প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে পূর্ব পাকিস্তানে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলন একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। শিক্ষার অধিকার, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা এবং সেই আন্দোলনে ছাত্রদের আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে প্রতিবছর বাংলাদেশে দিনটি মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।
পাকিস্তান সরকার ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষাসচিব এস এম শরীফকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। পরবর্তী বছর ২৬ আগস্ট কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন সুপারিশ পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
শরীফ কমিশনের প্রতিবেদনে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে অবাস্তব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা দেওয়ার বিরোধিতা করা হয় এবং দুই বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছরে সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা এসব প্রস্তাবকে শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত করা এবং বৈষম্য বৃদ্ধি করার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করেন।
১৯৬২ সালের আগস্ট মাস থেকে এসব সুপারিশের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হতে শুরু করে। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে পিকেটিং ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আন্দোলনে যোগ দেন।
আন্দোলন দমাতে পুলিশ গুলি চালালে নবকুমার হাইস্কুলের ছাত্র বাবুল নিহত হন। গুলিতে আহত হন বাসের কন্ডাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহকর্মী ওয়াজিউল্লাহ। পরে ওয়াজিউল্লাহও মারা যান।
প্রাণহানির ঘটনার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয়। পরে শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত হলে ধীরে ধীরে আন্দোলনের তীব্রতা কমে আসে।
শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলন এবং এতে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন