প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’—এই চারটি শব্দ দিয়েই যুক্তরাজ্যের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
শুক্রবার (১৬ জুলাই) লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেছিলেন, তার কাছে নেতৃত্বের দায়িত্বটা নিয়েই নয়, বরং যুক্তরাজ্যকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ দলের সম্মেলনে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এই নির্বাচনের ফলে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ তার জন্য প্রসারিত হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সোমবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পরবর্তীতে, রাজা বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করবেন।
আজ লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, গত ২৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে শেখিয়েছে যে দেশের মানুষ আসলে কী চায় এবং যুক্তরাজ্যকে কোন পথে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি আবারও বলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। এর পর তিনি জানান, তার পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, মানুষের রাজনীতির ওপর হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং একটি সরকার গঠন করা, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবার শ্রমজীবী মানুষের দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। জনসেবা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো হবে তার সরকারের মূল অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি নিজেকে বদলে ফেলবেন না। সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করবেন এবং জনগণের কাছাকাছি থেকেই নেতৃত্ব দেবেন।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র হিসেবে বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন থেকেই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছেন। নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরেও তিনি সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত অতিরিক্তভাবে লন্ডনকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকারের হাতে আরও ক্ষমতা, অর্থ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে, যাতে যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অঞ্চল সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পায়।
ভাষণে বার্নহ্যাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) আরও শক্তিশালী করা, সামাজিক সেবা সংস্কার এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে অনেক মানুষ নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে করছেন। তার সরকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন