন।

আন্দোলন দমাতে পুলিশ গুলি চালালে নবকুমার হাইস্কুলের ছাত্র বাবুল নিহত হন। গুলিতে আহত হন বাসের কন্ডাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহকর্মী ওয়াজিউল্লাহ। পরে ওয়াজিউল্লাহও মারা যান।

প্রাণহানির ঘটনার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয়। পরে শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত হলে ধীরে ধীরে আন্দোলনের তীব্রতা কমে আসে।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলন এবং এতে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রেনের টিটির হুমকিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিলের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


ট্রেনের টিটির হুমকিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিলের শঙ্কা

স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃন্ময় চক্রবর্তীকে মারধর, গালিগালাজ ও ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি প্রদান করে ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীরা।

এ ঘটনা ঘটে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে।

মৃন্ময় চক্রবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড এক্সটেনশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানার সময় ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীরা মৃন্ময়ের মাথায় চাপ দিয়ে ধরে শরীরে আঘাত করে এবং গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। পরে কন্ট্রোলরুমে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রেখে প্রচুর গালিগালাজ ও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেয়।

মৃন্ময় চক্রবর্তী বলেন, বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহী আসার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামার কথা থাকলেও তা থামেনি। তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানতে গেলে টিটি ও তার সহযোগীরা পিছন থেকে তার মাথার চাপ দিয়ে ধরে শরীরে আঘাত করে এবং গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। এরপর কন্ট্রোলরুমে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রাখে।

তিনি আরও বলেন, এ সময় তারা তাকে প্রচুর গালিগালাজ করে এবং ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেয়। তারা আরও বলে যে তার পড়ালেখা কীভাবে হয়, সেসব দেখবে। তার নামে মামলা হবে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু ট্রেনের টিটি বলে ভিসি, প্রক্টর, আম্মার এসে তারপর নিয়ে যাবে। এরপর ওসি স্যার আসেন এবং তিনি চেষ্টা করেন যাতে কোনো ঝামেলা না হয়। কিন্তু ট্রেনের লোকজন বলে, আম্মার এসে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে নিয়ে যেতে হবে।

মৃন্ময় আরও জানান, পরবর্তীতে রাকসু প্রতিনিধি মুজাহিদুল ইসলাম সাঈমকে জানালে তিনি এজিএস সালমান সাব্বির ভাইকে জানান এবং সালমান সাব্বির ভাই প্রশাসনের সাথে কথা বলে তাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।

তিনি বলেন, তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। মৃন্ময়ের ভাই ট্রেন থামার বিষয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যে, তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে থামবে। তাহলে কেন আজকে থামলো না এবং কেন তাকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হলো? তার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চান তিনি।

এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, তারা রাজশাহী আসার সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হন। প্রথমে তারা আন্দাজ করতে না পারলেও পরে বুঝতে পারেন এটি ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীদের পরিকল্পিত ছিল। দুই তিন দিন আগে তারা দেখেছেন যে সাগরদাঁড়ি ট্রেন স্টেশন বাজারে থামছে। আজকে ট্রেন প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা লেট ছিল এবং বাইরে বৃষ্টিও হচ্ছিল। তারা বেশ কয়েকজন ছিলেন। চেইন টানার পরে যখন টিটি তাদের ধরে, তখন তারা সারেন্ডার করেন যে তারা ভুল করছেন। একটি অন্যায় তাদের হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, তখন তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে গায়ে হাত দেয়। তাদের কথা ছিল যে তাদের ভুল হয়েছে, রেলের যে আইন আছে, সে অনুযায়ী চেইন টানলে ২০০ টাকা জরিমানা বা অনাদায়ে অন্যান্য শাস্তি। তাদের তো সেই শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে। কিন্তু কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে তারা শিক্ষা নিয়ে বাজে কথা বলবে? এই জাতীয় কথা বলা, গায়ে হাত তোলা, হুমকি দেওয়া এগুলো খুবই জঘন্য কাজ।

এর আগে, গত ২১ জুলাই রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে টিটি মারধর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে রাকসু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমঝোতা করা হয়। এ সময় রাকসু ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রাথমিকভাবে পদ্মা এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস এই তিনটি ট্রেন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সতিনের কাছে যাওয়ায় মা আকলিমা আক্তার শিশু আশরাফুলকে হত্যা করলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


সতিনের কাছে যাওয়ায় মা আকলিমা আক্তার শিশু আশরাফুলকে হত্যা করলেন

টাঙ্গাইলের সখিপুরে পারিবারিক কলহের কারণে আকলিমা আক্তার নামে এক মায়ের ছুরিকাঘাতে মো. আশরাফুল ইসলাম নামের সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। প্রতিবেশীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আকলিমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে আটকে রেখেছেন।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর বড়চওনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেবরাজ খালিয়ার বাইদ পূর্বপাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুটি মো. শাহিন আলম এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা আক্তারের সন্তান। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, আকলিমা আক্তার তার আগের স্বামীর ঘরে জন্ম নেওয়া মেয়েকে নিয়ে তিন দিন আগে এই বাড়িতে আসেন। এ সময় তার নিজের ছেলে আশরাফুল শাহিন আলমের প্রথম স্ত্রীর কাছে ছিল। এ নিয়ে আকলিমা ঘোর আপত্তি জানান। এর ফলে তাদের পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে বুধবার মধ্যরাতে আকলিমা আক্তার আক্রোশবশত নিজ শিশু সন্তান আশরাফুলকে ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। একই সময়ে তিনি তার আগের স্বামীর ঘরের মেয়েটিকেও মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করেন।

ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু আশরাফুল ইসলামকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত মেয়েটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে শিশু হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উৎসুক ও বিক্ষুব্ধ জনতা আকলিমা আক্তারকে ধরে রশি দিয়ে বেঁধে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলাসহ আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী জাহাজে আগুন, মৃতের সংখ্যা ৭৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী জাহাজে আগুন, মৃতের সংখ্যা ৭৭

ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের নিকটবর্তী একটি যাত্রীবাহী জাহাজে আগুন লাগার ফলে মৃতের সংখ্যা ৭৭ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় এখনও ৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আনাদোলুর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ নামের জাহাজটিতে মোট ১২৮ জন যাত্রী ছিলেন। প্রথমে যাত্রী তালিকায় ১৩২ জনের নাম ছিল, তবে পরবর্তীতে যাচাই করে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ৪ জন জাহাজে ওঠেননি।

কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোমি কায়াবিয়াব জানিয়েছেন, জাহাজ থেকে ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজের টিকিট এবং যাত্রী তালিকায় থাকা সকল ব্যক্তির তথ্য যাচাই ও মিলিয়ে দেখার কাজ এখনও চলছে। এই কারণে হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ ৯ সেপ্টেম্বর ম্যানিলা থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের করোনের কাছে সমুদ্রসীমায় জাহাজটিতে আগুন লাগে।

আগুন লাগার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যবিপ্রবির রাতজাগা গল্প: সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ক্রিকেট ম্যাচে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


যবিপ্রবির রাতজাগা গল্প: সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ক্রিকেট ম্যাচে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা

দিনের ব্যস্ততা শেষ হলে রাতের অন্ধকারে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাস অন্য এক রূপ ধারণ করে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে আলোকিত ক্যাম্পাসের এক প্রান্তে যখন কড়ইতলা গান, নাচ ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে, ঠিক তখন অন্য প্রান্তে টিএসসির সামনে ল্যাম্পপোস্টের নিচে জমে ওঠে ক্রিকেট ম্যাচ।

একই রাতে সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার এই সমান্তরাল আয়োজন যেন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বহুমাত্রিকতার একটি জীবন্ত চিত্রকে তুলে ধরে।

