বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১০ পি.এম
দিনের ব্যস্ততা শেষ হলে রাতের অন্ধকারে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাস অন্য এক রূপ ধারণ করে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে আলোকিত ক্যাম্পাসের এক প্রান্তে যখন কড়ইতলা গান, নাচ ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে, ঠিক তখন অন্য প্রান্তে টিএসসির সামনে ল্যাম্পপোস্টের নিচে জমে ওঠে ক্রিকেট ম্যাচ।
একই রাতে সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার এই সমান্তরাল আয়োজন যেন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বহুমাত্রিকতার একটি জীবন্ত চিত্রকে তুলে ধরে।
এই আয়োজনের কেন্দ্রে ছিল যবিপ্রবির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রবাহ’। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করতে সংগঠনটির উদ্যোগে কড়ইতলার অনুষ্ঠানটি এক প্রাণের মিলনমেলায় পরিণত হয়। মঞ্চে একের পর এক নাচ ও গান পরিবেশন করা হয় এবং দর্শকসারিতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে ক্যাম্পাসের পরিচিত রাতটি উৎসবে রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় সংগঠন হিসেবে ‘প্রবাহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন’-এর অনুমোদন দেয়, যা শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সংগঠিত করতে সহায়ক।
রাতের আলোয় কড়ইতলার সাংস্কৃতিক আয়োজনের দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। কারও দৃষ্টি মঞ্চের পরিবেশনায়, আবার কারও হাতে থাকা মুঠোফোনে বন্দি হচ্ছিল প্রিয় মুহূর্তগুলো।
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, হঠাৎ কোনো গানের সঙ্গে সুর মেলানো কিংবা পরিবেশনার তালে তালে হাততালি—সব মিলিয়ে তৈরি হয় বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্বতঃস্ফূর্ত এক আবহ। কড়ইতলার চেনা জায়গাটি আলো, সুর ও মানুষের উপস্থিতিতে মুহূর্তের জন্য হয়ে ওঠে এক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ।
তবে আনন্দের এই জোয়ার কেবল কড়ইতলার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কিছুটা দূরে টিএসসির সামনের রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের নরম আলোয় তখন চলছিল জমজমাট ক্রিকেট খেলা। নির্ধারিত কোনো মাঠ নয়, রাতের ফাঁকা রাস্তার ওপরই ব্যাট-বলের লড়াইয়ে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা খেলোয়াড় এবং চারপাশে দর্শকদের উল্লাস—সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসের অন্য প্রান্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
একদিকে কড়ইতলায় সুরের আবেশ, অন্যদিকে টিএসসির সামনে ক্রিকেটের উন্মাদনা; দুটি ভিন্ন আবহ একই রাতে মিলেমিশে তৈরি করেছিল অনন্য একটি ক্যাম্পাসচিত্র।
যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যাম্পাসজীবন কেবল ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা কিংবা ল্যাবরেটরির ব্যস্ততার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা, সাহিত্য, বিতর্কসহ নানা সহশিক্ষা কার্যক্রমও তাদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনেও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ব্যান্ড শোতে। এসব আয়োজন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপের বাইরে নিজেদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়।
সাংস্কৃতিক এই পরিসর তৈরিতে ‘প্রবাহ’-এর পথচলা খুব বেশি দীর্ঘ নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। সূচনালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে তারা। কড়ইতলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সেই চর্চাকে আরও বিস্তৃত করে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা প্রকাশের এক দারুণ ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
আসলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিগুলো প্রায়ই কোনো বড় আয়োজন থেকে নয়, বরং এমন ছোট ছোট মুহূর্ত থেকেই তৈরি হয়। রাতের কড়ইতলায় বন্ধুর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গান শোনা, মঞ্চের পরিবেশনায় হাততালি দেওয়া কিংবা কিছুটা দূরে টিএসসির সামনে ল্যাম্পপোস্টের নিচে ক্রিকেটের টানটান উত্তেজনা—সময় পেরিয়ে এসব দৃশ্যই হয়ে ওঠে ফিরে দেখার মতো সোনালী স্মৃতি।
১৬ সেপ্টেম্বরের এই রাত তাই কেবল দিনপঞ্জির একটি সাধারণ তারিখ নয়; এটি যবিপ্রবির তরুণদের সৃজনশীলতা, বন্ধুত্ব, আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক।
কড়ইতলার মঞ্চে সংস্কৃতির সুর এবং টিএসসির সামনে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ব্যাট-বলের ছন্দ—একই ক্যাম্পাসে পাশাপাশি চলা এই দুটি ভিন্ন গল্প আবারও মনে করিয়ে দেয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞানচর্চার স্থান নয়; এর আসল প্রাণস্পন্দন লুকিয়ে থাকে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা, বন্ধুত্ব এবং একসঙ্গে গড়ে তোলা অসংখ্য অজস্র স্মৃতির মাঝে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইন্টার্নশিপ, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং শিল্পখাতে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা।
এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রি পরিদর্শন করেন মাভাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। এ পরিদর্শন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ভবিষ্যতে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে।
পরিদর্শনকালে, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওয়ালটনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, "শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতি আরও সমৃদ্ধ হবে।"
তিনি যোগ করেন, দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করা সম্ভব।
যদি প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, তবে মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ওয়ালটনের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক এবং ওয়ালটনের প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত, ঢাকায় ১৫ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিনটি গানের আসর। এই আয়োজনে পাকিস্তানের কাবিশ ও আসিম আজহারের পাশাপাশি দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ, শিরোনামহীন ও মেঘদল মঞ্চ মাতাবেন।
