শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৩ পি.এম
দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে চমক দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি— এসব পদক্ষেপই বাংলাদেশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স-২৬ (জিএইচআই) প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষুধা সূচকের স্কোর ১৯ দশমিক ২।
এই স্কোরের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ মাঝারি মাত্রার ক্ষুধার পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১ এবং পাকিস্তানের স্কোর ২৫ দশমিক ৫। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো, তবে শ্রীলংকা ও নেপাল বাংলাদেশের চেয়ে উন্নত অবস্থানে রয়েছে।
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক চারটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। এই সূচকগুলো হলো— জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার, শিশুমৃত্যুর হার, বয়সের তুলনায় শিশুদের উচ্চতা কম হওয়া এবং উচ্চতার তুলনায় শিশুদের ওজন কম হওয়া। জার্মানির বনভিত্তিক ক্ষুধা মোকাবিলায় কাজ করা সংস্থা ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক সহায়তা সংস্থা হেলভেটাস এবং জার্মানির রুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ইনস্টিটিউট যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে স্কোর শূন্য থেকে ১০০-এর মধ্যে নির্ধারণ করা হয়। স্কোর ১০-এর কম হলে ক্ষুধার মাত্রা কম, ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯ হলে মাঝারি, ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯ হলে গুরুতর, ৩৫ থেকে ৪৯ দশমিক ৯ হলে আশঙ্কাজনক এবং ৫০ বা তার বেশি হলে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই হিসাবে বাংলাদেশের ১৯ দশমিক ২ স্কোর মাঝারি মাত্রার ক্ষুধার পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১, যা গুরুতর ক্ষুধার পরিস্থিতির নির্দেশ করে। পাকিস্তানের স্কোর ২৫ দশমিক ৫, যা খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, শিশুদের অপুষ্টি, নারীদের কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের গ্রীষ্মে নজিরবিহীন দাবদাহের কারণে ইউরোপজুড়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন। তাদের মতে, এসব মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের ইতিহাসে দাবদাহজনিত প্রাণহানির দিক থেকে অন্যতম ভয়াবহ সময় হয়ে উঠতে পারে।
গবেষণা সাময়িকী নেচার হেলথে প্রকাশিত দুটি গবেষণা নিবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের গ্রীষ্মে দাবদাহে মোট ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস, যিনি প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক, বলেন, দাবদাহজনিত মৃত্যুর হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের অর্ধেকেরও বেশি এলাকার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।
জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নেতাদের তুরস্কে সমবেত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয় যে, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
ক্লেয়ার বার্নস আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ঠেকানোর পথ থেকে বিশ্ব অনেকটাই সরে গেছে। তিনি সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বিশ্বের দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ ইউরোপে চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের মধ্যে দাবদাহ এখন অন্যতম প্রাণঘাতী বিপদ হয়ে উঠেছে। মে মাসের শেষ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত পুরো মহাদেশ নজিরবিহীন তাপমাত্রায় পুড়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, পশ্চিম ইউরোপে এ বছর ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গরম রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কিছু দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যায়।
যেভাবে মৃত্যুর হিসাব নির্ধারণ
চলতি গ্রীষ্মে দাবদাহে প্রাণহানির হিসাব নির্ধারণ করতে ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহরের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেন গবেষকরা। এরপর জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে তাপমাত্রা কেমন থাকত, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির তুলনা করা হয়।
জুনের শুরু থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত দাবদাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা নিরূপণে উচ্চ তাপমাত্রা ও দৈনিক মৃত্যুর সম্পর্ক নিয়ে আগের পিয়ার-রিভিউড গবেষণায় ব্যবহৃত একটি মডেল প্রয়োগ করা হয়। গবেষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে পাওয়া আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যা বিভিন্ন দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যানের কাছাকাছি থাকে।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ৫০ হাজার ৩৯১ জনের এই প্রাণহানি গত ২৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২২ ও ২০০৩ সালে ইউরোপে যে ভয়াবহ দাবদাহ হয়েছিল, এবারের প্রাণহানির সংখ্যা তার চেয়ে বেশি।
দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপে দাবদাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়লেও যুক্তরাজ্যসহ উত্তর ইউরোপের তুলনামূলক শীতল দেশগুলোতেও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।
বয়সভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে। তবে ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সি অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যুর সঙ্গেও দাবদাহের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
দাবদাহে বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দাবদাহজনিত মৃত্যুর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে দাবদাহে মোট মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট উষ্ণতা দায়ী ছিল। বর্তমানে এ হার বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে।
গবেষণাটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকা যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাকেল নুনেস বলেন, দাবদাহ কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, গবেষণার ফল তার প্রমাণ তুলে ধরেছে। এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হওয়ায় দাবদাহকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, কম বয়সি মানুষের মৃত্যুও উদ্বেগের বিষয়। ৬৫ বছরের কম বয়সি হাজার হাজার মানুষ এ গ্রীষ্মে দাবদাহের কারণে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্লেয়ার বার্নস সতর্ক করে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্বকে একের পর এক তীব্র ও বিপজ্জনক গ্রীষ্মের মুখোমুখি হতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে দাবদাহ আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: সিএনএন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটি, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বর্ণিল আনন্দের সাথে শুরু হয়েছে।
মূল অনুষ্ঠানটি আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে, তবে আজ শুক্রবার থেকে জেলার বিভিন্ন বিহারে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন শুরু হয়ে গেছে।
আজ সকালে রাঙ্গামাটি সদরের বালুখালি এলাকার ‘তপোবন অরণ্য কুটিরে’ হাজারো বৌদ্ধ নর-নারীর সমাগম ঘটে। সাদা পোশাকে সমবেত পুণ্যার্থীরা প্রার্থনা করেন এবং ‘সাধু সাধু’ ধ্বনিতে পুরো কুটির প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান ও বুদ্ধপ্রতিবিম্ব দানসহ নানা পুণ্যকর্ম সম্পাদন করা হয়।
ধর্মীয় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।
সংঘপ্রধান হিসেবে উপস্থিত থেকে পুণ্যার্থীদের পঞ্চশীল প্রদান করেন এবং ধর্মদেশনা দেন বনভান্তের শিষ্যসংঘের প্রধান ও রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাথের।
এ সময় অন্যান্য বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়ের দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো পুণ্যার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান শুরুর দিকে দেশের মানুষের মঙ্গল কামনায় সমবেত ভাবনা ও প্রার্থনা করা হয়।
বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দীর্ঘ তিন মাসের প্রথাগত ‘বর্ষাবাস’ (উপাসনা ও ধ্যান) যাপন শেষে মানবকল্যাণে ধর্ম প্রচারে বেরিয়ে পড়বেন। ২৫ অক্টোবর মূল প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হবে। আর এই শুভ তিথির পরদিনই শুরু হবে বৌদ্ধদের পরম পবিত্র ও কাঙ্ক্ষিত মাসব্যাপী ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসব।
পাপমোচন, মৈত্রীভাব এবং জগতের সকল প্রাণির সুখ-শান্তি কামনায় পাহাড়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে অপরূপ ধর্মীয় ও উৎসবের আবহ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পেশাদার ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মেগা ক্রীড়া আসর ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’।
এই টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এবিজি স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় একটি বর্ণাঢ্য ‘অধিনায়ক সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ১০টি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ও ফুটবলের ২০ জন দলনেতা (অধিনায়ক), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা, খেলার নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা এবং গ্রুপ বিন্যাসের জন্য আনুষ্ঠানিক লটারি অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার অফিশিয়াল জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন এবং খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ করা হয়।
এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো- প্রথমবারের মতো রাতের ফ্লাডলাইটের আলোয় একই সঙ্গে ক্রিকেট ও ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট ও ফুটবলের পৃথক ক্যাটাগরিতে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতা করবে।
গ্রুপ বিন্যাস:
ক্রিকেট টুর্নামেন্ট:
গ্রুপ 'এ': ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
গ্রুপ 'বি': আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) এবং ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ফুটবল টুর্নামেন্ট:
গ্রুপ 'এ': নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
গ্রুপ 'বি': আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স।
তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করার জন্য ক্রিকেট ও ফুটবলের পৃথক ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং রানার্স-আপ দলের জন্য ৫ লাখ টাকা প্রাইজমানি ঘোষণা করা হয়েছে।
অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির ডিরেক্টর মো. ইমরুল হাসান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া এডভাইজার আব্দুল বারী, এবিজি স্পোর্টস সিটির অ্যাডভাইজার মো. লিয়াকত হোসেন ও মো. নাজমুল আলম ভূঁইয়া, টি স্পোর্টসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভির উল ইসলাম, অপারেশন্স ম্যানেজার (ফুটবল) সালমান হাসান এবং অপারেশন্স ম্যানেজার (ক্রিকেট) ইকরাম হোসেন রাফি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান উল্লেখ করেন, এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের যাত্রা শুরু হচ্ছে ফুটবল ও ক্রিকেট দিয়ে। ভবিষ্যতে আরও নানা ইভেন্ট যুক্ত করে এ আয়োজনকে আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্য এমন একটি মঞ্চ তৈরি করা, যেখানে তারা নিজেদের মেধা ও সামর্থ্য প্রদর্শন করে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখার সুযোগ পাবে।
বসুন্ধরা গ্রুপের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের অবদান নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন খেলায় পৃষ্ঠপোষকতা, বিশ্বমানের অবকাঠামো নির্মাণ এবং নতুন নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রীড়াখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছি। এই উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া অবকাঠামো ‘এবিজি স্পোর্টস সিটি’ সেই স্বপ্ন ও অঙ্গীকারেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর সাহেবের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনাতেই এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু হচ্ছে। এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ সময়ের পরিক্রমায় আরও বড় ও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নেবে।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও অংশগ্রহণকারী অধিনায়কদের প্রত্যাশা, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত সংহতি ও নেতৃত্বগুণ বিকশিত হবে এবং এখান থেকেই আগামী দিনের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা উঠে আসবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কম বেতন, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। ফ্রান্সে সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ইউরোপের অন্তত সাতটি দেশের তরুণেরা এতে যোগদান করেছেন।
স্পেন ও পর্তুগালে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তরুণেরা রাজধানীতে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। ফ্রান্স ও ইতালিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। অন্যদিকে, আলবেনিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে কিছু তরুণ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবিতে দেশভেদে ভিন্নতা থাকলেও তাঁদের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে মিল রয়েছে—ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। মাদ্রিদের কেন্দ্রস্থলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তাঁবুর শিবিরে অবস্থান করছেন স্পেনের তরুণেরা। মঙ্গলবার সেখানে ২৭ বছর বয়সী কনসার্ট মঞ্চকর্মী সাচা কোসি বলেন, “ভবিষ্যৎহীন প্রজন্ম আবার ফিরে এসেছে।”
কোসি আরও বলেন, কম বেতন, উচ্চ বাড়িভাড়া, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অসহায়ত্ব এবং চাকরির অনিশ্চয়তা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে। আগের প্রজন্মের মতো সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও তাঁদের শঙ্কা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা সবকিছুতেই ক্লান্ত। পরিস্থিতি ক্রমাগত এমনভাবে বদলাচ্ছে, যা আমাদের কোনো উপকারে আসছে না।”
ইউরোপের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিও তরুণদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জনসংখ্যার বার্ধক্য, পেনশনসহ সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে সরকারগুলোকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর চ্যালেঞ্জ এবং রাশিয়ার আগ্রাসন ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের মিত্র ডেনমার্কের ভূখণ্ড নিয়ে হুমকি দিয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে আসায় ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি কমার প্রেক্ষাপটে ইউরোপে সামরিক ব্যয়ও বেড়েছে, যা সরকারি বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
ইতালির পাদুয়া শহরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী স্টেলা সালিস বলেন, তরুণদের মধ্যে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ও ক্লান্তির অনুভূতি রয়েছে। তাঁর মতে, ইউরোপের তরুণেরা ক্রমেই মনে করছেন, তাঁদের প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
বর্তমান আন্দোলনগুলো বিক্ষোভের সংখ্যা ও স্থায়িত্বের দিক থেকে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর ছড়িয়ে পড়া কৃচ্ছ্রসাধনবিরোধী বিক্ষোভের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ছে। ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেলজিয়ামের তরুণদের উৎসাহিত করেছে। ইতালি ও জার্মানির বিক্ষোভকারীরাও ফ্রান্সে শুরু হওয়া একটি স্লোগান ব্যবহার করছেন। সালিস আশা করছেন, আন্দোলনটি জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হবে।
তবে কিছু দেশে বিক্ষোভের সঙ্গে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। গত সপ্তাহান্তে উত্তর ইতালিতে দাঙ্গার ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর দেশটির সরকারের মন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী নেতা মাত্তেও সালভিনি মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্য, শহরটিকে অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসনবিরোধী অবস্থানও তুলে ধরেন।
ফ্রান্সে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলও সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির প্রার্থী মেরিন লে পেন রোববার বলেন, ছয় মাসের মধ্যে ফরাসি জনগণ কর্তৃত্ব ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ বেছে নিতে পারবেন। দলটির সভাপতি জর্দান বারদেলাও একই দিন দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে ইউরোপের সরকারগুলোর সামনে তরুণদের সমস্যা সমাধানের পথ সহজ নয়। সীমিত সম্পদের মধ্যে শিক্ষা, পেনশন, আবাসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবায় অর্থ বরাদ্দের ভারসাম্য রাখতে হবে। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক চাপও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সালোমে রেনো বলেন, তিনি এমন একটি চাকরি চান, যা করতে তাঁর ভালো লাগবে। প্রতি মাসে খরচের হিসাব করে কোনো কিছু কেনার সামর্থ্য আছে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে চান না তিনি।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আবাসন ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের একজন ২৯ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানী মোরানা মন্টেইরো বলেন, তরুণেরা কাজ করতে চান, তবে মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে। তাঁর প্রশ্ন, কাজ করেও যদি বাড়ি কেনা, মাসিক বিল পরিশোধ কিংবা পরিবার গড়ার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে সেই কাজের অর্থ কী?
আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীরা দুর্নীতিবিরোধী বৃহত্তর ‘ফ্লেমিঙ্গো’ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে চলা এই আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে সুরক্ষা ও বাড়তি বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছেন। আন্দোলনটির নাম এসেছে এমন একটি এলাকার পাখির আবাসস্থল থেকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পের জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো প্রকল্পটির বিরোধিতা করছে।
২২ বছর বয়সী অভিনেতা ও আন্দোলনকর্মী রেডজান শকেম্বি বলেন, “আমরা এমন একটি প্রজন্ম, যারা নীরব না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তাঁর ভাষ্য, আগের প্রজন্ম একই মাত্রার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ভোগ করতে পারেনি। আলবেনিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবিতে প্রায় ১৫০ দিন আগে জ্ভেরনেভে শুরু হওয়া বিক্ষোভে তিনি যোগ দেন। তাঁর লক্ষ্য আরও স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক আলবেনিয়া গড়ে তোলা। শকেম্বি বলেন, “আমরা একটি ভালো দেশ চাই এবং আমরা সেই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখতে চাই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