এই আয়োজনের কেন্দ্রে ছিল যবিপ্রবির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রবাহ’। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করতে সংগঠনটির উদ্যোগে কড়ইতলার অনুষ্ঠানটি এক প্রাণের মিলনমেলায় পরিণত হয়। মঞ্চে একের পর এক নাচ ও গান পরিবেশন করা হয় এবং দর্শকসারিতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে ক্যাম্পাসের পরিচিত রাতটি উৎসবে রূপ নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় সংগঠন হিসেবে ‘প্রবাহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন’-এর অনুমোদন দেয়, যা শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সংগঠিত করতে সহায়ক।

রাতের আলোয় কড়ইতলার সাংস্কৃতিক আয়োজনের দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। কারও দৃষ্টি মঞ্চের পরিবেশনায়, আবার কারও হাতে থাকা মুঠোফোনে বন্দি হচ্ছিল প্রিয় মুহূর্তগুলো।

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, হঠাৎ কোনো গানের সঙ্গে সুর মেলানো কিংবা পরিবেশনার তালে তালে হাততালি—সব মিলিয়ে তৈরি হয় বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্বতঃস্ফূর্ত এক আবহ। কড়ইতলার চেনা জায়গাটি আলো, সুর ও মানুষের উপস্থিতিতে মুহূর্তের জন্য হয়ে ওঠে এক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ।

তবে আনন্দের এই জোয়ার কেবল কড়ইতলার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কিছুটা দূরে টিএসসির সামনের রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের নরম আলোয় তখন চলছিল জমজমাট ক্রিকেট খেলা। নির্ধারিত কোনো মাঠ নয়, রাতের ফাঁকা রাস্তার ওপরই ব্যাট-বলের লড়াইয়ে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা খেলোয়াড় এবং চারপাশে দর্শকদের উল্লাস—সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসের অন্য প্রান্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

একদিকে কড়ইতলায় সুরের আবেশ, অন্যদিকে টিএসসির সামনে ক্রিকেটের উন্মাদনা; দুটি ভিন্ন আবহ একই রাতে মিলেমিশে তৈরি করেছিল অনন্য একটি ক্যাম্পাসচিত্র।

যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যাম্পাসজীবন কেবল ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা কিংবা ল্যাবরেটরির ব্যস্ততার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা, সাহিত্য, বিতর্কসহ নানা সহশিক্ষা কার্যক্রমও তাদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনেও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ব্যান্ড শোতে। এসব আয়োজন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপের বাইরে নিজেদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়।

সাংস্কৃতিক এই পরিসর তৈরিতে ‘প্রবাহ’-এর পথচলা খুব বেশি দীর্ঘ নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। সূচনালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে তারা। কড়ইতলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সেই চর্চাকে আরও বিস্তৃত করে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা প্রকাশের এক দারুণ ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

আসলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিগুলো প্রায়ই কোনো বড় আয়োজন থেকে নয়, বরং এমন ছোট ছোট মুহূর্ত থেকেই তৈরি হয়। রাতের কড়ইতলায় বন্ধুর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গান শোনা, মঞ্চের পরিবেশনায় হাততালি দেওয়া কিংবা কিছুটা দূরে টিএসসির সামনে ল্যাম্পপোস্টের নিচে ক্রিকেটের টানটান উত্তেজনা—সময় পেরিয়ে এসব দৃশ্যই হয়ে ওঠে ফিরে দেখার মতো সোনালী স্মৃতি।

১৬ সেপ্টেম্বরের এই রাত তাই কেবল দিনপঞ্জির একটি সাধারণ তারিখ নয়; এটি যবিপ্রবির তরুণদের সৃজনশীলতা, বন্ধুত্ব, আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক।

কড়ইতলার মঞ্চে সংস্কৃতির সুর এবং টিএসসির সামনে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ব্যাট-বলের ছন্দ—একই ক্যাম্পাসে পাশাপাশি চলা এই দুটি ভিন্ন গল্প আবারও মনে করিয়ে দেয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞানচর্চার স্থান নয়; এর আসল প্রাণস্পন্দন লুকিয়ে থাকে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা, বন্ধুত্ব এবং একসঙ্গে গড়ে তোলা অসংখ্য অজস্র স্মৃতির মাঝে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%