প্রথম আয়োজনটি ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার আলোকিতে অনুষ্ঠিত হবে। ‘এক্স ফোর্স প্রেজেন্টস মিক্সটেপ ভলিউম ৩’ শিরোনামের কনসার্টে গান পরিবেশন করবে নেমেসিস, অ্যাভয়িডরাফা, ইন্দালো, কার্নিভ্যাল, আফটারম্যাথ, কনক্লুশন ও ফিরোজ জংসহ মোট ১০টি ব্যান্ড।
দুপুর সাড়ে ২টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। কনসার্টের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে সেট সেট রক ডটকমে।
এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘ওয়েভ ফেস্ট: এনজয় দ্য ফুল মুন’। এই আয়োজনে ঢাকায় গান গাইবে পাকিস্তানি ব্যান্ড কাবিশ। তাদের সঙ্গে মঞ্চে থাকবে দেশের ব্যান্ড শিরোনামহীন ও মেঘদল।
কনসার্টটির ভেন্যু এখনো ঘোষণা করা হয়নি। গত ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা থাকলেও অনুমতি না পাওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছিল। আগের টিকিটধারীদের নতুন করে টিকিট কিনতে হবে না। নতুন টিকিট পাওয়া যাবে টিকিফাইয়ে।
সবশেষে ২ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘দ্য আসিম আলী ট্যুর’। স্বদেশ অ্যারেনায় এই আয়োজনে গান করবেন পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী আসিম আজহার। তার সঙ্গে মঞ্চে থাকবে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ। পারফর্ম করবে মডার্নোটাকুও।
এই কনসার্টের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে টিকিফাইয়ে।
অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত ঢাকার সংগীতপ্রেমীদের জন্য থাকছে টানা তিনটি বড় আয়োজন। দেশি-বিদেশি শিল্পীদের পরিবেশনায় এসব কনসার্ট ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান পরিচালনা করে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে। এই সিগারেটের বাজারমূল্য আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শ্যামলীর পিসি কালচার হাউজিংয়ের ১৪০ নম্বর বাড়ি ও মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লার ৩৭/৮ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই সিগারেট উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনবিআর জানিয়েছে, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং তামাকজাত পণ্যের অবৈধ বাজারজাতকরণ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ঢাকার দুটি প্রিভেন্টিভ টিম নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অধীনে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় দুটি গোডাউন তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ভবনের দারোয়ানের সহযোগিতায় গোডাউনগুলো শনাক্ত করা হয়।
গোডাউন মালিক ঘটনাস্থলে না থাকায় ভবন মালিকের সহায়তায় তালা ভেঙে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তল্লাশি চালান। এই সময় বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট বস্তাভর্তি উদ্ধার করা হয়।
একটি গোডাউন থেকে প্যাট্রন ন্যানো ২ লাখ ২ হাজার ২০০ শলাকা, মন্ড স্ট্রবেরি ১০ হাজার, মন্ড সিলভার ১৬ হাজার ৬০০ এবং ওরিস ন্যানো ২৬ হাজার ৪০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়। অন্য গোডাউন থেকে অরবিট, মন্ড, প্যাট্রন ও ওরিস ব্র্যান্ডের আরও ৬১ হাজার ২০০ শলাকা সিগারেট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে দুটি গোডাউন থেকে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় লোকজন ও ভবনের দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন যে, দুটি গোডাউন আলাদা ঠিকানায় অবস্থিত হলেও এর প্রকৃত মালিক একই ব্যক্তি। তিনি ডিলারশিপ ব্যবসা করার কথা বলে গোডাউন দুটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
দিনের অধিকাংশ সময় গোডাউন দুটি বন্ধ থাকত। দারোয়ানের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত রাতের বেলায় সেখানে সিগারেট আনা হতো। পরে বিভিন্ন পার্সেটে করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো।
গোয়েন্দা দলের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ বিদেশি নকল সিগারেট সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেছে। ভবন মালিকরা সেখানে কী ধরনের পণ্যের ব্যবসা হচ্ছিল, তা জানতেন না বলে জানিয়েছেন।
এনবিআর জানিয়েছে, জব্দ করা সিগারেট অবৈধ হওয়ায় সেগুলো নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী এসব সিগারেট ধ্বংস করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত আগস্ট মাসে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।"
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।"
হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ; তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।"
মেধাবীদের উৎসাহিত ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে এর সুফল অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশ পাবে। দেশ উপকৃত হবে, দেশের মানুষ উপকৃত হবে।"
সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।"
অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের কিছু সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে থাকলে যদি সম্ভব হয়, ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেখব। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা ইনশাআল্লাহ সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।"
তিনি আরও বলেন, "সামনে হয়ত এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা আসবে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদেরকে জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য তারা সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।"
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের হয়ত কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সবাই মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। সেটাই আমাদের চেষ্টা, সেটাই আমাদের উদ্যোগ।"
সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সবাইকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। সবাইকে নিয়ে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।"
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন প্রধানমন্ত্রী।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন। এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন এবং মাওলানা রফিকুল ইসলামও ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