০৩:১৯ পি.এম
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান লাভলুর একতলা একটি ভবন এসকেভেটর মেশিন দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে দুর্বৃত্তরা আসবাবপত্র লুটপাট করে এবং অগ্নিসংযোগ করেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ২টা নাগাদ এই বরগুনা - সুবিদখালী - কাঠালতলী - বাকেরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলী বাজার সংলগ্ন বসত বাড়ীতে এই ঘটনাটি ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর মোঃ মিজানুর রহমান লাভলু কাজী, মাধবখালী ইউনিয়ন আ'লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান, স্বপরিবারে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। বাড়ীতে তার মা একা বসবাস করতেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকালে তার মা অসুস্থ হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন। বাড়ীতে লোকজন না থাকায় শুক্রবার গভীর রাতে আনুমানিক ২টার সময় এসকেভেটর মেশিন দিয়ে একতলা ভবনটি ভেঙে ফেলা হয় এবং ঘরে থাকা মালামাল লুটপাট করা হয়, পরে অগ্নিসংযোগও করা হয়।
মেধাবী ইউনিয়ন আ'লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান লাভলু কাজীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে এ বিষয়ে তার সহোদর কাজী মশিউর রহমান বাবলু তার নিজ ফেসবুকে বাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ছবি ও একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেন- "আমি লাইভে এসে বলেছিলাম যে আমি কাজী মশিউর রহমান বাবলু, আমার ভাই কাজী মিজানুর রহমান লাভলু সভাপতি ১ নং মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, বর্তমান চেয়ারম্যান, আমাদের বাড়ি কিছু দুষ্কৃতীরা ভাঙার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমি প্রশাসনের কাছে এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম, প্রশাসন সেখানে এসে ফিরে গেছেন, কারণ বিএনপি নেতা জনাব আলতাব হোসেন চৌধুরী নির্দেশে তার ভাই শাহিন চৌধুরী এবং পলাশ হালদার, মনির খন্দকার, সুমন তালুকদার টুনু, মহাসিন মেম্বার, ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থী মিরাজ, সহ অসংখ্য বিএনপি'র লোকজনের নেতৃত্বে, বেকু এনে রাতভর ভাঙচুর করে এবং বাসার সব মালামাল লুটপাট করে তারপর আগুন দেয় এবং ইসরাইল যেভাবে ফিলিস্তিনে আঘাত করছে ধ্বংসযজ্ঞ করছে ঠিক একইভাবে দেখেন আপনারা ছবিতে বাড়িটি ভেঙে ফেলেছে, বাসায় আসবাবপত্র স্টিলের আলমারিতে আমার ভাবির দশ বরি স্বর্ণ ছিল এবং আমার মায়ের সাত বরি স্বর্ণ ছিল, আরো অনেক মূল্যবান কাগজপত্র ছিল, এই আলমারি ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থী মিরাজ পাঁচটা ভ্যানে করে ফ্রিজ এবং আরো মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে, কি বলবো আমরা একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করি আর সেই দেশের জনগণের ভোটের এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর কর্মকাণ্ড দেখে অবাক হয়ে যাই, কিছু বলার ভাষা নেই, আপনারাই বিচার করুন।"
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহীন চৌধুরী পাশার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "২০০৩ সালে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য রেজিস্ট্রিকৃত জমি দখল করে চেয়ারম্যান বাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। এই জমি বা বাড়ী ভাংচুর নিয়ে আমার বা আমাদের কোন ইন্টারেস্ট নেই।"
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মোঃ রাসেল বলেন, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পর সকালে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। বাড়ীটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে গেছে। কে বা কারা এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য থানায় পুলিশকে বলেছি। এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তৌহিদুজ্জামান জানান, মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলীতে একটি বসত বাড়ীতে কে বা কারা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে এমন সংবাদ পেয়েছি। বর্তমানে কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন